কোথায় খোকা?
বৈশাখের টগবগে মধ্যাহ্নে
বনে বাদারে ঘুরে বেড়াই
একান্ত নিজস্ব একটা চাকু দিয়ে
যা শুধু একটা স্পেশাল কুকর্মে
ব্যবহার হতো।
আম্র কাননে-
তিন চার জন বন্ধু স্বজন
কিছু আম চুরি করে
একটা পাত্রে মেখে
কলা পাতায় ভাগ করে
মজা মজা করে খাওয়া।
হয়তো মা এদিকে খুঁজে ফিরছে
কোথায় খোকা?
আজ আর কিছু নেই!!!
মনে উঠলেই রঙিন সেই
প্রহর গুলোর স্মৃতি
হৃদয়ের পাজরগুলো ভেঙ্গে যায়
একটা একটা করে।
হৃদয়ের বোবা কান্নায়
পোড়া আঁখির কোনে জমে জল।
রাস্তার পাশের বড় জাম গাছটা আজ নেই
সেই গাছটার মগডালে উঠে
কত বৈশাখ কেটেছে-
দুহাতে ভরে জাম নিয়েছি
চঞ্চল বাঁদরের ন্যায়
এতটা উচ্চ শিখরে উঠে পরতাম
নিজেও বুঝতাম না।
বুঝতাম তখন নিচের ভাইকে যখন
ছোট্ট প্রাণীর মত লাগতো,
এক হাতে ডাল ধরে অন্য হাতে
কালো পতাকা জাম নিতাম।
কখনো কখনো ঝুলে পরতাম
গাছের মগডালেই,
গাছ তলায় থাকা ভাই বলতো-
সাবধানে দাদো, সাবধানে!
আজ যখন নিরবে ভাবি
পায়ের তলায়
শির শির করে কাটা দেয়।
কতবার জামরুল গাছটা ভেঙে পড়েছি-
আজও সতেজ মনে পড়ে
বাবার বকা খেয়েছি।
হয়তো শাস্তিও পেয়েছি, মনে নেই।
আর হবে না এ জীবনে
সেই জীবনে ফেরা,
বড় ব্যথা, বড় কষ্ট বুকটায়-
ডানপিটে সেই দিনগুলো যদি
আর একবার ফিরে পেতাম
শহরের এই কোলাহল আর চার দেয়াল ভেঙে
চির জীবনের জন্য চলে যেতাম
আমার প্রিয়-
মায়ের কোলে, পল্লী গাঁয়ে।
বরিশাল
১২/০৫/২০২০.
Comments (3)