www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

নেওয়াজ আলির অসীমিত সত্য কথা।

নেওয়াজ আলির অসীমিত সত্য কথা। (১)

(১) আমার আমিঃ
আলি নেওয়াজ ভূঁইয়া আমার দাদার নাম। সামহোয়্যারইন বগ্লে আমার নিক নেইম নেওয়াজ আলি। বাড়ির গেইটে সৌজন্য দাদার নাম, জাষ্ট দাদাকে মনে রাখা।
মুলকুতের রহমান দাদা আমার দাদার চাচাত ভাই। ভূঁইয়া বংশ নিয়ে মুলকুত দাদার গৌরবের কোন শেষ ছিলো না। পুকুর ঘাটে বসে বিকালে দক্ষিণা বাতাস গায়ে লাগিয়ে দাদাদের সাথে কত মজা করেছি কিশোর কালে। মাঝে মাঝে মুলকুত দাদাকে টিট করতাম দুর মিয়া তোমরা কচুর ভূঁইয়া। এমনি শুরু হতো অতীত ইতিহাস বলা। পাশের বাড়ি হিন্দুরাও জমিদার ছিলো, আমাদের সামনে দিয়ে মানুষ হাটতে সালাম করতো আর তুই বলছিস কচুর ভূঁইয়া। ------সবাই মিলে প্রাণ খুলে হাসতাম।
মুলকুত দাদা বলতো আমরা বৃটিশ আমলের ভূঁইয়া। আসলে ভূঁইয়ারা বৃটিশদের অনুগত ছিলো সেই সুযোগে এলাকায় খাজনা ট্যাক্স আদায় করতো আর গরিবদের শোষণ করতো। এখন গরিবদের শোষণ করে আধুনিক নিয়মে আধুনিক পন্থায় নিচ হতে উঠে আসা কিংবা আজীবন উপরে থাকা বড় লোকেরা।

মাজম আলি ভূঁইয়া বাড়ি নানার নিবাস। আবার নানা বিয়ে করেছেন ভূঁইয়ার মেয়ে সেই ধারা আমি বজায় রেখে গিয়ে পড়লাম আনূ ভূঁইয়া বাড়ির মেয়ে বিয়ে করতে, মুহুরী নদীর এপার ওপার নানার বাড়ি আর শুশুর বাড়ি। আমার নামের সাথে এই পদবি লিখতে ইচ্ছে করে না। কোথায়ও আমি লিখি না কারণ সবাই আমরা মানুষ, কর্মই তার পরিচয়।

(২) ফেসবুক, করোনা, বই উপহারঃ
আমি ছোটকাল হতে লিখি এইটা একটা অনিয়মিত নেশা। তবে ফেসবুক আসার পর এইটা নিয়মিত নেশা হয়ে পড়েছে। মনে হয় যেন মনের বড় একটা খোরাক এই সাহিত্য চর্চা। যশ খ্যাতি কোনো কিছুর জন্যই এই নেশা নয়। আত্মীয়-স্বজন এলাকার কিছু লোক বাদ দিলে সাহিত্যিকমনা লোকই এড আমার সাথে। সালু আলমগীর, মাহাবুর রহমান, তপন কুমার বড়ুয়া আরো কয়েকজন লেখকের নাম মনে পড়ছে না মারা গিয়েছেন। খুব খুব মনে পড়ে উনাদের কারণ বন্ধু কম হওয়ায় সবার লেখা পড়ার চেষ্টা করি এতে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ভালোবাসার।

"মনাব্বর হোসেন" ভাই একজন লেখক ও রাজনীতিক নেতা। উনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কী একটা পদে আছেন। কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে বলে ঠিকানা দিন বই পাঠাবো। আমি ঠিকানা দিয়ে বলি বিকাশ নাম্বার দিন। বই উনি ফেনীতে পাঠালেন কিন্তু টাকা নিলেন না। রুদ্র আমিন “আবিরের লাল জামা” দিলেন টাকা নিলেন না। প্রতি বছর আমি মেলা হতে বই কিনি আর তা ফেসবুক বন্ধুদের এবং নতুন লেখকদের। আমার সাথে নামি দামি লেখক এড নাই তাদের বই মেলা হতে কেনাও হয় না তেমন।

