www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)৫ম পর্ব হতে ১৬তম পর্ব

রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)
৫ম পর্ব।

গীতা গুরুমা, ওর অধীনে আছে দুইশত হিজড়া কিন্তু তার আছে স্ত্রী ও সন্তান।অথচ সে হিজড়াদের গুরুমা। সুন্দরী ম্যাড়াম গুরুমা এবং হিজড়াদের সিলেট বিভাগীয় প্রধান।গ্রামে ফরহাদ মঞ্জিল নামে ঢাউস বিল্ডিং-এ থাকে সুন্দরী ম্যাড়াম নামদারী ফরহাদের বউ বাচ্চা। ঝুমুর হিজড়া সেও নকল। তবে এদের ভিতর শুধু ঝুমুর পুরুষ অঙ্গ কেটে নিজে হিজড়া সাজে এবং টাকা কামাই করার পথ বেঁচে নেয়। গীতা ও সুন্দরী আসলে কিন্তু পুরুষ তারপরও তাদের হিজড়ার ভূষণ।পনের হতে বিশ হাজার টাকার ভিতরই অস্ত্রোপচার করা যায়। নিজের ইচ্ছায় হিজড়া হওয়ার একমাত্র কারণ হল অর্থ উপার্জন করা আর তারাই আবার ছেলেদের অপহরণ করে কিংবা দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে অসহায় ছেলেদের হিজড়া বানায়। দিপালী ও লিজা দুইজনে হিজড়া কামজ।আগে একজন রিপন এবং আরেকজন দুলাল ছিল।

রিপনের আগে মূত্র ত্যাগে সমস্যা হচ্ছে বলে এক সময় ডাক্তারের দ্বারস্ত হয় বেসরকারি চিকিৎসালয় নামক একটি বাড়ির ভিতর ধামরাইয়ের রোম আমেরিকান হাসপাতালে। গোলাম রহমান শাহজাহান প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সে নিজেই এই হাসপাতালের মালিক।বাংলাদেশ এবং কলকাতার সব মিলে চারশ জনকে অস্ত্রোপচার করেছেন এই ডাক্তার। অথচ উনি একজন মানবিক মানুষ উনার লক্ষ্যও টাকা রোজগার। তাই তাঁর কাছে এটা কোন অপরাধ নয় অথচ আইনে আছে কাউকে অনৈতিকভাবে অঙ্গহানী করা মারাত্মক অপরাধ কারণ এতে একজনকে বিকালঙ্গ করা হয়। আজব আমাদের দেশ তার চেয়েও আজব মানুষ, স্ত্রী ও সন্ত্রান নিয়ে সংসার থাকা সত্বেও হিজড়ার ভূষণে অপরাধ করে যাচ্ছে কিন্তু দেখার কেউ নাই।

গীতা চট্টগ্রামে এবং সুন্দরী ম্যাড়াম সিলেটে নকল হিজড়া হয়েও তারা স্বকীয় বাহিনী গঠে তুলেছে আসল নকল হিজড়া নিয়ে। তাদের কেউ করে চাদাবাজি,কেউ কেউ কামজ কিন্তু রোজগারের সব টাকাই নিয়ে যায় গুরুমা। গুরুমা নতুন হিজড়ার সাথে প্রথম প্রথম অমায়িক আচরণ করে যার কারণে পরিবার ও সমাজের রূঢ় আচরণে অতিষ্ট হিজড়ারা গুরুমার প্রতি অতি সহজে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।কিন্তু আস্তে আস্তে তার আসল চেহারা প্রকাশ করতে থাকে।যদি চেহারা সুরত সুন্দর হয় তাহলে হরমোন ইনজেকশন দিয়ে মেয়েলীভাব নিয়ে আসে শরীরে।তারপর বিভিন্ন কলাকৌশলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে গুরুমার মনোনীত ডাক্তার দিয়ে অস্রোপাচার করে নারী হিজড়ায় পরিনিত করে তাদের যৌন কর্মী বানিয়ে টাকা রোজগারে আজ্ঞাবহ করে।রূপসী হিজড়ারা কুহকী সাজে সজ্জিত করে উচ্চ তলার মানুষের মনরজ্জন করতে পাঠায়।

কিছু হিজড়া রাস্তায় গাড়ি হতে চাঁদা তুলে,কিছু হিজড়া দোকান হতে চাঁদা তুলে তবে যে যাই করুক কেউ বসে খেতে পারে না।সারা দিন যে যা টাকা রোজগার করুক না কেন প্রত্যেক জনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ধায্য করা আছে এবং রাতে গুরুমার হাতে তুলে দিতে হয়।সেই নির্দিষ্ট পরিমান টাকা গুরু মার হাতে তুলে দিতে না পারলে নেমে আসে খাওয়া বন্ধসহ মনোগত ও শাররীক নির্যাতন।তখন গুরুমার আচারণ হয়ে উঠে গণিকার রাণীর মত আর তাকে সহযোগীতা করে তারই ভৃত্য।কখনো কখনো অত্যাচার সহ্য করতে না পারলে মুক্ত হওয়ার পথ খোজে সাধারণ হিজড়া কিন্তু মুক্তি মিলতে চাই মৃত্যু না হয় বড় অংকের টাকা।টাকা চাওয়ার অংক এত বড় থাকে যে যোগাড় করা দুসাধ্য হয়ে থাকে।

আর তখনি চলে গুরুমার বিরুব্ধে ভিতরে ভিতরে রাজনীতি।জাতীয় রাজনীতির মত প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় রাখতে চলে অস্ত্রের ভাষা,চলে জখম ও খুন।গুরুমার আছে বিলাস বহুল জীবন,আছে বাড়ি গাড়ি।আর এদের রাজনীতির সাথে অংশু করে আরমান নামক আমাদের সমাজের আরেক রাজনীতিবিদ।রূপসীদের নিতে কখনো কখনো গাড়ি নিয়ে আসে অভিজাত শ্রেণী,হিজড়া গাড়িতে কিছুদূর গেলেই আরমানের লোক গতিরোধ করে নিঃস্ব করে সব নিয়ে যায় আর মানসম্মান হারানোর ভয়ে অভিজাত শ্রেণী থাকে অবর।হিজড়া ছোটকালে গুরুমার কাছে আসুক বড় হয়ে আসুক তাদের থেকে সমঝোতা চুক্তি করে দলিলে স্বাক্ষর নেয়।তবে মজার বিষয় সেই দলিল কেউ পড়ে দেখার সুযোগ পায় না ঝামেলা হলেই তা উন্মুক্ত করে।

মেয়ে হিজড়ার সাথে নকল গুরুমা যৌন কাজ করতেও বাধ্য করে। যৌন কাজ করে হোক আর চাঁদাবাজি করে হোক এক হাজার টাকা গুরুমার হাতে দিলে সে হয়তো একশ/দুইশ টাকা বকশিস দেয় আয়কারি হিজড়াকে।গরিব পরিবারের হিজড়ার ভিতর তাদের পরিবার নিয়েও চিন্তা থাকে তারা মা-বাপ,ভাই-বোনের ভরণপোষণের জন্য টাকা দিতে উদগ্রীব থাকে কিন্তু সে আশা হৃদয়ের ভিতর নিহত করতে হয় গুরুমার ভয়ে।(চলবে)

রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)
৬ষ্ঠ পর্ব।

গুরুমার কাছে টাকা চাওয়ার পর হুমকি আসে হাড্ডি ভেঙ্গে ফেলার। তখনি আবার নেত্রজলে ভেসে উঠে জন্ম দেওয়া মায়ের ছবি,ভেসে উঠে বাবা,ভাই ও বোনের ছবি। ইস,যদি তাদের জন্য কিছু টাকা দিতে পারতাম,তাদের একটু তরকারি দিয়ে ভাত কপালে জুটতো। বিধাতা জন্ম দিয়ে পৃথিবী দেখালো তাও আবার হিজড়া করে যাদের কোন ঘর নাই,বাড়ি নাই , সমাজ নাই এমনকি দেশও নাই। দুনিয়াটাকে বুঝতে পারার পর হতে লাঞ্ছনা-বঞ্চনার স্খলিতচরণে চলন বন্ধি হতে হয়। নরক হতে সুখ খোজতে এসে আরেক নরকে ডুব দিতে হয়। জীবন জীবিকার তাড়নায় হিজড়া যে পথে নামে কেউ বুঝতে চায় না।

হিজড়া যে আকাশ হতে শিলা বৃষ্টি নয় তাও কেউ বুঝতে চায় না অথচ হিজড়ার মাকেই গালি দেয় উচু গলায়। নকল গুরুমা হিজড়া দিয়ে হাত পা টিপে দিতে ডাকে একদিন একজনকে আর কৌশল করে যৌন লালসা চরিতার্থ করে অবলীলায়। তাও বন্ধি থাকে গুরুমার ঝকঝকে কামরায়। কিন্তু কত দিন, নকল গুরুমার সংসার সন্তানের জন্য টাকার পাহাড় করে সাধারণ হিজড়ার রথে কামাই দিয়ে। যখনি গুরুমার সাথে বোঝাপড়া করতে সাধারণ হিজড়া একজোট হয় তখনি নেয়ে আসে নির্যাতন, বাহির হতে আসে
সন্ত্রাসী বাহিনী হাতে পায়ে পড়ে শিকল থাকতে হয় ভুখা। প্রতিটি গুরুমার থাকে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী থাকে থানা পুলিশে হাত যার কারণে প্রতিবাদ করার পর রাস্তাঘাটে নজর রাখে সন্ত্রাসী । রাস্তাঘাটে প্রচন্ড মেরে আহত করে ফেলে যায় যাতে অন্যরা গুরুমার সাথে কথা বলারও সাহস না পায়।

শুধু একটু ভাবুন গুরুমা তার মনোনীত ডাক্তার সন্ত্রাসী,পুলিশ দিয়ে যে মানুষটাকে অস্রোপাচার করে হিজড়ার আবরণে গণিকা বানাচ্ছে তার স্থান সমাজে কোথায় হবে। তার যখন বয়স হবে কে তার ভার বহন করবে। এমনিতে প্রাকৃতিকগত হিজড়ার ঘর পরিবার সমাজ দেশ এমনকি কবরের জায়গা হয়তো আকাশময়। দোকানপাট গাড়ি কিংবা রেলগাড়ী কোন কিছুই এখন বাদ যায় না চাঁদা তোলা হতে। যাত্রীদের গালি দেওয়ার সাখে সাথে শরীরে হাত দেওয়া এবং কাপড় ধরে টান দেওয়া যেন অতি সহজ হয়ে দাড়িয়েছে। হিজড়াদের এসবের কোন প্রতিবাদ করা
যায় না। সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে করে লংকা কান্ড,খোলে ফেলে পরনের কাপড় বলতে থাকে আমাদের কাজ চাই। তেড়ে আসে মারতে তাই সবাই ভয় পায়। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন তারা টাকা উঠাবে।

হিজড়া বলে চাকরী পায় না বলে,নাকি আছে টাকার নেশা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন। অফিস সহকারি পদে চাকরীর জন্য ত্রিশজনকে বাচাই করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ছয়টা প্রতিষ্ঠানে দুইজন করে মোট বারজনকে চুড়ান্ত করাও হয়। শেষ পর্যন্ত কারো চাকরী হয়নি কারণ ডাক্তারি পরীক্ষায় কেউ হিজড়া বলে প্রমান হয়নি। যেমন মিরপুরের গুরুমা রাখী যে গোপাল গঞ্জের রাকিবুল হাসান। কিন্তু তাকে দেখে বুঝার কোন উপায় নাই তিনি হিজড়া নয়। প্রচন্ড প্রভাবশালী রাখী যে কিনা সাংবাদিককে একবার মেরেছে। এদিকে আবার সমাজ বিজ্ঞানীরা ডাক্তারী পরিক্ষার সাথে একমত নয়। আমিও সমাজ বিজ্ঞানীদের সাথে একমত কারণ রাখীরও আছে ছেলে বন্ধু (পারিক)। সমাজ বিজ্ঞানী ড. আমানল্লা ফেরদৌস বলেন কিছু হিজড়ার female organ আছে কিন্তু female organ কাজ করে না আবার কিছু হিজড়ার male organ আছে কিন্তু male organ কাজ করে না।

এখন যদি সমাজসেবা অধিদপ্তর চলনে নারী হিজড়াকে male organ আছে বলে পুরুষ সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে হবে না। আর এই কারণে রাখী চাকরীর জন্য ডাক্তারি পরীক্ষায় বাদ পড়ায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ।সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও বিশ্বাস করে না হিজড়ারা। এই ক্ষোভ জমে তারা এখন অন্যায়কারী একে আইনের ভাষায় কি বলা যায়। অনেক হিজড়া বিত্তশালী বাবার সন্তান। তবে শুধু হিজড়া হওয়ার কারণেই বঞ্চিত হন বাবার কোটি কোটি টাকা হতে।আর এই অপমান অবজ্ঞা,অবহেলা ও না পাওয়ার বেদনায় ওরা গঠে তোলে নিজের অবৈধ সাম্রাজ্য আর জড়িয়ে বড় অপরাধে। নাজমা হিজড়া আশির দশকে ঢাকাতে এমন সাম্রাজ্যের একক অধিপতি ছিল এখন সে বৃদ্ধ। তারই শিয্যরা এখন ঢাকাকে ভাগভটোয়ারা করে চাঁদা তোলে।

এক সময় এত ক্ষমতাশালী ছিল যে কোন হিজড়া মাথা তুলে কথা বলার সাহসও করতো না। তবে গুরুমা হিসাবে শিয্যদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নাজমা হিজড়া। এলাকা নিয়ন্ত্রণ বা দখলে নিতে চলে টার্গেট হত্যাকাণ্ড,বিষ খাইয়ে হত্যা করে পিংকি হিজড়াকে আরেকজনকে করা হয় গুম। রাখী এত বেপরোয় যে পুরো মিরপুর দখলে নিতে মরিয়া সে।আর এসব হত্যাকারী ও অপরাধীদের পুলিশ খোজে পায় না পুলিশ এসব দেখতে চায় না।(চলবে)

রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)
৭ম পর্ব।

কিন্তু কেন পুলিশ চুপ থাকে,তারা হিজড়া বলে নাকি অন্য কোন লেনদেনের কারণে। হিজড়ারা কি রাষ্ট্রের নাগরিক না,প্রতিটি নাগরিকের মালিকইতো রাষ্ট্র। তাহলে হিজড়া কেন আইনের সহযোগিতা পাবে না।মানুষ যেমন তাদেরকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে তাহলে পুলিশও কি তাই,নাকি তাদের রোজগারের ভাগ পায়,কি জানি। পিংকি হত্যার আইনত কোন বিচারই হয়নি, হায়দার হত্যার জন্য জেল খাটে তার আপনজন তাও পুলিশের মিথ্যার জাল। মানিক যার নাম এখন সেই সেজুতি, এই সেজুতি প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছে গুলির জখম না মরে কোন রকম বেঁচে আছে সে। তাকে পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে কচি হিজড়া, মাথায় আঘাত করে যেন মরে যায়। আর মরে গেলে প্রতিপক্ষ থাকবে না এবং প্রমান থাকবে না হামলার তাই মাথা থেতলে দেয় হামলাকারীরা। কিন্তু কেন এই মরণ লড়াই।

উত্তর একটাই টাকার ভাগাভাগি, প্রভাব বিস্তার জায়গা দখল। এই হামলা করে দেশের আইন এবং সাংবাদিক সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে কচি হিজড়া চলে যায় ভারতে। আর নিরাপদে চলে যেতে সাহায্য করে পুলিশ ও আরমানেরা। একটা কল্পনা করা যেতে পারে হিজড়ারা কত টাকা চাঁদা তোলে তার। একজন প্রতিদিন ২০০০ টাকা,মাসে ৬০,০০০ টাকা,প্রতি দলে ২৫ জনে আয় ১৫ লাখ টাকা,১০ দলের আয় ১.৫ কোটি। বিয়ে এবং বাচ্চা জন্ম নেওয়া বাড়ি হতে হাতিয়ে নেয় পাঁচ হাজার হতে এক লাখ টাকা। এই টাকা সব যায় গুরুমার হাতে তাই কোন কোন গুরুমা ঢাকাতে বাড়ি গাড়ির মালিক। তবে শিয্যদের সব সময় নিজের সমান সমান টাকার ভাগ দিয়েও ঢাকাতে বাড়ি এবং এলাকায় অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। নিজের পরিচয় গোপন করে ফ্লাট কিনেন হায়দার হিজড়া।

এই হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করে তার প্রতিপক্ষ, সে মারা যাওয়ার পর তার শিয্যরা তার কিনা ফ্লাটে থাকেন। কিন্তু তাকে মারা হল কেন? জামালপুর ইসলামপুরে হায়দারের বাড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। হায়দারের বোনের করা মামলায় স্বপ্না,কচি,পিংকিসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। স্বপ্না হিজড়া ফার্মগেট এলাকার পাশাপাশি মগবাজার এলাকাও দখল করে নিয়েছে। ঢাকার বাড়িতে সিসি ক্যামরা এবং শিয্য দ্বারা পাহারা থাকায় রাতে গ্রামের বাড়িতে একা পেয়ে হত্যা করে। আর মজার ব্যাপার হল পুলিশ ধরে হায়দারের ভাইকে এবং সে জেল খাটে ছয় মাস। হত্যাকারী হিজড়ারা হায়দারের ভাইকে বিশ লাখ টাকা দিতে চেয়ে ছিল। সেখানের পুলিশও হিজড়াকে সন্দহ করে। কিন্তু পুলিশ আসামি ধরতে পারে না কারণ অজানা থাকুক আপনার আমার তবে চৈতন্য খোলা রাখবেন কারণ এই সমাজ আপনার, এই দেশ আপনার কোন পলিটিক্সম্যানের নয়। আমার চাহনিতে যারা নিজেকে মতিমান ভাবে আর অন্যকে ভাঁড় মনে করে, এবং সত্যকে দূরে রাখে মিথ্যার আবরণের কুদরতে টাকা রোজগার করে সেটাই রাজনীতি যাতে জনগণের কোন শুভ হয় না।

শহরে বিলাসী জীবন গ্রামে বিশাল অট্টালিকা,কিন্তু হায়দার একজন হিজড়া ,কত টাকার মালিক ছিল সে, আর কি করে এত টাকার মালিক হল। কিন্তু এসবেও তার চিত্তপ্রসাদ ছিল না আরো চাই। যেসময় সে নিহত হয় তখনও ইসলামপুর গিয়ে ছিল ব্যবসার কাজে, ইসলামপুর টাউনে একটা মার্কেট ক্রয়ের ব্যাপারে কথা শেষ করতে। যে মার্কেট এক কোটি টাকায় কিনতে গ্রাহক ছিল আর সেই মার্কেট হায়দার হিজড়া কয়েকগুন বেশি টাকায় কিনার জন্য প্রস্তুত ছিল এবং মালিক পক্ষের সাথে কথা শেষ করে বাড়ি ফেরে ওই রাতে সে খুন হয়।কিন্তু কি করে অন্য হিজড়া জানলো হায়দার বাড়িতে, কি করে খুন করে অপরাধী নিরাপদে চলে যায়, এলাকার কেউ জড়িত কিনা তা জানা যায়নি, যাবেও না। তবে কিছু লোক জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছে এই হত্যাকান্ডকে ঘিরে। তবে সব কিছু দমিত হয়েছে রাজনীতির তলায়। বিচার তুমি হাওয়া হাওয়া। ঢাকার ফ্লাট হায়দারের শিয্যদের দখলে, গ্রামের প্রসাদ শূণ্য, আর খুনীরা তার রাজ্যের রাজা আইন অন্ধ রাজনীতি চলছে চলবে।(চলবে)


রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)
৮ম পর্ব।

ইসলামপুরের সবচেয়ে বড় মার্কেট ক্রয়ের ক্ষমতায় বুঝা যায় হায়দারের টাকা বাড়ার সাথে সাথে শত্রুও বাড়ে। কিন্তু পুলিশ অবেক্ষণ শেষ হয় না, পুলিশ বলে সব মোটিভ আমরা তদন্ত করে দেখছি, কিন্তু কত দিন। তাহলে কি আইন সময়ের কাছে বন্ধি নাকি চলছে অন্য কোন রাজনীতি। আমি অপেক্ষা করি প্রেয়সী আসার মত সেই বিকাল চারটা হতে, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, এরপর ভোর চারটা, সকাল পেরিয়ে রবি আকাশে প্রেয়সী হয়তো পথ ভুলে অজানায়।
আমি ফুল হাতে অপেক্ষা করি তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য,এই অপেক্ষা যন্ত্রণার শেষ হওয়ার নয়, আইন তুমি আমার প্রেয়সী। সুনিদিষ্ট নাম থাকার পরও আসামী ধরা হয়নি,পুলিশ বলে প্রকৃত আসামী এবং তাদের অবস্হান জানতে সময়ের দরকার কিন্তু কত সময়। এক বছর নাকি অনেক বছর ,আর আসামী রাজধানীতে ঘুরে বেড়ালেও অবস্থান জানা যায় না। কিসের এই রাজনীতি, কেন তিনটা হিজড়া খুনের একটিরও বিচার হয়নি।

তৃতীয় লিঙ্গ স্বীকৃতি পাওয়ার পর সমাজ সেবা অধিদপ্তর তাদের চাকরী দেওয়ার জন্য ডাক্তারী চেক-আপ করতে গেলে সব ভেস্তে যায়। আর এতে সরকার হাত ধুয়ে পরিস্কার হয়ে বসে থাকে। এদের অভিযোগ আমরা স্বীকৃতি ফেলেও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা পাইনি। তারা বলে বাসা ভাড়া পায় না, টাকা জমানোর জন্য ব্যাংক সেবা পায় না, হাসপাতালে সেবা পেতে কষ্ট, গণপরিবহনে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাসির পাত্র। বার-তের অর্থ বছরে সরকার সাত জেলায় ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করে হিজড়াদের ক্ষালনের জন্য। ২০১৩ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৬ কোটি টাকা হিজড়ার জন্য খরচ করে সরকার আর এতে ৭০০০জন হিজড়া উপকারভোগী।

উপবৃৃত্তি, চিকিৎসা, বাসস্থান এসব খাতে সরকার খরচ করে হিজড়ার জন্য। এত সুবিধার পরও কেন এরা জীবনমান বদলায় না। যানবাহনে ভদ্র লোকের কাছে হাত পাতা পুরানো অভ্যাস। সস্তা পন্থায় টাকা রোজগার করার সহজ উপায়ের যে অভ্যাস তা ছাড়তে পারছেন না বলেন আবদুর রাজ্জাক (পরিচালক,হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসসূচী)। আসলে তা ঠিক।মিরপুরে গুরুমা রাখীর শিয্যরা সরকারি প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরও যানবাহনের যাত্রী হতে টাকা তোলা বন্ধ হয়নি। এই সময় সাংবাদিক ছবি উঠাতে গেলে সবাই মিলে ক্যামরা নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে, মারতে তেড়ে আসে। তাহলে কি অ্ভ্যাস বদলানো যাবে না। তাই বলে থেমে থাকা যায় না তাই হাত বাড়ান একটি সংস্থা।

এবং হিজড়াকে অপরাধ করা হতে দূরে রাখতে এগিয়ে আসেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। উত্তরার বাওনিয়া এলাকায় আপন গুরুমা ২৫জন শিয্য নিয়ে থাকেন এক বাড়িতে। এদের কেউ কবুতর পালেন, কেউ আল্পনা আঁকেন, কেউ কেউ রান্না বান্না করে এবং অবসর সময়ের নাচ গান করে। তারা বলেন তখনই খারাপ লাগে যখন মানুষের কাছে হাত পাততে হয়, এভাবে ভিক্ষা করে ও জোর করে টাকা রোজগার করতে ভাল লাগে না। আপন বলেন আমরা যদি সম্মানের সাথে ডাল ভাত খেতে পারি তাহলে মানুষকে অপমান করা, হাত তালি দেওয়া, নাচ গান করা, চাঁদাবাজি করা এবং কাপড় খোলে ফেলা করবো না। যখন নিজে কাজ করে খাব তখন আমরা ঠিক থাকব এবং মানুুষ আমাদের সাথে মিলবে আমরাও মিলবো মানুষের সাথে। আমরাও শিক্ষিত মানুষ আর কতকাল ভিক্ষা করে খাবো।
তাই এমন আগ্রহ দেখে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান ও উত্তার ডিসি বিধান ত্রিপুরা। মানুষ যে তাদের আচরণে অতিষ্ট হয়ে যায় এবং তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে আমাদের উদ্যেগ বলেন বিধান ত্রিপুরা।

তাদেরকে যদি একটা প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেওয়া যায় তাহলে কাজ করে খাবে এবং সহজভাবে সমাজে বাস করবে ভদ্র হয়ে আমরা স্বস্তি পাব তারা পাবেন সম্মান। দুই পুলিশ কর্মকর্তা এদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছেন আর এতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ড্রেস তৈরি করবে এতে জীবনমান ভাল হবে। আমরা কাজ করেই খেতে চাই আর এতে খুশি। বিভিন্ন স্কুল কলেজে গিয়ে আমরা অর্ডার নিয়ে আসবো প্রথম তারপর তারা আস্তে আস্তে সব নিজেরা করতে পারবে। আমরা তাদেরকে ভাল রাস্তায় তুলে দিলে তারা অপরাধমুলক কাজ করবে না সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে বলেন হাবিবুর রহমান। কাজটা যে অনেক শুভ এতে কোন সন্দেহ নেই,দেখা যাক আপন গুরুমার শিয্যরা হিজড়া হতে মানুষ বনে কিনা। এই প্রকল্প যদি সফল হয় তাহলে সারা ঢাকায় কাজ করার চেষ্টা করেন এই দুই জন মহত ব্যক্তি। এই যেন মরু পান্তরে এক ফোটা প্রাকৃতিক জল, আমরা যেমন হিজড়া দেখলে হিজড়া হয়ে যাই তেমনি পুলিশ দেখলেও স্বাধীন দেশে হিজড়া হতে হয়, কিন্তু এই ধারনা কিছুটা দূর হতে সাহায্য করলো এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তাই ফিরে যাই পুরাতন স্লোগানে পুলিশ জনগণের বন্ধু।
(চলবে)

রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)
৯ম পর্ব।

দুই হাতে উড়াই পোড়া স্বপ্নের ছাই, পিরিতি কাকন আর যেত আকুলতা। একান্তে প্রেম ভেঙ্গে গেলে পড়ে থাকে ঝড়ু ঝড়ু স্মৃতি আর বিষাক্ত চুল কাঁটা। পান্তিক রেখায় উড়ছে মেঘদল, ওদের চিনাবো বদ্ধ ভূমির ফাঁস। চার পাশে পুরুষ নেইতো কোন, যুথচার সব নৃপংশুকের নাচ। এই দুর্ভিক্ষে তুই আমি এক সুখী, চল যাই ভেসে দুহানিও মিলে দুর্ভাগ। বেপরোয়া নদী দ্বিধাহীন অস্নানোত, নিচু ফেলে মাটি আমরা পরস্পর।

সকাল হতে ছুটে চলে শহর সাথে ছুটে চলছি আমরাও। আমাদের সাথে ছুটে চলে কিছু অন্য লোক যাদের পরিচয় আছে সামাজিক স্বীকৃতি নেই। আসলে আধুনিকতার মোড়কে প্রগতিশীল হলেও সামাজিক হীনমন্যতা হতে বের হতে পারিনি আমরা।বয়ঃসন্ধি কালের পর হতে শুরু হয় লড়াই, তার বেড়ে উঠা বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি ফেলেও বেঁচে থাকা খুব সহজ নয়। আমি রুপালী রূপান্তর হয়েছি যে দশ বছর হয়েছে তবুও যেন অস্বিত্ব সংকটে আছি অথচ আমি শিক্ষিত মানুষ অভিনয়ও করি। এই লড়াই যে কতটা কন্টক তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানে।

এক কথায় বলে বুঝানো যাবে না, প্রতি মুহুর্ত নিজেকে জাস্টিপাই করা, সমাজ তোমাকে বুঝানোর চেষ্টা করছে তুমি খারাপ, তুমি ভুল, তুমি যা করছো সেটা ভুল করছো অন্যায় করছো, এবং সাথে সাথে সমাজ দন্ডের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে। যদি সমাজের নিয়ম অনুযায়ী চলতে না পারি সমাজ প্রতিনিয়ত শাস্তি দিবে এবং শাস্তি দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। আর সেখানে দাড়িয়েই সবসময় নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করা এবং কখনো কখনো বলা যদি নিজের প্রতি নিজের বলার সেই আত্নবিশ্বাসটা থাকে তাহলে বলা তোর চেয়ে আমি সত্য, এই বিশ্বাসে প্রাণ দিব দেখো।

আচ্ছা রুপালী রূপান্তরিত হতে হবে এই সিদ্ধান্তটা কেন।
আসলে আমার যেটা মনে হয় অন্তর আর বাহিরের এই দুইটো জায়গার মিল না থাকলেতো একটা মানুষ সম্পূর্ণ হয় না। অন্তত আমি, বাকিদের কথা বলতে পারবো না আমার নিজের ক্ষেত্রে আমার সে রকম অনুভূতি ছিল, যে আমার হৃদয়ের সাথে আমার শরীরের বাহিরের যদি মিল না হয় তাহলে আমি কখনো নিজেও স্বস্তিবোধ করছিলাম না যে সম্পূর্ণ নারী হিসাবে। যে কারণে বার বার মনে হয়েছে যে আমার বাহিরের গঠনটা পরিবর্তন হওয়া অত্যন্ত জরুরী। এখনো মনে পড়ে সে বাড়ি, সেই বাড়ির ছাদ যেখানে আমি একা একা বসে আকাশ দেখতাম।

বসে বসে হাঁটুর ভিতর মুখ লুকিয়ে কাঁদতাম, কাউকে কিছু বুঝানো যেত না বুঝাতে পারতাম না। আর এই না পারাটা নিজের সাথে ছাড়া পৃথিবীর কারো সাথে বলা যেত না।
মা কি বলতেন?
(কান্না) মা.....মাতো এসমাজের একটা অংশ ছিলেন, তারপরও সন্তান হিসাবে কখনো অবহেলা ছিল না। শুধু পরিবারের সবার এক কথা ছিল আমাকে তাদের সমাজের একজন হতে হবে, আমি যদি সমাজের মত হতে না পারি নিন্দার শেষ নাই, লজ্জার শেষ নাই।

আমাদের সমাজে পুরুষকে সিংহের মত মনে করা হয়, পুরুষ যেন একটা প্রতুল।
তুমিতো অনেক পরিচিত মুখ, যখন রাস্তাঘাটে বাহির হও অন্যরা কি তীর্যক দৃষ্টি ফেলে।
কিছু কিছু জায়গায় এখনো হয়। একটা ঘটনা বললে বুঝতে পারবে। আমিতো অভিনয়নের পাশাপাশি মডেলিংও করি তাই বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনের সাথে মিশতে হয়। সেই রকম এক জায়গায় এক মহিলা খুব তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ব্যবহার করে ছিল।তখন তাকে আমি বলি কেন আপনি এমন করছেন তখন সে অত্যন্ত চিড়-খাত্তয়া ভাষায় বলে---।
(চলবে)


রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)
১০ম পর্ব।
তোর মত হিজড়ার সাথে আমি কথা বলতে চাই না। কেমন করে আমরা সমাজের এই চুত মার্গ থেকে বাহির হতে পারব। এই চুত মার্গ হতেও সব চেয়ে অন্ধকার দিক হল মানুষের মননশীল মন না,অশিক্ষা কুশিক্ষা এর জন্য দায়। যাদের আমরা শিক্ষিত মনে করি তাদের হতে যখন বাজে মন্তব্য পেতে হয় তখন ভাবতে হয় এটা কি পুথিগত শিক্ষার সমস্যা, আসলে একটা লোকের জন্য সামাজিক সৃজনশীল শিক্ষার প্রয়োজন। শিক্ষা যদি ভিতর হতে না হয়,যদি মানুষের ভিতর পরিবর্তন করতে না পারে তাহলে ওই শিক্ষা পুথির ভিতর থেকে গেল। যদি মানুষের ভিতরকার শিক্ষিত হয় তাহলে সগোত্রীয়দের সম্মানের পাশাপাশি অন্য লিঙ্গের মানুষকে সম্মান করবে।

একজন মানুষ রূপান্তরকামীতে পরিনত হওয়ার ক্ষেত্রে মা বাবার বড় ভূমিকা থাকে, বাহিরের মানুষের সাথেতো লড়াই করা যায় কিন্তু ঘরের মানুষ, আপনজন তাদের সঙ্গে লড়াই করাটা খুব একটা সহজ নয়। ভারতে অধিকাংশ হিজড়ার মা বাবাকে কয়েকটা সংগঠন ক্লাউন্সেলিং করে এবং সুন্দর করে যুক্তি দিয়ে বুঝান কিন্তু আমাদের দেশে সেই রকম এখনো হয় না।
আচ্ছা রুপালী এতে কি কাজ হয় বলে তোমার মনে হয়।
এটা নিয়ে আমার বন্ধুদের সাথে কথা হয়, যা বুঝলাম যে পরিবারের লোকদের ক্লাউন্সেলিং বেশি বেশি দরকার। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন থাকি তারা কিছুটা অর্থনৈতিক সাহায্য করলেও তাদের সাথে রেখে মায়া মমতা ও ভালবাসা দিতে প্রচন্ড অনিহা।

বিদিতা ভট্টাযার্চ (মনোবিদ,কলকাতা) বলেন, মা বাবারই সবচেয়ে বেশি ক্লাউন্সেলিং দরকার কারণ তাদের একটা সন্তান হিজড়া এইটা মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর হয়ে যায়। তাই মুল হতে পরিবর্তন দরকার, তারা যে চেষ্টাটা করেন তা খুব ভুল চেষ্টা। অনেক সময় জোর লত্তয়া করেন, অনেক সময় বকাবকি করেন, এমনকি মারধরও করেন। অনেক সময় মা বাবা হতাশার গভীরে চলে যান তখন হিজড়া সন্তানটি আরো হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় সন্তানটি ওই সময়টাকে মোকাবেলা করতে হিমশিম খেতে হয়।
তোমার মা বাবার কি অবস্থান ছিল তোমাকে নিয়ে। মা বাবার দুঃখ বুঝি,আসলে তাদের সন্তান জন্ম নিয়েছে ছেলে হয়ে কিন্তু এখন মেয়ে অতএব তাদের কষ্ট লাগার কথা। সত্যিকার অর্থে যে সমস্যা হয় সেটা হচ্ছে প্রতিবেশীদের নিয়ে।

প্রত্যেকের পছন্দ আছে,এমনকি রুচি পছন্দ হরেক রকম, জেন্ডারের ব্যাপারটাও খানিকটা তাই, এবং জেন্ডার যাই হোক সে যেরকম আচরণ করতে চায় তার জেন্ডার নিয়ে সেখানে দ্বিতীয় কেউ তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না, তাদের মত করে চালানোটা সঠিক নয়। আমি আমার ছেলেকে মেয়ের মত সাজতে দেখেছি, তখন রীতিমত আমার পায়ের তলা হতে মাটি সরে যায়। মিড়িয়া দেখে, বই পড়ে সব কিছু জেনে আমি জানলাম এই জিনিসটা পুরা আলাদা, আমার সন্তান ঈশ্বরের এমনই কৃপা। এখন তাকে মেনে নিতে আমার কোন অসুবিধা নাই,ভয় নাই পাড়া প্রতিবেশীর তীর্যক নজরে,রুপালী আমার সন্তান আমি তার মা।
কী কী সমস্যা তোমার সামনে আসে।
সরকার যেত আমাদের স্বীকৃতি দিন না কেনো তারপরও সরকারি কোন কাজে গেলে আমার আইডি প্রমাণ করা লজ্জাজনক হয়ে পড়ে,সরকারি উচ্চস্তরে কিছুটা অনুবেদন দেখালেও নীচতলায় যারা তারা আমাদের নাকাল করে, বলে প্রমান দেখাতে হবে।

আমিতো জানি আমি কী কিন্তু লোকও বুঝতে হবে আমরা কী,আর সেটা এখনো হচ্ছে না। রুপালী শিক্ষিত নয় শুধু শাররীক গঠনেও অপরূপ,তাকে দেখে বুঝা যায় না সে এক সময় ছেলে ছিলো।চালচলনে পুরাই এক মেয়ে মানুষ, আমি মেয়েদের নারী বলতে নারাজ কারণ এতে নারী মানুষ হয়ে উঠে না বা সমাজ মানুষ হয়ে উঠতে দেয় না। তাই আমি নিজেকে মেয়ে মানুষ বলি যা পুরুষ মানুষ হতে শাররীক গঠনে আলাদা। আমরাও অন্য মানুষের মত চিন্তা চেতনায় কোনভাবেই কম নয়, সংগ্রাম করে জীবন চালাতে পারি, শুধু একটু সুযোগ ও সম্মান দরকার তবে কোনমতে করুণা চাই না।

(চলবে)
১১তম পর্ব-------রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)------- অনেক শুনা আছে একজন ছেলের মেয়ে রূপান্তরিত হওয়ার কথা কিন্তু একটা মেয়ের ছেলে রূপান্তরিত হওয়ার কথা খুব কমই শুনা গিয়েছে৷আর এই লড়াইটা এত সহজ নয় খুবই কঠিন তবে উদাহরণ আছে৷নীল মেয়ে হতে আজ পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছে,এই পরিবর্তন হতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়৷পায়েল হতে নীল হতে তিন বছরে তিনটা অস্ত্রোপচার করে রূপান্তরিত হতে হয়েছে৷মানসিক এবং শাররীক দুইটাতেই প্রচন্ড লড়াই করতে হয় দীর্ঘ সময় ধরে তাহাছাড়া সমাজের বিরুদ্ধে লড়াইতো আছেই৷যেখানে ধর্ম মানুষকে সৃজনী করতে পারছে না সেখানে সমাজ কি করে করবে৷নিজের পরিপূর্ণতা নিয়ে যেখানে মানুষ ঈশ্বরকে প্রণাম করার কথা সেথানে তার অন্য সৃষ্টিকে নিয়ে উপহাস করার ঘৃণ্য চর্চায় মেতে থাকে৷তাঁরই সৃষ্টি অকৃতজ্ঞ রূপ ধারণ করে ঈশ্বরের ভুল ধরতে নেমে পড়ে,আচ্ছা পরমেশ্বর তখন তুমি কি আসমানে বসে জমিনে পিপীলিকার নাচন দেখে কলঙ্ক কলঙ্ক বলে খোয়ার করতে থাকো৷দোহাই পরমপিতা তুমি যে মানব সৃষ্টি করে মর্তভূমিতে প্রেরণ করছো তাদের হিজড়া করে পাঠাও না হয় আমি মা ও মেয়ের কাছে লজ্জিত হচ্ছি অবিরত৷বাংলার সোনার ছেলেরা মা ও মেয়ে প্রতি শুধু প্রগাঢ় হয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে না তাদের নিপুণভাবে হত্যা করে,না হয় কামার্ত নাট্যমঁচ সার্বজনীন করে টাকা খাওয়ার ধান্ধায় সংশ্লিষ্ট আর তাতে শক্তির যোগান দিচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতা৷কামুক মানুষ যদি হিজড়া হতো তাহলে ৮-৫ বছরের অবুঝ শিশু দুইটো বোন হাসপাতালের বিছানায় পুতুল নাচ খেলতে হতো না৷যদি তারা ৮০ বছর বেঁচে থাকে তাহলে কি আবারো তোমার সৃষ্টি পুরুষ দিয়ে ধর্মনাশ করিয়ে আবারো হাসপাতালে সেই পুতুল নাচন করাবে,বলো না চুপ কেন তুমি৷আর মৃত্যু পর্যন্ত যে অসহ্য যঁত্রণাদান নিয়ে বেঁচে থাকবে মানব সমাজ তাদের সেই অপজ্ঞান কি করে পরিহার করাবে৷তাই বলি "চার পাশে পুরুষ নেইতো কোন,যুথচার সব নৃপংশুকের নাচ"। ধর্ম,নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মানুষ আজ মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়েছে যেন তাই মনে হয় আমার দেশে সব চাপিয়ে উপরে চলে রাজনীতি যা পলিটিক্স।আমরা সাধারণ জনগণ অসুস্থ রাজনীতির বলী,দেশের উন্নতির কারণও রাজনীতি আবার রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারীতা দেশকে পিছিয়ে দেয় এবং ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ধর্মকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই,আধুনিক সভ্যতা,রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থা উপহার দিয়েছে ধর্মই।যারা বলে ধর্ম ও রাজনীতি একসাথে চলতে পারেনা তাদের সাথে ভিন্ন মত আমার,অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদ দেখাতে গিয়ে এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মকে খাটো করে দেখছেন আমি তাদেরকে বলবো সীমিত করুণ আপনার চলা নিজ ধর্মেই। নীল তোমার এই রূপান্তর খুব rear। আমরা দেখে থাকি rear,আসলে ঘটনাটা কিন্তু রিয়ার নয়।এর অনেক কারণ আছে রাষ্টের কাছে,আইনের কাছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে, সবার কমন শব্দ সেটা হচ্ছে হিজড়া।হিজড়া এবং রূপান্তর একই জিনিস,হিজড়া একটা বাস্তব জীবন,একটা কৃষ্টি এটা আমাদের বুঝতে হবে।পুরুষ হতে নারী,আবার নারী হতে পুরুষ এটাকে কোথায়ও হিজড়ার পেশা আবার কোথায়ও কৃষ্টি হিসাবে দেখা হয়।এক্ষেত্রে তারা নিজেরা বলে দিয়ে থাকেন তারা রূপান্তর কিন্তু নিদিষ্ট করে বলে বলে দেওয়া ঠিক নয় যে সে রূপান্তর মানুষ। এত এত লড়াই,এত চড়াই,এত ত্তলন ভিতর সামনে এগিয়ে যাওয়া,তোমার পরিবারকে বুঝিয়ে উঠতে পারলে তুমি,এবং তাদের জন্য একেবারে আলাদা থাকা। মা বাবা এখনো মেনে নেয়নি এবং তাদের দোষ দেওয়ার নাই, তাদের সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নাই কারণ পাড়া প্রতিবেশী,সমাজ এবং আত্নীয়-স্বজন কেউ বলবে না তোমাদের সন্তান সঠিক তাহলে মা বাবা কিভাবে আমার কাজ মেনে নিবে।আর সহজভাবে মেনে নেওয়া সমাজে নেই,তবে আমার পাশে আমার সমাজ আছে,এনজিও আছে এমনকি আমার ডাক্তার সাহেবগণ আছেন।তারা আমাকে সব ধরণের সহযোগিতা করছেন। মনোবিদ বিদিতা ভট্টাচার্য বলেন,অবশ্যই মা বাবার প্রথম হতে সচেতন হওয়া উচিত এবং পাশে থেকে আলাপ করা উচিত,বাচ্চা কেমন অনুভব করছে জেনে নিয়ে তাকে তার মত হতে সহযোগিতা করা উচিত।বাচ্চা এই জিনিসটা প্রথম হতেই বুঝতে পারে যে তার কোথাও যেন disconnect হচ্ছে,আর সেটাকে মা বাবা উঠিয়ে না দিয়ে সেটা নিয়ে বাচ্চার সাথে আলাপ করা উচিত।বাচ্চা দমক দিয়ে উল্টো আচারণ করতে গমনরত না করে সেটাকে যদি হৃদয় দিয়ে অনুভব করে সহানুভূতি দেখায় এবং বন্ধুর মত পরামর্শ করে তাহলে আর কিছু না হোক তার রূপান্তরের ইচ্ছা চলে নাও যায় তারপরও সেই বাচ্চা বা কিশোর কিশোরীকে মানসিকভাবে অনেক শান্তি দেওয়া যায়।(চলবে)

১২তম পর্ব---------রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)---------- স্বল্প স্বনে নীল গান শুনছে,"ধুম তানা ধুম তানা তানা না না ধুম"। এই রূপান্তরের প্রয়োজনটা কোথায়। রূপান্তরের দরকার আমার নিজের কারণে,কারণ আমি নিজেই,ধরে নিলাম আমি রূপান্তরের কারণে এতগুলো মানুষ হতে যেমন আলাদা হতে হয়েছে এটা যেমন সত্য। তেমনি এটাও সত্য যে এই দীর্ঘ বছর যে শরীর আমার কাছে কাম্য নয় সেই শরীর নিয়ে আমি মৃতকল্পের ভিতরে ছিলাম,এবং আমার জীবনটা যন্ত্রণায় দগ্ধ ছিল। এখনো আমরা সামাজিক একদেশদর্শী হতে বের হতে পারিনি,এর জন্য কি করা দরকার তোমার অভিক্ষতা কি বলে যেন মানুষে মানুষে ব্যবধান কমে। এর জন্য দরকার এক কথায় সুশিক্ষা যা বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মময় শিক্ষা হতে হবে,মানুষকে সচেতন করতে হবে।সরকার এবং এনজিও উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে,হিজড়াদের নিয়ে সবাই মিলে বিভিন্ন আলোচনা ও অনুষ্ঠান করতে হবে যাতে একে অপরের প্রতি অবেজ্ঞা চলে যায়।আমরা যখন জন্ম নিই মেয়ে হলে একটা সীমার ভিতর থাকতে হয় এবং ছেলে হলে একটা সীমার থাকতে হয় আর হিজড়া হলে আরেকটা সীমা।যখন সমাজের তৈরি সীমানা থাকবে না যখন সবাই মানুষ পরিচয় দিতে পারবে সেই সয়য় আর মেয়ে,ছেলে ও হিজড়া শব্দগুলো থাকবে না।বর্তমানে রূপান্তর হওয়াতো চিন্তা করাও কঠিন সমাজে,গ্রামে এখনো একটা মেয়ে ছোট করে কেঁটে জিন্স পরে রাস্তায় বের হলে ইভটিজিং এর স্বিকার হতে হয় এবং অসূয়া রটিয়ে দেওয়া হয়।"আমি কি মানুষ না ও স্বাধীনতা,কোথায় আমার ঘর"।আমি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়েছি আমার অন্য রকম একটা অবস্হা ছিল,একটা মেয়ে কিন্তু সে মনে করে মেয়ে না আর তাকে ইংলিশ মিড়িয়ামে পড়তে আজকের দিনেও যেভাবে হেনেস্তা হতে হয় তা কল্পণাও করা যায়।স্কুল ড্রেসের জন্য স্কুল হতে বাহির করে দিয়েছে,স্কুল বলে তুমি মেয়ে তাই তোমার ড্রেস হতে হবে মেয়ের ড্রেস কিন্তু সেই ড্রেসে যে আমি অবলীলা হতে পারতাম না তাই আমাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছে।যার কারণে পড়াললেখা থমকে যায়।আমি একটা সংগঠনের সদস্য যেখানে এরকম অনেক ঘটনা নথি করা আছে।গ্রামে হোক কিংবা শহরে হোক সব জায়গায় বুঝানো হয় যে তোমরা মেয়ে , অতএব মেয়ে থাকো কারণ তোমার জন্মটাই মেয়ে হয়ে।এমনও আছে পরিবার জোর করে বিয়েও দিয়ে দিয়েছে,এই যে আপনি বলেছেন আমরা rear।আমরা rear কেমন করে হলাম আমাদেরতো শুরু করতে শেষ করে দেয় মানুষ। একটা মানুষ যেই রকম জীবন চায় আপনাকে আমাকে সেটা সহজভাবে মেনে নেওয়াই আমাদের সমাজ হোক।একটা মানুষ কেমন জীবন চায় সেটাকে না বুঝে যদি আমরা তাকে দাবিয়ে রাখি তাহলে সেটা কখনো সুফল বয়ে না।ঘরে বাহিরে লড়াইটা বড়ই কঠিন আর এই লড়াইকে সহজ করতে দেশে আইন রয়েছে।লিঙ্গ পরিবর্তনে কোন চাপ দেওয়া বেআইনী শরীর যার সে সিদ্ধান্ত নিবে কিভাবে বেঁচে থাকবে।হিজড়া,তৃতীয় লিঙ্গ কিংবা রূপান্তরকামীরাও মানুষ,তাই তাদের বাঁচার দিকে কেন তীর্যক নজর ফেলব।তাই আইন নয় সমাজের স্বীকৃতি দরকার,তার জন্য দরকার মানবিক মনের,আর যেত দিন পর্যন্ত মানসিক পরিবর্তন না হবে তেতদিন পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে।তাই কবির কথায় বলবো-একজন রূপান্তরকামীর পথে চড়িয়ে চিটিয়ে রয়েছে আমাদের চিন্তাখন্ড।এই যে আমার মুখে দাড়ি,এই যে আমার মুখে গোফ আমি এখন পুরুষ আমি এখন সিংহ।"লাগলো চোখে আগুন ও ও ও, you will suffer me. no?সারে গামা পা ..........সারে সারে সা..,লাগলো চোখে আগুন।সমাজ তুমি কাকের কন্ঠ নিয়ে পড়ে থাকবে কেন আজীবন,চোখ মেলে দেখার সময় যে এখন।রুপালী ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দিয়ে পায়ে পায়েল পরে নৃত্য করে,মেক-আপে অপরূপ হয়ে অভিনয় করে তাতে কি সমাজের কোন ক্ষতি হয়েছে বরং সে সমাজের ধ্রুবা না হয়ে সমাজের আলো হয়েছে যাতে তুমি দেখতে পাও।নীল বিদেশ হতে ডিগ্রী নিয়ে সকল প্রকার আরাম আয়াস ত্যাগ করে মানব সেবা করার জন্য তোমার বুকে ফেরত এসেছে,তাই তাদের ক্ষমা করো সমাজ। (চলবে)

