www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

আপনার শিশু কি স্মার্ট ডিভাইসগুলোর প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে জেনে নিন সহজ ও কার্যকরী সমাধান



বেশ কিছুদিন আগেই আমার বাচ্চাটি খুব টিভি আর মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল! পড়া-লিখায় ও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল। মাঝে মাঝে ও খুব মার্ খেত আমার হাতে তারপর নিজেই এক এক কান্না করতাম। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না তারপর আমার তখন কিছুদিন আগে পড়া Isabelle Filliozat এর লেখা একটা চমৎকার নিবন্ধের কথা মনে পড়ল।ইসাবেল একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, বিশেষ করে প্যারেন্টিং নিয়েই কাজ করেন। ফরাসী ভাষাভাষী লোকদের কাছে তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। বাচ্চাদের শিক্ষা এবং প্যারেন্টিং বিষয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন তিনি। ঐ নিবন্ধে ইসাবেল ১ টি কৌশল লিখে দিয়েছিলেন।

হুট করে টেলিভিশন বন্ধ করা বা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া খুবই ক্ষতিকর

ইসাবেল-এর সেই কৌশল কী ছিল, চলুন জেনে নেয়া যাক-
এভাবে বলব না। বিষয়টা একটু জটিল। টেলিভিশন, ভিডিও গেইম কিংবা কম্পিউটারের পর্দায় এমন মোহগ্রস্ত হয়ে থাকার কারণ এবং এর প্রতিক্রিয়া কী সেটাও জানা জরুরি বলে মনে করেন ইসাবেল। হুট করে টিভি, কম্পিউটার আনপ্লাগ করা কিংবা ল্যাপটপ শাট ডাউন করা বা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া, কোনটাই সঠিক নয়। বরং এতে ক্ষতি হয় অনেক বেশি। শিশুদের টেলিভিশনের মোহ ভাঙানো জরুরি, তার চেয়ে জরুরি হলো হঠাৎই সেটা ভাঙাতে গেলে কী প্রতিক্রিয়া হয় তাদের মস্তিষ্কে, সেটা জানা থাকা।

হুট করে টিভি বন্ধ করা বা স্মার্ট ফোন কেড়ে নেয়া কেন ক্ষতিকর?

আচ্ছা, একটা প্রিয় অনুষ্ঠানের টান টান উত্তেজনার মূহূর্তে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে কেমন লাগে আপনার? কিংবা ধরুন, জিততে হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের লাগবে চার বলে আরও চার রান। বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে তেমন সময়েও। কেমন লাগে এমন ক্ষেত্রে? খুব খারাপ, তাই না? অনেক ক্ষোভ আর অতৃপ্তি কাজ করে তখন। প্রশ্ন হলো, আপনি তো এখন আর বাচ্চা না। বেশ বয়স হয়েছে আপনার। বুঝতে শিখেছেন। কিন্তু খারাপ লাগাটা আপনারও ঘটছে কেন? উত্তরটা হলো-

টেলিভিশন, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সময় কাটানোর সময় আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরণের সুখের অনুভূতি তৈরি হয়। ভিজ্যুয়াল এ্যাক্টিভিটিগুলো সমস্ত রঙ-রূপ-শব্দ-ছবি দিয়ে আটকে রাখে আমাদের। কোনো খেলা খেলার সময় বা দেখার সময়, কোনো মুভি দেখার সময় আমরা অন্য এক জগতে থাকি। আমরা হিপনোটাইজড থাকি অনেকটা। ঠিক করে বলতে গেলে, আমরা সেই নকল জগতের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাই।

সুখের অনুভূতি হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে

মস্তিষ্ক এসময় ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসরণ করে, যা ব্যথা-বেদনা এবং দুঃশ্চিন্তা মোচন করে। স্ক্রিন-টাইম অফ হওয়া মাত্র ডোপামিনের ক্ষরণ কমে যায়, যা এক রকম ফিজিক্যাল শক হিসেবে আসে। এরকম সুখের অনুভূতি থেকে বয়স্কদেরই হুট করে বের হয়ে আসা কষ্টকর, ছোটদের জন্য তো তা রীতিমত ভয়াবহ ব্যাপার।

আমি তাই আমার বাচ্চাটাকে যতই টিভি বন্ধ করতে বলতাম না কেন, সারার জন্য সেটা মোটেই ভাবনার বিষয় ছিল না। সে তখন চিন্তা করার মতো অবস্থাতেই থাকতো না। খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই, হুট করে টেলিভিশন বা গেইম অফ করে দেয়া মাত্র সারার অনেক খারাপ লাগতে থাকে। যদিও আমি এই মোহর জন্য সারাকে খুব মারতাম তাই এখন আফসোস লাগে আমার এই ভুলটির জন্য।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শিশুর জগতে প্রবেশ করুন

একটি প্রশ্ন করুন- ‘কী দেখছ তুমি?

এরকম ক্ষেত্রেই সাইকোলজিস্ট ইসাবেল একটাই কৌশল অবলম্বনের কথা বলেছেন। সেটা হলো- তার জগতে আপনিও প্রবেশ করুন। তার জগতের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করুন। বসুন তার পাশে গিয়ে। কোমল স্বরে আগ্রহ প্রকাশ করুন, ‘কী দেখছ তুমি?’

বাস্তব জগতে পুরোপুরি ফিরে না আসা পর্যন্ত কথা চালাতে হবে

এই একটা প্রশ্নই আপনার কাজ অর্ধেক সহজ করে দেবে। কারণ- শিশুরা তাদের কাজকর্মে তাদের মতো করেই বড়দের পেতে পছন্দ করে। প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পর আরও কিছু কথা চালাচালি করুন। নাটকের বা কার্টুনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করুন। গেইম খেলতে থাকলে জিজ্ঞেস করুন সে কত নম্বর লেভেলে আছে। প্রয়োজনে আপনাকেও শেখাতে বলুন।

যখন দেখবেন আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর সে ঠিকঠাক মতো দিচ্ছে, বুঝবেন মোহগ্রস্ত অবস্থা থেকে সে বেরিয়ে এসেছে। আর না দিলে তার সঙ্গে আরও কথা চালাতে হবে, তাকে বাস্তব জগতে পুরোপুরিভাবে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তাকে আদর করুন এবং ছোট কোনো কাজ করে দেয়ার অনুরোধ করুন

বাস্তব জগতে ফিরে আসার মানে হলো এখন সে আপনার নির্দেশ বা অনুরোধ মান্য করতে প্রস্তুত। অতএব, তাকে ছোট্ট একটা অনুরোধ করুন। কিছু এগিয়ে দিতে বলুন বা আদর করুন বা আপনার গালে চুমু খেতে বলুন। তারপর তাকে মনে করিয়ে দিন ‘এখন কিন্তু পড়তে বসার সময় হয়েছে। টিভি দেখার সময় শেষ’, অথবা, ‘চলো, গোসল করতে যাই’ কিংবা ‘এখন খাবার সময়, খেতে যাবে চলো’… যা কিছু প্রয়োজন। শিশুদের টেলিভিশনের মোহ থেকে মুক্ত করতে এই কৌশল সবচে’ কার্যকরী বলে মনে করেন অন্যান্য গবেষকরাও।

নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ তাকে দিন

আপনার পুরোপুরি মনোযোগ পেলে সেও আপনার প্রতি মনোযোগী হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই কথাটা অনেক বেশি সত্য। তারা সব সময় প্রিয় মানুষদের এ্যাটেনশন চায়। তাই, শিশুদের টেলিভিশনের মোহ থেকে মুক্ত করার জন্য সেটা সুশৃঙ্খলভাবেই করার পরামর্শ দিয়েছেন ইসাবেল।

এই সহজ কৌশলটুকু প্রয়োগ করে দেখুন, কত সহজেই শিশুদের স্মার্ট ডিভাইসের মোহ থেকে মুক্ত করতে পারেন আপনি। না মেরে, চোখ না রাঙিয়ে খুব কোমলভাবে তাকে তার কাজে যুক্ত করুন। সেটার ফল হবে অনন্য। খুশি থাকুন আপনি, খুশি থাকুক আপনার সোনামণি। যেমটি এখন আমি আছি।
বিষয়শ্রেণী: ফটোব্লগ
ব্লগটি ১৬২৮ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৪/০৪/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast