www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ হিজড়া

১৭তম পর্ব
রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ হিজড়া
মাত্র দশ বছরে আমি ঘর ছাড়ি।বাবার নজর এড়িয়ে আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার দিতো আমার মা। বাবা অনেক মারত,পায়ে শিকল পরিয়ে রাখতো। আমাকে খাওয়ার দিতো বলে মাকে মারত, গালি দিতো বাবা । এখন আর মা বাবার দেওয়া নামটাও মনে নাই , এখন আমি ববি হিজড়া । দশ হতে পঞ্চাশ এখন ছুঁই ছুঁই আমার বয়স,এই একাকী জীবনে মাঝে মাঝে মনে পড়ে মা বাবা,ভাই বোনের কথা।তবে পরক্ষণে ফিরে আসতে হয় কঠিন বাস্তবতায়, মার খাওয়া,পায়ে শিকল,মেরে পানিতে ফেলে দেওয়া আহরে জীবন।জীবন মানে যন্ত্রণা তা আমি ভালই জানি। তাই আর আয়নায় অতীত দেখি না এখন হিজড়াদের নিয়ে আমার সমাজ,আমি মরলে তারাই মাটি চাপা দিবে।মান-অভিমান কোন কিছুই কারো প্রতি নাই তাই আমি আমার আলাদা জগত সৃষ্টি করে নিয়েছি।ছাগল,হাঁস ও মোরগের খামার আছে আমার আর তাতে কাজ করে দিন পার করি।আমি কারো কাছে ভিক্ষা চাই না কারণ মানুষকে আমি ঘৃণা করি।মানুষ যে থালায় ভাত খায় সেই থালাই ফুটো করে প্রথম।তাই আমি ছাগল হাঁস মোরগের মা বাবা,ভাই বোন এবং বন্ধু এরাই আমার জীবন ও সমাজ।তবে শহরে কিছু হিজড়ার মা বাবার চলা সহজ হলেও গ্রামে চলা অনেক কঠিন।গ্রামের সমাজ এখনো সেকেলে,অনিষ্টে ভরা কুপ যেখানে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে স্বার্থবাজ।

ভালবাসা ও..ও..ওহ্ ভালবাসা..প্রেম পিরিতি কাকে বলে জেনেছি আমি বুঝেছি আমি । ভালবাসা হল পৃথিবীব সবচেয়ে দামি জেনেছি আমি জেনেছি আমি,শুনগো তোরা শুনে যা তোরা আমার আর কেউ নেই তোরা ছাড়া। আমার এই জীবনে তোরাই যে সব ।সাক্ষী আছে আকাশ বাতাস সাক্ষী আছে রব আমার এই জীবনে তোরাই যে সব। সাক্ষী আছে আকাশ বাতাস সাক্ষী আছে রব,শুনগো তোরা আ আ ।
শত দুঃখ ভুলিয়ে দেয় ভালবাসা,ভালবাসা আমাদের জাগায় আশা। ও...ও শত দুঃখ ভুলিয়ে দেয় ভালবাসা,ভালবাসা আমাদের জাগায় আশা,পৃথিবীটি টিকে আছে প্রেমের কারনে,মানুষ বাঁচে না কভু প্রেম বিহনে,শুনগো তোরা শুনে যা আমার কেউ নেই তোরা ছাড়া।আমার এই জীবনে তোরাই যে সব,সাক্ষী আছে আকাশ বাতাশ সাক্ষী আছে রব আমার এই জীবনে তোরাই সব। সাক্ষী আছে আকাশ বাতাস সাক্ষী আছে রব....শুনগো তোরা আ আ ।
আজকের আসরে বলি হৃদয়ের কথা ভালবাসা আমাদের দেয় ব্যথা ও...ও... আজকের আসরে বলি হৃদয়ের কথা ভালবাসা আমাদের দেয় ব্যথা (কান্না)।তবু প্রেম জয়ীই হবে যুগ যূগ ধরে,আমার এই প্রেম রাখিস তোদের অন্তরে,শুনগো তোরা শুনে যা তোরা আমার আর কেউ নেই তোরা ছাড়া।আমার এই জীবনে তোরাই যে সব,সাক্ষী আছে আকাশ বাতাস সাক্ষী আছে রব আমার এই জীবনে তোরাই যে সব,সাক্ষী আছে আকাশ বাতাস সাক্ষী আছে র...ব শুনগো তো...রা....রা (সবার কান্না। কমন জেন্ডার ছবির গান)। চলবে। ১৮তম পর্ব রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) আগের লেখায় আছে ছেলে হতে মেয়ে রুপান্তরের কথা। ছেলে হতে তৃতীয় লিঙ্গ হওয়ার কথা। আবার মেয়েরা তৃতীয় লিঙ্গ হয়। এবং মেয়ে হতে পুরুষে রুপান্তর হয়ে জীবন যাপন করছে এমন উদাহরণও আছে। কিন্ত সমাজের মানুষের মানুষিক উন্নতি হয়নি। মা - বাবাহীন শিউলী ভাবীদের ভয় পালিয়ে জীবনকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে হ্রদয়ের বাঁধ ভাঙ্গা ভালোবাসা টানে ভাতিজা ভাতিজিদের দেখতে। বোরকা পরে ছুটে ঘরে কিন্তু না, ভাই ভাবী তাদের কথাও বলতে দেয় না। তারা বোবা হয়ে অপলকে চেয়ে থাকে। উভয়ের ঝরে পড়ে লোনা জল। ও--ও ভালোবাসা । কখনো কখনো ঈশ্বর খূজি বন্ধ ঘরের দরজায়। যাতে দরজা খোলে বের হয়ে আমিও হাসতে পারি, গাইতে পারি। হলুদ গাধা ফুল ছিটিয়ে বোনের হলুদ সন্ধ্যায় নাচতে পারি । আত্নীয় স্বজন জানে শিউলী আছে। কিন্তু আমি জানি শিউলী পায়ের তলায় পৃষ্ট ধুলোবালি হয়েছে বহু আগেই।
আজ আমি শিউলী না ,আমি নুর আলাম। আমি অতি ক্ষুদ্র মানুষ, হাজারো মানুষের ভিড়ে আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদচারণ, সেই সহস্র মানুষের ভিড়েই নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করার যুদ্ধ একাই করতে চেষ্টা করছি। কারোর ছায়াতলে থেকে নয় কিংবা কারোর হাত ধরে নয়, একাই আজ অব্দি হেঁটে ভিড়ে দাড়িয়ে নিজেকে নিশ্চিত করিয়েছি। একদিন ভোর বেলায় আমি আবিষ্কার করি, কি যেন আমার শরীরে হচ্ছে। হঠাৎ মাথাটা যেন ঘুরতে থাকে। আমি বার্থরুম যাবো অথচ পারছি না। এবং মেঝেতে পড়ে যাই , তারপরও আমি উঠতে চেষ্টা করি এবং চোখ খোলতে চাই বার বার। কিন্তু চোখও খোলতে পারছি না , উঠতেও পারছি না। চেষ্টার পর চেষ্টা করেও পারছি না। মাকে ডাক দিলাম। কিন্ত একি মা মা করেই যাচ্ছি অথচ মুখ খোলে না। এবার ভয় আসলো মনে , এবার ভয় আসলো শরীরে। ডাক দিলাম বিধাতাকে। কোন কিছু করতে না পারলেও কিন্ত অনুভব করছি যে আমার শরীরে কোন কিছু হচ্ছে। অনেকে বলে ঘুমের মধ্যে মানুষের দম বন্ধ হয়ে হাত-পা অবশ হয়। মনে আসে নানা চিন্তা , কিন্তু আমিতো ঘুমে না। শত চেষ্টায় উঠে দাঁড়ালাম, না থাকতে পারলাম না দাঁড়িয়ে । মেঝে শোয়া অবস্থায় মনে হয় যেন আমার আশেপাশে কোন ছায়া ঘুরাঘুরি করছে। এমনি অস্থির অবস্থায় শরীর ঘাম দেয়,যেন আমি গোসল করে এসেছি। হঠাৎ করে যেন বিদ্যুৎ চমকানোর মত শরীর চমকিত হয়। গলা কাটা মোরগের মত চটপট আমার। মনে হয় এই মুহূর্তে জীবনের উকেট পতন। হাত পা যেন নাই, মনে হয় এক পোটলা মাংস। তবে ভিতরে আমার অনুভূতি আছে । হয়তো চল্লিশ মিনিট পর কিছুটা অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু মনে হয় নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াই। বার্থরুম যেতে হবে, অতি চুপেচুপে পা ফেলি। একি প্রস্রাব আসছে না কেন। কিন্তু প্রস্রাবের প্রচণ্ড বেগ । অস্থির হতে অস্থির হই। বের হয়ে মাকে বলি। সব ঘটনা মাকে খুলে বলি। কিন্তু মা বিশ্বাসই করলো না। করবে কি করে আমি যে তার মেয়ে শিউলী। এই এই তার অভিবাবককে ডাকো। ডাক্তার আমাকে চেক-আপ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো। আমি অবুঝ শিশুর মত ডাক্তারের মুখের দিকে চেয়ে আছি। আমাকে বার্থরুম নিয়ে গেল , প্রস্রাব করতে জোরে জোরে চাপ দিতে বললো। আজ দুইদিন আমার খাওয়া বন্ধ, প্রস্রাব বন্ধ । মনে হয় যেন পৃথিবীহীন আমি। জোরে চাপ দিতে দিতে হঠাৎ করে একদলা মাংসপিন্ড বের হয়ে আসলো। আমার সাথে মার কান্নাকাটি । মনে করছে কোন খারাপ রোগ, আমি মরেই যাবো। মায়ের কান্না , বোনের কান্না বাবা এবং ভাইয়ের সমাজ হতে মুখ লুকানো আর আমি নির্বাক ও নির্বোধ । নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর হাসপাতালে। আবার চেক-আপ, আবার টেষ্ট, আবার রিপোর্ট । হরমোনের কারণে এমন ,চর্বি জমা হয়েছে। সেই মাংস দলা আমার জরায়ু। অল্প অল্প রক্ত কণায় হিতাহিত জ্ঞানহীন আমি। সাদা শুভ্র পোষকে নার্স দেখলে মায়া হয়। কেন এমন হচ্ছে আমার , জরায়ু ছাড়াতো মা হওয়া যায় না। আমি তাকাই আসমানে , যেখানে পরমাশ্বর। এক ফোটা জল দাও গলাটা যে শুকনা । এক ফোটা দয়া দাও বিধাতা , আমি যে সুস্থ একজন নারী থাকতে চাই। (চলবে) I
১৯তম পর্ব রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) এতই জটিল যে, হাসপাতালে যাওযা আসার ভিতরই রয়েছি শুধু। মা দিনে কাঁদে আর রাতে উঠে নামাজ পড়ে,বাবা যেন বোবা হয়ে গেল। মাঝে মাঝে আমার মাথাটা বুকে চেপে ধরে ,আর এমনি নেত্রজলে আমার মাথা ভিজে। “মা মা ওমা গো,ওরে আমার জনম দেওয়া মা। ওরে আমার জনম দেওয়া মা গো”। মাগো আমার যে মরতে ইচ্ছে করে না । তোমাদের ফেলে আমি কি মরতে পারি মা, বলো। রংপুর মেডিকেলে অনেক চেষ্টার পর আমাকে স্থানান্তর করলো ঢাকা মেডিকেলে। সেই আবার ঢাল তলোয়ার বিহীন যুদ্ধ । তবে যেন কিছুটা আলোময়। তাও নারীত্বের সাধ বিহীন। এখানে আমি জরায়ু মুক্ত হই। আরো অনেক দুর যেতে হবে , তবে এখন বার্থরুম সমস্যা মুক্ত আমি। মনে হয় তের দিন পর আইসিও হতে জেনারেল বিছানায় আমি। একটু একটু সতেজ হচ্ছি এবং বুঝতেছি আমার পরিবর্তন । বোর্ড মিটিং ,এই ডাক্তার সেই ডাক্তার সব মিলিয়ে দুই মাস আমি হাসপাতালের বিছানায় মা বাবাসহ। অবশেষে ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তারগণ সিদ্ধান্ত করলেন অস্ত্রোপচার করতে হবে। শুনার পর বাবার মুখপানে চেয়ে দেখলাম। বাবা চিন্তিত মুখ হেসে উঠলো, আর সেই মুখটাই আমার কাছে স্বর্গ মনে হলো। টাকার জন্য বাবাকে ছুটতে হচ্ছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। সামর্থ্যের বাহিরে যেই কাজ সেইটার জন্য বাবার আপ্রাণ চেষ্টা। সন্তানকে সুস্থ করে ঘরে নিয়ে যাওয়া গরীব বাবাই বুঝে কত অসহ্য যন্ত্রণা । বাবা এখন বুঝে ফেলছে আমি আর মেয়ে থাকবো না। যাই হোক তুই আমার সন্তান ,আমার সম্পদ। আল্লাহ ইচ্ছার নেয়ামত। শুনে আমি আকাশ দেখি। বৃদ্ধ আশ্রমে সেই বাবাও মনে হয় এমন। যারা হিজড়া সন্তানকে বিতাড়িত করে তারাও এমন। সংসার ,সমাজ ও