দ্বীপ দিপু দুই ভাই । দ্বীপ দুষ্ট আর দিপু ভদ্র। দিপু কলা পাতা আর পাট কাঠি দিয়ে খেলনা ঘর তৈরি করে আর দ্বীপ তা ভেঙে ফেলে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মাঝে ঝগড়া হয়। দ্বীপ দিপুকে মারধর করে। দিপু মায়ের কাছে বিচার চায় না ভয়ে। কারণ দ্বীপ যদি পরে আবার মারধর করে।

একদিন তাদের বাবা বাজার থেকে বাদাম আনল। মা দুই জনের মাঝে সমান ভাবে ভাগ করে দিলেন। দ্বীপ দ্রুত তার সব বাদাম খেয়ে ফেলল এবং দিপুর বাদাম কেড়ে নিল। দিপুর চোখে পানি এলো। দ্বীপ কেড়ে নেওয়া বাদাম খাচ্ছে আর ছোলা দিপুর গায়ে মারছে। দিপু এবার চিৎকার সহ কাঁদতে লাগলো। দিপু কেন কাঁদছে তা জানতে মা এলেন দৌড়ে। দিপু সব বলল মাকে। মা দ্বীপের কান মলা দিলেন। দ্বীপ কেঁদে উঠলো। মা চলে গেলে দ্বীপ বলল, কাল স্কুলে যাওয়ার পথে দিপুকে মারবে। দিপু কিছু বলল না।

পরদিন সকালে, দিপু বুদ্ধি করে দ্বীপের আগেই স্কুলে চলে গেল। দিপু বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে। দারিয়া বান্দা তার প্রিয় খেলা। এছাড়াও সে ডাঙগুলি, লাটিম খেলতে ভালবাসে। প্রতিদিনের মত আজও দিপু দারিয়া বান্দা খেলছে বন্ধুদের সাথে। আর দ্বীপ খেলাধুলা করে না। সাবার খেলা নষ্ট করাই তার কাজ। রবি, ধ্বনি, ঐছন চাকমা লাটিম খেলছে। পাশে দাঁড়িয়ে ওত পেতেছে দ্বীপ। হঠাৎ দ্বীপ একটি লাটিম পানিতে ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। লাটিম টি ছিল ঐছন চাকমার। সে কাঁদতে লাগল। ঐছন চাকমার বন্ধুরা তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগল।

এদিকে দ্বীপ দৌড়ে যাওয়ার সময় দেখল কুলসুম, ময়না, টুম্পা দাস বউছি খেলছে। দ্বীপ বউ নিতে চাইলে টুম্পা তাকে ধরে ফেলল। তারা দ্বীপ কে বকতে শুরু করলো। তাদের হৈ চৈ শব্দ শুনে সব ছাত্র ছাত্রীরা এলো এবং ঐছন চাকমা তার বন্ধুদের নিয়ে দ্বীপ কে মারতে শুরু করলো। দিপু তাদের সামনে দাঁড়াল। শিপ্ত বড়ুয়া দিপুকে বলল, দেখ দিপু তুই ভালো কিন্তু তোর ভাই অনেক খারাপ। একটু আগে সে ঐছন চাকমার লাটিম পানিতে ফেলে দিয়েছে। দিপু তাদের অনুরোধ করে বলল, আজকে মারিস না দেখবি দ্বীপ ভালো হয়ে যাবে আর এসব কাজ করবে না। তারা দ্বীপ কে ছেঁড়ে দিলো। দ্বীপের অনুশোচনা হলো, সে বুঝতে পারলো দিপুর বাদাম কেড়ে নেওয়া ঠিক হয় নি। দ্বীপ আর দিপুকে মারলো না, সহপাঠীদের খেলাধুলায় বিগ্ন সৃষ্টি করলো না।

১৬ আগষ্ট ২০১৬ সালে দৈনিক বায়ান্নর আলো পত্রিকায় প্রকাশিত।