www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

গল্পগুচ্ছ

সেবিকার করোনা জয়
(সেবিকা দিবসে সকল সেবিকাদের শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানিয়ে)

সেবিকা তার বাবা-মায়ের শেষ সন্তান অর্থাৎ নয় নম্বর সন্তান। শেষ সন্তান হওয়ায় তার প্রতি সবার আদর-যত্ন-এর কমতি ছিলো না। সেবিকা লেখাপড়ায় অনেক বেশী ভালো না হলেও একেবারে খারাপ ছিলো না। স্কুলে ১ম থেকে ১০ম এর মধ্যে তার স্থান থাকতো। সংসারের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থেকে সে ক্লাসের ১ম স্থানটি ধরতে না পারলেও ৯ম বা ১০ম স্থান অনেকবার অধিকার করেছে। এতে খারাপ কি! বাড়ির ষোল আনা কাজ করে ৯ম বা ১০ম স্থান অধিকার করাও গৌরবের ব্যাপার। এভাবে সেবিকা তাদের গ্রামের স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাশ করে। পরে সে নার্সিং পাশ করে ঢাকার একটি হাসপাতালে সেবিকার চাকরী নেয়। সুন্দরভাবেই তার জীবন চলছিলো।

এ বছর মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী ধরা পড়ে। সেবিকা যে হাসপাতালে কাজ করে সে হাসপাতালটি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড করা হয়। করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে হবে বলে তাদের হাসপাতালের অনেক কর্মী পিছপা হচ্ছেন। কিন্তু সেবিকা কখনও পিছপা হয়নি। সে মনে এটা ধারণ করে যে, সেবার পেশা যখন বেছে নিয়েছি, সারা জীবন সেবা করে যাবো। সে দৃঢ় মনোবল নিয়ে করোনা রোগীদের হাসিমুখে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। একদিন সেবিকা নিজেই তার করোনা টেস্ট করিয়ে রেজাল্ট পজেটিভ পায়। এতে সে ক্ষণিকের জন্যও বিচলিত হয় নি। সে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে চলে করোনাকে জয় করে। সুতরাং করোনা হলে দু:শ্চিন্তার কিছু নেই।
নীলকন্ঠ, নয়াটোলা, মধুবাগ, ঢাকা
১২.৫.২০ (করোনাকাল)

(২)
চন্দ্র মল্লিকার ডাক্তার হওয়ার গল্প এবং অত:পর..
-স্বপন রোজারিও
খুবই ভাল ছাত্রী চন্দ্র মল্লিকা। সে স্কুলের কোন পরীক্ষায় প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয় নি। তার এতই মেধা ছিলো যে, সে সারা স্কুলে সব সময় প্রথম হয়েছে। আর যারা দ্বিতীয় হয়েছে তারা চন্দ্র মল্লিকা থেকে কমপক্ষে ১০০ নম্বর কম পেয়েছে। গরীবের সংসারে তার জন্ম হলেও মেধায় সে অনন্য। তার পড়াশোনার কোন খরচই তার মা-বাবার বহন করতে হয় নি। সে হয় স্কুলের বৃত্তি বা সরকারী বৃত্তি পেয়ে তার পড়াশোনার খরচ বহন করেছে। বলা বাহুল্য, সে এই পরিমাণ বৃত্তি পেয়েছে যে, সে তার টাকার কিছু অংশ সংসারেও খরচ করতে পেরেছে। সৃষ্টিকর্তার কি অসীম দান! গরীবের ঘরে যে এমন মেধাবী ছাত্রী জন্ম নিবে তা কেউই কল্পনাও করে নি। এ যেন গোবরে পদ্মফুল জন্মানোর মত অবস্থা!

চন্দ্র মল্লিকা কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএম (ডাক্তারী) পাশ করে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চাকুরী নেয় সে। সারা বিশে^র মতো গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রর্দুভাব দেখা দেয়। তাদের হাসপাতালটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করে সরকার। এই খবর শুনে চন্দ্র মল্লিকা খুবই খুশি হয়। সে ভাবে জাতির এ দুর্দিনে সে জাতিকে সেবা করার আরও সুযোগ পেয়েছে। তবে অনেক চিকিৎসা কর্মী বিষয়টি ভালোভাবে নেয় নি। অনেকে চাকুরী ছেড়ে দেয়ারও চিন্তা করেছে। চন্দ্র মল্লিকা তাদের বুঝিয়েছে। জাতির এ দুর্দশার সময় সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার আবেদন জানিয়েছে সে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, চন্দ্র মল্লিকার কথায় ভরসা পেয়ে কোন স্বাস্থ্যকর্মীই তাদের দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হয় নি।

চিকিৎসা সেবা দিতে দিতে চন্দ্র মল্লিকার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়। সে ১৪ দিনের জন্য আলাদা থেকে করোনাকে জয় করে আবার মানব সেবার কাজে চলে আসে। জাতির এ দুর্দিনে মানুষকে সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার শপথ নেয়ার জন্য আমরা চন্দ্র মল্লিকাকে স্যালুট জানাই।
স্থান: নীলকন্ঠ, নয়াটোলা, মধুবাগ, ঢাকা
তারিখ: ১৩.০৫.২০ (করোনাকালে মানুষের মনোবল সুদৃঢ় করার প্রয়াস)।

(৩)
সমবায়ী চন্দ্র শেখরের গল্প
-স্বপন রোজারিও
চন্দ্র শেখর একজন সমবায় কর্মী। ¯œাতক পাশ করেই সে একটি সমবায় সমিতিতে চাকুরী নেয়। সে এখন সেখানে ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তাদের জেনারেল ম্যানেজার হঠাৎ করে রাতে অসুস্থ্য হয়ে যায়। এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু করোনা সন্দেহে কোন হাসপাতালে তাকে ভর্তি নেয়া হয় নি। ফলে ভোর রাতে এ্যাম্বুরেন্সেই মারা যায় তাদের জেনারেল ম্যানেজার সাহেব। এ মৃত্যু চন্দ্র শেখরকে ভাবিয়ে তুলে। এ ঘটনার পর সে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

চন্দ্র শেখরের ৫০০০ জন ফেসবুক বন্ধু রয়েছে। সে করোনা যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ফেসবুককে বেছে নেয়। সে প্রতিদিন ফেসবুকে জনসচেতনতামূলক কবিতা, গল্প ও বিভিন্ন লেখা পোষ্ট দিতে থাকে। সে তাদের স্টাফদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থদের কল্যাণে ব্যয় করে। সমিতি থেকে একটি ফান্ড গঠন করে দুর্দশাগ্রস্থ লোকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাদের সমিতি। চন্দ্র শেখর এখন খুবই আনন্দিত। কারণ সে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য অল্প কিছু হলেও করতে পেরেছে। এটাই তার পরম তৃপ্তি।
নীলকন্ঠ, নয়াটোলা, মধুবাগ, ঢাকা
১৩.৫.২০ (করোনাকাল)
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ২৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৩/০৫/২০২০

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • চমৎকার!
  • ফয়জুল মহী ১৩/০৫/২০২০
    অনন্যসাধারণ লেখা। অপরিসীম ভালো লাগলো।
 
Quantcast