অনেক দিন আগে বর্ষার কোন এক দিনে ব্যকুল হয়ে হৃদয়ের টানে কোন এক দিগন্তে ছুটে ছিলাম বাসে করে আমার সমস্ত অনুভূতিতে, আমার সমস্ত শরীর জুড়ে তার চৈতন্য ভর করেছিল। আমার সমস্ত ধ্যানে তখন শুধু সে-ই। আমি তখন আমার মধ্যে ছিলাম না। আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তার স্মৃতিতে।
বাসের বাহিরে বর্ষার অঝর ধারা ঝরছিল। নিজের অজান্তেই, বাস সহযাত্রীদের শত বাধা সত্ত্বেও বর্ষার অশ্রুকে স্পর্শ করতে চাইলাম জানালার বাহিরে হাত দিয়ে। যখনি বর্ষার অশ্রুধারা আমার হাতকে স্পর্শ করল, ঠিক তখনি আমি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হয়ে গেলাম। আমার সমস্ত অনুভূতি লোপ পেল। শুধুই মনে হলো আমি হারিয়ে যাচ্ছি, আমি চলে যাচ্ছি বহুদূরে শুধু তার কাছে। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম তার অধর কাঁপছে, চোখে দু'ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ার অপেক্ষায় আর তাঁর চোখের চাহুনিটা আমার পড়তে অসুবিধা হচ্ছিল না। আমার সে অনুভূতিতে যে ধরনের সুখ ছিলো তা আমি কখনো পাইনি।
আমি যখন আমার গন্তব্যে পৌঁছেছিলাম, তখন শেষ বিকেলের সূর্যটা লাল আভা ছড়িয়ে পশ্চিম আকাশে। আমার পা গুলো নিথর হয়ে যেতে চাইল কিন্তু আমার মন তাতে সাড়া দিলনা। সুতরাং পা গুলো টেনে টেনে এগুতে থাকলাম আরো সামনে। যখন তার কাছে গেলাম তখনি দেখতে পেলাম বাসে দেখা সেই ছবিটি। এগিয়ে গিয়ে তার আরো সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখনি তার চোখ হতে দু'ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল তার গাল বেয়ে আর পেছনে থাকা হাত দুটো আমার সামনে এনে ধরল বর্ষায় সিক্ত একটি কদম ফুল।
Comments (6)