রাষ্ট্র এমন নয়। এখানে যেত ভয়। এই দিকে আমার শরীরে পরিবর্তন হতে চলেছে। ডাক্তার অভয় দিলো, অস্ত্রোপচার করতে না পারলেও অসুবিধা নাই। তবে যে পরিবর্তন হচ্ছে তার জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তবুও ভয়, বাঁচি না মরি। এই পরিবর্তনের ভিতরও আমি নিজেকে মেয়ে ভাবছি। কিন্তু শাররীক পরিবর্তন ছেলের দিকেই যাচ্ছে। ডাক্তার আমাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এবং সেই পরিবর্তনকে মানসিক সমর্থন দিতে বলতেছে। বাবা এলাকার গণ্যমান্য এবং দানশীল লোকজনকে জানালেন। আমার স্কুল বন্ধুরা এগিয়ে আসলো। সবাই মিলে হাট বাজারে মানবিক সাহায্য চাইলো। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানসহ সবাই আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলাম । তিন মাস সময়ের ভিতর সম্পূর্ণ রুপান্তর হলাম। কিন্ত হাসপাতাল হতে বাড়িতে আসার পর শুরু হলো মানসিক যন্ত্রণা । পোষাকে আমি মেয়ে হলেও কিন্তু পোষাকের ভিতরে আমি একজন ছেলেই। অথচ মাথা ভর্তি লম্বা লম্বা কালো কেশ । বাড়ির লোকজনের কানাঘুষা। একজন হতে একজন এইভাবে সমাজ এবং গ্রামের পর গ্রাম। এইভাবে জানতে জানতে আমার প্রেমিক পর্যন্ত । তবে সে জানতো আমি চিকিৎসায় আছি। কিন্তু জানে না আমিও আজ ছেলে মানুষ। যেন আলোড়ন সৃষ্টি হলো গ্রামমহ। একটা মেয়ে ছেলে হয়ে গিয়েছে। ইদ্রিস প্রধানের মেয়ে শিউলী আর মেয়ে নাই। দুই/তিন দিনেই শত শত মানুষ আসতে লাগলো আমাকে দেখতে। যেন আজব ঘটনা দেখতেই হয়। মানুষ সমাগমে এক বিশৃঙ্খলা অবস্থা । শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশ। প্রশাসনের লোক আসলো ঘটনা যাচাই করতে। একদিন পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায় হেফাজতে রাখার জন্য। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আমাকে মহিলা পুলিশ দিয়ে সার্চ করা হলো। পুলিশ-বাহিনী থানার ওসিকে ঘটনা সত্য বলে জানায়। কিন্তু ওসি বিশ্বাস করতে চাইলেন না। বললেন তুমি যদি সহযোগীতা করো তাহলে আমি নিজেই যাচাই করতে চাই , এবং উনি তা করলেনও। কি বিব্রতকর , কি মানসিক অত্যাচার । বিধাতার কি আজব রহস্যময় খেলা। এই খেলায় আমি নিরাপদ জেল হাজতে। (চলবে )।
২০তম পর্ব রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া)। ললিতা সালভে হতে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যম ললিত সালভে হয়ে মহারাষ্ট্র পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত আছেন। অস্ত্রোপচারের এক বছর পর পছন্দের নারীকে বিয়েও করেছেন ললিত। আমি হিজড়া এ্যানিকে আমার জীবন থেকেও বেশী ভালোবাসি। আমরা ধর্মীয় রীতি মেনেই বিয়ে করেছি। তার জন্য আমার ব্যবসা ও সমাজ হারিয়েছি। আগের স্ত্রী সন্তান হারিয়েছি। এখন এ্যানি ও আমাদের মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে বাঁচতে চাই। এইসব কথা খুব আত্নবিশ্বাস নিয়ে বলছেন মিলন। শ্যামপুর এ্যানির বাড়া বাসায় এখন মিলন থাকেন। মিলনের বাড়ি বিক্রমপুর, রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে কাঁচা বাজারে দোকান করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসার ছিল মিলনের। ২০০৮ সালে তার দোকানে এ্যানির সাথে পরিচয়। এবং সেই বছর হিজড়া নেত্রী ববির বড়ই তলার বাসায় আবার দেখা হয়। তখনই ভালো লাগার শুরু। মোবাইলে কথা হতো রাতদিনে । চলতে থাকে ভাবের আদান প্রদান। অবশেষে মিলন এ্যানিকে জীবন সাথী করার প্রস্তাব দেয়। এ্যানিও তাতে সাড়া দেয়। মিলন বলে আমি বুঝতেই পারিনি কখন যে তার ভালোবাসার সাগরে ডুব দিয়েছি। সংসার সমাজ কেউ এখনো বিশ্বাস করে না যে আমি এমন কাজ করেছি। তারা বলে এ্যানি হয়তো যাদু করেছে। আমার আগের স্ত্রী এখানেও এসে ছিলো, ব্যবসায়ী সমিতিতে বিচারও দিয়েছে। সমিতি আমাকে বাজার হতে বাহিরও করে দেয়। যার কারণে প্রায় দশ লাখ টাকা লোকসান হয়। গ্রামের সমাজে আমি এক রকম নিষিদ্ধ,তবুও এ্যনিকে অনেক অনেক ভালোবাসি। দশ বছর ধরে তাকে নিয়েই আমি ভালো আছি। মরিয়ম আমার দত্তক নেওয়া মেয়ে । অনেক ভালো আছি , স্বপ্ন ছিল সংসার করার আল্লাহর অশেষ রহমতে তাই করছি। তবে সন্তানের মা হওয়ার অনেক ইচ্ছা। ভারতে গিয়ে অনেকবার ডাক্তারও দেখিয়েছি। তবে মরিয়মকে পেয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। শুধু মিলন আমার থাকলেই হবে। সে দুুরে না সরে যায়। মরিয়মকে আমার আত্মীয় স্বজন সবাই ভালোবাসে। ঈদে সবাই ওর জন্য জামা উপহার দেয়। শ্যামপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আমি। সবাই চিনে , সবাই ভালোবাসে। পাঁচ ভাই বোনের মধ্য আমি ছোট, ছিলাম মনির হোসেন । আর এখন এ্যানি, মিলনের স্ত্রী ও মরিয়মের মা। (চলবে)l
২১তম পর্ব রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) পশ্চিম বঙ্গ,দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুর ঘাট এলাকায় অনিক দত্তের জন্ম । ছোটকাল হতে ক্লাসিক্যাল নাচ যার মনন ও মগজে মিশ্রিত । ছেলে নৃত্য শিখতে গিয়ে হয়তো মেয়েলি স্বভাবের হয়ে যাচ্ছে। বাবা মার ভয় ছিলো , তবুও আমার জেদ এবং ভালোবাসার মূল্য দিতেন তারা। বাসা হতে দশ মিনিটের রাস্তা আমি চল্লিশ মিনিট ঘুরে স্কুলে যেতাম। শুধু লুকিয়ে এবং ঘুরে যেত হতো ইভটিজিং এর ভয়ে। ছেলে হলেও মেয়েলিপনা ও দারুণ চেহারা হওয়ায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো বখাটেদের বাজে কথা শুনতে হতো। তবে স্কুলের শিক্ষকগণ আমাকে বুজতেন এবং সহযোগীতা করতেন। যার কারণে ছোটকালে অনেক নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছি। কিন্ত শরীরের গঠন এক ধরনের আর আত্মার চাওয়াটা অন্য, এইখানেই ঝামেলটা। আমি ছেলে শরীর নিয়ে বেড়ে উঠছি আর আত্মা বেড়ে উঠছে মেয়ে হয়ে। তাই বাসায় এবং স্কুলে মেয়েদের কাজই ভালো লাগত। আমার বয়সী ছেলেরা যখন ফুটবল খেলতো , তখন আমার ভালো লাগতো পুতুলের বিয়ে দিতে। বয়ঃসন্ধি কাল পার হলেও আত্মার পরিবর্তনে মেয়েলিপনাই বাড়ছে। তাই আমি মনে করি শরীর বদলানো যাবে কিন্তু আত্মা বদলানো যাবে না আত্মাতো অবিনশ্বর । এই জন্যই শরীর আর আত্মা এক করার সিদ্ধান্ত নিই। পরিবারের উদার সহযোগীতায় আজ আমি আনিকা দত্ত।
অথচ পরিবারের একমাত্র সন্তান আমি। কিছুই ভালো লাগত না, একা একা ঘরে বসে কান্নাকাটি করতাম। দুই একজন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো তাদের সাথে আলোচনা করতাম। মা বুঝলেও বাবা মন খারাপ করতেন, যৌথ পরিবারের চাপ ছিল হয়তো বাবার উপর । আসলে বালুর ঘাট একটা থানা শহর ,এদিকে আমার পরিবারটাও সভ্রান্ত । তাই হয়তো লোকলজ্জার ভয়ের কাছে আমার ভালো লাগা নগণ্য ছিল। তাদের চাওয়া পাওয়া সব আমাকে ঘিরেই । আমি অবশ্য তাদের দোষ দিবো না, জিনিসটা না জানলে আমি তাদের জায়গায় থাকলে আমিও এমন করতাম। যখন তারা বুঝছে তখন হতে আমার জন্য সব উজাড় করেছে।
আজ আমি প্রতিষ্ঠিত নৃত্য শিল্পী, মড়েল , একজন আদর্শবান স্কুল শিক্ষক ও গৃহিনী । এখন কি পরিচয় দিবো,আছে নাচের স্কুল, আছে আমার মেকআপ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । তবে নাচটাই আমার প্রাণ । এই নাচ দিয়ে আজ আমি আনিকা। ভালো লাগলেও নাচি, মন কাঁদলেও নাচি, এমনি এমনি নাচি। তবে আমি ছোটকালে কোন ওস্তাদের কাছে নাচ শিখি নাই। তারপরও এই নাচ নিয়েই ঢাকায় অনুষ্ঠান করেছি । আমি যখন কলকাতায় যাই এবং বায়লোজিতে অনার্স করার জন্য ভার্সিটিতে ভর্তি হই তখন একটা ধারণা আসে যে আমি হয়তো ভুলও হতে পারি। তাই সাইকিষ্ট ডাক্তার দেখাই এবং সে সব জিনিস ভালো করে বুঝিরে বলেন যে সব ঠিক আছে। এবং আমার মত এমন অনেক আছে। আসলে ভিতরে ভিতরে আমি খুব হতাশাগ্রস্থ যদিও পড়ালেখা ছাড়িনি। সাইকোর কথায় আমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। লোহায় জং ধরলে ঘসতে হয়। তুমি একটি হিরা এমনভাবে ঘসতে হবে যেন চক চক করে। তারপর আমি অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত লই। কলকাতায় ও দিল্লী অস্ত্রোপচারের দীর্ঘতম যন্ত্রণাময় পথ পাড়ি দিই। কলেজ জীবন হতে আর আমাকে পিছনে ফিরে তাকাইতে হয়নি। যদিও আমার চেয়ে অনেক অনেক ভালো নৃত্য শিল্পী আছে। আসলে ভগবান আমার সাথী হয়েছে এবং আছে আজ অদ্যাবধি । প্রয়োজন ইচ্ছা ,অধ্যবসায় এবং স্থির লক্ষ্য। তবে আমি মেয়ে হয়েছি আত্মার শান্তির জন্য। এখন একটা দত্তক মেয়ের মা হবো। যদিও আমি এখন একজন নারী। কিন্তু রুপান্তর হওয়া মেয়েদের ডিম্বাশয় স্থাপন হয় না। সেই ক্ষেত্রে যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাহায্যে গর্ভধারণ করতে চায় তাহলে হয়তো মারা যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।( চলবে) l
২২তম পর্ব রাজনীতি ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সেই বালুর ঘাট ছোট শহর হতে আজ আমি বড় শহর কলকাতায় । ছোট শহরে মেয়েলি স্বভাবের অনিক দত্ত যে কিনা ইভটিজিং এর ভয়ে পালিয়ে লুকিয়ে স্কুলে যেত, সেই আজ বড় শহরের ভার্সিটিতে পড়ে। নাচের ঝংকার, মেকআপ এর সুঘ্রাণ আর মডেলিং এর ছন্দোময় জীবন যেন বেসুর লাগে । মাঝে মাঝে মন খোজে কাউকে। যে শরীর এবং আত্মাকে আমি এক করেছি সেই আত্মাই যেন বিদ্রূপ করে আমায়। বলে যেন দুইটি হাত ধরো যে শক্তি এবং সাহস যোগাবে। আর সেই শক্তি এবং সাহসই নিয়ে যাবে জীবনের স্বর্গীয় চূড়ায়। তবে স্কুল জীবনে দুই/একজন ছেলে খুব খুব কাছে আসতে চেয়েছে। আমার ভালো লাগেনি। কারণ আমি মেয়েলি স্বভাবের হলেও মুলত আমিও একটা ছেলে। বাহ্যিক সৌন্দর্যে আসলে আমি অপরূপা, তাই বলে সমকামীতা মেনে নিতে মন সায় দেয়নি। এমনি দোলাচলে সৌমিক এর সাথে আমার পরিচয়। সেও সংস্কৃতিবান মানুষ, তবে সে নাকি আমাকে আগে হতে চিনতো। তাই প্রথম দিন পরিচয় হলো মাত্র। তবে ভালো লাগার কোন উপধান ছিল না। তখন আমি চলনে- বলনে আমি পুরোই নারী। সৌমিকের একজন নারীর সাথেই পরিচয় হলো। আরে ভিতরে ভিতরে কত উত্তজিত ছিলাম তোমার সাথে দেখা করার জন্য। সামনে পেয়ে আহমরি কিছুই মনে হয়। আমি তার কথায় হাসি এবং বুঝি সে আমার সাথে মজা নিচ্ছে।

আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। চলতে চলতে বুঝতে পারি মানুষটিই আসল। তার সাথে কথা বলে মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছি এবং সব কাজে সহযোগীতা করছে। তার সাথে আমার পছন্দ অপছন্দ মিলছে। তার হাত ধরে এগিয়ে যাওয়াটা নিরাপদ মনে হলো। তা পরিবারকে জানাই । কারণ যে পরিবার আমাকে াপাখির মত উড়ার স্বাধীনতা দিলো তাকে অবহেলা করা কিছুতেই ভালো হবে না । তবে তার পরিবার আমাকে জন্মগত মেয়েই জানতো। একদিন আমি গেলাম সৌমিকের পরিবারের সাথে দেখা করতে। তখন আমাদের সম্পর্কটা এক বছরের, প্রচন্ড ভয় ছিল মনে যে সব শুনার পর সৌমিকের মা বাবা কি বলে।
রাতে খাওয়ার খেয়ে বসলাম আমি সৌমিকের বাবার মূখামুখি। আঙ্কেল --------------,
কিরে মা কিছু বলবে।
আঙ্কেল আমি আসলে রুপান্তরিত মেয়ে। হাঃহাঃ হাঃ, এই কথা। আর কিছু বলবে ,আমি দেখছি তুমি পরিপূর্ণ একটা মানুষ। (অবাক হয়ে , ভয়ে চুপ আমি) উনার একটুও ভাবান্তর নাই। আর কিছু বলবে মা । ঠিক আছে যাও। সকালে মাংস নিয়ে আসবো রান্না করবে তুমি । এখন ঘুম দাও। আমি আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে বাহিরে যাই। চাঁদটাকে হাতে মুটে ভরে বুকে নিতে ইচ্ছে করলো। হয়তো কোন পূণ্য আমার আছে তাই চাঁদ তোমার আলো হতে আরো বেশী বেশী আলোকিত মানুষ আমি পেয়েছি। শুনো চাঁদ পৃথিবী আমার । হে ঈশ্বর অনেক দিয়েছো আরেকটু দাও যেন আমিই পৃথিবীকে আলো দিয়ে ভরে দিতে পারি যেখানে এই পূর্ণিমাও পরাজিত হয়। ( চলবে )l
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ২৪৩ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৮/০৩/২০২০

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • আগে পড়তে থাকি।
  • গাজী তারেক আজিজ ২৮/০৩/২০২০
    এবিষয়ে আমার একটা লেখা আছে।
  • চমৎকার লেখনী। ধন্যবাদ জানাই।
 
Quantcast