www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

পলাশ

কতদিন পর আজ পলাশ বাড়িতে আসবে । অনিল ও কমলার আনন্দ আর ধরে না । ছেলে ট্যাংরা মাছ খুব ভালোবাসে বলে অনিল সাত সকালে বাজারে গিয়ে বেশ চড়া দামেই ট্যাংরা মাছ কিনে এনেছে । কমলাকে ভালো করে ট্যাংরার ঝাল রাঁধতে বলে অনিল বেরিয়ে গেল ছেলেকে ষ্টেশন থেকে আনতে । আজ আর তার নিজের রিক্সা নিয়ে যাওয়া চলবে না । ছেলে খুব কষ্ট পায় । ছেলে রিক্সায় চড়বে আর বাবা সেই রিক্সা চালিয়ে নিয়ে যাবে এটা সে মন থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না । তাই আজ হেঁটে হেঁটেই যেতে হচ্ছে । যেতে যেতে তার মনে পড়ে গেল একুশ বছর আগে যেদিন পলাশ তাদের ঘর আলো করে এসেছিল সেই দিনের কথা ।

সেদিন শেষ ট্রেনের প্যাসেঞ্জার নিয়ে বাড়ি ফিরছিল অনিল । রাস্তাঘাট শুনশান । চাঁদের আলোয় সারা পরিবেশে ছিল এক প্রাকৃতিক মোহময়ী রঙ । সেই রঙে রাস্তার ধারে পুকুর পাড়ের পলাশ গাছটা বসন্তের আগমনী রূপের আতিশয্যে উদ্ভাসিত । পলাশ গাছের কাছে আসতেই একটা শিশুর কান্নার আওয়াজ অনিলের কানে এল । এত রাতে এ-রকম নিঝুম জায়গায় বাচ্চা এল কোথা থেকে ? প্রথমে অনিল ভেবেছিল হয়তঃ তার মনের ভুল । তারপর কিছুক্ষন পরেই সে নিশ্চিত হল । হ্যাঁ, একটা বাচ্চার কান্না ক্রমাগত ভেসে আসছে ঐ পলাশ গাছটার কাছ থেকে । সওয়ারির সঙ্গে কোন কথা না বলে রিক্সা থামিয়ে সে নেমে পড়ল। পুকুর পাড়ে পলাশ গাছের নিচে যেতেই অনিল চমকে উঠল । একটা ছোট্ট পুটুলি নড়ছে । আর তার মধ্য থেকে একটা বাচ্চার ক্ষীণ কণ্ঠের কান্নার আওয়াজ । অনিলের বুঝতে আর কিছু বাকি রইল না । সাত পাঁচ না ভেবে পুটলিটা তুলে নিল সে । পাঁচ ছয় দিনের একটি শিশু । ছুটে এসে সওয়ারির হাতে শিশুটিকে দিয়ে তাকে কিছু বুঝতে দেবার আগেই রিক্সা চালিয়ে দিল অনিল । নিজের বাড়ির কাছে এসে বাচ্চাটিকে ভদ্রলোকের হাত থেকে নিয়ে তাকে বলল – “ভাড়া দিতে হবে না আপনাকে । আর একটু এগিয়ে গেলেই তো আপনার বাড়ি । এটুকু রাস্তা হেঁটে চলে যান”। শিশুটিকে পেয়ে নিঃসন্তান কমলার যে কি আনন্দ তা ভাষায় বর্ণনা করার ছিল না । তারপর তারা দু’জনে ধীরে ধীরে শিশুটিকে বড় করে তুলল । তারা তার নাম রাখল পলাশ । গ্রামের স্কুলের পাঠ শেষ করে সরকারী অনুদানে পড়াশুনা করার জন্য পলাশ এখন কোলকাতায় ।

দোলের ছুটিতে পলাশ আজ বাড়িতে আসছে । স্টেশনে পৌঁছতে অনিলের একটু দেরী হয়ে গেল । প্লাটফর্মে ট্রেন ঢুকে গিয়েছে । তাড়াতাড়ি প্লাটফর্মের দিকে দৌড়ে যেতেই অনিল দেখল পলাশ গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছে । পলাশকে দেখে সে আনন্দে আত্মহারা । দু’জনে দু’জনকে জড়িয়ে ধরল । তারপর গল্প করতে করতে তারা দু’জনে বাড়ির পথ ধরল । ওদিকে বাড়িতে কমলা ছেলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ।।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ২৯৮ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৭/০৫/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast