আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৬০ লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে সরকার। যা বর্তমান উৎপাদনের তুলনায় দ্বিগুণ। এরই অংশ হিসেবে সরকার জরুরি ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পার্বত্য ফটিকছড়ির দাঁতমারি এলাকায়। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে তা থেকে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৮১ শতাংশই আসে সৌরবিদ্যুৎ থেকে। বর্তমানে দেশে মোট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২০ মেগাওয়াট। এর অধিকাংশই ব্যবহৃত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। উল্লেখিত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ আসে ৫ মেগাওয়াট। আর আমদানি করা সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদন করা হয় ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌর ও বিকল্প ব্যবস্থা থেকে উৎপাদন করার টার্গেট ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে প্রায় ৪০ লাখ বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে আগামী চার বছরে তা দ্বিগুণ হবে। কারণ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতার বাইরে এখনো বহু মানুষ রয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আর চট্টগ্রামের ১৩৫৮ মেগাওয়াটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন সরকারি বেসরকারি ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে। যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় চাহিদার অর্ধেকেরও কম। সৌরবিদ্যুৎ খুব কম খরচে উৎপাদন করা যায়। তাছাড়া এ বিদ্যুৎ পরিবেশসম্মতও। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছাতে এর বিকল্প নেই। কৃষিতে মোক্ষম সুবিধা হিসেবেও এ বিদ্যুৎকে কাজে লাগানো যাবে। পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারটি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র একটি আলোচিত বিষয়। এ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে এ ধরনের বিদ্যুতকে নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছে।