ব‍্যবসায়িক কর্মব্যস্ততার সুবাদে সেলিম শেখের সময় হয়না শহরে গিয়ে আয়েশাকে একনজর দেখে আসার।

মমতাময়ী মায়ের শত অনুনয়-অনুরোধে সেলিম শেখ মোমেনশাহী যাওয়ার তারিখ নির্ধারণ করলো।
৬ই বৈশাখ,১৪৩১। রোজ শুক্রবার।।

পিতার আগমনী সংবাদ শুনে আয়েশার বিজয়ের উল্লাস। শয‍্যা থেকে উঠেই এলোচুলের সহিত এক আনন্দ লম্ফের প্রেক্ষাপটে সহচরীদের মনোযোগ আকর্ষণ।।।।।

বলে রাখি সেলিম শেখের বিশালাকার দেহ।।।
ঘনকায় শ্মশ্রুআবৃত আফগানী কাবুলিওয়ালার নব‍্য সংস্করণে মুজতবা আলীর আগা আব্দুর রহমান বললেও ভুল হবেনা।

শুভ্র আলখাল্লার সঙ্গে সফেদ আফগানি টুপি দেখে মন হয় এলাকায় তার ভালো প্রতিপত্তি আছে।।

নাফিসা হলের সামনে আসিবামাত্রই আয়েশার পিতাকে সহাস‍্যবদনে জড়িয়ে ধরে লম্বা সুরে 'আব্বা' ডাকে আবারো আনন্দ ধ্বনি।।

মনে হচ্ছে বহুবছর পর বিদেশ ফেরত পিতা-কন‍্যার এই সাক্ষাৎে ক্ষণিকের জন‍্য এক স্বর্গীয় নন্দনকানন গড়িয়া উঠিয়াছে ব‍্যস্ত কলেজ রোডে।

যেন কোথাও কোনো ভ্রুকুটি নেই, নেই হিংসা, তর্ক, শুধু
ঝড়িতেছে মহব্বতের ফোয়ারা।।।।।

মায়ের সোহাগ মিশ্রিত বানানো হরেক রকমের পিঠা,
আয়েশার পছন্দের পায়েশ,বাগানের আতা, লেবু, একে একে ঝুলি থেকে বের করছে আয়েশার পিতা।

খানিক বিরতি দিয়েই আয়েশা পিতার বিশ্বস্ত আঙুল ধরে হেটে হেটে যেতে থাকলো ব‍্যস্ত কলেজ রোড ধরে।

শত হায়েনার হাতের ভীড়ে যে আঙুল শ্রদ্ধার, বিশ্বাসের, ভরসার, মহব্বতের, অন্তরের মধ‍্যিখানের।
তা দেখে আমি অপলক চেয়ে আছি। বেশ ভালো লাগছে।। এরকম বিশ্বস্ত একটা হাত থাকলে দিব‍্যি এই জীবন পার করে দেওয়া যায়।

প্রত‍্যেক পিতাই চায় তার কণ‍্যাকে তার থেকেও বিশ্বস্ত কোনো হাতের কাছে সমর্পণ করতে।।। সেলিম শেখও চায়।।।।।।

আজকে দিনটা আয়েশার জন‍্য স্মরণীয়, ডায়েরিতে লিখে রাখার মতো। আয়েশা তার বিশ্বস্ত পিতাকে নিয়ে কোথায় যে চলে গেলো আমি আর জানতে পারলাম না।

আজকের এই খুশিতে আয়েশা নিশ্চয়ই অভিমানী মুখ করে নাফিসা হলের বারান্দায় দাড়িয়ে থাকবেনা;
নাকি পিতাকে বিদায় দিয়ে বিষাদ নিয়ে শুয়ে থাকবে নাফিসা হলে।।।জানিনা।।।ঠিক

আয়েশা
অভিমানী আয়েশা।।