www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

জ্যাঠামশাই

সেই দিনটার কথা ভাবলে আজও আমার গায়ে কাঁটা দেয় । তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী । সেদিন সন্ধ্যাবেলা বাড়ির দোতলায় আমার পড়ার ঘরে প্রতিদিনের মত পড়তে বসেছি । একমনে পড়ে চলেছি । হঠাৎ সামনের খোলা জানালার দিকে চোখ যেতেই দেখি জানালার ওপারে জ্যাঠামশাই দাঁড়িয়ে আছেন । জ্যাঠামশাইকে দেখে প্রথমে একটু থতমত খেয়ে গেলাম । আজ তো তাঁর আসার কথা নয় । দু’দিন পরে কালীপূজোর দিন আসার কথা । জ্যাঠামশাই দানাপুরে রেলে কাজ করেন । মাঝে মাঝে অফিসের কাজে কোলকাতা হেড অফিসেও আসেন । ভাবলাম সে রকমই কাজ নিয়ে হয়তঃ দু’দিন আগেই চলে এসেছেন । জ্যাঠামশাই মৃদু হেসে ইশারায় আমায় ডাকলেন । আমি দৌড়ে বারান্দায় গেলাম । কিন্তু জ্যাঠামশাই কোথায় ? তাঁকে দেখতে পেলাম না । ভাবলাম কৌতুকপ্রিয় জ্যাঠামশাই আমাকে একটু দেখা দিয়ে একতলায় চলে গেছেন । আমি এক নিমেষে সিঁড়ী দিয়ে নিচে চলে গেলাম । মায়ের সাথে দেখা হতেই মাকে বললাম – “ মা জ্যাঠামশাই কোথায় গো ?” আমার কথা শুনে মা রেগে গিয়ে বলল – “কোথায় জ্যাঠামশাই ! তাঁর আসতে এখনও দু’দিন বাকি । পড়ায় ফাঁকি দেবার পথ খুঁজছিস ?” মায়ের ধমক খেয়ে উপরে পড়ার ঘরে চলে এলাম । ব্যাপারটা যে কি ঘটলো বুঝে উঠতে পারলাম না । পড়ায়ও মন বসাতে পারলাম না । ঘণ্টা খানেক ধরে বইপত্র নাড়াচাড়া করে নিচে চলে গেলাম । হঠাৎ ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল । মা ফোনটা রিসিভ করল । কিছুক্ষণ কথা বলার পর মা বলতে লাগল “না না এ হতে পারে না । কালই তো দাদার সঙ্গে কথা হল”। তারপর মা হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করল । ফোনের রিসিভার রেখে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল “তোর জ্যাঠামশাই আর নেই রে । সন্ধ্যাবেলায় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে চলে গেছেন । তোর দাদা ফোনে সেই খবরই দিল । আমি তখন বিস্ময়ে বিমুঢ় । আমার মুখে কোন কথা সরল না । কিন্তু একটু আগে আমি জ্যাঠামশাইকেই তো দেখলাম । জ্যাঠামশাই আমাকে খুব ভালোবাসতেন । তাই আমাকে হয়তঃ দেখা দিয়ে গেলেন । আমি দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলাম ।।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৩২১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৮/১২/২০১৬

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast