www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

জামাত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের কিছু অনভিপ্রেত বক্তব্য নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরে যাওয়ার পর কয়েকদিন পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও গত ১২ জানুয়ারি গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হঠাৎ জামায়াতে ইসলামীকে টেনে এনেছেন এবং এমনভাবে বক্তব্য রেখেছেন যেন জামায়াতের কারণেই তাদের পরাজয় ঘটেছে!
ড. কামালের অন্য একটি কথায় সচেতন সাধারণ মানুষও স্তম্ভিত হয়েছেন। অনেকাংশে কৈফিয়ৎ দেয়ার ঢঙে তিনি বলেছেন, তার নাকি জানা ছিল না যে, জামায়াতে ইসলামীর ২২ জন প্রার্থী বিএনপির তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন! জানলে তিনি নাকি ‘প্রয়োজনীয়’ ব্যবস্থা নিতেন এবং বিএনপিকে নিষেধ করতেন! এখানেও শেষ নয়। ড. কামাল আরো বলেছেন, জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন জানলে তিনি নাকি ঐক্যফ্রন্টেরই শরিক হতেন না! জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছাই তার নেই বলেও জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি সেই সাথে জামায়াতের ‘সঙ্গ’ ত্যাগ করার জন্যও বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক হিসেবে ড. কামাল হোসেনের এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন যা বলেছেন সেটা সম্পূর্ণরূপে গণফোরামের দলীয় বক্তব্য। এর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপি এখন কলংকিত সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত যুক্ত থাকবে। এই সময়ে ঐক্যফ্রন্টের কোনো দলের পক্ষ থেকেই এমন কোনো বক্তব্য রাখা উচিত নয়, যার ফলে ফ্রন্টের ঐক্য ক্ষুণœ হবে এবং আন্দোলনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কল্যাণ পার্টির নেতা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীকসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের অন্য কয়েকজন নেতাও কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, বিএনপি যেমন জামায়াতের রাজনীতি করে না, জামায়াতও তেমনি বিএনপির রাজনীতি করে না। সুতরাং বিএনপি ও জামায়াতের কেউই অন্য দলের রাজনীতির ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তাছাড়া দল হিসেবে জামায়াত ঐক্যফ্রন্টের শরিক নয়। দলটি ২০ দলীয় জোটের শরিক। সে কারণে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্কের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের কিছুই বলার থাকতে পারে না।
এভাবেই ড. কামাল হোসেনের জামায়াত সম্পর্কিত বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। হঠাৎ অপ্রাসঙ্গিকভাবে জামায়াত বিরোধিতার মধ্যে অনেকে এমনকি ক্ষমতাসীনদের হাতকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন। এমন প্রতিক্রিয়াই অবশ্য স্বাভাবিক। কারণ, নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশে আগেই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। সে কারণে দলগতভাবে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে কারো পক্ষেই নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। সুতরাং এমন অভিযোগও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না যে, বিএনপি জামায়াতের ২২ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং তারা ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিলেন। বাস্তবে বিএনপির মনোনীত সকলেই ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এখানে তাই ড. কামাল হোসেনের অন্তত বলার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। এটা সম্পূর্ণরূপেই বিএনপি, জামায়াত এবং ২০ দলীয় জোটের নিজস্ব বিষয়।
আর জামায়াতে ইসলামী কোন উড়ে এসে জুড়ে বসা দল নয়। অতীতের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সাথে এক প্লাটফর্মে আন্দোলন করেছে। সব নির্বাচনেই আসন পেয়েছে। এবারের টোটাল ভোট ডাকাতির নির্বাচনে জামায়াত উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। খোদ নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৬০ ভোট। প্রতি আসনে গড়ে ৩৪ হাজার ৮৪টি ভোট। শতকরা হিসাবে ১২ দশমিক ৯২ তথা প্রায় ১৩ শতাংশ হারে ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।
আমরা মনে করি, ড. কামালসহ সকল নেতারই এখন জালিয়াতির নির্বাচন বাতিল এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেয়া উচিত। এমন কোনো বক্তব্য রাখা ও অবস্থান নেয়া এখন উচিত নয়, যার কারণে ক্ষমতাসীনদের অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং জনগণের পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত জালিয়াতির নির্বাচনকেও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৯২ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৪/০১/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast