কমপ্রেসড্ ন্যাচারেল গ্যাস অর্থাৎ সিএনজি এদেশে এখন একটি বহুল ব্যবহৃত জ্বালানীর নাম। ইতোপূর্বে দেশের পেট্রোল ও ডিজেল চালিত হাজার হাজার যানবাহন বিশেষভাবে অটোরিকশা, টেম্পো, কার, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, বাস, ট্রাক ইত্যাদি সিএনজি চালিত যানবাহনে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপনের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়া সত্বেও অনেক যানবাহনের মালিক বা চালক এসব সিলিন্ডার পুনঃ নিরীক্ষা করে এগুলো নিরাপদ অবস্থায় আছে কি-না এবং বদলানো প্রয়োজন কি-না, তা নিশ্চিত হননি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব গ্যাস সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যে কোন মূহূর্তে এগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে, এমনি আশংকা সংশ্লি¬ষ্ট মহলের।
জানা গেছে, অধিকাংশ সিএনজি চালিত যানবাহন ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে সিএনজি চালিত যানবাহনে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন সিএনজি রূপান্তর কেন্দ্রে প্রতিদিন যে সংখ্যক যানবাহন পুনঃ পরীক্ষার জন্য আসার কথা, তা আসছে না। এক্ষেত্রে প্রাইভেট যানবাহনের মালিকদের যতোটা গরজ দেখা যায়, তার সিকিভাগও ভাড়ায় চালিত যানবাহনের মালিকদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। গ্যাস সিলিন্ডার পুরোনো হয়ে যাওয়ায় কিংবা ত্রুটিপূর্ণ বা অননুমোদিত সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে ইতোমধ্যে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে যাত্রী ও চালক হতাহতের ঘটনা।
গাড়ির আকৃতি অনুসারে একটি নতুন সিএনজি সিলিন্ডার স্থাপনের ব্যয় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এগুলোর পুনঃপরীক্ষা ব্যয় কমবেশী তিন হাজার টাকা। দেখা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নগরী শহর ও অন্যান্য স্থানে বিপুল সংখ্যক সিএনজি অটোরিকশা চালিত হলেও এগুলোর মালিক কিংবা চালক গ্যাস সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষার ব্যাপারে নির্বিকার ও উদাসীন। ফলে এসব গাড়ি গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে ধীরে ধীরে ‘বোমাবাহী’ গাড়ির ন্যায় বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, যেগুলোর গ্যাস সিলিন্ডার যে কোন সময় বিস্ফোরিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ)-এর উচিত যথাসময়ে যানবাহনের সিএনজি সিলিন্ডার পুনঃ পরীক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। গ্যাস সিলিন্ডার পুনঃ পরীক্ষা করানো না হলে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান বন্ধ বা স্থগিত রাখা। আমরা এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহসহ প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহসহ সংশ্লি¬ষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।