www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান জরুরী

মানুষ মানুষের জন্য। তাই হয়ত সে আবেগটা বাঙালীদের বেশী। আবেগ মাঝে মাঝে সমস্যার কারণও হয়। মানবতা যদি বোধ বিবেচনার ভেতর থাকে তবে তা ভাল। আর যদি দুঃখের কারণ হয়, তা কখোনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
রোহিঙ্গা যদিও মানবিক সংকটের অপর নাম। তবুও তা বাংলাদেশের জন্য এক মহা সংকট। যত দ্রুত আমরা রোহিঙ্গা বরণ করে নিয়েছি তত দ্রুত ফেরত পাঠাতে পারছি না। এখন তা বিড়ালের গলায় কাঁটা আটকে যাবার মতো অবস্থা। একে সরানোও যাবে না একে গলায় আটকে রাখাও যাবে না।

কতিপয় অজানা বাংলাদেশি উষ্কানিমূলক সংগঠনের ছত্রছায়ায় তারা দিনকে দিন নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে শুরু করেছে। যার দরুন তারা আর মায়ানমার ফেরত যেতে চাইছে না। সরকারকেও দেখাচ্ছে বুড়ো আঙুল। এখন তারা অন্যদেশে এসে সাহস দেখিয়ে বেড়ায়। মিটিং মিছিল করার দৃষ্টতা দেখায়।

তবে আশার কথা রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব পেলে ফেরত যাবে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে - নাগরিকত্বসহ পাঁচদফা দাবী পুরণ না হলে তারা রাখাইনে ফিরে যাবে না। প্রশ্ন হলো- তাহলে কি তারা রাখাইনে এতকাল নাগরিকত্বহীন ছিলো? তা যদি হয় কি কারণ এর?

পরিস্থিতি যতটা সহজ ভাবছি তা নয় আসলে খুবই ভয়াবহ। পুশইনের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ যে আবেগ ও প্রীতি দেখিয়েছে তা বাংলাদেশীদের জন্য মর্মান্তিক।

এখন কিছু মানুষ বলতে পারেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও তো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল সে পরিস্থিতি আর এ পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সে ছিল ভয়ংকর যুদ্ধাবস্থায় সাময়িক সরে থাকা আর এ হচ্ছে একটি দেশের একটি নিদৃষ্ট এলাকা থেকে তার আদিবাসী বা অধিবাসীদের বহুদিন ধরে বিতাড়ণ প্রক্রিয়া। লক্ষ্য করলে দেখা যায় একজন লোকও ভারতে একমাসও থাকেনি।
আজ প্রায় চল্লিশ বৎসরাধিককাল ধরে এদেশে বহু রোহিঙ্গা আস্তে আস্তে দিনে দিনে মায়ানমার থেকে এসে বিভিন্ন পরিস্থিতিভেদে বাংলাদেশে আছে। তাদের যাবার কোন নাম নেই। যাবার ব্যবস্থা হতে না হতেই আরো একাধারে প্রায় ৮( আট) লক্ষাধিক উপর্যুপরি এসে বাংলাদেশে অবস্থান নিয়েছে আমরাও স্থান দিয়েছে। যা হবার কথা ছিল হয়েছে তার বিপরীত।

আর যে পরিমান রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে যে পরিমান নবজাতক রোহিঙ্গা হচ্ছে আর পুশ ব্যাকের যে অবস্থা তাতে করে ২২-২৩ বছর লেগে যাবার কথা। তাতে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা জন্ম নেবে তা কল্পনা করা যায় না। উনাদের প্রজনন হার মাশাল্লাহ বেশ।

পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে রোহিঙ্গা জনগণ যেভাবে সংগঠিত হচ্ছে তাতে করে রোহিঙ্গারা একসময় চট্রগ্রাম দখল চাইবে না তার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়। বর্তমানে টেকনাফ ও উখিয়ায় ৩৪ টি আশ্রয় শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লক্ষ ৫০ হাজার। পূর্ব সময়ে আসা রোহিঙ্গা তো রয়েই গেছে।

রোহিঙ্গা অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া নয়। এখানে রেখেই প্রত্যাবাসনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে সরকারকে। প্রত্যাবাসনের জন্য মায়ানমার সরকারকে বৈশ্বিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মানুষ যারা বিদেশে অবস্থান করছে যারা সেখানে বুদ্ধিজীবী শ্রেণির আছেন তাদেরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলে এ সমস্যার সমাধান আসতে পারে।

আবেগ নয় দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান জরুরী। যত দ্রুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পুশইন হয়েছে ততদ্রুত যাতে রোহিঙ্গা ফেরত যায় বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হিসেবে এর সমস্যার সমাধান চাই। এ আমার জন্য নয় আমার প্রজন্মের জন্য - বংশধরদের জন্য। কারণ আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক আমেরিকা,কানাডা, য়্যুরুপের মত দেশে আমার সন্তানদের জন্য বসতি করে যেতে পারবো না।

যারা ইতোমধ্যে করে নিয়েছেন তাদের স্বদেশপ্রীতি বেশী রোহিঙ্গা প্রীতিও বেশী। কারণ উনারা মুক্ত। উনাদের ভবিষ্যৎ চিন্তা নেই। আমাদের বা আমার আছে।

রোহিঙ্গা মানবিক সংকটে আছে। তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এর চাইতে বেশি যেন তারা ভাবতে না পারে। তারা যতদিন থাকে থাকুক কিন্তু তাদের এলাকা যেন নির্ধারিত থাকে। তারা যাতে বাংলাদেশীদের সাথে কোনভাবেই মিশে যেতে না পারে।

বাংলাদেশীদের সাথে মিশে যাতে কোন সংকট তৈরি করতে না পারে। সেক্ষেত্রে সম্রাট শাহজাহানের বংশধরদের রাখাইন পরিণতির কথা ভাবতে ও মনে রাখতে হবে। ইতিহাস ভুলে গেলে বোধহয় বাংলাদেশের জন্য ভাল হবে না।

রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য হুমকী হয়ে দাড়াক এ কোনমতেই কাম্য নয়।
বিষয়শ্রেণী: সমসাময়িক
ব্লগটি ৭০ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৭/০৮/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • পড়ে ভালো লাগল
  • রোহিঙ্গামুক্ত বাংলাদেশ চাই।
  • জসিম বিন ইদ্রিস ২৮/০৮/২০১৯
    সত্যিই তাই
  • পি পি আলী আকবর ২৭/০৮/২০১৯
    ভাল
 
Quantcast