গত বছর "জোসেফ জাহাঙ্গীর" এবং "ফারুক এম জাহাঙ্গীর" ভাই বই উপহার দিতে চেয়ে ছিলো আমি নিতে রাজি হই নাই, বলেছি কিনে নিবো কিন্তু দুর্ভাগ্য কিনতে পারি নাই। বেকারত্ব ও করোনার চাপে পড়ে এইবার আর বই কিনতে পারছি না। কিন্ত গতকাল "ইসলাম তরিক" ম্যাসেজ দিয়ে বলে ভাই ঠিকানা দিন বই পাঠাবো। ঠিকানা দিয়ে বলি বিকাশ নাম্বার দিন আপনার, মনাব্বার ভাইয়ের মত সেই একই কথা টাকা লাগবে না এই বই আপনার জন্য উপহার। আমি মনে মনে বলে উঠি ভালোবাসা ভাই ভালোবাসা । উনাদের অনেককে জীবনে দেখি নাই এবং কখনো দেখা হবে কিনা জানি না। আমরা কারণে অকারণে অযথা অন্যকে আনফ্রেন্ড করি, বক্ল করি ভুল করি । আমার অনেক পুরাতন বন্ধু এখন এড নাই বিভিন্ন কারণে হারিয়ে গিয়েছে তাদের বলবো ভালোবাসি হ্যাঁ ভালোবাসি , সাহিত্যপ্রেমিক ভালোবাসি তোমাকেই।

টাকা খরচ করে বই বাহির করতে হয়। এইবার করোনার কারণে পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। খবর বের হয়েছে প্রকাশকগণ বড় রকমের লোকসান দিবে এইবার। লেখকগণও ব্যক্তিগতভাবে লোকসান গুণবে সন্দেহ নাই। তাই বলবো যারা সাহিত্য ভালোবাসেন তাঁরা যেন একটা হলেও বই কিনেন। বই কিনার ইচ্ছা করলে মেলার দরকার হবে না যে কোন মাধ্যমে বই কিনতে পারবেন। লক্ষ লক্ষ লোক ফেসবুকে লেখালেখি করে শুধু তাঁরা একে অপরের বই কিনলে সাহিত্য একটা শিল্পে দাড়িয়ে যাবে। বেশী বেশী পড়লে লেখার মান অনেক উচ্চতায় চলে যাবে। দুইটা পাঠাগারে বই দেওয়ার কথা ছিলো, করোনা পৃথিবীকে তছনছ করায় আমিও লণ্ডভণ্ড। সময়মতো বই দিতে পারছি না বলে ক্ষমা চাই তবে আমি বেঁচে থাকলে অবশ্যই বই দিবো এবং নিজেও পাঠাগার করতে চেষ্টা করবো আপনারা পাশে থাকবেন।

মহামারীর ভিতর যতটুকু সম্ভব নিরাপদ থাকার চেষ্টা করুণ। আশেপাশে লোকজনের খোজখবর রাখতে চেষ্টা করুণ, নিজে না পারলেও সরকারি বেসরকারী যে কোনো সাহায্য পেতে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করুণ।
নিজে টিকা নিন, অন্যকেও নিতে বলুন।

নেওয়াজ আলির অসীমিত সত্য কথা। (২)

গোপাল স্যারঃ
একজন শিক্ষক, একটা আদর্শ, উনি পূর্ব দিগন্তে উদিত হওয়া সুর্য। এই সুর্য মেঘে ডাকা সকালের সুর্য নয়। এই সুর্যের আলো এতটাই দ্বীপ্তপ্রখর যে ধুলোতে হারিয়ে যাওয়া সুই খুজে নেওয়ার মত। শান্ত, সৎ এবং জ্ঞানী একজন শিক্ষক। মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে যেইসব উপাধান থাকা দরকার তার সবটি শতকরা একশ ভাগ বিদ্যমান ছিলো উনার ভিতর। আজকাল কোনো শিক্ষকের নৈতিকহীনতা কিংবা লোভী খবর যখন পড়ি তখন মনে পড়ে বাবার মত শতভাগ নিরাপদ আদর্শবান এই মহান গোপাল স্যারের কথা।

তখন আমি দশ শ্রেণীতে পড়ি। এক অলস দুপুরে টিফিন পিরিয়ড়ে শ্রেণী কক্ষের সামনে দাড়িয়ে আছি। গোপাল স্যার ডাকলেন আমাকে, বলনেন মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছিস কেনো? আমি চুপ করে থাকলাম। তারপর অত্যন্ত শান্ত স্বরে বললেন নামাজ কেনো পড়িস না? আমাদের স্কুলের বর্ষীয়ান শিক্ষক হাজ্বি স্যার এবং হুজুর স্যার অনেক ছাত্র নিয়ে তখন স্কুল মসজিদে নামাজরত। উনি বলেন আমি হিন্দু আমার ধর্মে নামাজ নাই তুই মুসলিম তোর ধর্মে নামাজ আছে অথচ নামাজের সময় আমরা দুইজনে মসজিদের বাহিরে। তুই মুসলিম হয়ে নামাজ না পড়লে তোর আর আমার মর্ধে পার্থক্য কোথায়!

গোপাল স্যার ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ, নিজ ধর্মের রীতিনীতি মেনে চলতেন। আমি তখন লজ্জা পেলেও ধর্মের রীতিনীতি মেনে চলতাম না। এখন বয়স শেষে ধর্মকে আকড়ে ধরতে ছুটছি আর মনে হয় আমার মত এমন বহু মুসলিম আছে। শেষ বয়সে বাংলাদেশের মানুষ হজ্ব করতে ছুটে যা শারীরিক কারণে সঠিকভাবে সুসম্পূর্ণ করতে বেগ পেতে হয়। তাই সময় থাকতে সময়ের মূল্য দিতে হয়।

নেওয়াজ আলির অসীমিত সত্য কথা । (৩)

গোলাপ হাতে মানস প্রতিমাঃ
সিঁড়ির নিচে দশম শ্রেণীর ক্লাস রুম, শিক্ষক রুম, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক রুম তারপরে ছাত্রীদের বিশ্রামাগার। দক্ষিণমুখী দালানের পূর্বপ্রান্তে শেষ কামরায় ক্লাস আর পশ্চিমপ্রান্তে সব শেষ কামরা ছাত্রী বিশ্রামাগার। বিশ্রামাগারের দিকে আমার চঞ্চল মন লাজুক লাজুক চোখের এক বালিকার খোঁজে। সমস্যা হলো সেই বালিকার কোনো বিশেষত্ব নেই, নেই ঠোঁটে কৃষ্ণচূড়ার মত টকটক লাল লিপস্টিক, নেই চোখে কালো কাজল। কিন্তু মুখটা তার ইতিহাসের সেরা কবিতা তাই আমার চোখ সেই অকৃত্রিম মায়াবী মুখ খোঁজ করে। মনে হয় পাবো তারে এখনি পাবো। আর তখন দৌড়ে গিয়ে একটা রক্তজবা তার খোপায় দিবো আলতো করে।

নব্বই দশকের দিকে এরশাদ সরকারের একজন মন্ত্রী আসবেন স্কুলে তাই সাজ সাজ রব স্কুলময়। বিভিন্ন স্কুল হতে যেমন ছাত্র ছাত্রী আনা হয়েছে তেমনি মন্ত্রীকে দেখার জন্য স্থানীয় লোকজন এসে স্কুল মাঠ লোকারণ্য। পূর্বমুখ করা মঞ্চে দেশাত্মবোধক গান বাজছে। এইদিকে বার বার মঞ্চ হতে ঘোষণা আসছে “অল্প কিছুক্ষণের” মধ্যে মন্ত্রী মহোদয় এসে হাজির হবেন আমাদের মাঝে। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার আরো পরে ছাত্রীদের হাতে ফুল দিয়ে রাস্তার দু’ধারে দাঁড় করিয়ে দিল অনুষ্ঠানের দায়িত্বপাপ্ত কর্তা ব্যক্তিগণ।

ফুল হাতে লাইনে দাঁড়ানো একজন অপ্সরী আমার হৃদয় মানসে আঁকা ছবির সাথে মিলে যায়। দ্বিধা সংকোচ ঝেড়ে ফেলে আমি তাকে বার বার পলক করতে থাকি। সাহিত্য বিশারদগণ বলেন প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে একটা অদৃশ্য মানবীর ছবি আঁকা থাকে। যখন মানুষ কাউকে দেখে আকৃষ্ট হয় তখন হৃদয়ে আঁকা ছবির সাথে বার বার ওই মানবীকে মিলিয়ে দেখে। যখন মনের ছবি আর জীবন্ত ছবি মিলে যায় তখন মানুষ তাকে ভালোবাসতে থাকে। আর এই মিলে যাওয়া হলো হৃদয়ের মানস প্রতিমা। দেশে আবার বহু গণতন্ত্রের মানস কন্যা আছে যাদের কাজ শাসন করা সেই রকম কিছু মনে করলে ভুল হবে। মাথায় তার গোলাপী জর্জেট ওড়না, গায়ে কালো আর গোলাপীর মিশ্রিত জামা। চোখে এক রাজ্যের লজ্জা, হাতে মন্ত্রীর জন্য গোলাপ ফুল।

চিকন সরু লম্বা নাকটার উপরে একটি কাটা দাগ সিঁথির যেন মাঝখান বরাবর। সাদা সাদা চোখের কালো পর্দায় জলের পাতলা আবরণ টপ করে ঝরে পড়ে যেন আমার ভালোবাসাকে শীতল করবে। আমি তাকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকি মেয়েটার সেইদিকে কোনো নজরই নেই, মনে হয় আধা একটা বোকা মেয়ে যেন পৃথিবী চিনে, রাধা-কৃষ্ণ বুঝে না।

নেওয়াজ আলির অসীমিত সত্য কথা। (৪)

একটা গান দিও আমার জন্যঃ
ছাদে লাউয়ের ডগা লক লক করে দেখে বুঝা যায় বাহারি ফলন হয়েছে। আর এমনি গানও আসে স্বরে “স্বাদের লাউ বানাইলি মোরে বৈরাগী”। লাউয়ের সাদা সাদা ফুলে মৌমাছি ও প্রজাপতি ঘুরে বেড়ায় আপন মনে। কালো হলদে একটা প্রজাপতি আমার মনে দাগ কাটে তাই তাকে ধরার জন্য পিছু নিই। প্রজাপতিটা বড্ড চালাক ধরতে গেলেই উড়াল দেয় , এইদিক সেদিক তাকাতে থাকি আমি দেখি না আর প্রজাপতি। হয়তো উড়াল দেয় দুর আকাশে। বসন্তকাল সূর্যকিরণে তাপ তেমন না থাকায় আমি চুপচাপ নারিকেল গাছটার নিচে লাউ গাছের পাশে ছাদে বসে পড়ি আরামে। কারণ প্রজাপতি ফুলে ফুলে বিচরণ করে আমাকে পরাজিত করে, ক্লান্ত করে। এই সময় চুপে চুপে আমার হৃদয়ে মানস প্রতিমা এসে হালকা জোয়ার তুলে মনে প্রাণে। তখন মন আবেগী হয় রাক্ষুসে হয় মানস প্রতিমাকে পুজা করতে। এক বোতাম ভালোবাসা চাই টি-শার্টের বুকে রেখে দিতে।