১৩তম পর্ব-------রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)------- আহ....আহ...কেউ এদের বলে শিখণ্ডী,কেউ বলে তৃতীয় লিঙ্গ আবার কেউ বলে কমন জেন্ডার,আর বাকীরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলে হিজড়া।নারী হয়ে কেউ জন্মায় না ক্রমশ তারা নারী হয়ে উঠে ঠিক তেমনি পুরুষশালী শরীর কাঠামো বন্ধি এদের মন প্রাণ পুরোদস্তুর নারীর মনে বদলে যায়।তাই নারী সুলভ সবকিছু তাদের কাছে প্রিয় এবং বহু প্রিয়।নাচ-গান তাদের জীবনের পরীতল,যেখানে তাকালে দুঃখের খরস্রোতা নদীটি অদৃশ্য দেখায়।কিন্তু কোন মানব মনের সাথে মন মিলিয়ে যদি তাদের দিকে তাকায় তাহলে বিষাদসিন্ধুর চাইতেও বিষাদ মিলবে।মারা গেলে তাদের দাফন কিংবা দাহ পর্যন্ত হয় না,সমাজ সেই অধিকার হতেও বঞ্চিত করে। সমাজ তাদের যে জীবন দেখে না সেই জীবনে একটু উঁকি দিই আমরা চলুন সবাই মিলে কান পাতি তাদের জীবনের গভীরে যেখানে তাদের নেতা আছে,কথা আছে,অনেক অনেক মনের কথা।আমি হিজড়া বলে আমার শিক্ষা সনদের কোন মুল্য নাই অথচ আমি সবার মত লেখাপড়া করে পরিক্ষা দিয়ে পাশ করেছি।কেন আমার সনদের মুল্য হবে না মাতৃভূমি তুমি বলো।হিজড়ার হিজড়াই মা,হিজড়াই বাবা,হিজড়াই ভাই-বোন।কি পাষণ হৃদয়ে বরফ লাগবে সমাজ তোমার,যারা তাদের অমানুষ,নমানুষ কত নামে ডাকেন তাদের কি চিন্তার দুয়ার খোলবে।যাদের খোলবে না তাহলে তাদের জন্য রুপালীর কথাটি ছুড়ে দিই,মনে মনে কি উত্তর দিবেন ভাবুনতো।আমরাতো কোন মায়ের সন্তান, আমরাতো মায়ের গর্ভ হতে দুনিয়া দেখেছি তাহলে এভাবে আমাদের জীবন আর কতদিন চলবে,আমরা কার কাছে একটু সহানুভূতি পাবো(প্রচন্ড কান্না)।কান্না বা আবেগের শক্তি মহাজাগতিক এক নয়নের জল দ্রুত অন্য নয়ন ধরে,এক জনের কান্না এদের সবার মনে একই অনুবভের জন্ম দেয়।যার ব্যথা শুধু তারা বুঝে আর কেউ নয়।আজকে দশ বিশ টাকার জন্য আমার বোনদের কত গালি কত লাথি খেতে হয়,আমাদের কপালে এত কষ্ট এত দুঃখ।আমরা কি নিজেরা এমন ইচ্ছাকৃত হয়েছি,এমন মন নিজেরা তৈরি করেছি?( সবাই বলে না না )।আমরাতো কোন পাপ করি নাই,আমাদের জন্ম হওয়া কি পাপ ছিল সমাজের কাছে।এদের জীবনের করুণ দিক হল পরিবার হতে অপভ্রংশ,শুধু হিজড়ার হওয়ায় সমস্ত স্বজনের পরিত্যাগ।পরিজন,পরিবার ও প্রতিবেশী কেউ দেখতে পারে না,অনেক অপমান নিজেকে সহ্য করতে হয়,হিজড়ার বাবা মা বলে অনেক অপমান বাবা মা কে হতে হয়,হিজড়ার ভাই বলে অনেক অপমান ভাইদের হতে হয়,রাস্তায় বের হলে অট্টনাদ উঠে হিজড়ার বাবা মা,হিজড়ার ভাইবোন চারদিকে অপমান আর অপমান।ছোট ভাইটা স্কুলে যেতে পারে না,চুপি চুপি কাঁদে বাঁশ বাগানে বসে।তাইতো যখনি অবসর মিলে হাতে নিয়ে বসে মুঠোফোন,ফোন করে মা বাবার প্রিয় কন্ঠস্বর শুনতে চায়।মারে তোমার এক ছেলে মারা গিয়েছে,আর এক ছেলে আছে তাই ভেবে থাকো,কি করবো আমি মা আত্নীয়-স্বজন দেখতে পারে না,পাড়া-প্রতিবেশী দেখতে পারে না আমি তোমার কাছে গেলে আরো মারদোর করবে মা।এই জন্য আর কোন দিন বাড়ি যাব না,আমি চাই না তোমার কোন কষ্ট হোক,কেউ তোমাকে আমার জন্য মদ্য বলুক তাই দূর হতে ফোনে কথা হবে,কেঁদো না মা রা রা রাখবো এখন।খোজ নেয় খবর নেয় ভালবাসা নেয় এবং ভালবাসা দেয়।কান্নার কোন মূল্য নেই তাদের কাছে কারণ পেটের ক্ষুধা তাদের আবেগকে করে তাড়িত তখন চোখ মুছে জীবিকার তাগিদে ছুটতে হয় আনন্দ বিলাতে এবং অন্ন মিলাতে।"ওমা ছেলে আছে ভাল আমার নয়নও জুড়ালো.......আল্লাহ মিলাইয়া দিছে পূর্নিমার চাঁদ,রাসূল মিলাইয়া দিছে শবেবরাতের চাঁদ"।বাচ্চা জন্ম নেওয়া বাড়িতে এসব গান গেয়ে নাচে টাকা তোলে।তাদের এই হাসি মুখ বেশি সময় থাকে লোকালয় হতে যখন একা ফিরে একান্ত জীবনে তখন বুকে জমাটবাঁধা দুঃখগুলো স্বন হয়ে আলো আধারেতে "জীবন মানেতো যন্ত্রণা,বেঁচে থাকতে বোধদয় শেষ হবে না।জীবনে আসে কত দ্বিধা আর ধন্দ।জীবনে আসে ভাল আর মন্দ,মনের কথা মনে রইল কেউতো বুঝলো না।জীবন মানেতো যন্ত্রণা,বেঁচে থাকতে বোধদয় শেষ হবে না"।ঈশ্বর কারো কপালে কারো দুঃখ চিরস্থায়ী করে না।সমাজের অন্ধ অলিগলিতে জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে প্রায় পরাজিত এই মানুষগুলি।(চলবে)

১৪তম পর্ব-------রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)------- এই অন্ধকারে দেবদূত হয়ে আসা বিধান ত্রিপুরা(ডিসি,ডিএমপি) সংসারের কোন আড্ডায় স্বামী স্ত্রী মিলে আলাপ করেন সমাজের এই অবহেলিত মানুষদের নিয়ে।তাদের জন্য অন্তত কিছু কিছু একটা করতে হবে।সেই কিছু একটায় আজ শত সেলাই মেশিনের কাজের আওয়াজ,যা আজ রীতিমত প্রতিষ্ঠান।সমাজের চোখে অপাংক্তেয় মানুষগুলোর ভিক্ষার হাত বদলে হয়েছে কর্মির হাতে সেলাই মেশিনে হাতপায়ে তাল তুলে তারা হয়েছে কর্মমুখী।আমি হিজড়া হলেও শিক্ষিত,মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা চাওয়া আমার নিজেরও বিবেক বাধা দেয়।মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব মানুষ লাঞ্চনা- গঞ্চনা দেয় এই ব্যথাতো আর সহ্য করতে পারছি না এই কারণে আমার মা আপন মা কর্মের ব্যবস্হা করেছে আমি কর্ম করে খাচ্ছি।জীবন বিমুখ মানুষগুলিকে যিনি জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি মাঝে মাঝে দেখতে আসেন কখনো একা আবার কখনো সস্ত্রীক।বুকে আগলে ধরে শুনেন এবং শুনান নানা কথা,এই মাটির পান্তিক মানুষের জন্য তিনি অন্তর হতে টান অনুভব করেছেন আর এই টান উনাকে নিয়ে এসেছেন এদের মাঝে।আসলে পরিবার,সমাজ এবং রাষ্ট কোন জায়গা হতে তাদের দায়িত্ব নেয় না,যার কারণে এই সব মানুষ কোন আশ্রয়ও পায় না কোথায় যাবে কি খাবে তাদের কি হবে জীবন জীবিকার তা ভেবে দেখে না।এই যে তাদের দেখলে ছি ছি বা দূর দূর করার যে অভ্যাস রয়েছে তাই আমাকে নাড়া দেয়।আমি দেখেছি হিজড়াদের গুরুমা যখন কোনখানে যায় তখন উনি তার শিয্যদের ছাড়া কিছুই খায় না।সুতরাং কোন বিয়ে বাড়ি কিংবা নবজাতকের বাড়ি হোক সেই আনন্দময় সময় গিয়ে যে টাকা দাবি করেন আর যিনি টাকা দেন তার কাছে টাকার পরিমান বেশি মনে হলেও আসলে সেই টাকায় হয়তো সবার দুইবেলা খাবার জোটে না।তাই আমি যেটা মনে করি তা হল পরিবার,সমাজ এবং রাষ্ট এই তিনটা জায়গা একসাথে কাজ করতে হবে।বিশেষ করে রাষ্টের দায়িত্ব বেশি যেমন প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের রাষ্ট সহযোগিতা করেছে তেমনি হিজড়াদের সহযোগিতা করলে সমাজের মুলস্রোতে তারা মিশতে পারবে।তারপর তারা অন্যদের মত স্বাভাবিক হয়ে বসবাস করতে পারবে এবং জন্মই আজন্ম পাপ তা ভুল প্রমানিত হবে।জন্ম মৃত্যু বিয়ে এসবতো প্রাকৃতিক নিয়ম,এসবে অন্য নিয়ামকের কোন হাত কাজ করে না।সুতরাং তাদেরও সুন্দর করে বেঁচে থাকার অধিকার আছে আর সে অধিকার নিশ্চিত করতে সবাই মিলে কাজ করলে তাদের কর্মসংস্হান হবে পরিবারে বসবাসের সুযোগ বাড়বে।আমরা তাদের কত বিরক্ত হয়ে বলি হিজড়া,শব্দটাই কেমন!না তারাও মানুুষ।সৃষ্টির সেরা জীব,অথচ আমরা অস্বিকার করে বিধাতার বিরাগভাজন হচ্ছি এটি আমার ন্যুনতা।সমাজ,পরিবার জায়গা দেয় না,কিন্তু জোর করে টাকা নেওয়াটা বড় নজর আসে অথচ তাদের মন জীবিকার সংগ্রাম নজর এড়ায়।তাদের জন্য কাজ করাটা আমার জীবনে পরম পাওয়া,ধন্যবাদ বিধাতা।একজন সুধী মানুষের সাধু এই কাজ এসব মানুষের জীবন কতটুকু বদলে দিয়েছে তা সমাজের পর্দা পড়া মানুষ না দেখলে বিশ্বাস করবে না।তাই পুলিশ অফিসার বিধান ত্রিপুরা হল আপন গুরুমার কাছে দেবতা।আমরা তাদের ভালবাসায় এই কর্মসংস্হান পেয়েছি,মনে হচ্ছে যেন আমাদের পিছন হতে হতাশা ও অভিশপ্ত জীবন সরে যাচ্ছে।এখন আমাদের পরিবার আমাদের সম্মান করে,কাছে ডাকে তাই দেবতারূপী এই মানুষটার কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ।সূর্য যেমন সারা দিনের পরিকল্পনা নিয়ে পূর্ব আকাশে উঠে ঠিক তেমনি এদের জন্য পুরোদস্তুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজে উদ্যেগ হয়েছেন তারা।ভবিষ্যতেও তারা মাটি ঘেষা আর প্রান্তিক না থাকে মানুষের কাতারে দাঁড়াতে পারে সেজন্য আছে বিশাল আয়োজন।স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী যেন হিজড়া দেখে ভয় না পায় এবং হিজড়াদের প্রতি মায়া,মমতা,ভালবাসা এবং সম্মান অন্তরে সৃষ্টি হয় সে জন্য স্কুল এবং কলেজের পোষাক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এবং শিক্ষিকগণ সময় করেছাত্রছাত্রী নিয়ে এসে হিজড়াদের বসবে আলাপ করবে এবং ছাত্রছাত্রী বুঝবে এবং অন্যকে বুঝাবে হিজড়ারাও মানুষ,তাদের সব ধরনের অধিকার আছে সমাজে।সভ্য সমাজের আর দশ জনের মত তারাওতো মানুষ,রাষ্ট কি কোন দিন পুরো দায় নিবে না,একজন বিধানের মত মানুষ কি সমাজে আর নাই আহ আহ্।(চলবে)

১৫তম পর্ব-------রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)------- আমরা তাদের দেখলেই চিটকে পড়ি কিন্তু তাদের কি বেদন হয় তা অজানা।পোষাক ছেলেদের কিন্তু চলনে মেয়েলীপনা নাম রাশেদ সবাই ডাকে নিপুণ নামে।জন্মের পর হতে মেয়েলী স্বভাব কথাও বলে মেয়েলী ঢং-এ,সাজ যেমন পছন্দ তেমনি নাচ গানও।ছেলেদের সাথে কোন খেলা তার পছন্দ নয় তাই অপলক চেয়ে থাকে।আমার মেয়েলী মন তাই ছেলেদের সাথে মিলতে ভাল লাগে না।মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় একটা নাচের অনুষ্ঠানে হিজড়াদের সাথে পরিচয়,আবার সেই সময় নিজের পরিবর্তনও চাঁদমারি হয়।একটা সময় কচি গুরুমার সাথে মিলে তারপর শুরু হয় রাস্তায়,দোকানে এবং বাসাবাড়িতে পয়সা তোলা। আমি এক পর্যায় লেখাপড়া ছেড়েই দিলাম,তারা আমাকে এমনভাবে আকর্ষণ করে যে তাদের ছেড়ে থাকতে আর ভালই লাগে না।তবে নিপুণের এইসব এখন আর ভাল লাগে না,সে নিজে কোন সামাজিক কিছু করতে চায় যাতে হিজড়া সমাজ উপকৃত হয়।কিছু হিজড়াদের ভিতর ভয়ংকর রকম লোভ ঢুকেছে যে করে হোক টাকা রোজগার করতে হবে,ক্ষমতা পেতে হবে।রাজনীতির অন্ধকার গলির একজন হয়ে কোটি কোটি টাকা চাই যার কারণে হিজড়ার হাতে আয়ুধ,আর এতে যোগান দেয় আরমানের মত লোক এবং জাতীয় নেতা।ক্ষমতার জন্য হয় অস্ত্রের মহড়া,মরণ পণ লড়াই যার জের ধরে সেজুতি আজ মৃত্যুর মুখোমুখি।মাথায় হাতুড়ির আঘাত করে কচি হিজড়া,এলাকার দখল নিজের করতে পারলেই তার রাজত্ব চলবে আর রাজত্ব চললে আসবে টাকা আর টাকা।তাদের ভিতরও খুনখারাবি,তাহলে অস্ত্রো কি তাদের ভিতর থাকে,থাকলে কোথায় পায়,কে অস্ত্রের যোগন দেয়।এতে বুঝা যায় রাজনীতি জড়িত তাদের ভিতরে এবং বাহিরে।নব্বই দশকে ঢাকায় মগবাজার হতে উত্তরা পর্যন্ত সবটি নাজমা হিজড়ার দখলেই ছিল আর তা আস্তে আস্তে অন্যরা দখল করে নিজেদের মধ্য ভাগ করে নেয়।এই দখলকারির ভিতর আবার মাথাছাড়া উঠে উপদল।কচি হিজড়ার শিয্য সেঁজুতি,আপন এবং আলেয়া কচির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে কচির রাজত্বে ভাগ বসায় শুরু হয় স্হায়ী কোন্দল যা রূপ নেয় আসুরিকভাবে। দিয়েছি,আমি যখন যা পেয়েছি সব সমান ভাগ করে সবাইকে দিয়েছি।কোন দিন কারো অংশ মেরে খাইনি,নিজের জিনিস নিজে তারা বুঝে নিয়েছে।হায়দার,পিংকি,কচি ও স্বপ্না এরা সবাই আমার শিয্য।আর এখন আমি নাজমা গুরুমা বুড়ো আর তারা রাজ্যের রাজা।এখন আমি চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়,বয়স হয়েছে টংগীর বোর্ড বাজার এলাকায় বাসায় পড়ে থাকি।আগে মানুষ ইচ্ছাকৃত পাঁচ-দশ টাকা দিত,সারা দিন যা মিলত সবাই তা দিয়ে আহার চলত।এখন যে দোকানপাটে যে চাঁদাবাজি হয়,পাঁচ-দশ হাজার টাকা জোর করে নিতে চায় তাহা ছিল না।আরো অনেক কথা আছে যা বলা যাবে না আসল নকল মিলে আমাকে মেরে ফেলবে।গুরুমা নিজে আজ আতঙ্কে থাকেন কিন্তু এত টাকা কি করেন হিজড়ারা।আমি আজ নিঃস্ব কারণ কোন লোভ করি নাই আর কার জন্য সম্পদ করবো আমাদেরতো কোন অভিমুখী নাই।অন্যরা লোভে পড়ে টাকা বাড়ি গাড়ির পিছে ছুটছে,মারা গেলে কে খাবে।এই যে হায়দার একজন কুলি ছিল,আর কুলি হতেই কোটি টাকার মালিক বনে মগবাজারেই পঞ্চাশ লাখ টাকার বাড়ি কিনে।হায়দারের সাথে স্বপ্নার দ্বন্দ্ব পুরাতন।স্বপ্না পুলিশকে হাত করে হায়দারকে অস্ত্রোসহ ধরিয়ে দেয় একবার কারণ টাকার ভাগবাটোয়ারা।কচি নাকি কাজল হিজড়াকে গুম করে,এই কচিই পিংকিকে গুম করেছে।ওহ,কত ভয়ংকর এই সমাজও।এর ভিতর আবার গুপ্তচরও আছে,মানিক হিজড়া কখনো হায়দারের সাথে আবার কখনো স্বপ্নার সাথে থাকে।ঝুমাকেও স্বপ্না খুন করতে চেয়ে ছিল।এই ঝুমার সাথে অনেকজন তারা কেউ কেউ প্রকৃত হিজড়াও নয়।হাতের তালি,চাঁদা তোলা,বাসা বাড়িতে হানা দেওয়া সব স্বপ্নাই শিখিয়েছে আমাদেরকে।আসতে আসতে অনেক হিজড়া জমা হয়ে যায় তাদের সবাই একে অন্যের সাথে দাম্ভিক বাক্য বিনিময় জড়িত।হঠাৎ করে পুলিশের গাড়ি হাজির হয় কয়েকজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তারপর কি আমার অজানা।
পরখ করে জানা যায় হিজড়াদের আদি পেশা নবাগত বাচ্চা নাচানো,আর সেখানে পাওয়া যেত বকশিস।আর তাতে হিজড়ারা খুশি থাকতো এবং জীবন চালাত।কিন্তু বর্তমানে তার উল্টো।দক্ষিন বনশ্রী,রামপরার একটা শিশু যার জন্ম গ্রামে এবং সন্তান জন্মের পর বাবা মা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।আর এই খবর হিজড়াদের কাছে চলে যায় এমনি দলবেঁধে হিজড়ারা হাজির।(চলবে)

১৬ তম পর্ব-------রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া)------- এই যে দোকানে দোকানে টাকা তোলে হিজড়ারা তা কি মানুষ খুশি মনে দিয়ে দেয়,না তা কখনো না।জোর জবরদস্তি করে এবং টাকা কম দিলে কুশ্রী কথা বলে তাই দোকানী সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে হিজড়াদের টাকা দেয়।আর টাকা না দিলে জিনিস প্রত্রও নিয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের টাকা দেয় দোকানী।তাদের এই সব কাজ সমাজ বাঁকা চোখে দেখে কারণ তাদের কাজও বাঁকা তাহলে তাদের জীবিকা।কিন্তু তাদেরকে কেউতো আর সহজ কাজ দেয় না তাহলে জীবন ধারণের উপায় কি।এই সহজ কথার উত্তর জটিল বলে তাদের ভাবমূর্তিও জটিল।স্বপ্না,হিজড়া হওয়ার কারণে বাড়ি হতে বিতাড়িত হয়ে একদিন আশ্রয় নেয় নাজমা গুরুমার কাছে।এখন তার দখলে মগবাজার,গুলশান,বনানী,তেজগাও আর কাওরান বাজারের কিছু অংশ।এই স্বপ্না আর হায়দারের সম্পর্ক নষ্ট হয় ক্ষমতা ও অর্থের কারণে।
আমরা একদিন নাজমা গুরুমাকে এলাকা ছাড়া করি এক সাথে চলবো বলে কিন্তু হায়দার প্রথমই আমার শিয্য সজিবের কান ভারী করে আমার বিরুদ্ধে বলে।এবং আস্তে আস্তে অনেকজনকে তার পক্ষে নিয়ে যায় এবং আমার নামে অনেকগুলি মামলাও করে।জানি না কি সত্য কি মিথ্যা কারণ এখন হায়দার মৃত।তবে মানিক এখন স্বপ্নার সাথে থাকে তখন জীবনের ভয়ে সে হায়দারের বাসায়ও যেত।এই মানিকই একদিন নানা অভিযোগ করেছে স্বপ্নার বিরুদ্ধে এখন সে স্বপ্নার একজন বিস্বস্ত সঙ্গী।যে স্বপ্নার বিরোদ্ধে এত অভিযোগ মানিকের তাহলে সে আবার স্বপ্নার কাছে কেন।আসলে সে কার লোক বুঝা কঠিন সব যেন তালগোল পাকনো।আমরা যারা তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে তিক্ত বিরক্ত তারা হয়তো ভিতরের ভিন্ন দিকগুলি জানি না।এই ভিন্ন দিকের কারণে একই ব্যক্তি দুইজনের কাছে ঘটনার ভিতরও ঘটনা থাকে আর সেটা হল রাজনীতি।
সেঁজুতি পুরো এক বছর পরে হাসপাতাল হতে ছাড়া পেয়েছে তাও এক পায়ের উপর ভর করে হাঁটতে হয়।হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে থাকার সময় বলা হয়নি কিছু কথা।কি সেই কথা। আমরা যে টাকা উঠাতাম তা সব কচি হিজড়ার কাছে জমা রাখতাম।আর সেই টাকা ফেরত চাওয়ার পর সে ফেরত দিতে রাজি হয় না,তখন খেকে শত্রুুতা শুরু হয়।সে দিন তারা মৃত ভেবে আমাকে ফেলে যায়,এেবং এখনো হুমকির ভিতর আছি কারণ কচি খুবই ভয়ংকর প্রকৃতির মানুষ। হায়দার হত্যা এবং সেঁজুতি হত্যা চেষ্টার মামলার আসামি হল এই সেই কচি। হায়দারকে কে মারছে সেটা আল্লাহ জানে,আমি মিথ্যা হতে পারি কিন্তু আল্লাহ মিথ্যা না।হায়দার মারা যাওয়ার পর আপন বাদী হয়ে আমাকে আসামী করে মামলা করে।কারণ আমাকে আমার জায়গা হতে বেদখল করে আমার জায়গা দখল করা তার লক্ষ্য।আমাকেও হত্যা করতে চেয়ে ছিল,আমার হাতে পিঠে এখনো আঘাতের চিহ্ন আছে এমনকি মাথাটাও খন্ড বিখন্ড।তদন্ত করে যদি আমি দোষী হই তাহলে যেটা বিচার হয় সেটা মেনে নিব এতে আমি ভয় পাই না। নিজেদের দ্বন্দ্ব নাকি সম্পদ,কোনটা কাল হয়ে ছিল হায়দারের,এলাকার আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব,হামলা-মামলা নাকি খুন-খারাবি।তবে মজা কিংবা ভয়ংকর খবর হল অনেক দিন গুরুমা হয়ে শিয্য নিয়ে থাকার পরও গুরুমা অস্ত্রোপাচার করে মেযে হিজড়ায় পরিনত হওয়া।টাকার জন্য মানুষ জীবনকে কতটা বেদনাদায়ক করতে পারে।আমরা যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করি তারা এই বেদনার শতভাগের একভাগও বুঝবো না।তাদের প্রতি যদি ন্যায় বিচার করা না যায়,তাদের প্রতি আমাদের মনোভাব যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে সমঅধিকারের সমাজ গঠন সম্ভব না।হায়দার মরে নিজের এলাকা দখল রাখা এবং গুরুমা হিসাবে টিকে থাকার যন্ত্রণা হতে মুক্ত আজ।"বিধি তোমার বিধির বিধান বানাইলা দুনিয়া,নারী পুরুষ না বানাইয়া বানাইলা হিজড়া।বিধি নারী পুরুষ না বানাইয়া বানাইলা হিজড়া।কেউবা করে অবহেলা,কেউবা করে খেলা,আমরা যেন এই সমাজের মানুষ নামের খেলনা।ওহ ভাই মানুষ নামের খেলনা।ওহ বিধি....বিধি.. আমার"।(চলবে)
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ১৬৪১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৪/১১/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • আপনার লেখা শেষ অবধি পড়লে একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়।
    অসম্ভব ভালো লেখা
  • আপনার লেখা এখন দেখিতে পারছিনা।ব্লগে লেখা ছেড়ে দিলেন???প্রিয়
  • আবু সাইদ লিপু ০৩/১২/২০১৭
    বিরাট উপন্যাস!!!!
  • ভালো।
  • শান্ত চৌধুরী ১৫/১১/২০১৭
    চমৎকার লিখুনী দাদা। তবে পর্বে পর্বে ভাগ করে সংক্ষিপ্ত দিলে সবাই মনযোগ দিয়ে পরতে পারবে। শুভ কামনা সতত।
  • সোলাইমান ১৫/১১/২০১৭
    বেশ ভাল।
 
Quantcast