www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

এক দুই তিন

এক,দুই তিন
-----
গল্পটা বহুদিন ধরে লিখবো লিখবো করছিলাম।লেখা হয়ে উঠেনি।
এক বাঁশি কত আর বাজে?
বছরকয়েক আগের ঘটনা।পাশের বাসার খালাম্মা গল্পের নায়িকা।উনার ছেলের বাসায় উনি থাকেন।ছেলে এবং ছেলের বউ দু'জনেই চাকরি করেন,বেশ দূরের পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় তাদের।
খালাম্মার বাকি ছেলেমেয়েরা বিদেশ থাকে।একটি ছোট নাতনি,তাকে সামলাতে কাজের বুয়া আছে।কাজেই খালাম্মার কোনও কাজ নেই,গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকেনা,খালাম্মা বন্দী কারাগারে।
খালাম্মা চলনসই লেখাপড়া জানা মানুষ,পঞ্চম ক্লাস অবধি পড়ে বিয়ে হয়ে যায়।স্বামী বেঁচে নেই।
সময় যেন কাটেনা।আমার বাসা থেকে বই নিয়ে পড়েন।
মাঝে মাঝে আমার পাশে সোফায় বসে অবাক চোখে দেখেন অধম আমাকে।
আমি এটা সেটা পড়ি,খাতায় লিখি,মোবাইলে লিখি।
মোবাইলে লেখা নিয়ে তার বিস্ময়।
" তুমি কি কর গো?"
আমার মনোযোগ নস্ট হয়,লেখার মনোযোগ নস্ট হলে আমার সয়না।
"কিছুনা খালাম্মা,গেম খেলি"।
" তুমি লেইখ্যা লেইখ্যা গেম খেলো? আমারে শিখাই দিবা?"
আমি অবাক চোখে উনাকে দেখি।
"শিখিয়ে দেব,কিন্তু আপনার মোবাইল?"
" আছে,নিয়া আসমুনে" সলাজ হাসি মুখে।
দিনকয়েক পর আবার খালাম্মা।আমি খটাখট লিখে চলেছি,উনি আমার আঙ্গুলে চোখ রাখেন।
" এত তাড়াতাড়ি তুমি কেমনে খেলো? "
"অভ্যাস" -- আমার নায়িকা তখন সাগরের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে,নায়কের চরম অবস্থা।এই অবস্থায় মারাত্মক মনোযোগ প্রয়োজন।কলাকৌশল করে নায়িকাকে না বাঁচালে গল্পের দফা রফা হয়ে যাবে।এতো স্টার জলসা নয় যে নায়িকা ছয়বার মরলে দশবার বেঁচে উঠবে।
ততক্ষণে খালাম্মা আঁচলের তলা থেকে দামী একটা মোবাইল বের করলেন।
" তোমার আইডি আছে?"
"আছে খালাম্মা,কেন?"
" আমারে এড কর"
" আপনার আইডি মানে ফেসবুক আইডি আছে?"
কথা শেষ না হতেই আমার হাতে খালাম্মার বহুমূল্য মোবাইল।
আইডি ওপেন আছে,মশা মাছি ঘুরছে ওখানে।
কৌতুহল চাপতে না পেরে খালাম্মার আইডিতে ঘুরতে লাগলাম।প্রচুর বন্ধু খালাম্মার,কমবয়সী ছেলে মেয়েরা।
প্রোফাইলে খালাম্মার ছবি ও তথ্য সব ঠিকঠাক দেয়া আছে।
টাইমলাইনে ঢুকলাম।মরি! মরি! চাইনিজ, হিন্দী,জাপানিজ,ইংলিশ বাংলা মিলিয়ে অদ্ভূত ভাষায় খালাম্মার অদ্ভূত সব স্ট্যাটাস।
ওখানে ওই ছেলেমেয়েগুলোর কিছু সংখ্যাক লাভ রিয়েক্ট আর বেশিরভাগ হা হা রিয়েক্ট দিয়ে রেখেছে।কমেন্টে স্টিকার এবং জগাখিচুরি বহুভাষার সংমিশ্রণ পোস্টের মতই,এবং রিকমেন্টও তেমন।
এবার অন্য ফ্রেন্ডদের পোস্টে গেলাম।
শোক সংবাদে খালাম্মার লাভ রিয়েক্ট।আনন্দ সংবাদে দুঃখের ইমু।কোনও কোনও পোস্টে খালাম্মার স্টিকার কমেন্ট রাশি রাশি হাসি হাসি গড়াইয়া পড়িতেছে।
আমি হাসবো নাকি কাঁদবো?
"আইডি কে চালায় খালাম্মা?"
" আমি,ওতো কিছু বুঝিনা,বৌমা খুইলা দিছে,সময় কাটাই।পোলাপানগো ছবি দেখি।"
খালাম্মার চোখে মুখে পরিতৃপ্তি।
আমি গোবেচারা পাঁজির পাঝাড়া চিরদিন।তাই খালাম্মার ম্যাসেঞ্জার চেক করার লোভ সামলাতে পারলাম না।
ওখানে কল আছে প্রচুর,ছেলে মেয়ে,স্বজনদের।
আর কি আছে?
"আবুল কে খালাম্মা?"
" আমার বোনঝি জামাই"
অসংখ্য লাভ ইমু,আর হাসির ইমু খালাম্মার,
ওপাশ থেকে ব্লক।
এরকম আরও আরও আরও।
"মেসেঞ্জারে চ্যাট করেন?"
" চ্যাট কি? মেসেঞ্জার কোনখানে মা শিখাই দেও।"
এ মা!!
তো এতো এতো চ্যাটিং কনভারসেশন কিভাবে তবে?
অবশ্য কোথাও কোন কথা নেই।শুধু স্টিকারের ছড়াছড়ি।
পিপল ইউ মে নো- হাত লেগে রিকোয়েস্ট যায়,বেচারি বলতেই পারেনা।যেগুলো বদমাশ সেগুলো খালাম্মারে নিয়ে মজা করে।হা হা হা করে।খালাম্মা কি অত কিছু বুঝে?
একে তো ইংরেজী ভাষা,আমি বাংলা সেট করে দিলাম।পোস্ট বাংলায় হলেও কমেন্ট বাংলা না থাকায় বেচারি কমেন্ট করতে পারেনা বুঝি।
"এখন বাংলা টাইপ শিখাই দাও।"
হায় আল্লাহ আমার নায়িকার কি হবেগো!
সাগরের ঢেউ নায়িকাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে,উপায় নেই।
আমি খালাম্মার মোবাইলের কিছু সেটিংস চেঞ্জ করে দিয়ে - খাসা ইংরেজীতে স্ট্যাটাস দিয়ে আমজনতাকে কিছু বলে ফের বাংলায় ফিরে এলাম।
আশা করি বৃদ্ধা এই মহিলার মেসেজ, পোস্ট বা কমেন্টে কেউ হা হা রিএক্ট দিবেনা।শুধু লাইক দিয়ে যাবে আর কমেন্টে দিবে শুধু love রিয়েক্ট,যেখানে থাকবে মমতা আর শ্রদ্ধা।
--২৬/০৩/২০১৯
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৯৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০১/০৪/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast