বিদ্রোহের দহনে পুড়েছে এ জীবন,
বেঁচে নেই অবশেষটুকুও।
থেকে থেকে জ্বলছে
অস্তিত্বের সব শেষ চিহ্ন,
কখন যেন নিভে যায় চিরতরে!
ক্লান্ত কোনো মেরুদণ্ড-বাঁকানো যোদ্ধার ন্যায়,
যেন সুদূর সর্বগ্রাসী জাপান থেকে
অস্তমিত সূর্যের সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন,
আর অহংকারী হিটলার থেকে বুশ,
প্রতিরোধের রাইফেল থেকে তরতাজা বারুদের গন্ধ
এখনও স্পষ্ট!
তবুও বিষাদ এ হৃদয়ে,
পুড়ে ছাই ভিয়েতনাম,
হিন্দুকুশ থেকে আজও
তার কানে ভেসে আসে
রক্তাক্ত আফগান নারীর চিৎকার
আর প্রতিরোধের আহ্বান!
ধ্বংসস্তূপ বাগদাদ,
অস্তিত্বের সংগ্রামে দামেস্ক,
আর অনাহারে ইয়েমেনের শিশু,
যেন বুকের দুপাশের চব্বিশটা হাড় স্পষ্ট।
মিসাইলের আঘাতে ছিন্নভিন্ন ফিলিস্তিনি শিশুর দেহ,
আজও তার প্রতিরোধের প্রতীক্ষায়।
ক্লান্ত যোদ্ধা,
লড়ছে আজ নিজেরই বিপরীতে!
যেন আলোকবর্ষ-পথ অতিক্রম করে
আজ তাকে বশ করেছে অবাধ্য পিছুটান!
বিদ্রোহী এই সত্তা পড়েছে আজ দারুণ বেকায়দায়!
লিখে দিও তারে, আজ বড়ই ক্লান্ত।
কেটে গেছে বহুকাল, হিসাব রাখিনি তার,
তবুও তারে ভোলেনি এ মন।
যদি সে জিজ্ঞেস করে, কেমন আছি আমি?
তাকে বলে দিও,
বিষাক্ত রেডিয়েশন খুবলে খেয়েছে আমার দৃষ্টিশক্তি,
তারে দেখতে পাবো না আর স্পষ্ট!
আর সারিনের অর্গানোফসফেট-বিস্ফোরণে
পচে গিয়েছে শরীরের কিছু অংশ,
প্রতিপক্ষের মিসাইলের আঘাতে
দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে এই দেহ,
তবুও মনে রেখেছে তারে!
যদি জিজ্ঞেস করে, কবে দেখা হবে আমাদের?
বলে দিও, যেদিন জেরুজালেমের মাটিতে
নির্বিঘ্নে ফুটবে আইরিস,
আর বোমার আতঙ্কে থাকবে না
বৈরুত অথবা দামেস্কের কোনো শিশু;
সেজে উঠবে যেদিন জ্ঞানের নগরী বাগদাদ,
যেদিন আহার পাবে ইয়েমেনের শিশু
আর নিশ্চিন্তে ঘুমাবে আফ্রিকা,
সেদিন দেখিবো তারে।
আর বলে দিও, সে যেন ভুলে না মোরে।
Comments (1)