একটা গান লিখা কাগজ পকেটে ছিলো। বের করে নিজ মনে গুন গুন করে পড়ি। সেই বয়সে কিংবা এই বয়সে গান করার গলা আদৌ শ্রুতিমধুর পর্যায় পড়েনি আমার । তবুও একটা সা রে গা মা সুর তুলতে চেষ্টা করি। এই নিরব নির্জন পরিবেশটা আমাকে একটা আমিত্ব দেয় তখনি মনে চায় একটা ভালোবাসার কাননের মালী হতে। এই সুতা ছেড়া ভাবনায় ছেদ ধরায় মোতালেব, পাশে বসেই সেও গান বেসুরে রেওয়াজ করা শুরু করে। আমি উপরে দেখতে থাকি নারিকেল গাছে শুকনা কোনো নারিকেল আছে কিনা। থাকলে ভালো হতো ছিড়ে নিচে পড়লে এই বেসুরো গানের আওয়াজ হতে বাঁচতে পারতাম। একটু পর সে নিজেই গানের কাগজটা নিয়ে চলে যায়, এতে আমার মন খুশিতে নেচে উঠে।

পরে গানের কাগজ মোতালেব ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত দেয়নি, আর তার দেখাও মেলেনি। দক্ষিণের ছাদ হতে উত্তরে আসতে দেখি এক দেবী আমার গানের কাগজ হাতে বান্ধবী ও অন্যান্যদের নিয়ে হাই বেঞ্চের উপর বসে গানটার শ্রাদ্ধ করতেছে। মুহুরী নদীর স্বচ্ছ জলে ছোট ছোট মাছের ঝাঁক, উপরে একদল সাদা সাদা গাঙ চিল। টি-শার্ট খুলে ঝাপ দিলাম নদীতে মুক্তার খোজে, আর মুখে গান “এখানে রমণীগুলো নদীর মত,নদীও নারীর মত কথা কয়”। সাহস সঞ্চয় করে সবার সামনে গিয়ে দাড়াই।
এইটা আমার গানের কাগজ।
সবাই মিটমিট হাসে আর বলে আমরা পড়ছি।
এইদিকে আমার সাহস বাড়তে থাকে বাতাসে ভেসে আসা পারফিউমের সুগন্ধিতে।
কাগজটা দিয়ে দাও আমি চলে যাচ্ছি। আমি বলি নিচের দিকে তাকিয়ে অথচ তাকেই প্রতিদিন দেখার জন্য মন ব্যাকুল থাকে আর এখন চোখ মেলানোই দায়।
দে-বো না আমি। মজা করে হেসে হেসে বলে।
না দিলে দেখাবো মজা।
কী করবে শুনি।
আমি কাগজ ধরতে চাইলে চঞ্চলমতি হরিণী বসা হতে উঠে বেঞ্চে হতে বেঞ্চে নৃত্য শুরু করে।
আমি হতবাক হয়ে দাড়িয়ে দৌড়াদৌড়ি দেখতে ব্যস্ত।
নৃত্যের তালে সামাল দিতে না ফেরে গলা হতে ওড়না নিচে পড়ে যায়।
আমি তখন পাথরে পাথরে আগুন জ্বালাই আদিম যুগের মানবের মত।

নেওয়াজ আলির অসীমিত সত্য কথা। (৫)

সত্যকার মুক্তিযোদ্ধা অন্যকে ঘায়েল করে না, নিরব দেশপ্রেমিক হয়ঃ
মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখুন? এইটা কোন পার্টির দেয়া দলীয় মুক্তিযোদ্ধার সনদ নয়, এটা ২৩ বছর বয়সী একজনের নামে ভারতে বাংলাদেশী যুদ্ধ শিবিরের ইস্যু করা সনদপত্র। পরে স্বাধীন দেশে নতুন করে ইস্যুর জন্য তার কাছে কিছু পরিমান উৎকোচ চাওয়া হয়েছিলো, তিনি প্রত্যাখান করেছিলেন। এই মলিন কাগজটা দেখিয়ে একটি চকচকে সনদ নেয়ার সুযোগ পরেও অনেকবার এসেছিলো, নিম্নবিত্ত পরিবার সে সুযোগ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি কখনই।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্লট বা ফ্ল্যাট, কোটায় চাকরী কিংবা ভাতাও পান না। এই মুক্তিযোদ্ধা দেশকে ভালোবেসে দায়িত্ব পালন করেছেন। উনার সন্তানেরা চাকরী বা অন্য কোনও সুবিধা চায়নি এবং পায়নি । তাই উনার সন্তানেরা ছোটখাটো চাকরী করে মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে গর্ব অনুভব করে নিরবে, তবে পরিচয়টা রাস্তাঘাটে বিক্রি করে না। এই রকম শত নিরব মুক্তিযোদ্ধা আছে অতএব সম্মান করা উচিত।

রেমিটান্স যোদ্ধাদের জীবনঃ
করোনায় তছনছ গোটা বিশ্ব। করোনা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনও তছনছ করে দিয়েছে। অনেকে কাজ হারিয়ে দিশেহারা। কেউ কেউ আক্রান্ত স্বজনদের জন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন। আবার অনেকে নিজে ‘শোক সংবাদ’ হয়ে যাচ্ছেন।
প্রায় প্রতিদিনই বিশ্বে বাংলাদেশির মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিদিন যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন দেশ, যেখানে একের পর এক প্রবাসী আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছেন। এক সময় করোনায় প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যায় সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত সৌদি আরবসহ বিশ্বের ২৩টি দেশে ২ হাজার ৭৩৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

সৌদি আরবে ১ হাজার ২৩০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৬৫, কুয়েতে ১০৭, ওমানে ৭০, কাতারে ৩৫, জর্ডানে ১৫ ও বাহরাইনে ৩১ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪৫, যুক্তরাজ্যে ৪১২, ইতালিতে ৩৫, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০, লেবাননে ১৫, কানাডায় ৯, সুইডেনে ৮, ফ্রান্স ও স্পেনে ৭ জন করে, বেলজিয়ামে ৩, পর্তুগালে ২ এবং ভারত, মালদ্বীপ, কেনিয়া, লিবিয়া ও গাম্বিয়ায় ১ জন করে বাংলাদেশি মারা গেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় আবার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

এই মারা যাওয়া ২ হাজার ৭৩৫ জন প্রবাসীর লাশ বিদেশে দাফন করা হয়েছে। যুদ্ধে মারা গেলে যেমন দাফন হয় তারচেও নির্মম এই লাশ দাফনের প্রক্রিয়া কিন্ত কিছুই করার নেই। এরা অনেকে দেশে লাখ লাখ টাকা পাঠিয়েছে এতে পরিবার উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি দেশও উপকৃত হয়েছে। এই টাকা দেশের উন্নয়নে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। আর মরে যাওয়ার পর ভিন্ন দেশের মাটি তাদের দেহ খেয়েছে।
(LinkedIn, amader shomoy)
বিষয়শ্রেণী: অন্যান্য
ব্লগটি ৮১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৬/০৪/২০২১

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • excellent!
  • অসাধারণ অভিব্যক্তি লেখায়।
  • আপনি নেওয়াজ আলি কিন্তু এখানে ফয়জুল মহী কেন?
  • দারুণ অভিব্যক্তি!
    যখনকার কাজ তখনই করা উচিত। আর নামাজ-রোজ সময়ে করাই উত্তম।
    ধন্যবাদ, সুন্দর লেখার জন্য!
    • ফয়জুল মহী ১৬/০৪/২০২১
      পৃথিবীর কোন ধর্মই অন্যায় করতে বলে না। তাই প্রতিটি মানুষকেই ধর্মের কাছে নত হওয়া উচিত।
 
Quantcast