www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

পুর পুরু পুরুষ

পুর,পুরু,পুরুষঃ
-----
**
হঠাৎ করেই আমার ব্যকরণবিদ হরলাল রায়ের কথা মনে পড়ে গেলো।
আমার নেশা ছিলো উনার ব্যাকরণ বই পড়ার।সেভেন ক্লাস থেকেই আমি ইন্টারের ব্যাকরণ পড়তাম।বাগধারা,ভাব সম্প্রসারণ,সারমর্ম,চিঠিসহ ব্যাকরণের মূল বিষয়গুলো আমার প্রতিনিয়ত পড়া চাই।বাংলা ও ইংরেজী দুটোই।
ওই বইতেই পড়েছিলাম,
" বেলা যে পড়ে এল,জলকে চল!
পুরোনো সেই সুরে কে যেন ডাকে দূরে
কোথা সে ছায়া সখী,কোথা সে জল"
এরকম আরও কত কত উদ্ধৃতি!
চমৎকার সব লাইন," পা গোটা দিপ্তী"
আমি বাংলার প্রেমে পড়ে গেলাম।
অদ্যাবধি সেই নেশা,কাটানোর চেষ্টা করি।এ নেশাটা না হলে আমি আরও কত কি করতে সময় পেতাম।পারি না,পারবো না হয়তো বা আর।
**
প্রশ্নটা এমন যে,একজন নারী যদি নেতৃত্ব দেন তবে তাকে নেত্রী বলা হবে না নেতা বলা হবে!
আমি মাঝে মাঝে সংশয়ে পড়ে যাই,যখন আমি ব্যানারে লেখা দেখি সভানেত্রী কথাটি,সভানেত্রী কথাটি আমার বলতে মন সায় দেয়না,কেবলই মনে হয় ওটা সভাপতি হবে।একবার সভানেত্রী বলি আর বার বার সভাপতি বলি।
শিক্ষক বলতে পুরুষ বুঝবো? আর নারী হলে মহিলাশিক্ষক লাগাতে হবে?
কেন?
মানুষ বলতে শুধু পুরুষ বুঝবো?
"ওখানে অনেক মানুষের জটলা ছিলো,তার মধ্যে অনেক মহিলাও ছিলেন"
যেন মানুষ বলতে নর- নারী দুজনকে একত্রে বুঝায় না,নারীর উপস্থিতিকে ট্যাগ লাগিয়ে দিতে হবে।
জেন্ডার কি বুঝতে হবে,আমরা অনেকেই এটা বুঝি না।
**
জেন্ডার বলতে নারী পুরুষ পার্থক্য বুঝায়?পুংলিঙ্গ,
স্ত্রীলিংঙ্গ?
কখনই নয়।
নারী পুরুষ উভয়েই মানুষ।মানুষ হিসেবে উভয়ের মধ্যে সার্বিকভাবে( সামাজিক,অর্থনৈতিক,সাংস্কৃতিক,ধ
র্মীয়) যে সকল বৈষম্য বিরাজমান, যে পার্থক্য বিদ্যমান - সেই বৈষম্য বা পার্থক্যই হলো জেন্ডার বৈষম্য।বৈষম্য, পার্থক্যে পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় হয় জেন্ডার দিয়ে।।সমতা নেই নারী পুরুষে মানুষ হিসেবে।
( রেফারেন্স নেই,স্মরণশক্তি হলো জ্ঞানমূলক ডোমেইন,জ্ঞানমূলকের কোনও রেফারেন্স থাকেনা,আমি স্মরণশক্তি থেকে বলেছি,ভুল হলে সংশোধন কাম্য)।
পৌরুষ একটি সম্মানজনক,কর্তৃত্ব পরিচায়ক শব্দ,যত ধরনের পৌরুষবাচক শব্দ- পুরুষেরা অনায়াসে দখল নিয়ে হয়েছেন পুরুষ,আর অবলা বলে অভিহিত করেছেন নারীকে।যতসব নেতিবাচক শব্দ দিয়ে অসম্মানিত করেছেন নারীকে- বেশ্যা,বীরাঙ্গনা,কুলটা,খানকি,প
তিতা এসব শব্দ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।যেন পুরুষ সমাজ যে কর্ম দ্বারা নারীরা এসকল অভিধায় অভিষিক্ত তা থেকে দূরে।
নারী ধর্ষিত হলে বলে ধর্ষিতা,আর পুরুষকে বলে ধর্ষক- এ যেন এক বিরাট কাজ করে সে কর্তার ভূমিকায়- ধর্ষকের প্রতিশব্দ বের করা জরুরী।
**
পুরুষ কাকে বলে বুঝে নেই বঙ্গীয় শব্দার্থকোষের আলোকে।
পুরুষ=পুর্( অগ্রগমন)+উষ( কুষন্)
পুরুষ বোঝার আগে " পুর ও পুরু " শব্দ দুটি বোঝা জরুরী।
**
পুর=পু নবরূপে উত্তীর্ণ রহে যাহাতে/ লোকাদিতে পূর্ণ থাকে।
প= পায়ী
উ= নবরূপে উত্তীর্ণ করে।
পু= নবরূপে উত্তীর্ণ পায়ী।
পুর অর্থ=
ঘর,বাড়ি,গৃহ,বাসা,পরিবার,কূল,বংশ,বাসস্থান,খানা
,আবাস,মহল,আগার,শালা,কায়,পুরী,কুঠী,সদন,গেহ,ভবন
,আলয়,নিকেতন,নগর,শহর,গ্রাম,দেহ,সমস্তিপুর,হস্তিনাপুর( অনলাইন,বাংলা একাডেমী,উইকিপিডিয়া,ব.শ)
পুর- হলো পুরে দেওয়া,জায়গার নাম,পূর্ণ করানো ( ব.শ)
যে কোনও সত্তায় যে কাঙ্ক্ষিত বিষয়-বস্তু- ব্যক্তিকে পাওয়া যায় তাকে পুর বলে।
পুরে দেয়া হয় বলেই তা পুর পরিচায়ক।
**
পুরু=পু এর রক্ষণ নবরূপে উত্তীর্ণ যাহাতে।
র বর্ণটি এখানে রক্ষণকে বুঝাচ্ছে।
পুরু=পুষ্পকে পূরণ করে যে।
পুরু = প্রভূত,প্রচুর,পরাগ,বেড়,পরদা,স্তর,মোটা,স্থুল।
**
এবার আবার আসি পুরুষে।
পুরুষ= পুর্(অগ্রগমন) + উষ( কুষন)
পু+ উষ( কুষন্),বা পুর
(উষ)কুষন হলো সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়,এই প্রত্যয় বিভিন্ন ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন শব্দ তৈরী করে।
পুরুষ= নৃ-জাতির পুরুষসত্তা,এমন একজন মানুষ, যিনি নারীর গর্ভে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম।( অনুশীলন.অর্গ))
পুর্ কে নবরূপে উত্তীর্ণ করে দিশাগ্রস্তভাবে দান করে,পুর সহযোগে উষকানি( পুর-কে উষ বা use করে) দেয় যে,পুরু শায়িত থাকে যাহাতে,দেহে জীবরূপে শয়ন করে যে।
( নবরূপে উত্তীর্ণ করে- নতুন রূপে উত্তরণ করে)
**
পুরুষের কাজ হল পুরে দেয়া।
পুরুষ কোনও না কোনও ভাবে পুরে দেয়।
নর নারীগর্ভে আপন প্রজাতি পুরে দেয় তাই নর হল পুরুষ।
শিক্ষক জ্ঞান পুরে দেন তাই তিনি পুরুষ।
রাজা আইন শাসন পুরে দেন তাই তিনি পুরুষ।
নেতা নেতৃত্বের বিষয়াদি পুরে দেন তাই তিনি পুরুষ।
এমনকি যিনি নারকেল পুরে সমুচা তৈরী করেন তিনিও পুরুষ- যা কিছু যার মাধ্যমে পুরে দেওয়ার কাজটি হয় তিনিই পুরুষ।
কাজেই পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষেত্রেই নর বা নারী কোনও না কোনও ভাবে পুরুষ হতে পারেন এবং পুরুষ কেবলই নর- প্রজাতি নন।
প্রতিটি সত্তার আধেয়( content)মাত্রেই পুরুষ এবং আধার (form)মাত্রেই প্রকৃতি।
যে নারকেল পুরে দিয়ে পুরী তৈরী করেন তিনি হচ্ছেন পুরুষ আর তৈরী করা পুরী হচ্ছে প্রকৃতি বা নারী।
**
কাজেই একজন নারী যখন নেতৃত্ব দিবেন তিনি আনুষঙ্গিক বিষয়াদি পুরে দেয়ার কাজটি করেন তার অনুসারীদের মধ্যে তাই এক্ষেত্রে তিনি পুরুষ এবং অনুসারীরা প্রকৃতি।
একজন নারী যখন একটি প্রতিষ্ঠান চালাবেন তখন তিনি আনুষঙ্গিক বিষয়াদি,নির্দেশনা প্রদান করেন বা পুরে দেন তার অধীনস্থদের কাজেই এক্ষেত্রে তিনি পুরুষ এবং অধীনস্থগণ প্রকৃতি।
বিশ্বজগতের পুরোটাই আধার এবং আধেয়ে অর্থাৎ পুরুষ ও প্রকৃতি রূপে বিভাজিত।
( বানানরীতি--সরাসরি বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ থেকে নেয়া শব্দগুলি অবিকৃত রাখা হয়েছে)
----কৃতজ্ঞতাঃ বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ।
২৬/০৪/২০১৯
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৩০ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৬/০৫/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast