www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

অজ্ঞাতনামা আসামি

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় পুলিশের অজ্ঞাতনামা আসামীর রহস্যের ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান বলেছেন, পুলিশকে সন্তুষ্ট করতে পারলে আসামী ছেড়ে দেয়, না হলে মামলা দিয়ে দেয়। এটাই অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের মূল রহস্য। আর এর মাধ্যমে পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। পুলিশের অজ্ঞাতনামা আসামী করাকে মানবাধিকারের জন্য চরম অবমাননাকরই নয় মানবতার প্রতি চরম অবজ্ঞা মন্তব্য করে অবিলম্বে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। এছাড়া আগাম জামিন নিয়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষে ‘হয়রানিমূলক মামলায় সুপ্রিমকোর্টের ভূমিকা’ শীর্ষক সাংবাদিক সম্মেলন তিনি এ আহবান জানান।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সারা দেশে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারবিহীন নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে ঢালাওভাবে মামলা হচ্ছে। এ ধরনের মামলায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক জন আসামীর নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩শ এমনকি কয়েক হাজার আসামীর নাম করা হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, এসব মামলায় অজ্ঞাত একজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করতে পারলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে মামলায় আসামী করা হয় এটাই অজ্ঞাতনামার রহস্য। অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে মামলা করে পুলিশ শুধু মানবাধিকারের চরম অবমাননাই করছে না মানবতার প্রতি চরম অবজ্ঞা করছে।
তিনি বলেন, পুলিশের নির্যাতন হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে গ্রেফতারের ভয়ে আগাম জামিন নিতে শত শত লোক হাইকোর্টে আসেন। ফলে  বিপুল সংখ্যাক আগাম জামিনের দরখাস্ত  শোনা বিচারপতিদের জন্য কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও বিচারপতিরা অত্যন্ত ধৈর্য ও পরিশ্রম করে অযথা হয়রনিমূলক মামলা হতে নিরীহ মানুষকে পুলিশের নির্যাতনের হাত হতে রক্ষা করার জন্য আগাম জামিন দেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তাই মামলা দায়েরের কারণ অনুধাবন না করে  ঢালাওভাবে হাইকোর্টের আগাম জামিন দিচ্ছে বলে বিচারকদের প্রতি কেউ কেউ কটাক্ষ করছে। এর ফলে প্রকারান্তরে পুলিশের গ্রেফতারি বাণিজ্য ও হয়রানিমূলক নির্যাতনের পথ আরও উন্মুক্ত করছে।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি জঘন্য অপরাধীদেরকে আগামী জামিন না দিতে বলেছেন। কিন্তু আপিল বিভাগের এই আদেশকে ভুল ব্যাখ্যা করে গ্রেফতার বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে মামলা করে এলাকার যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হুমকি দিয়ে ঢালাও ভাবে ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামী করে জেলখানায় ধারণ ক্ষমতার বাইরে আসামী আটকে রাখায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে, তাই তা বন্ধের আহবান জানাচ্ছি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন পুলিশের এসব কর্মকা-ের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অজ্ঞাতনামা শত শত মামলা দায়ের করে হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করে অজ্ঞাত আসামীর নামে ব্যাপক গ্রেফতারি বাণিজ্য করা হয়েচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশের করা মামলায় তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দাখিল করার পরে তাদের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে যেন গ্রেফতার করা হয়। এর আগে যাতে কাউকে গ্রেফতার না করা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি নির্যাতন এর জন্য সরকারের অজ্ঞাবহ হয়ে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের ঢালাও ভাবে মামলা বন্ধ করার দাবি জানান।
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৫১৫ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৩/০৪/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • মধু মঙ্গল সিনহা ২৯/০৪/২০১৭
    ভাল লিখেছেন।
  • এটা কোন নগর/ রাষ্ট্র কিংবা কোন দেশের প্রসাশন হতে পারেনা। আর এভাকবে কোন দেশ চলতে পারে না।

    সন্দেহ বশতঃ কাউকে ধরে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ ইচ্ছামত কেস সাজিয়ে কোর্টে চালান দেয়, আর বেচারা হতভাগা!- আজীবন পঁচে গলে মরে। এটা মনিটরিং এর জন্যও কোন সেল নেই। শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের হলেই কেবল রেহাই আর বিরোধী দল হলে কিংবা সাধারণ মানুষ হলে জীবন শেষ।
  • very nice
 
Quantcast