www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ফয়সাল

দুষ্ট ছেলে ফয়সাল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। ঠিক মতো স্কুলেও যেতে চায় না। মা ওকে খুব ভালোবাসে, কারণ ফয়সাল ছাড়া আর কেউ নেই সংসারে। ফয়সাল জন্মানোর ৩ মাস পর ওর বাবা মারা যায়, ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর বিয়ে করে নি ফয়সালের মা। যাই হোক, প্রতিদিন স্কুলে যাবার আগে একটা না একটা বায়না ধরবেই ফয়সাল। ফয়সাল কবিতা খুব ভালোবাসে, প্রায় সব কথাই ও ছন্দে ছন্দে বলে। একদিন সকালে বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদছে আর বলছে -

"আমায় কিছু টাকা দিলে
তবেই যাব স্কুলে
নইলে কিন্তু যাবো না
কিছুই আমি খাবো না।"

একমাত্র সন্তানের আবদার মা কখনই মেটাতে বাকি রাখে না, তাই ছেলের হাতে ৫০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বললেন- "খুচরা টাকা নাই তাই ৫০ টাকা দিলাম, ৫ টাকা খরচ করে বাকি টাকা ফেরত নিয়ে আসবি"। ফয়সাল এবার ভদ্র ছেলের মতো খাওয়া দাওয়া করে বই নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। আস্তে আস্তে বাড়ির পেছনে গিয়ে জানালা দিয়ে বইগুলো রেখে দিয়ে কেটে পড়ল। মায়ের চোখে কিছুই পড়লো না। এবার ফয়সাল রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে বলতে থাকল-

" টাকা যখন পেলাম
এবার আমি গেলাম
তবে নয় বিদ্যালয়
করতে যাচ্ছি বিশ্বজয়"।

এই বলতে বলতে অনেক দূরে চলে গেলো ফয়সাল। পথিমধ্যে ওর এক বন্ধুর সাথে দেখা, বন্ধুটি ওকে স্কুলে নেয়ার জন্য খুব জোড়া জুড়ি করেও পারলো না। শেষে জিজ্ঞেস করলো "কি রে কোথায় যাস?"
ফয়সালের উত্তর নিম্ন রূপ-

"যাব আমি সেখানে
তুই নেই যেখানে
তোর সাথে কথা নাই
এবার তুই যা ভাই"।

বন্ধুটি আর কিছু না বলে মন খারাপ করে চলে গেলো। ফয়সাল আবার চলতে শুরু করলো, কোথায় যাবে সে নিজেও জানে না। কিছুদুর গিয়ে একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চারদিক একবার দেখে নিয়ে আনমনে বলতে থাকল -

" এখানে দোকান একটা
ছেড়ে এসেছি ব্যাগটা
এখন আমি যাই কই
জানালা দিয়ে রেখেছি বই
যদি দেখেন আমার মায়
ঝাঁটার পিটন পরবে গায়"।

অচেনা এক লোক ওর সামনে এসে ওকে প্রণাম করে বলতে লাগলো "ওহে কবিগুরু আপনি আবার জন্ম নিয়েছেন?" এবার লোকটার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল-

"ও হে বৎস পাগল
চক্ষু জোড়া খোল
নইকো আমি কবি
দেখতে যাব ছবি
কোথায় আছে হল
আমায় নিয়ে চল
নইলে ডাকবো হাতি
মারবে তোরে লাথি"।

লোকটা হয়তো হাতিকে খুব ভয় পায়, তাই কোনো কিছু না বলেই ফয়সালকে নিয়ে সিনেমা হলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো। কিছুদূর গিয়ে ফয়সাল আবার কবিতা বলা শুরু করলো -

" নিয়ে যাচ্ছ অচিন পুর
যেতে হবে কত দূর?
পা যাচ্ছে ফুলে
আমায় নে কোলে
যদি না হও রাজি
মামা আমার কাজী
ডাকব আমি তাকে
পড়বি বিপাকে!!"

লোকটা এবার কোনো উপায় না পেয়ে একটা রিকশা ডেকে ফয়সালকে নিয়ে হলের সামনে গেল। ফয়সাল রিকশা থেকে নেমে রিকশাওয়ালা কে একটা হোটেল দেখিয়ে দিয়ে বলল-

"ঐ যে দেখছেন হোটেল
জোরে মারুন পেডেল
মালিক আমার নানা
কিন্তু তিনি কানা
ইচ্ছা মতো দুজনে
পেট ভরাবেন ভোজনে
যদি চায় টাকা
বলবেন- আমি ফয়সালের কাকা"।

এই কথ বলে দুজনকেই সেখান থেকে টুপি পরিয়ে বিদায় করে সিনেমা হলের টিকেট কাউন্টার এর দিকে গেলো ফয়সাল। অনেক ঠেলাঠেলি করে একটা টিকেট নিয়ে ভিতরে গেলো। কিছুক্ষন চেয়ারে বসে থেকে ছবি দেখতে দেখতে যেই নায়ক নায়িকার গালে চুমু দিয়েছে অমনি চেয়ার থেকে উঠে পর্দার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। নায়কের দিকে আঙুল তুলে জোরে জোরে বলতে লাগল-

" এই যে নায়ক মশাই
লাজ লজ্জা তো নাই
সবার সামনে তুমি
নায়িকাকে দিচ্ছ চুমি
কত মানুষ যে দেখলো
মান সম্মান কিছু থাকল!"

বলতে বলতে পর্দার উপর বসিয়ে দিলো এক চড়, পর্দা গেলো ফেটে। চারিদিকে হৈচৈ পরে গেলো, এরই মধ্যে ম্যানেজার সাহেব যেই ভিতরে আসলি অমনি ফয়সাল বাইরে চলে আসলো। ছোটো মানুষ - কখন বের হয়েছে কেউ খেয়ালও করে নি। তাড়াহুড়ায় ম্যানেজার তার মটর সাইকেলের চাবি নিতেই ভুলে গেছেন, চাবি সহ গাড়ি পেয়ে ফয়সালের আনন্দ আর ধরে না। কোনোকিছু না ভেবেই গাড়ীতে উঠে গাড়ী স্টার্ট করে আবার কবিতা শুরু করে দিলো-

"কিনলাম তোমায় ফাও
জোরে জোরে যাও
সবার আগে গাড়ী
নিয়ে চল বাড়ি
থাকবো আমি ঘুমিয়ে
পাহারা দেবে তুমি-এ"।

এই কথা বলে যেই গাড়ির পিক-আপের মধ্যে হাত দিয়ে একটু টেনেছে, গাড়ী চলতে শুরু করল অনেক দ্রুত। একটু যেতে না যেতেই গাড়ী সমেত রাস্তার পাশে একটা গভীর গর্তে পড়ে যায় ফয়সাল। আর কোনোদিন ফয়সাল কবিতা বলতে পারে নি, সেখানেই তার শেষ ঘুম ঘুমিয়ে আছে আর গাড়ীটাই তাকে পাহারাদার হিসেবে পাহারা দিতে থাকে।।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৩৫ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৪/১১/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast