গোলমেলে
আমাদের সমাজটা পুরো গোলমেলে, তার থেকে বড় গোলমাল আমাদের পরিবারে। দাদারা দিদিরা, যখন আমাদের জীবনটাই গোলমেলে তখন সমাজ বা পরিবারের দিকে আঙুল না তুলে, সময়ের দিকেই আঙুল তুলতে হয়। সময় হলো অনন্ত ভুলভুলাইয়া, যার শিকার মানুষের জীবন। মানুষের জীবন নিয়েই গড়ে ওঠে পরিবার, একাধিক পরিবার সৃষ্টি করে সমাজ। তাই সময়, জীবন, পরিবার ও সমাজ একই মালায় গাঁথা। আমি এখানে চার দিককে জুড়তে বসিনি, অতএব আসল কথায় আসা যাক।
হাতের পাঁচটা আঙুল সমান হয় না, তাই সমাজের পাঁচজন লোক পাঁচ রকম কথা বলে। আপনি ওপরে উঠতে থাকলে, পাড়ার লোক বলবে, 'ও খুব স্বার্থপর, নিজের ছাড়া কিছু বোঝে না'। আপনার বন্ধুরা বলবে, 'ও নেশা করে, চরিত্রহীনও বটে'। সহকর্মীরা বলবে, 'ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ সরিয়ে দিয়েছে, আলমারির চাবি সরিয়ে দিয়েছে, আলমারি থেকে টাকা চুরি করেছে'।
আবার সমাজ বলে সমাজের কথায় কান দিও না। সমাজের কথায় কান তখনই লোকে দেয় না, যখন তার পরিবারে শান্তি থাকে। কিন্তু পরিবার আরো বড় গোলমেলে জায়গা। জানবেন রক্তের সম্পর্ক ঠকায়- সমাজ থেকে মানুষ যত না ঠকে, পরিবার থেকে শত গুণে বেশি ঠকে। এবার এর ব্যাখ্যা দি।
ব্যাখ্যা দেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি। মা বাবা তাদের সকল সন্তানকেই সমান চোখে দেখেন ও সকলের জন্যই সমান কর্তব্য করেন। আমাদের ভারতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক অটুট থাকে- সুখে দুঃখে স্বামী স্ত্রী একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।
যে ভাই বোনেরা এক থালায় বসে ছোটবেলায় ভাত খায়, বড় হয়ে সম্পত্তি ভাগের সময় তাদের আসল রূপ বেরিয়ে পড়ে। তখন কি রকম কথা ওঠে তুলে ধরি- 'তুই বেশি রোজগার করিস, তুই কেন অত সম্পত্তি নিবি'; 'তুই তো শ্বশুর বাড়ি থেকে অনেক পেয়েছিস, তোর বাপের বাড়ি থেকে কম নেওয়া উচিত'; 'তোর বিয়েতে মা বাবা প্রচুর গয়না দিয়েছে, তুই কেন বাড়ির ভাগ পাবি'; 'বোনেদের বিয়েতে যা গয়না দেওয়া হয়েছে, ভাইদের বৌদের আশীর্বাদে তত পরিমাণ গয়না দেওয়া হয়নি'; 'যে বেশি সম্পত্তি পাবে, মা বাবাকে শেষ বয়সে সে দেখবে'; ইত্যাদি। মা বাবা নিরুপায় হয়ে দেখেন। পাড়ার লোক, বন্ধুবান্ধব ও অফিসের সহকর্মীরা যে ধরণের কথাবার্তা বলেন, আত্মীয়স্বজনরাও সেই একই ধরণের কথা বলেন, যদি আপনার অবস্থা তাদের থেকে ভালো হয়। তবে আত্মীয়স্বজনরা নানা ভাবে ক্ষতি করে, সমাজ তা করে না।
অতএব বড় হতে গেলে দু জায়গাতেই দু কান কাটা হতে হবে- ঘরে ও বাইরে। দু হাত কাটা হলে চলবে না। আর কেবল রাস্তা পারাপার করার সময় দু কান খোলা রাখতে হবে।
হাতের পাঁচটা আঙুল সমান হয় না, তাই সমাজের পাঁচজন লোক পাঁচ রকম কথা বলে। আপনি ওপরে উঠতে থাকলে, পাড়ার লোক বলবে, 'ও খুব স্বার্থপর, নিজের ছাড়া কিছু বোঝে না'। আপনার বন্ধুরা বলবে, 'ও নেশা করে, চরিত্রহীনও বটে'। সহকর্মীরা বলবে, 'ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ সরিয়ে দিয়েছে, আলমারির চাবি সরিয়ে দিয়েছে, আলমারি থেকে টাকা চুরি করেছে'।
আবার সমাজ বলে সমাজের কথায় কান দিও না। সমাজের কথায় কান তখনই লোকে দেয় না, যখন তার পরিবারে শান্তি থাকে। কিন্তু পরিবার আরো বড় গোলমেলে জায়গা। জানবেন রক্তের সম্পর্ক ঠকায়- সমাজ থেকে মানুষ যত না ঠকে, পরিবার থেকে শত গুণে বেশি ঠকে। এবার এর ব্যাখ্যা দি।
ব্যাখ্যা দেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি। মা বাবা তাদের সকল সন্তানকেই সমান চোখে দেখেন ও সকলের জন্যই সমান কর্তব্য করেন। আমাদের ভারতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক অটুট থাকে- সুখে দুঃখে স্বামী স্ত্রী একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।
যে ভাই বোনেরা এক থালায় বসে ছোটবেলায় ভাত খায়, বড় হয়ে সম্পত্তি ভাগের সময় তাদের আসল রূপ বেরিয়ে পড়ে। তখন কি রকম কথা ওঠে তুলে ধরি- 'তুই বেশি রোজগার করিস, তুই কেন অত সম্পত্তি নিবি'; 'তুই তো শ্বশুর বাড়ি থেকে অনেক পেয়েছিস, তোর বাপের বাড়ি থেকে কম নেওয়া উচিত'; 'তোর বিয়েতে মা বাবা প্রচুর গয়না দিয়েছে, তুই কেন বাড়ির ভাগ পাবি'; 'বোনেদের বিয়েতে যা গয়না দেওয়া হয়েছে, ভাইদের বৌদের আশীর্বাদে তত পরিমাণ গয়না দেওয়া হয়নি'; 'যে বেশি সম্পত্তি পাবে, মা বাবাকে শেষ বয়সে সে দেখবে'; ইত্যাদি। মা বাবা নিরুপায় হয়ে দেখেন। পাড়ার লোক, বন্ধুবান্ধব ও অফিসের সহকর্মীরা যে ধরণের কথাবার্তা বলেন, আত্মীয়স্বজনরাও সেই একই ধরণের কথা বলেন, যদি আপনার অবস্থা তাদের থেকে ভালো হয়। তবে আত্মীয়স্বজনরা নানা ভাবে ক্ষতি করে, সমাজ তা করে না।
অতএব বড় হতে গেলে দু জায়গাতেই দু কান কাটা হতে হবে- ঘরে ও বাইরে। দু হাত কাটা হলে চলবে না। আর কেবল রাস্তা পারাপার করার সময় দু কান খোলা রাখতে হবে।
মন্তব্য যোগ করুন
এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।
মন্তব্যসমূহ
-
আখলাক হুসাইন ১৫/০৪/২০২৬দর্পণ
-
ডঃ মধুমঙ্গল সিনহা ২৭/০৩/২০২৬চমৎকার লিখেছেন।
-
ফয়জুল মহী ২৭/০৩/২০২৬চমৎকার উপস্থাপন
-
শ.ম. শহীদ ২৬/০৩/২০২৬বেশ হয়েছে। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
