www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

পর পরা অপর

পর,পরা,অপর
--------
গত ১১/০৬/২০১৯ খ্রি তারিখটি ছিলো বিশিষ্ট ভাষা গবেষক ক্রিয়াভিত্তিক - বর্ণভিত্তিক শব্দার্থবিধির একজন সফল আবিষ্কারক, শব্দ নিষ্কাশক শ্রদ্ধেয় কলিম খানের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী।
কলিম খান বাংলা ভাষার বর্ণ শব্দের উৎপত্তি,প্রাচীন ইতিহাস এবং তার সাথে ক্রিয়ার সম্পর্ক,শব্দের গতিবিধি সেই সাথে প্রাচীন বাংলাভাষীদের জীবন ও চরিত্র তথা ইতিহাস তুলে ধরেছেন অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে।
তাঁর কিছু বই আমার পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে- লেখা যাদুকরী , চুম্বকের মতো টানে।তাঁদের জন্য যাদের প্রয়োজন।
তাঁর লেখার মাধ্যমে বর্ণ ও শব্দ সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে আমার যে চিরদিনের অন্বেষণ ছিলো -তার অনুসন্ধান পাই আমি।
আমার আজকের প্রয়াস তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
কলিম খানের সহযোগী হিসেবে যিনি আন্তরিক ও নিরলস ভাবে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন- রবি চক্রবর্তী,এখনও বেঁচে আছেন।তাঁর প্রতিও আমার বিনীত শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রইলো।তিনি আমাদের মাঝে আরও দীর্ঘদিন থেকে উৎসাহ যুগিয়ে যাবেন এই প্রার্থনা করি।
গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা তাঁর প্রতি যিনি আমাকে এই অমূল্য খনির সন্ধান দিয়েছেন এবং ক্রিয়াভিত্তিক ভাষা বুঝতে সহায়তা করেছেন।
*****
* প্র= প্+ র
প্র একটি সংস্কৃত উপসর্গ।প্র অর্থ প্রকৃষ্ট।
প্র কে পর (প্ র) বলা যায়।
পর= পালন রহে যাহাতে।
পর এর অর্থ অন্য,প্রকৃষ্ট, পরম।
* পরা একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
পরা= পর এর আধার যে।
পরা এর অর্থ আতিশয্য,বিপরীত
* অপর= নয় পর যে।
অপর এর অর্থ অন্য।
অ বাংলা উপসর্গ যা অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দটিকে না- বোধক করে দেয়।তাহলে এ হিসেবে গেলে 'অপর' হলো - যে পর নয়।
আবার
অপ একটি সংস্কৃত উপসর্গ যার অর্থ নিকৃষ্ট, বিকৃত,স্থানান্তর।
***
বলা হয়ে থাকে বা আমরা জেনে এসেছি যে উপসর্গের নিজস্ব কোনও অর্থ নেই,অন্য শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে অর্থের পরিবর্তন করে বা নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করে।
কিন্তু বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ বলছেন যে উপসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে।
***
বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ বলছেন" নিজের দেহের বাইরে যা- কিছুতে মানুষের ' প্রতিপালন রহে' ক্রিয়াভিত্তিক শব্দার্থকোষ তাকে পর বলে।"
কাজেই মানুষ তার দেহ ও মনের খোরাক মিটাতে যখন নিজের বাইরে অন্যদিক হাত বাড়ায়,যতদিকে বাড়ায় তার সবটাই 'পর'।
***
মনের খোরাককে প্রাচীন ভারতবাসী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন তাই মনের খোরাকের জন্য তারা যে বিদ্যার চর্চা করতেন তার নাম ছিলো পরাবিদ্যা।
পরাবিদ্যা তাদের মনের খোরাক যোগাতো,মনকে সতেজ করে রাখতো।
এই পরকে আপনার চারদিকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পরা বা পরিধান করা যেমন কাপড় পরা।
***
যা কিছু পর নয় তা হলো ' অপর' আবার যা না হলেও চলে তার সবকিছুই ' অপর'।
প্রয়োজনের জগৎকে 'পর 'বলে,সেজন্য পর হলো আপন।
অপ্রয়োজনের জগৎকে বলে 'অপর' ( আপন নয়)।
তবে প্রচলিত অর্থে যে আপন নয়, তাকেও আমরা পর বলি।
***
আরেক রকম অপর আছে-" যাহা হইতে পর নাই"
অপর তাই দুই ধরণের- প্রথমটি" ন- পর" এবং দ্বিতীয়টি "যাহা হইতে পর নাই" অর্থাৎ পরের চেয়েও বেশি পর বা পরোৎপর।
নজরুল হয়তো সেজন্যই লিখেছিলেন" আমার আপনার হতে আপন যেজন খুঁজি তারে আমি আপনায়"।
***
কাজেই দেখা যাচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষেরা জগৎকে মোট তিন ভাগে ভাগ করে দেখতেন-
প্রয়োজনের জগৎ
অপ্রয়োজনের জগৎ
অতি-প্রয়োজনের জগৎ।
তাই তাদের বিদ্যাও ছিলো তিন ধরণের-
পরাবিদ্যা
অপরাবিদ্যা
পরাৎপরবিদ্যা।
***
ইংরেজি far এবং par যুক্ত বহু শব্দই এই ' পর' শব্দের উত্তরাধিকার থেকে প্রাপ্ত।
------ কৃতজ্ঞতাঃবঙ্গীয় শব্দার্থকোষ।
১২/০৬/২০১৯
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৪৩ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৮/০৬/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • ভালো লাগলো।
  • আশা মনি ১৯/০৬/২০১৯
    Very Informative!
  • আনাস খান ১৯/০৬/২০১৯
    nice
 
Quantcast