www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

অমৃতা তোমাকে-

হঠাতই অফিসের কাজে দিল্লী চলে যেতে হয়েছিল । খুবই আর্জেন্ট কাজ । না বলার উপায় ছিল না । এদিকে সাতদিন পর গানের ফাংশান । তিন চারটে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে হবে । চাকরি করলেও গানটাকে ছাড়তে পারিনি । এটা আমার হবি অথবা নেশা কিংবা দুটোই বলা যেতে পারে । কিছুদিন হল একটা গানের স্কুলে ভর্তি হয়েছি । অফিস ছুটির পর একটু-আধটু চর্চা করি । দিল্লীতে আসার জন্য এই ক’দিন রিহার্সাল হবে না এটা ভেবে চিন্তা হচ্ছিল ফাংশানে ঠিক মত গাইতে পারব কিনা ! কিন্তু গান গাইবার লোভে ফাংশানের মোহ ছাড়তে পারছিলাম না ।

দিল্লীর গেস্ট-হাউসে শুয়ে সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছি । তখন গভীর রাত । হঠাৎ কপালে একটা ঠাণ্ডা হাতের পরশে চমকে উঠলাম । দেখলাম চব্বিশ-পঁচিশ বছরের একটি সুন্দরী মেয়ে আমার পাশে বিছানায় বসে । মেয়েটি মৃদু হেসে বলল – “চিন্তা করছো কেন জয়ী ? আমি তো আছি । ফাংশানে যে গানগুলো গাইবে আমার সাথে গাও”। মেয়েটির কথায় আমি মোহিত হয়ে গেলাম । কোন চিন্তা না করে ওর সাথে গান ধরলাম । এই ভাবে পরপর পাঁচদিন ঘুমন্ত বেলায় রিহার্সাল চলল । আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম । গানগুলো একেবারে কণ্ঠস্থ হয়ে গেল । তারপর আমার কলকাতায় ফেরার সময় হয়ে গেল ।

কলকাতায় ফিরেই গানের স্কুলে গিয়ে চমকে উঠলাম । ঘরের টেবিলে একটি সুন্দরী মেয়ের বাঁধানো ছবি । ছবিতে রজনিগন্ধার মালা । এই মেয়েটিই তো দিল্লীর গেস্ট-হাউসে গভীর রাতে আমার কাছে এসেছিল । ঘুমন্ত বেলায় গানের রিহার্সালে সহযোগিতা করেছিল । কিন্তু ওকে এখানে এভাবে দেখছি কেন ? নিজেকে সংযত করে দিদিমণি নূপুরদিকে জিজ্ঞাসা করলাম – “দিদি এ-কে ?” আমার প্রশ্ন শুনে নূপুরদির চোখের কোল বেয়ে নেমে এল জলের ধারা । আঁচলের কাপড়ে চোখদুটো মুছতে মুছতে বলল – “অমৃতা । আমার স্কুলেরই ছাত্রী ছিল । গান খুব ভালবাসত আর গাইতও ভাল । দুর্ভাগ্য ও আর আমাদের মাঝে নেই । পাঁচ বছর আগে এক প্লেন এক্সিডেন্টে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে । ওর বাবা-মায়ের যে কি অবস্থা তা ভাষায় ব্যক্ত করার নয় । এই যে অনুষ্ঠান হতে চলেছে সেটা মেয়ের জন্মদিনে তাঁরই স্মৃতিচারনে বাবা-মায়ের উদ্যোগ । বাবা-মায়ের কাছে তাদের মেয়ে এখনও বেঁচে আছে । তাদের অন্তরে, তাঁর জন্মদিনে”। কথাগুলো বলতে বলতে নূপুরদির গলা রুদ্ধ হয়ে গেল আর তার কথা শুনতে শুনতে আমিও বাক-রহিত হয়ে গেলাম । মাথাটা কেমন যেন অদ্ভুত ভাবে ঘুরতে লাগল । আমার স্বপ্নে দেখা মেয়েটি তাহলে অমৃতা । নিজেকে কোনরকমে সামলে নিয়ে অমৃতার ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললাম – “অমৃতা, তুমি অনেক উৎসাহ জুগিয়েছ । তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো”।


-----------
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৫৬১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৫/০৮/২০১৬

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast