দেখিলাম যুগশ্রেষ্ঠ মোক্তার সেলিম শেখ
নির্মোহ বাদীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বাড়িতে ফিরিয়াছেন মাত্র।।।।

বিলালের আজান জানান দিচ্ছে বাড়িতে ইফতার কার্যক্রমের আয়োজনে সকলেই উপস্থিত। সাথে উপস্থিত বঙ্কিমের সেই মার্জার সুন্দরী।।। তার গল্পে মার্জারের ভূমিকা ছিল প্রতিবাদের, যুক্তিতে মুক্তির স্বপ্ন। কিন্তু এ প্রেক্ষাগৃহে সে নিতান্তই এক অভিমানী।।

যুগের উন্নয়নের ধর্মে আমার অদ‍‍্য উচিত ছিল মার্জারের নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থার বন্দনা করা
উল্টো পুজিঁবাদে তার নিরব অভিব‍্যক্তি প্রকাশ পাইয়াছে।।।

কোমল সহানুভূতির পাত্র মার্জারসুন্দরী কে নিয়ে বাড়ির তরুণীটির যে খুনশুটি জয়োল্লাস; তাহাকে শয়নগৃহে নিয়ে একসঙ্গে নিদ্রাযাপন, আর ফেসবুকে পোস্টানো ত আজিকাল নতুন না।।।। নেটিজেনরা ভাবছে সুন্দ্রী নিশ্চয়ই সুখেই দিনানিপাত করছেন।

তাহার বিপরীতে গোধূলিলগ্নে আমি দেখি কপাটের আড়ালে আর সেই মার্জারও দূর থেকে রোজাদারদের ইফতারের রাস উৎসব দেখে।।।।।

চাক্ষুসে বেগুনির ঘ্রাণ চোখের সামনে গিলে ফেলে বাড়ির ছোটসাহেব।।।
ঢোক গিলার সাথে সাথে মার্জারের আখিঁপল্লবের মৃদু ঝাপটা শোষণের স্নায়ুযুদ্ধে রূপ পায়।।।।।

ওদিকে নব্বইয়ের এই মহান দুর্ভিক্ষের পর হ‍্যামিলনের মত করে এক স্বদেশী কমরেড নিয়ে এসেছে ঝুড়িতে করে বেহেশতী আঙুর।।।।

মার্জারের চক্ষু সেদিকে ক্রমশ অগ্রসরমান দেখে জটাধর বকশি উপাধিল-- অবশষে তবে দুগ্ধ, মাংসপ্রিয় মার্জার এখন ফলাহারী লোভী প্রাণী।।।।

শ্রবণিয়া তাহার মস্তিস্ক খুটে খুটে বেহুশ হবার অভিপ্রায়। দুপুরের রোদে যেভাবে আপন মনে ঘুমাতো সে, তা এখন আর হয়না।।।

পাষাণ শাইলকের মতো নিজের জিহ্বাটা কেটে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার।।।
মনে চাচ্ছে যেই ক্ষুধার জন‍্যে জগতে এত দ্বন্দ্ব।
সেই উদরের ক্ষুধাকে ঝাটা দিয়ে তপোবনে নির্বাসনে দিয়ে দিই ফেলানীর প্রেমিকের মতো।।তবে কিছূটা হলেও সমতা ফিরিবে।

মার্জারের দিকে তাকানোর সময় কই, শেখের তকবিরওয়ালা ছুটে গেলে মহা মুশকিল।।। মসজিদের কাতারে সিজদায় নুয়ে পড়ছে সেলিম শেখের ললাটচন্দন।।।।সুবহানা রব্বিয়াল আলা...........!

ওদিকে মার্জার রোজাও রাখেনা, সেজদাও দেয়না।
কিন্তু লক্ষনীয় যে সেলিম শেখের হিসাব হবে, মার্জারের হবেনা।।।এটি বলে আমি মার্জারকে কিছুটা শান্তনা দেবার চেষ্টা করছি।।। মার্জার কিছূ বলছেনা।।।
রাষ্ট্রপতির পিছনের প্রহরীর মতো সে এক্কেবারে চুপ।।।
একদম চুপ! চুপ!