www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

সত্য একটি ঘটনা

(যেটা মনে পড়লে এখনো কষ্ট পাই)

আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের কথা, আমাদের এলাকার একটি মেয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিয়ে হল ।গরিব ঘরের মেয়ে অনেক কষ্ট মেয়েকে বিয়ে দিলেন বাবা। দুই পরিবারের সম্মতি ক্রমে বিয়ে হয় তাদের। যৌতুক হিসেবে যা দেবার কথা ছিল তা সম্পূর্ণ দিতে পারেনি বাবা ।
এছাড়াও ঘটক নাকি তাদের বলেছিল অনেক কিছু দিবে ।তাই তারা সম্পক করেছিল।

ছেলেটা ভালই ছিল সহজ-সরল যাকে বলে ।অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না তাঁর ।প্রথম প্রথম স্বাভাবিক ছিল সবকিছু ,যখন বাবা বাকি টাকা দিতে
পারবে না বলে জানাল ।

তখন থেকেই শুরু হলো পরিবারের অন্য সকলের নতুন রূপের খেলা বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকে মেয়েটা কে, কথায় কথায় শাশুড়ির তিক্ততা মাখা কথার ঝুড়ি, ফকিন্নির বাচ্চা বাপের বাড়িতে না খেয়ে থাকতে পারতো, আর শ্বশুর বাড়িতে একবার না খেলেই মরে যায়, কই মরিস না তো ,মরতে পারিস না তুই মরলে তো আমরা বাঁচি, তোর মুখটা দেখতে ইচ্ছে করে না । হাজারো কথা আর কাজের মেয়ের মত কাজের বাস্ত রাখে তাকে,মানুসিক চাপে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটির ।

অমানুসিক যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠে তার মন, বাবার বাড়ি থেকে কেউ এলে তাকে অপমান করে বিদায় করে দেয়,
এসব কথা স্বামীকে বললে সে বলে আমি সবই বুঝতে পারি কিন্তু কি করবো আমার তো কিছুই করার নেই।
তাহলে আমি চলে যাই আমি আর সহ্য করতে পারছি না।
কি বলছ তুমি আমি তো তোমাকে কষ্ট দেই না, আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমাকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না।
কিন্তু ওরা তো আমাকে দেখতে পারেনা আমার ভয় করে যদি আমাকে ওরা মেরে ফেলে?
কি যে বলো তুমি, সব সময় বেশি বোঝো সংসারে অশান্তি হতেই পারে তাই বলে, আমি কখনোই বিশ্বাস করিনা আমার পরিবার কোন খারাপ কিছু করবে।
কিন্তু করছে তো? তুমি জানো না ওরা আমাকে কত ভাবে কষ্ট দেয়।
আরে না ভয় পাবার কিছু নাই, সব ঠিক হয়ে যাবে, আমাদের বাচ্চা পৃথিবীতে এলো দেখবে সবার মন পরিবর্তন হয়ে যাবে ।
কিন্তু সেটাতো আরো ছয় মাস পর। রাগ করে চলে যায় ছেলেটি ,ক'দিন লক্ষ্য করার পর বুঝতে পারে অনেক কিছু ,তাই সিদ্ধান্ত নেয় সে আলাদা হবে পরিবার অনেক গন্ডগোল করার পর বলে দুদিন পর তোকে আলাদা করে দেওয়া হবে। আলাদা করে দেওয়ার জন্য তো একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে ।ছেলেটি আর কথা বলে না চলে যায় নিজের ঘরে ।মাঝ রাত হঠাৎমা অসুস্থ হয়ে পড়ে ,ছোট বোন এসে বলে ভাই মা অসুস্থ।
ছেলেটি মায়ের কাছে গিয়ে দেখে মার অবস্থা, বউ শাশুড়ির ঘরে যায়।
সবাই বসে আছে তাদের চেহারায় কিসের যেন অন্যমনষ্ক ভাব ।
ছেলে মাকে বলল মা এখনতো রাত প্রায় একটা বাজে একটু কষ্ট করো ।ফজরের আগেই আমি ডাক্তারের কাছে যাব।
চলে গেল তার ঘরে বউ বললো আমার কেমন যেন ভয় করছে ।মার অসুখ কিন্তু সবাই এভাবে বসে আছে কেন?
শুধু তোমাকে কেন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তোমার ভাই যেতে পারত ।
আরে বাবা তোমার এত ভয় কিসের আমি তো তার ছেলে নাকি ?
চুপ করে ঘুমাও সব বিষয়ে বেশি কথা বলো তুমি ।তুমি সুস্থ থাকো পেটের বাচ্চাটাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করো।
বউ শুয়ে পড়ে সহজে ঘুম আসে না তার। যখন তার ঘুম ভাঙ্গে তখন দেখে তার শাশুড়ি ননদ দেবর আর ননদ জামায় ,ভয় পেয়েসে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায়, পরনের কাপড় ঠিক করতে করতেই স্বামীর নাম ধরে ডাকতে থাকে ।
ননদ বলে চুপ শয়তান আজ তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না ।বউ সবটুকু শক্তি সঞ্চয় করে দৌড় দেয় ঘরের বাহিরে, পেছন থেকে ধরে ফেলে কেউ একজন ।সকলেই একযোগে ধরে ফেলে তাকে মুহূর্তেই একটা কর্কট শব্দ শোনা যায়।কাটা গলার বিকট শব্দ।
রক্তে রক্তাক্ত বাড়ির আঙিনা।লম্বা চুলে রক্তের মাখা মাখি।
ছেলে যখন ডাক্তারের কাছ থেকে ফিরে আসে,তখন বাড়ি শুন্য,
শুধু রক্তের আসরে নিথর হয়ে পড়ে আছে, তার অনাগত সন্তানের মা।

এর পর আর কি?হাজার হাজার মানুষের ঢল।
দারগা পুলিশ জেল জরিপানা,
কিন্তু একটি জীবনের মধ্যে আর একটি নব জীবনের নির্মম পরিণতি।
কে নিবে এই নিষ্ঠুরতার দায়।
কি দিয়ে পৃর্ করবে এ সমাজ দুটি নিম্পাপ জীবনের দাম।
যে সমাজ সন্মানের ভয় দেখিয়ে বন্ধ করে রাখে একটি নারীর প্রতিবাদ শক্তিকে,।সে সমাজ কি পারবে তার জীবন টাকে ফিরিয়ে দিতে ?আরে যার যায় সে বুঝে…।
বলুনতো জীবনের চেয়ে কি সন্মানের মূল্য খুব বেশি।কেউ ভাবেনা তার আপন মানুষ গুলো এতটা নিষ্ঠুরতা করবে…..তবুও কেন করে?শত দোষ করলেও কি কাউকে মেরে ফেলার অধিকার ইসলাম কাউকে দিয়েছে…..?
বিষয়শ্রেণী: অভিজ্ঞতা
ব্লগটি ৭১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১২/১১/২০২২

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast