www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

অন্তরঙ্গ ব্যালকনি

এক.
রাস্তায় রিক্সার জন্য অপেক্ষায় থাকা পথিকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। ছলেটি কিছু বুঝে ওঠার আগে রিক্সা এলে উঠে চলে যায়। সেই থেকে আসা যাওয়ার পথে সেই ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে থাকে। মুচকি হাসির সেই মেয়েটিকে দেখবে বলে। একই পাড়ায় বাসা হলেও অনেকদিন পর্যন্ত দেখা হয় না।
ছেলেটি সেই বিল্ডিংয়ে টু-লেট লেখা সাইনবোর্ড দেখে খুব উৎসাহ নিয়ে ফোন করে। মেয়েটি সালাম বিনিময় করে জানতে চায়। ফোন দেয়ার কারণ? ছেলেটি বুকে সাহস সঞ্চার করে বলে টু-লেট লেখা দেখে ফোন দিলাম। মেয়েটি মিষ্টি মধুর স্বরে বলে আর কিছুই কি দেখেননি? ছেলেটি বলে হুম দেখেছিলাম! মেয়েটি বলে কি দেখেছিলেন? ছেলেটি আমতা আমতা করে বলে ব্যালকনি! মেয়েটি বলে তারপর?
ছেলেটি বলে ব্যালকনিটা হাসছিল!
-ব্যালকনি আবার হাসতে জানে নাকি!
-হুম জানে! আমি দেখেছি!
-তো কতদিন দেখলেন সেই হাসি?
-না, একদিনই!
-শুধু একদিন দেখেই এত খুশি!
-সব সময় দেখব বলেই এত খুশি!
-আপনি এখন কোথায় আছেন?
-এখন অফিসের পথে।
-কিসে আছেন আপনি?
-আমি?
-হুম কথাতো আপনার সাথেই হচ্ছে! নাকি জিন ভূতের সাথে।
-হলেও হতে পারে!
-তাহলে আপনি জিন! বলে মেয়েটি খিলখিল করে হাসতে থাকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে রাতে কথা বলব।
-রাতে আবার কেন?
-না! মানে এমনি!
-এমনি কি? একটু দীর্ঘ করে জিজ্ঞেস করে মেয়েটি।
- বাসা ভাড়া!
-হুম বাসা ভাড়া! ভালোবাসা!
তারপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেটি ফোন করার চেষ্টা করেও সংযোগ পায় না। অপারেটিং সিস্টেম থেকে কেউ একজন সুমিষ্ট কন্ঠে বলে ওঠে 'ইন সাফিসিয়েন্ট ব্যালেন্স’।
ছেলেটি আবেগে ভাসতে থাকে। কখন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরবে। এই চিন্তায় ঘোরে পড়ে। স্বপ্নে বিভোর হয় তার মন। পাখির মত শুন্যে উড়ে মন। এমন সুন্দর শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা মেয়েটি তার মনে বিচরণ করতে থাকে!

দুই.
ইতস্তত মনে ছেলেটি ফোন করে সেই মেয়েটিকে যার নাম্বারটা বিল্ডিংয়ের টু-লেট সাইনবোর্ডে লেখা ছিল।
একটি পুরুষের ভারী গলায় বলে ওঠে।
-হ্যালো, কে?
-জ্বি আমি সাহেল!
-কোন সাহেল?
-জ্বি আসলে আমি বাসা ভাড়া নেয়ার জন্যই ফোন দিয়েছি।
-ও আচ্ছা! এটা তো ফ্যামিলি বাসা!
-জ্বি আমি জানি!
-এটা সিঙ্গেল ইউনিটের বাসা।
-জ্বি অসুবিধা নেই। ভাড়া কত পড়বে?
-গ্যাস কারেন্ট আর সার্ভিস চার্জ ছাড়া দশ হাজার টাকা।
-আচ্ছা, আমি কবে থেকে উঠতে পারব?
-এক তারিখ থেকে উঠতে পারেন চাইলে।
-আচ্ছা আমি এক তারিখেই উঠব।
বলে ছেলেটি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

শুক্রবার বন্ধের দিন দেখে বাসায় সমস্ত মালামাল নিয়ে ওঠে সাহেল। সময় করে বারবার ব্যালকনিতে যায়। আর দৃষ্টি রাখে সেই নাম না জানা মেয়েটির দিকে। না! কোথাও দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবার ব্যালকনিতে যায় আর হতাশ হয়ে ফিরে আসে। সাহেলের এই অস্বাভাবিকতা তার স্ত্রী রুমার নজর এড়ায় না। কিন্তু রুমাও কিছু বলে না।

রাতে ঘুমাতে গেলে বিছায় এপাশ ওপাশ করে কাটে। ঘুম থেকে উঠেই সেই ব্যালকনিতে। হঠাৎ দেখে তার চোখ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যায়। এ কি অপ্সরা! এত সুন্দর তার গায়ের রঙ। যেন কাঁচা শশা! যেমন রূপ তেমন হাসি! আহা কি অপূর্ব!

তার পিছনে রুমাও দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই! রুমা তাও কিছু বলে না। সাহেল বোঝার আগেই রুমে ঘরে ফিরে আসে। রুমা দেখে সাহেলের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক।

তিন.
অফিস থেকে ফিরে সাহেল ফ্রেশ হয়ে নেয়। রুমা চা দিয়ে রান্নায় ব্যস্ত হয়ে যায়। এই সুযোগে সাহেল সেই নাম্বারে ফোন দেয়। আবার সেই পুরুষ কন্ঠ। সাহেল রঙ নামার বলে রেখে দেয়। ওপাশ থেকে সেই নাম্বার ফোন করে সাহেল রিসিভ করতে ভয় পায়। আবার ফোন করে সাহেল ফোন রিসিভ করে আগে বোঝার চেষ্টা করে নারী কন্ঠ না পুরুষ কন্ঠ! যথারীতি ফোনের ওপ্রান্তের কন্ঠটা অদ্ভুত সেই নারীর। সাহেল পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চায়। মেয়েটি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে। সাহেল চিন্তায় পড়ে যায় কেন এমন হচ্ছে?
-দেখুন আমি বিবাহিত!
-তাতে কি?
-তাতে অনেক কিছু!
-অনেক কিছু মানে আমি বুঝিনি!
-আপনাকে বোঝানোর দায়িত্ব আমিও নিইনি।
মেয়েটি এই কথা বলেই ফোনটি কেটে দেয়।

সাহেল কিছুটা অপ্রস্তুত হয়। নিজেকে সামলে নিয়ে। চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। তার ঘোর কাটে না। সে কিছুই বুঝে ওঠার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এই সময় তার স্ত্রী রুমা তার কাঁধে হাত রাখে।

রুমা কিছুটা দুষ্টুমির ভঙ্গিতে বলে ঠিক হয়ে যাবে। সাহেল বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে স্ত্রী রুমার দিকে আরো গভীর দৃষ্টিতে তাকায়। রুমার চোখে ছলছল করে জল। সাহেল কেমন যেন একটা ঘোরে পড়ে।
-বল কি হয়েছে? বলে রুমা।
-কি ঠিক হয়ে যাবে?

এমন সময় কলিংবেল বেজে ওঠে। রুমা কলিংবেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেয়। আর বলে আয় বীথি। সেকি এ যে আমার দেখা সেই অপ্সরা! আমার স্ত্রীও দেখছি নাম জানে! আয় আমার হাজবেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। আরে সাহেল ভাইকে পরিচয় করাতে হবে? বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে দু'জন। রুমা আর বীথি মিলে এই পরিকল্পনা করে। সাহেল শহরে মেসে থেকে বুয়ার হাতের রান্না খেয়ে ক্লান। শরীরেও রোগ বাঁধিয়েছে! হুম রোগ বাঁধিয়েছে বলে টিপন্নি কাটে বীথি।
-কি কেমন দিলাম সাহেল ভাই?
-কই কি দিলেন? দেয়ার আগেই তো হাওয়া।
-আচ্ছা তোরা কথা বল। বলেই রুমা কিচেনে যায়।

-আপন ফোন ধরেননি কেন?
-কেন? ধরলে কি হত শুনি?
-কি আর হত? বাসা ভাড়া হত!
-আর?
-ভালোবাসা!

আর ভালোবাসতে হবে না। এবার নিজের বউকে ভালো বাসেন। যান মিয়া! একনাগাড়ে বীথি কথাগুলো সাহেলকে বলেই কিচেনে রুমার কাছে চলে যায়।

-লেখকঃ
গাজী তারেক আজিজ
গল্পকার


e-mail: [email protected]
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৭৭ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৩/০৬/২০২৪

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast