কুয়াশার চাদরে ঢাকা আমার নতুন সৃষ্টি গুলো; মনে হয় যেন কোন এক পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে ঘনীভূত বারুদের মেঘের ভেতর ভাবনাগুলো আটকে পড়ে আছে। আমার যে যে বিষয় গুলো ভালো লাগে তার বেশিরভাগই ঢেকে রেখেছে কালো মেঘের ছায়া; আমি যা বুঝতে পারি তাহলে আমাকে ঘিরে রেখেছে কোন এক আচ্ছাদন যা আমাকে গন্ডির ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বারবার মানা করছে। নানা রকম হীরা, মণি,মুক্তা সেই কালো বলয়ের মধ্যেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আমার সৃষ্টি সুখের উল্লাস। আমার স্পন্দনশীল হৃদয় বারবার নতুন স্পন্দনে পৃথিবীটাকে রাঙিয়ে দিতে চায়; জীবন সাগরের ফেনাযুক্ত নোনা জল নষ্ট করে দেয় সুস্বাদু স্বাদ। আমি শুয়ে থাকতে পারিনা তবুও বাধ্য হয়ে শুয়ে পড়ি এক পাথরকে বালিশের মত ব্যবহার করে। আমার ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এপাশ-অপাশ করতে চাই। পাশ ফিরানো মুশকিল,এক পাশ হয় পড়ে থাকি।কিছু একটা ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই চোখদুটি ঘুমিয়ে পড়ে। স্বপ্নের মেলবন্ধনে আমি নিজেকে পুরোপুরি সচেতন বলতে চাই না; কারণ আমি কখনো অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকি। ঠিকঠাকমতো তাকাতে পারিনা। আমার ইন্দ্রিয় গুলো যেন তার তীব্রতা হারাচ্ছে। আমি নিজেকে যেন কেন্দ্রীভূত করতে পারছিনা। অনুভব করি আমার শরীরের নিচের মাটি ভিজে গেছে। নিশ্চয়ই গতরাত প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল। আমি শুনতে পাচ্ছি পাখিদের কোলাহল, ভ্রমরের গুঞ্জন এবং বাতাসের আন্দোলন। আমার হাতের চেটোয় এখনো শীত অনুভব হচ্ছে; স্বপ্নে এখনো মসৃণ নিখুঁত ছবি। আঙ্গুল দিয়ে চোখ স্পর্শ করে দেখি, ‘হ্যাঁ! ঠিকইতো, চোখ খোলা আছে’।
লিপস্টিকের দা
Comments (6)