জোড়ার বালা
আব্দুল কাদির মিয়া
============[
বিকবে নাকি খাদি সোনা
নোয়া বাজারে?
সে ও ঘষা ঝালাই খুঁতে,
তা ও বেজোড়ে।
বলো দেখি দাম দিব কি,
তবে খাটো রেখো স্বর।
বুঝ হলে হয় রাখতে পারি,
ঠিক যদি হয় দর।
নইলে বাছা বাচাল বনে,
না হয় যেন দেরি।
সইছে না আর ভুড়ির জ্বালা,
ফিরতে হবে বাড়ি।
তুলশি তে আজ জল ঢালিনি,
শাঁখে দেইনি ফুক।
ত্বরায় বাসি ধুতির ফেরে,
কে জানে কি দুঃখ।
বলো দামে, কি চাই তোমার।
বণিক দাদু ক্লান্ত আমি,
একটু নাহয় থামো।
জানতে চাই মোর একটি কথা,
বলবে যদি জানো।
বিকবোনা এই বালা মায়ের,
আমার বুকের ধন।
মা,মৃত্যু ক্ষনে পেয়েই তাহা,
এই করিনু পন।
একটি বালা বিকিলো পিতা,
হুস হারা মোর জ্বরে।
আমার সেবায় দুঃখী পিতা,
মরলো শোকে পরে।
আজ অনাথ আমি,নিঃস্ব আমি,
তবুও মায়ের বালা খুঁজি।
রাখলে তুমি দাও ফিরিয়ে,
সেতো আমার জীবন পুঁজি।
এই দেখো সেই জোড়ার বালা,
একটি আমার হাতে।
স্বর্গ শত ফুলের গন্ধ,
বইছে কেমন তাতে।
দাদু রাখলে নাকি ঐ বালাটা-
একটু করো মন,
হলে দাও ফিরিয়ে কৃপায়-
সেতো আমার বুকের ধন।