www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ছাত্রশিবির মুক্ত ক্যম্পাসে ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টিএসসির ডাসের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হামলায় ছাত্রদলের ৩০-৪০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর। এ সময় ছাত্রলীগের হাতে ৩ সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দলের সহাবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর দিনই এ ঘটনা ঘটলো। তবে ছাত্রলীগ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জানা যায়, নেতা-কর্মীদের নিয়ে গতকাল সকালে মধুর ক্যানটিনে গিয়েছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অব্যাহত হট্টগোলের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের হাকিম চত্বরে গিয়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে সেখানে যান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। হাকিম চত্বরে আগেই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। সনজিত ও তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে বলেন। সনজিতের কথায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় চলে যান। সেখানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নেতা-কর্মীদের বিদায় দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তেই সনজিতের অনুসারী ৫০-৬০ জন নেতা–কর্মী রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী মাস্টারদা সূর্য সেন হল সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান, কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের জিএস ইমাম হাসান, জগন্নাথ হল সংসদের জিএস কাজল সরকার, সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাইসুল ইসলাম, স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আপেল মাহমুদ, কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মুহসীন আলম তালুকদারসহ অনেকে হামলায় অংশ নেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে দেশীয় অস্ত্র (লাঠি, রড, চাপাতি, রামদা) নিয়ে আমাদের ওপর বিনা উসকানিতে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় আমাদের ৩০-৪০ জন নেতা-কর্মী আহত হন, যাঁদের ৭-৮ জনের অবস্থা গুরুতর। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির নির্দেশে ও নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এমনকি আমাদের অনেকের মোবাইল ও মানিব্যাগ পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিচার ও ছাত্রলীগের নেতা সনজিতের গ্রেপ্তার দাবি করেন ইকবাল হোসেন।
ইকবাল হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের আহত নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী খোরশেদ আলম সোহেল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী মাহবুবুল আলম শাহিন, ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী কার্জন মাসুম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাকিউল ইসলাম শাহীন, সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রদলের নেতা ফিরোজ আলমসহ ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজসহ বিভিন্ন ইউনিটের ৪০ নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে ৭-৮ জনের অবস্থা গুরুতর।
এ সময় দৈনিক যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আনিসুর রহমান ও বিজনেস বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নুরুল আফসার ও রাহাতুল ইসলাম রাফিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মারধর করে। তাদের মোবাইল কেড়ে নেয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে নুরুল আফসার তেমন গুরুতর আঘাত না পেলেও আনিসুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ছিলেন। তার বা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কারও ওপর হামলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অতি-উৎসাহী নেতা-কর্মীরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন দাবি করে সনজিত ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তা আমাদের ব্যর্থতা বলে মনে করি। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা দুঃখিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। লিখিত অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৪১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৪/০৯/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast