ভালোবাসা দিবস পালনের নামে আমাদের দেশে যেটা চর্চা করা হচ্ছে সেটা আসলে করো কাম্য নয়। ১৪ই ফেব্রুয়ারী এই ভালবাসা দিবসে রয়েছে একটা নিদারুন মর্ম-স্পর্শি ইতিহাস তারই ধারাবাহিকতায় ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে স্বরনীয় করে রাখতে পরবর্তী সময় কাল থেকে বিভিন্ন দেশ যথাযথ মর্যাদায় ভালবাসা দিবস হিসাবে পালন করতে শুরু করে। বাংলা সংস্কৃতির পালে তারই হাওয়া লাগে। এখন বাংলাদেশেও পালন হচ্ছে দিবসটি। কিন্তু এই দিবসটি পালনের নামে বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে তা আমাদের অনেকটা হতবাক করে দেয়। ইকো পার্ক, বিনোদন পার্ক, হোটেল, মোটেল ও নাইট ক্লাবে যুব সমাজ আজ নোংরামীতে লিপ্ত হচ্ছে। এই ভালোবাসা দিবসকে স্বরনিয় করে রাখবার নামে যা হচ্ছে তা রিতিমত চারিত্রিক অবক্ষয়ের প্রকাশ মাত্র। ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালবাসা দিবশ পালন করা থেকে বিরত থাকার কথা বলবনা। বলব পবিত্রতা বজায় রেখে যেন পালন করা হয়। সতিত্ব/চরিত্র এমন একটা জিনিস যা হারালে আর পাওয়া যায় না। অর্থ হারালে তার কিছু হারায়। আর সতিত্ব/চরিত্র হারালে তার পুরোটাই হারায়। ভালোবাসা আর নোংরামী কখনও এক হতে পারেনা। যেখানে নোংরামী আছে সেখানে কখনও ভালোবাসা থাকতে পারেনা। আর যেখানে ভালোবাসা আছে সেখানে নোংরামীর কোন প্রয়োজন বা স্থান নেই।

সাহিত্য সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ বাংলাদেশ। একমাত্র বাংলাদেশে বার মাসে তের পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে উল্লেখ করতে হয় পর সংস্কৃতি চর্চার নামে আমরা যেন নিজস্ব সংস্কৃতির অবমাননা না করি। নিজস্ব জাতীয় সত্তাকে ভুলে না যায়। ১৩ই ফেব্রুয়ারী পালিত হল বসন- বরণ উৎসব । কিন্তু এখানে যেটা লক্ষ্য করলাম আমরা যারা এই সংস্কৃতি চার্চা করি শুধু তাদের মধ্যেই সিমাবদ্ধ ছিল এই উৎসব। বসন্ত বরণের মত এমন জাতীয় উৎসব পালনে সার্বজনিন অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশ আমাদের, সংস্কৃতি আমাদের, এই সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।

ভালোবাসা কোন বিশেষ দিনে বন্দি না করে বিশুদ্ধ ভালোবাসা চর্চা হোক আমাদের জীবনে প্রতিদিন, প্রতি মূহুর্তে, প্রতি সময়ে। ভালোবাসা দিবসে এই হোক আমাদের একমাত্র কাম্য। আসুন আমরা ভালোবাসা দিবস পালন করি, নোংরামী দিবস নয়।