www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

পাগলা সম্পূূর্ণ গল্প

[দিনাজপুর এবং বগুড়া জেলার আঞ্চলিক ভাষায় লেখা একটি গল্প]
শব্দ-অর্থ
]এনা-একটু, এংকা-এরকম ,উদিংকা-গতপরশু,নগি পলো-বাঁশের লাঠি পড়ে গেল,কদ্দিন-কতদিন,হিয়াল-ঠান্ডা,হারা-আমরা,ডেকচি- পাতিল,হাতা-চামুচ,ছোল-ছোট বাচ্চা,

শীতের সকাল। চার দিকে ঝাপসা ধোয়ার মত ধুসর কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রতিটি গ্রাম।
এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের অর্স্তিত দেখা যায় না
। থেকে থেকে শুশীতল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে দিগুন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আর সেই শীতকে নিবারন করতেই যত আয়োজন বৃদ্ধ থেকে জোয়ান,সব বয়সি লোকদের। মৌসুমি আমন ধানের অগোছালো খঁড়ে পূর্ণ গ্রামের প্রতিটি খলা-খুলি। তেমনি একটি খুলির পাশে ছোট্ট একটি গ্রাম্যে দোকান। দোকানের সামনে কিছু লোক জটলা বেঁধে যে জার মত কথা বলে চলেছে ।
অদুরে কিছু লোক খেজুরের রস খাচ্চে। আর তার ভালো মন্দ নিয়ে আলোচনা করছে। এক পাশে আগুন পোহাচ্ছে কজোন বৃদ্ধ এবং দুটি কিশোর। থেকে থেকে কিশোর বৃদ্ধ যে যা পারছে খর এনে দিচ্ছে আগুনে। শুকনো খড়ে দ্বিগুন বেগে জলছে আগুন। আর তা থেকে সকলে হাত পা নেড়ে নেড়ে গ্রহন করছে তাপের উতপ্ত তৃপ্ত আমেজ। উল্লাস প্রকাশ করছে বিভিন্ন ভাবে।
কেউ বলছে আহ, কি শান্তি রে!
কেউ বলছে আহা জীবন ঘুরে আইলো রে।
কেই বলছে এখনি হাত পা বরফ হচিল।
সে কথা আর কসনা রে ভাই শরিরে রক্ত জমাট বাঁধছিল। আর এনা পরেই বোধহয় পাথর হল হয়। ভাগ্যিস তোরা আগুন জালাস লুরে ..বলতে বলতে আগুনের পাশে বসলো অল্পবয়সি একটি লোক। এ্যই তোরা তো ছোল- পোল, তোমা-ঘরে দশাই যদি এংকা হয়, তো ,হারা তো বুড়া মানুষ,হামার কি দশা হচে।
খেদু বুড়ার কথা শেষ না হতে শীতে কাঁপতে কাঁপতে আগুনের কাছে এলো হুরু বুড়ো
ছোট ছেলে মজমুলকে দেখে সে বলল
এ্যাই, এ্যাই ছোল তোরা ক্যান এ্যাটে। যা রোদ পোহানে রোদ উঠিছে। মজমুলকে ঠেলে দিয়ে বসতে চাইলো হুরু বুড়ো। বুড়োর এমন আচারনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো দশ বারো বছরের কিশোর ছেলে মজমুল। ঝট করে দারিয়ে বলল
দেখ দাদা,ভালো হচে না কিন্তু? আগুনটা মুই জ্বালাছো বুঝলু?
জ্বালাচিস তো কি হচে? যা যা..
এই বুড়া তোরা কি কবা চাস। হিয়াল কি খালি তুমাকি নাগে, হামাক নাগেনা বোধায়?
অকারনে খেদু বুড়া চোখ দুটো কপালে তুলে বলল-আরে তোক আবার হিয়াল নাগে কিরে? ছোট ছোলের হিয়াল কম,গাও গরম থাকে।কি কোস হুরু।
হ ঠিক কছিস। যা তোরা, গাও গোন্দাবে,রোদ উঠিছে রোদ পোহানে। বলেই বিড়ি বের করে আগুনে ধরলো।
অ শালা বুড়া, হামাক থাকপা দেবলায় তারি ফন্দি,থাক শালা বাঁচপু আর কদিন। ভালো করে আগুন পোয়া। আগুন ধরে মরিসনা ঝান। তাহলে সকালোত গাও ধুয়ে দিবি,কথা টি বলেই আপন মনে হাসতে লাগলো মজমুল।
চল হাবলু পাতারোত রোদ অ্যাচে। এতক্ষনে হাবলু বলল শালা বুড়ারা এত খারাপ রে। হাবলুর কথা শেষ হতেই র্ককট এক শিশুর চিৎকারে সজাগ হল সকলে।
আচানক ভিতি মহূর্তে ছড়িয়ে পড়লো সকলের অন্তরে।
মজমুল আর হাবলু দৌড় দিল সে দিকে। কাছে গিয়ে থমকে দাড়ালো তারা। আসাদ পাগলা বানুকে এমন করে মেরেছে,বানুর নাক দিয়ে অঝরে রক্ত ঝরছে। চোখের নিচে ফুলে উঠেছে সেখানেউ ফুটা হয়েছে। এখন আর কদছেনা বানু,জ্ঞান শুন্য দেহটা মাটিতে পড়ে আছে।
আসাদ পাগলা সেদিকে তাকাচ্চে আর বিড় বিড় করে কি যেন বলছে,চলে যাচ্চে সে, চোখে মুখে তার এখনো আগুন জ্বলছে যেন। এতক্ষনে অনেক লোক এলো সেখানে।
বানুর এ অবস্তা দেখে রেগে গেলেন অনেকে,প্রতিবাদ করে বলছে তারা -না এংকা করে আর চলা যায়না। পাগলার একটা ব্যবস্থা করবা নাগবি। আজ বানু কাল মতি উদিংকা আয়শা সব্বাকি মারে কিছু থোচেনা।
শালা পাচেটা কি ,ওর হোচেটা কি,কিসের পাগলা অই, কথা বোঝেনা কাম বোজেনা খালি ছোট ছোল গুলাক মারবা নাকবি সেটা বোজে। ধর শালাক ধরে নিয়ে আসো। আজ ওর পাগলা মো ছুটে দিমুন ।আহারে খালি ছোট ছোল গুলাক মারে..কি হছলো, বানুক মারলো ক্যান?
প্রশ্ন করলো আকরাম।
কাঁদতে কাঁদকে ছুটে এলো বানুর মা। কেউ কেউ বানুকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার কথা বলছে,কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাবে কে? মজমুল দৌড়ে গিয়ে ছলিমের ভ্যান নিয়ে এলো। হাসপাতাল গ্রাম থেকে পাঁচ কিলো দুরে ।বানুকে ভ্যানে তুলে দিল সবাই। বানুর মা এবং গ্রামের ছেলে মনসুর গেল হাসপাতালে। ওরা চলে গেলে, আবার কথা শুরু হল আসাদ পাগলাকে নিয়ে। অই তো সেয়ানা পাগলা,বড় মানুষের সাথে নাগেনা। খালি ছোট ছোল গুলাক মারে, আর সে মার কি?
হয়, অর অত্যাচার টা দিন দিন বাড়ে যাচে। এটার একটা বিহিত না করলে একদিন দেখমেন যে কাকো মারেই ফেলাচে। সবাই ধরে উঠলো কথা,কেউ কেউ যানতে চাইলো বানুকে মারার কারন। সকলের প্রশ্নের উত্তর দিবে কে, গ্রামের অশিক্ষিত মেম্বার জহির মিয়া বলল,তখন কি এটে কেউ আছলোনা ? কে আছলো?
আছলো বড়আব্বা বানুর বোন বুদি আছলো ?
বুদি ? ও তো ছোট।
বড় আব্ব্ বুদি সব কবা পারে ?বুদি তখনো দুরে কান্নায় ফুপাচ্ছিল। মজমুল তার কাছে গিয়ে বলল আয় বুদি আয় ,কতো? তখন কি হছলো,তুই আর বানু কি করুসলু। বুদি ফ্যাল ফ্যাল করে দেখলো চারদিকে যেন খুজছে কাউকে। মজমুল বললো ক বুদি ,ভয় নাই আসাদ পাগলা চলে গেছে। বুদি এবার আস্তে আস্তে বলল

বানু বু নগি দিয়ে বরাই পাড়সলো,মুই কুরাসনু,বুর নগিটা পড়ে যাচে আর বু জোরে জোরে কছে- বুদি সরে যা,সর বুদি সর,নগি পলো,কতে কতেই নগিটা পলো আর তখনি পাগলা আচে আর নাগছে,।
কথা বলতে বলতেই বুদির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। মজমুল বলল তার পর,? পাগলা বুবুকে মারছে ,বুবুর নাকদে মুকদে রক্ত বারাছে বলেই হু হু করে কাঁদতে লাগলো ছোট্ট মেয়েটা।
সকলেই চুপ করে শুনছিল এতক্ষন,বুদির কথা থামতেই সকলে একসঙ্গে কথা বলল,ইসলাম মিয়া জোরে জোরে বলল শুনিছেন ,শুনিছেন সবাই, ছোলটা বড় নগিটা সামাল দিতে পারেনাই তাই পড়ে গেছে। আর শালা পাগলা? কোটে গেল ,শালা কে ধরে নিয়াসেসনা ক্যান? ওর গাড়ৎ দু চার টা নাগে দিলেই পাগলামি ছুটে যাবি। ওই খালি ছোট ছোল আর মাইয়া মানষের দুষমনি করে।ও মেম্বার সে দিন পাগলা কি করিছে জানেন?
উৎসুক চোখে তাকালো সবাই..
ছলিম সেদিন বাড়িত আছলোনা,ছলিমের বউ পটার উপর শুয়ে ছোলটাক দুধ খাওয়াচে,আর পাগলা চুপ চুপ করে বাড়িত ঢুকে বউ টার কাছে যইয়া মিট মিট করে হাসোছে,ছলিমের বউ চালাক মানুষ দেখপা পায়্যায় চিলানি শুরু করতেই পাগলা দৌড়ে বাড়ি থেকে পালাইয়া গেছে।
কি কস ইসলাম?
হ শালার চোখ ও ভালোনয়।
এতক্ষনে সবাই ধরে উঠলো কথাটা এবং যে যার মত করে বলে চলল তার কর্ম কান্ড নিয়ে। অবস্তার পর্যায় বুঝতে পেরে মেম্বার বললো হ সবি তো শোনা যাচে মানুষের মুখে মুখে।
আসাদটা শেষে ভয়ংকরি হয়ে যাছে,দিনে দিনে পাগলামো বাড়তেই আছে। বাচপে কিনা আল্লাহ জানে। আর ওর কি দোষ,ওই তো এখন পাগলা,পাগলা কি আর ভালোমন্দ বোঝে? গ্রামেরি ছেলে তাছাড়াও বড় লোক বাপের এক মাত্র ছেলে,বড় শখ করে শহরে পাটাছলো লেখাপড়া করবা। ভালো ছাত্র। কি হল একবারে পাগলা হয়ে বাড়িৎ অ্যালো। কথাগুলো বলে দির্ঘ নিঃস্বাস ফেলল মেম্বার। কে একজন প্রশ্ন করলো,আচ্ছা মেম্বার সাব ,শহরে আছাদের কি হছলো,তোরা কিছু জানেন না। তোরা তো অর চাচা হন ?
না,সত্যটা এখনো জানা যাই নাই,তো তার বাপ মার ধারনা অই যখন রাজনীতির বড় নেতা আছলো, তখন অক অন্য দলের নেতারা ইনজেকশন দিয়ে পাগলা বানাছে।

ক্যান অন্য দলের লোকেরা পাগলা বানালো ক্যান ?
হু এটায় তো কথা! হারা এলা মর্খ-সুর্খ মানুষ অত কিছু বুঝিনা।আরো সোনা কথা আসাদ নাকি ভালো, বড় নেতা আসলো ওকে সবাই মান দেছলো,তার পর ওই ফের শহরের কলেজের এক স্যারের মেয়েক জোর করে ভালোবেসে বিয়ে করে ,বাপ মাও রাজি আছলোনা,আর এই সব গুলা কারন এক করে ছোল টাক পাগলা বানে গ্রায়োত পাঠে দিছে। হয় তো ওরা চায়নাই গায়ের ছেলে শহরে য্যায়া নেতা হোক ..
আহারে ভালো ছোলটাক.. , তাই বলে একবারে পাগলা করবা লাগবি? এমনি হারা কই, গায়ের ছোল গায়োত থাক ,শহরে যাবার দরকার নাই।
হারা গায়ের মানুষ ,হামার গাও ভালো। এমনি অনেক কথার ছলে যে যার মত চলে গেল। মজমুল আর হাবলু সেখান কার মানুষ কমতে দেখে বলল চল মাইদুল,কবির আলোম সবাকি ডাকে নিয়ে যাই,পাতারোত বল খেলামো,ব্যাট বানামো,হাট হাট কদ্দিন বল খেলা হয়না।
সকলে তাল মিলিয়ে ছলছে ওরা,কিছুদুর যেতেই একজন বৃদ্ধ চিৎকার দিয়ে ডাকলো মজমুল কে-
মজমুল ও মজমুল আয় শুনে যা । মজমুল দৌড়ে গেল সে লোকের কাছে। লোকটা মমতার সুরে বলল হারে মজমুল ,
তুই কি, কতো? সেই সকালে উঠে বারাস। তোর গায়ের ভিতর কি বারাইছে । তোর মা সেই কখোতে তোক ডাকোচে। হামার পাড়াত তো খুজতে খুজতে হয়রান। বুড়া মানুষ টাক অত কষ্টো দেস ক্যান। যা বাড়িত যা,মৃদু ধমক দিল লোকটা মজমুলকে। সেই সকালে আইছোস খাইছিস কিছু?
নাহ্।
তোর জন্য তোর মায়ের কত কষ্টো হয় জানিস? স্বামী নাই একটা মাত্র ছোল তুই,তাও কষ্টো দেস। মজমুল লোকের কথায় কি বুঝে,হাবলুর কাছে গিয়ে বলল,হাবলু তোরা যা মোক মা ডাকোছে। মুই বাড়িত গেনু। মজমুলের কথা শুনে হাবলুর মুখ ফ্যাকাশে হল,তবু মজমুলকে কিছু বল্লনা। আপন মনেই সবাই চলে গেল গায়ের ভিতরে। পর দিন সকাল হতেই প্রতিদিনের মতই ছুটে গেল গ্রামের ভিতরে। সোজা গিয়ে দাড়ালো আজমালের দোকানে। আজমল দোকান ঝাড়ু দিতে দিতে বললো,মজমুল তুই এত সকালে আলু, তোর হিয়াল নাগলোনা ?
কি যে কস আজমল ভাই। হিয়াল কি কাকো ছাড়ে,তাই তনে ঘরত বসে থাকপা নাগবি নাকি?
হ তা ঠিক কছিস তা এখন কোটে যাবু?
কোনোটে যাম্মা। আজ হামার খেলা আছে। তাই খেলার দল ঠিক করবা নাগবি। আজ সকালে দোকানোত সব্বারি একটে হবার কথা। এখনোতো কেও আলোনা? মুই ঐ পাড়াততে আসপা পারনু আর অরা এই পাড়াততে আসপা পারেনা। শালারা এতই কুড়ে।
অরা হিয়ালোত আসোছেনা,আসপা যখন চাচে তখন আসপিই। তুই যেংকা সবাই তো আর সেংকা নয়? তুই যত ভাবিস অরা তত ভাবেনা। এই মজমুল শুনিচিস ?
কি? বানুর চোখে নাকি সমস্যা হচে।অই বোধায় আর দেখপাই পাবোলাই।
কস কি?
হ আর, অর যত খরচ পাগলার বাপ দ্যাচে।
খরচ দিয়ে কি হবি ,চোখে দেখপা যদি না পায় ,তো কানা হবি।
হ দির্ঘ নিস্বাস ছাড়লো আজমল,ঐ শালা পাগলার তোনেই তো মতি খোড়া হল,বানু অন্ধ হল আরো যে কত কি হবি আল্লাই জানে? হ ঠিক কছিস মজমুল । মোর ও ভয় নাগে,ছোট ছোট ভাই বোন গুলা কখন কি করে বসে কে জানে?
আচ্ছা মজমুল আসাদ পাগলা ছোট ছোট ছোল গুলাক দেখপা পারে না ক্যান?
হ এটা তো মুই ও কও? তো একদিন শুননু যে অর একটা ফুপু আছলো । ফুপুটা অক খুব ভালোবাসছলো,আদর করোছলো। আসাদ একদিন ফুপুর বাড়িত যায়া শুনলো,ফুপুর ছোল হবি সাবাই তাই আনন্দ করোছে। আসাদো আনন্দ করোছে কিন্তু ছোল হবা যাইয়া ফুপুটা মারা গেল আর ছোলটা বাঁচলো আর তখন তে আসাদ ছোট ছোলোক দেখপা পারেনা। পাগলা হবার সাথে সাথে সমস্যাটা বাড়িছ।
জানিস মজমুল আসাদ পাগলা অনেক ভালো আছলো। মুই দেখিছো কত ভদ্র,সবাকি কত সন্মান করোসলো। হারা মুর্খ তাও হামার কাছে অহংকার করেনাই। বড় লোকের ছোল লেখা পড়া জানা,চিহারাও ভালো,অর ছাও দেখলে দুঃখু নাগে। কি আছলো আর কি হল। চেহারাটা কত শুকাছে। সবাই অক গালায়, ক্যান গালাবোলাই,এই কি আর সেই আসাদ আছে? এখন আসাদ পাগলা অনেক ভয়ংকর। আজমলের কথা শেষ না হতেই মইদুল এসে বলল,আরে মজমুল তুই এত সকালে আছিস?
শালা একোনন্নে অ্যাসে এত সকালে মারাছিস। বেলা কত হচে দেখিচিস? মুই তো আর তোমার মত অত কুড়ে নয়,শালা মোর আজমাল ভাইয়োক ক দিকি মুই কত সকালে আচো? মইদুল কিছু বলার আগেই মজমুল বললো হাট হাট আর দেরি করা যাবোলাই,কত কাম আছে। সবাকি ডাকে নিয়ে যাই..

গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটছে ওরা। রাস্থার পাশেই সোহাগি দের আম বাগানের মিষ্টি রোদে বসে খেলছে কজোন কিশোরী।হাটোরে অমার খেলা ভাংয়ে দিমো। সে দিকে চেয়ে হাসলো মজমুল।ওরা ওদের কাছে গিয়ে দেখলোশাপলা আর সখি একদিকে,আর সোহাগি আর সালমা অন্য দিকে খেলছে।হাবরু সোহাগির কাছে গিয়ে বলল,হারাও খেলামো,হামাক নিমেননা? সালমা তৎখনাত প্রতিবাদ করে বলল ,না তোমাক নিমোনা ।তোরা যাওও সোহাগি অমাক নিমোনা। ব্যাটা চোল মানসোক নিলে মা গ্যালাবি।
আহারে আমার মা আওলি,মা গ্যালাবি তে খেলবা আছিস ক্যান,মুখে ভ্যংচি কেটে বলল হাবলু।
যা বাড়িৎ যা মায়ের কাছে যায়্যা দুধ খাগে।গর্জে উঠলো সোহাগি। হাবলু তুউ এত খারাপ।ওদের কথা শুনে শাপলা এলো সেখানে,মুখ ভার করে বলল হ অরা খেলালে মুইয়ো খেলামনা।সোহাগি বলল এই তোরা যা তোমাক খেলবা নেমনা।যা তোরা..
আরে যায়েক,তোমার ওলা খোলা মালাই খেলা হারা খেলাই না,হাটোরে? হারা বল খেলামো,জি মোর খেলা তার ফুটারি মারায়। হয়ি,মজমুলের কথায় তাল মিলিয়ে সেখান থেকে চলে গেল কিশোরের দল।ওরা যাবার অল্প কিছু পরিই কিশোরিদের মধ্যে শুরু হল চিল্লা- চিল্লি।কেউ বলছে আমার ভাতের ডেকচি কোটে।কেও বলছে মোর কড়াই কে নিছিস।কেও বলছে মোর হাতা নাই কেউ বলচে মোর কলস কে নিল।সবার মধ্যে কান্নার সাড়া পড়লো। হঠাৎ সোহাগি বলল ওই শোন মোর মনে হচে,হারা ওমাক খেলবা নেইনাই তাই ওরা হামার খেলনা চুরি করিচে।হয় হয় এলা চেংড়া গুলার কাম।হাটো তো সবাই মিলে যায়্যা ওমাক বুঝে দিমো আজ।হামার জিনিস চুরি করার মজাটা কেংকা।অরা খেলায় হারা তো কিছু করি না ? ওদের এলো মেলো কথার মধ্যে হঠাৎ সখি বলল ঐ দেখ দেখ ঘোড়া আসোছে..
হয়িতো বলেই যে যার মত দৌড় দিল রাস্তার দিকে।রাস্তার পাশে দাড়িয়ে দল হয়ে অনেকে ঘোড়া দেখছে। যেন কত দিন দেখেনা তারা এই ঘোড়া নামের পশু টিকে।ওদের দেখা-দেখি কিশোরের দল ও যোগ দিল।অনেক কথা চলছে তাদের মধ্যে ঘোড়াকে নিয়ে। হঠাৎ ময়দুরের কথাটাকে ধরে উঠলো সকলে। সর তোরা সরে যা,ঘোড়াক গালেই দৌড় দুরুম। ওই সখি সর ,সরে যা ঘাটা ছারে দে..সখি রাস্থা থেকে সরে দাড়াতেই,মজমুল জোরে জোরে বলল’ঘোড়া তোর পায়ের তলে নোড়া,এক পাও খোঁড়া। মজমুলের দেখ দেখি সকলেই বলতে লাগলো। ঘোড়া তোর পায়ের তলে নোড়া এক পাও খোঁড়া। বলতে বলতে যে যার মত পিছাচ্ছে যেন এখনি ঘোড়া ওদের পিছু নিবে। ওদের মধ্যে ছোটরা দিয়েছে ছুট,ঘোড়া এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। সবাই ছুটছে,মজমুল ঘোড়া কে বেশি গালি দিয়েছে বলে যত ভয় তারি জোরে ছুটছে ছে,ছুটতে ছুটতে আচমকা কার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে গেল লোকটা্ প্রচন্ড ধাক্কায় মাটিতে পড়েই কুকাতে লাগলো সে। মজমুলের সে দিকে খেয়াল নেই। সে আপন ইচ্ছাই ছুটছে কেবলি ছুটছে। ছুটতে ছুটতে সোজা গ্রামের ভিতর আজমালের দোকানে গিয়ে থামলো সে। আজমাল মজমুল কে ছুটে আসতে দেখে হেসে বলল কিরে মজমুল দৌড়াছি ক্যা? মজমুল কথা না বলে বসলো দোকানের সামনের টংগে। চোখে মুখে তার ভীতি আর উৎকন্ঠা। কিছুক্ষন পর আপন ইচ্ছাই চলে গেল মজমুল। সারা দিন কারো সঙ্গে দেখা হলনা আর।

পরদিন সকাল বেলা। আস্থে আস্থে সকলেই জমা হল আজমলের দোকানে। মজমুল এখনো আসছেনা ,কিন্তু কেন? মজমুল তো এতক্ষ না আসার কথা নয় তাছাড়া আজ তাদের অন্য পাড়ার সাথে ফাইনাল খেলা। এ কথা আর কারো না হোক মজমুলের মনে থাকার কথা। বেলা বেড়ে চলছে,মজমুল এখনো আসছেনা? এক অসান্ত উত্তেজনা আর বিরক্তিতে হাপিয়ে উঠেছে কিশোরের দল। তর শইছেনা আর তাদের মধ্যে,হাবলু এবার রাগ করেই বলল-হাটোতোরে সবাই মিলে অর বাড়িত যায়্যা ডাকে নিয়ে আসি।
হ বাবলু ঠিকি কছিস,হাট সবাই হাট। হাট যায়্যা দেখি শালা মচে নাকি? চুপ তো মইদুল এলা কথা কসনা..আজ হামার ফাইনাল খেলা। মজমুল ছাড়া তো খেলা হবোলায়। হ ঐ শালাই তো নেতা,অর তনেই তো হারা খেলা শিখিছি। কি কস হাবলু ,হ । অনেক কথার ছলেই ওরা যখন মজমুলের বাড়ি ফৌছালো তখন বেলা অনেক বেড়েছে। বাড়িতে কোন জন মানুষের সাড়া নাই। ছোট্ট কুঠিরের দরজা খোলা,ওরা ঘরে ঠুকেই অবাক হল কেমন সব কিছু এলো মেলো মেঝেতে হালকা রক্ত আবছ অন্ধকারে ইস্পস্ট দেখা যাচ্ছে না।হাবলু দৌড়ে গিয়ে জ্বানালা খুলে দিল। চিৎকার করে উঠলো অন্যেরা।দুটি নিস্তব্দ দেহ পড়ে আছে মাটিতে। ওদের শুধু মাথ দেখা যাচ্ছে। আর রক্তে জুপসে গেছে তাদের শীত বস্ত্র। সে বস্ত্র সরাতেই বেরিয়ে এলো মজমুল আর তার মা। চিৎকার শুনে ছুটে এলো অনেক লোক।হায় হায় করতে কেরতেই কেউ কেউ সরাতে গেল তাদের লাস।মজমুল কে সরাতে গিয়ে দেখলো শীতে পাথর হয়ে গেছে তার নিরব দেহ্ আর তার মা জীবিত ,তবে অচেতন। সে দেহে এখনো প্রাণ আছে।
মহূর্তে ছড়িয়ে গেল সে খবর। পুলিশ এলো মজমুলের লাশ উঠাতে গিয়ে অবাক হল সবাই। শান্ত মজমুলের হাতে আসাদ পাগলার পশমি টুপি। পায়ে বাধাঁ মাফলার মাফলার যেন চিৎকার করে বলছে,আমাকে মেরনা,আমাকে মেরনা,আমি বাঁচতে চাই, আমার মাকে মেরনা,আমাদের বাঁচতে দাও। আমি বাঁচতে চাই। বুকের কাছের ক্ষত থেকে আর একবার বেরিয়ে এলো তাঁজা রক্ত। সে রক্তে ভিজে গেল কঠিন মাটি..।


সমাপ্ত
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ২৬৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৩/০২/২০২২

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast