💗তুমি আমার মেসেঞ্জারে কি সব পাঠাইছো...
👤এত রাগ দেখাচ্ছো কেন, রাত্রি?আমিইতো পাঠাবো, নাকি অন্য কেউ পাঠালে খুশি হতে?
রাত্রি রাগে কটমট করে হাতের ব্যাগটা দিয়েই শুভ্রর পিঠে মেরে দিলো।শুভ্র চেচিয়ে ফিল্মী স্টাইলে বললো...
👤বাচাও বাচাও......
💗থামো।
👤রাত্রি, তুমি ছাড়া আমার আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করার আর কে আছে বলো।তাই তোমার সাথে একটু দুষ্টোমি, ফাজলামি করি।
💗আচ্ছা, বাদ দাও।সামনে তো তোমার বার্থডে।কি প্লান করেছো?
👤কিছু ভাবিনি।তুমি যে রকমটা চাও, ওরকমই করবো।
💗তাই
👤হুম
💗তাহলে সব আয়োজন আমিই করবো।তুমি শুধু তোমার কয়েকজন ফ্রেন্ডদের ইনবাইট করে দাও আর রুমম্যাটরা তো আছেই।জমিয়ে মজা করা যাবে।
শুভ্র একটু নীরব থেকে মলিন মুখে বললো....
👤রাত্রি, আমি এবার একটু অন্যরকম চেয়েছিলাম।
💗কেমন......
👤মানে একটু স্পেশাল.... আলাদা করে....
💗তুমিইতো বললে, ভাবোনি কিছু.. আমার মত করে হবে।এখন বলছো স্পেশাল, তো খুলে বলো.....
👤আমি বলতে চাচ্ছি, শুধু তুমি আর আমি সিলেব্রেট করবো।আমরা অনেক গল্প করবো, অনেক মজা করবো।সময়টাকে আমরা নিজেদের মত করে কাটাবো।
রাত্রি বিস্মিত কন্ঠে বললো....
💗কি বলছো.. তোমার বন্ধুরা তোমাকে উইশ করতে আসবে না? তাছাড়া মেছের লোকজন কোথায় যাবে, ওরাতো এমনিতেই থাকবে।
👤আমরা অন্য কোথাও করবো।
💗অন্য কোথায়?
👤বাসা আমি ম্যানেজ করবো।
রাত্রি চোখ গরম করে বললো.....
💗তুমি আমাকে কি পেয়েছো।যেখানে সেখানে আমি তোমার সাথে সময় কাটাবো?
👤কষ্ট দিলে, রাত্রি।তুমি কি নিজেকে আমার কাছে সেভ মনে করো না?আমিতো ভেবেছিলাম তুমি আমার সাথে নরকে যেতেও দ্বিধা করবে ন়া। তাছাড়া ঐদিনতো তুমি আমার রুমে একাই ছিলে।
💗তখন তুমি অসুস্থ ছিলে, তাই অতো কিছু ভাবিনি।
👤ও আচ্ছা, তুমি আমাকে করুনা করেছিলে।আমার সাথে মানবতা দেখাতে এসেছিলে, ভালোবেসে আসোনি।
একটু থতমত খেয়ে গেল রাত্রি।তারপর সময় নিয়ে ধীর কন্ঠে বললো.....
💗শুভ্র, আমিতো তোমাকে ভয় পাচ্ছি না।যে দিনকাল, আমাদের দুজনেরই বিপদ হতে পারে..... আমি সেইটা বোঝাতে চাইছি।
👤ঠিক আছে, তোমার আগ্রহ না থাকলে দরকার নেই।তবে আমার খুব ইচ্ছে ছিল তোমার সাথে একটা সুন্দর সময় পাড় করার।
💗ওকে শুভ্র, কিন্তু তুমি আলাদা এমন বাসা কোথায় পাবে, যেখানে তুমি-আমি ছাড়া কেউ থাকবে না।
👤টেনশন নিচ্ছো কেন, একটা হোটেল রুম নিলেইতো হয়ে যাবে।
😜😜😜😜😜😜😜😜😜😜😜
কান্নার মূর্ছা ভেঙ্গে নিজের শরীরের ড্রেসটা ঠিক করে নিলো রাত্রি।পাশেই ফ্যাকাশে মুখে ঠায় বসে আছে শুভ্র।রাত্রিকে সোজা হয়ে বসতে দেখে দুহাত বাড়িয়ে কাছে টানতে গেল শুভ্র।রাত্রি হাতে ঝটকা মেরে অগ্নী কন্ঠে বললো.....
💗সান্তনার পরশ লাগবে না আমার।তোমার যা করার তাতো করে নিয়েছো।এটাইতো তুমি চেয়েছিলে।তুমি আমাকে শেষ করে দিলে, শুভ্র।আমার অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দিলে।তুমি এটা কেন করলে।
👤শান্ত হও রাত্রি।তোমার কিছুই হয়নি।আজকে আমার এই জন্মদিনে আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি.. আমি তোমাকে বিয়ে করবো, তুমি ছাড়া আমার জীবনে 2য় কোন নারী আসবে না।
রাত্রি কেদেঁ যাচ্ছে অবিরাম।সর্বস্ব হারানোর এ দু:সহ ব্যাথা।নিজেকে খুব নোংরা আর নিচু মনে হচ্ছে।আয়নায় নিজের মুখটা দেখতে খুব জঘন্য লাগবে।বিবেকের বিষাক্ত দংশনে নীল হয়ে যাচ্ছে প্রতিটি দেহকোষ।কে জানে এই ছেলেটি সারা জীবনের জন্য পাশে এসে এই ক্ষতি পূরন করতে পারবে কিনা।কেন যে এরকম একটা হোটেলে একাকী আসতে এ অবুজ মনটা রাজী হয়ে গেল।
চলবে
মন্তব্য (8)