আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম (২৮)
আজ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে একটি ঢেঁকি পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখে খারাপ লেগেছে। কত না প্রয়োজনীয় বস্তু ছিলো এই ঢেঁকি! কথায় বলে, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, দেহে বাড়ায় বল। ধান ভানতে ঢেঁকির কোন বিকল্প ছিলো না। আমাদের মা-বোনেরা যেমন ঢেঁকিতে ধান ভেনেছেন, আমরাও কম যায়নি। সকালে বা বিকেলে শুরু হত এই ধান ভানার কাজ, কিন্তু এর শেষ ছিলো না! ধান ভানতে ভানতে একবারে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে যেতাম। ঢেঁকিতে পা দিয়ে ধান ভানা বড়ই কষ্টের ব্যাপার। কিছু ক্ষণ পর পর পা একেবারে ব্যথা হয়ে যেত। কিন্তু উপায় থাকতো না, ছন্দের তালে তালে পা ফেলতে হত। ঢেঁকি চালানোর একটি বিশেষ দিক হল- ছন্দের তালে তালে ঢেঁকি চালাতে হত। ছন্দ পতন হলে যিনি আলায়ে দেয়ার দায়িত্বে থাকতো তার হাত কেটে যেত। বড়দিনের সময় ঢেঁকির কদর আরও বেড়ে যেত। গুরি কুটার জন্য। কারণ গুরির পিঠা ছাড়া যে বড়দিন হতই না। বর্তমানে ধান ভাঙ্গার কল এই ঢেঁকির স্থান দখল করেছে। এই ঢেঁকির স্থান হয়েছে এখন যাদুঘরে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- এই ধান ভানার সময় শিবের গীত হত। এই শিবের গীত নিজেদের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করতো, এটা হলফ করে বলতে পারি। আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম ! - স্বপন রোজারিও (মাইকেল)
Comments (4)