www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

এখানে ওখানে

মামা কাহিনী


রতন মামা আমার চেয়ে দুই বছরের বড় হলেও আমি কখনই বড় বলে পাত্তা দিতামনা। সেটা হতে পারে উনি যখন গ্রামের স্কুল থেকে এস এস এস সি পাশ করে ইন্টারমিডিয়েট পড়তে সিলেটের এম সি কলেজে ভর্তি হন এবং হোস্টেলে সিট পাওয়া পর্যন্ত আমাদের বাসায় থাকেন আর আমি তখন উনার গ্রাম থেকে শহুরে হয়ে উঠার গাইড।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, বেশ বড় হয়ে গিয়েছি এরকম ভাব নিয়ে চলি। এতদিন বড়বোনদের সাথে গিয়ে শপিংয়ের বদলে নিজের কাপড় জুতা এখন বন্ধুদের সাথে গিয়ে শপিং করি। রতন মামা এক দুপুরে বললেন তোর প্যান্ট কোন দর্জির কাছ থেকে বানাস, আমায় নিয়ে চল।

মামাকে নিয়ে জিন্দাবাজার গেলাম, প্যান্টের কাপড় কেনার দোকানে, মামার কোন প্যান্ট পিসই পছন্দ হয়না। অনেক দেখার পর আমার কানে কানে বললেন তোর প্যান্টের মত কোন কাপড়ই নাই এই দোকানে। আমার জিন্সের প্যান্ট পরা! দোকানিকে পছন্দ হয়নি বলে চলে এলাম। মামাকে বললাম জিন্সের প্যান্ট তো কাপড় কিনে বানাতে হয়না, চল তোমাকে আহমদ ম্যানসনের জিন্সের দোকানে নিয়ে যাই। আগে বলবে তো! রতন মামা বলেন, মাপ নিয়ে না বানালে এত টাইট ফিটিংস হয় কিভাবে। আমি কখনও জিন্সের প্যান্ট পড়েছি নাকি।

রতন মামার বাবা আমার আম্মার চাচা হন, নানার গ্রামে বেশ প্রভাব প্রতিপত্তি। রতন মামা বড় ছেলে, শহরে পড়তে পাঠিয়েছেন ও মামাকে ভালই হাত খরচের টাকা দেন বলে মনে হয়। দুইটা জিন্স ট্রায়াল দিয়ে কিনে আমাকেও একটা কেনার জন্য বললেন, ভদ্রতা করে ঐদিন না কিনলেও অনেক অনেক বছর পর মামাকে নিয়ে অক্সফোর্ড সটিটের শপিং করার পর এই অফারে না করিনি। সে গল্পে পরে আসছি। দ্বিতীয় জিন্স ট্রায়াল দিয়ে আর না চেন্জ করেই দাম দিয়ে চলে এসেছেন। নতুন টাইট ফিটিংসের জিন্স পরে হাঁটতে মনে হয় কস্ট হচ্ছিল, অদ্ভুতভাবে হাঁটছেন দেখলাম। বললেন নতুন সেজন্য এমন হচ্ছে, একবার ধুলে টিক হয়ে যাবে। আমাকে নিয়ে পন্চখানা হোটেলে ঢুকলেন উনার খিদে পেয়েছে বলে। সেই আমার প্রথম সিলেটের কোন হোটেলে খাওয়া। বাসার বাইরে নাস্তা করার কথা তখন চিন্তাও করতে পারতামনা আর রিক্সাভাড়া ছাড়া পকেটেও কোন টাকা থাকতনা। আমার বন্ধুদের নিয়ে হোটেলে শিক কাবাব খেতে যাওয়ার শুরু ইন্টারে পড়ার সময়। মামা দেখলাম বাইরে খাওয়ার ব্যপারে ওস্তাদ।

ক্লাস শুরুর পর মামা হোস্টেলে চলে গেলেও মাঝে মাঝে বাসায় আসতেন, আমি যখন ইন্টারে এম সি কলেজে মামা তখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে, ততদিনে উনার বেশ কয়েকজন বন্ধু হয়েছে, ব্যস্ত থাকেন। মাঝে মাঝে এম সি কলেজে দেখি, উনার ইন্টারের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেন যারা তখন এম সিতে অনার্স পড়ছেন। মামা আর আগের মামা নেই, বেশ স্মার্ট, বুঝা যায় বন্ধুদের আড্ডায় উনিই মধ্যমনি। আমাকে দেখলেই উনার খিদে পায় আর ক্লাস না থাকলে গন্তব্য হয় কলেজ ক্যান্টিন।

একদিন কলেজ থেকে এসে দুপুরে দেখি বাসায় নানা এসেছেন, খবর দিয়ে মামাকে এনেছেন। আব্বার সাথে নানা আলোচনা করেছেন। গুরুগম্ভীর আলোচনা, বুঝা যায় ছোটদের থাকতে নেই। আমার ঘরে এসে দেখি মামা চুপটি করে বসে আছেন। নির্ঘাত নারীঘটিত ব্যপার। উনার এম সি কলেজের আড্ডায় বন্ধুদের মাঝে কয়েকজন সুন্দরীকেও যে দেখেছি!

যা জানলাম শুনে তো আমি অবাক। উনি পুলিশের এস আই পদের জন্য এপ্লাই করেছিলেন উনার বিশ্ববিদ্যালয়ের রুম মেটের সাথে। রুমমেট লিখিত পরীক্ষায় না টিকললেও উনি পাশ করেছেন আর পরবর্তী পরীক্ষার জন্য সিলেট পুলিশ লাইনে উনাকে ডেকেছে। আমি বললাম সেটাতো ভাল কিন্তু নানাকে দেখলাম বেশ রেগে আছেন। বললেন উনি নানাকে আগে কিছু বলেননি কিন্তু পরীক্ষার চিঠি উনার বাড়ীতে যাওয়ায় নানা চিঠি পড়ে জেনে ফেলেছেন।

খাবার টেবিলেও দেখলাম নানা বেশ রেগে আছেন, বারবার বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ না করে পুলিশে ঢুকার বুদ্ধি উনাকে কে দিল, তাও আর্মিতে গেলে একটা কথা, গ্রামে উনার সম্মান বাড়ত। মামা মিনমিন করে কিছু বলতে গেলেই নানার ধমক খান। শেষে আব্বা নানাকে বুঝিয়ে শান্ত করলেন যে এখনও সিলেক্ট হয়নি, আর এস.আই. পদ তো পুলিশের অফিসার পদ। নানা যাওয়ার আগে বলে গেলেন মামার লেখাপড়ার খরচ উনি আর দিবেন না। মামাকে দেখলাম তেমন চিন্তিত না।

দুই সপ্তাহ পর মামার সাথে দেখা। জিজ্ঞেস করলাম পুলিশের পরীক্ষা কেমন হল। বললেন আর বলিসনা। ডিসেম্বরের শীতে গেছি পরীক্ষা দিতে, যেতেই হাফপ্যান্ট আর স্যান্ডো গেন্জি পড়তে বলে। সবাইকে তা পড়ে লাইনে দাঁড়াতে বলে। আমি তো শীতে কাপছি। সেখানেই শেষ না একটু পরে বলে পুকুরে সাঁতার কাটতে। আমি তা দেখে বাথরুমের কথা বলে পালিয়ে এসেছি। আব্বা ঠিক বলেছেন আমি অর্থনীতির প্রফেসর হব। বুঝলাম নানার পাঠানো টাকায় মামার আয়েসি জীবনের মায়া ত্যাগ সহজ নয়।

চলবে..
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৭৮ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৯/১২/২০২১

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • বেশ সুখপাঠ্য
  • একনিষ্ঠ অনুগত ৩০/১২/২০২১
    পর্ব হবে কতটি? দেখা যাক ক্লাইমেক্স এ কি হয়।
  • অপূর্ব
 
Quantcast