স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস
রায়হান আজিজ

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ী।
এ কিসের দাগ!
চেয়ে দেখি লিখা আছে পাশেই ‘বুলেটের দাগ’।
বুঝতে আর বাকি নেই আমার।
এটা জাতির কলঙ্কের দাগ।
যে বুলেট ছুড়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বুকে।
এগিয়ে গেলাম পাশের রুমে।
যেখানে রক্তে রঞ্জিত জাতির পিতার রক্তাক্ত লুঙ্গি।
রক্তাক্ত গেঞ্জি, রক্তাক্ত পাঞ্জাবী।
এ কেমন নির্মমতা, গুটা পরিবার স্তব্দ।
এ কেমন বিচার, এ কেমন নির্বিচার!
কঠিন বুলেটের তান্ডবে।
স্তব্দ সবার প্রিয় ছোট রাসেলের হাসিটা।
স্তব্দ একজন মা, তাও বুলেটের আঘাতে।
মাকে কি বুলেটের আঘাতে মারা যায়!
এ কেমন হায়েনা। এ কেমন জানোয়ার?
স্তব্দ নববধু।
রাতের আঁধারে নিস্তব্দ গুটা পরিবার।
নিতর হয়ে যে দেহটি পড়ে ছিল এই সিঁড়িটিতে!
তিনিই শেখ মুজিব, আমাদের জাতির পিতা।
যে দেহতে ছিল স্বাধীনতার বীজ বপন করা।
যে দেহের ঘর্ষণে আগুন লেগেছিল পাকি দের আস্তানায়।
যার বলিষ্ঠ চিৎকারে।
তান্ডব শুরু হয়ে যেত সারা বাঙ্গালীর চেতনায়।
সে মানুষটির এমন অসহায় আত্মসমর্থন।
কভু মেনে নেয়া যায়!
কে মেনে নেবে?
এটি শুধু একটি পরিবারের নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কাহিনী নয়।
এটা বাঙ্গালী জাতির স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস।
স্বাধীন বাংলার সবচেয়ে বড় কালো অধ্যায়।