স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন হয়েছে অতিবাহিত।
কিন্তু আমার দুঃখী বাবার দুঃখ ঘোচেনি।
বাবা এখনো পরাধীন।
তিনি পা ফাটা কৃষক,রোদে পুড়ে তামাটে হয়েছে তারা শরীর
তিনি এখনো নিজেকে স্বাধীন ভাবতেই পারেন না।
তিনি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চান।
তিনি ঘামে ভেজা শার্ট নিয়ে অফিস আদালতে যেতে পারেন না
সবাই তাকে ঘৃণা করে।
দারিদ্র্য তাকে ঘৃণা এনে দিয়েছে।
তিনি বৈষম্যের কাছে পরাধীন।
তিনি চাষা মানুষ তাই তার মূল্য নেই।
তিনি কাগজে কলম চালাতে জানেন না।
আমার বাবা পরাধীন।
তার মাথা আজ নত হয়েছে অনেকখানি।
তিনি কখনোই বলেন না সেই প্রতিবাদের বাণী-
"সাবাস,বাংলাদেশ,এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় ;
জ্বলে পুড়ে ছারখার,তবু মাথা নোয়াবার নয়।"
তিনি শুধু বলেন,"এবারো ঋণ বুঝি শোধ হবে না।
ছেলেটাকে আর পড়াতে পারলাম না।
আমাদের তো আর এতো টাকা নেই
ওর তো চাকুরি হবে না!"
আমি তার সংগ্রামি ক্লান্ত চোখ দুটি দেখি,
যেখানে শুধুই হাহাকার আর আকুতি।
ক্লান্ত চোখ যেন বলছে-"স্বাধীনতা আমার বৈষম্যকে দূর করে দাও।"
শিরোনাম : স্বাধীনতা আমার বৈষম্যকে দূর করে দাও //কামরুজ্জামান সাদ
মন্তব্য (10)