আমি যখন কলেজে পড়ি তখন আমার মনে প্রচণ্ড ভাবে জীবন জিজ্ঞাসা উঁকি ঝুঁকি মারতে থাকে। অবশ্য এর পেছনে দর্শন শাস্ত্র পড়াটাও একটা বড়ো কারন।বৌদ্ধ দর্শন আমাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করেছিল তবু ডেকার্ত, লাইব্নিজও কম ভালোবাসিনি। আমি সেই দিন গুলোতে জীবনের মানে খুঁজতে উঠে পড়ে লাগি। গোপিকা কান্ত দত্ত স্যারের মতো কত কত ভালো জ্ঞানী মানুষদের জিজ্ঞাসা করেছি আদর্শ জীবনের মানে কি? কেউ কেউ উত্তর দিয়েছিলেন যে জীবনের অর্থ হল উচ্চ বেতনের চাকরি পাওয়া এবং একজন ধনী মানুষ হিসাবে জীবনযাপন করা।আমার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম জীবনের মানে কি? মা উত্তর দিয়েছিলেন যে আদর্শ জীবনের অর্থ হল অন্যকে খুশি করা এবং নিজেও সুখী থাকা।একদিন একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম জীবনের মানে কি? অপরিচিত লোকটি উত্তর দিল, জীবনের মানে স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকা।
অনেকের উত্তর মিলিয়ে সেইদিন বুঝতে পেরেছিলাম মানুষ যা চায় কিন্তু করতে পারেনি সেটাই বুঝি আদর্শ জীবন । আর আমি সেই দিন থেকেই ঠিক বিপরীত পথ নিলাম। আমার ন্যূনতম মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে যে ধরনের কর্ম করে নিজেকে সন্তুষ্টি দিতে পারি তাকেই আদর্শ বলে ধরে নিয়েছি। কি আর করব বলুন না?
মন্তব্য (9)