www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

গোপলার কথা - ৭৭

দেশ আমার দেশ
---------------
সরকার যতদিন না গরীবদের নিয়ে কিছু ভাববে, ততদিন তুমি আমি আমরা তোমরা কেউ নিরাপদে থাকতে পারব না।
আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আপনার পায়ের কাছে কেউ যদি গড়াগড়ি খায়, কেউ যদি ভিক্ষে করে, কেউ যদি শীতে কাঁপে, রোগে শোকে ভোগে, কেউ যদি গাঁজা খায়, ড্রাগ নেয়, খিদেতে চটপট করে, খাবারের রফা করে তাহলে আপনি পাশ কাটিয়ে আজ হয়তো চলে যাবেন কিন্তু কাল পরশু কিংবা যে কোন দিন ওরা আপনার পা ধরে টানবে। আপনার বিপদ ডেকে আনবে।
ওদের কোন দায় নেই। দায়িত্ব নেই। ওরা যাই হোক করে খায়। খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকে। শুধু বেঁচে থাকার জন্য খায়। তাই খাবারের জন্য যা ইচ্ছে খুশি তাই করতে পারে। ওরা মরে গেলে মরে যায়। বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকে। এসব নিয়ে ওরা বিন্দুমাত্র ভাবে না। আপশোষ করে না।
ওরা কিন্তু এক আধজন নয়। লাখো লাখো। আর ওদের যেহেতু কোন দায় নেই। তাই সংখ্যা বাড়তেই আছে। বাড়াতেই আছে। জ্যামিতিক হারে। আর কিছু হোক না হোক সেক্স ও জন্মের কোন বিরাম নেই। ভাবনা নেই। চিন্তা নেই। কালকে খাব কি? আমার ছেলে খাবে কি? আমার মেয়েটা থাকবে কোথায়? এই শীতে কেমন করে রাত কাটাবো? বর্ষাতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? এসব এরা বিন্দুমাত্র ভাবেই না।
ফলে সরকার কিংবা অন্য যে কেউ এদের অল্প বিস্তর সাহায্য করলেও কোন লাভ হয় না। কেন না এরা সংখ্যায় অগুনতি।
তাই সরকারের যদি কিছু করার ইচ্ছে থাকে তো প্রথমে এই জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধির সংখ্যা কমাতে হবে। তাতে হয়তো কিছুটা নিরাপদে থাকা যেতে পারে। না হলে নয়।
মন্দিরের বাইরে, শহরের ফুটপাতে, যে কোন রাস্তার ধারে, বস্তিতে এরা যেভাবে থাকে তা অকল্পনীয়। সাপের ভয়, রোগের ভয়, মরার ভয়, বেঁচে থাকার চিন্তা এমন কি লাজ লজ্জা বলে কিছু নেই। এরা যখন তখন যা কিছু করে ফেলতে পারে। কিংবা যে কেউ ওদেরকে যা ইচ্ছে খুশি করে ফেললেও ওদের কোন আপশোষ নেই। কোন কিছুই মনে রেখাপাত করে না। এরা শাস্তির ভয় পায় না। আগে এই সব করার জন্য কি কি চরম শাস্তি দেওয়া হয়েছে এরা মনে রাখে না। মনে রাখলেও ও সবে ওদের কোন আপশোষ নেই।
এই যে আপশোষবিহীন মনুষ্যত্ব এবং এদের বাড়তে থাকা সংখ্যায় কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে আমরা ক্রমাগত এগিয়ে চলেছি, তা অকল্পনীয়। এই যে অপরাধ প্রবণতা, খুন জখম রাহাজানি ইত্যাদি যা কিছু প্রতিনিয়ত ঘটছে, তা সবই এরা নিজেরা করে কিংবা এদের দিয়ে করানো হয়। এদের মনে আর কিছু হোক না হোক, জমে আছে আক্রোশ, ক্ষোভ, বিরক্তি, রাগ, প্রতিহিংসা। দেশের প্রতি দশের প্রতি এমনি নিজের প্রতি।
কাওকে মারতে হবে, কোথাও ভাঙচুর করতে হবে, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে, চিৎকার চেঁচামেচি করে লোক জড় করতে হবে সবেতেই দু একজন শুরু করলে যে কোন জায়গায় হঠাৎ করে পৌঁছে যায় দশ বিশ পঞ্চাশ একশ দুশো পাঁচশ হাজার হাজার লোকজন। কি হয়েছে, কেন হয়েছে, কার দোষ, সত্যি সত্যি দোষী নাকি নির্দোষ ইত্যাদি জানার কোন প্রয়োজন নেই। ধ্বংসের খেলায় সবাই মেতে ওঠে। তখন বোঝা যায় কতটা আক্রোশ কতটা রাগ কতটা বিরক্তি কতটা প্রতিহিংসা জমা করে রেখেছে এই মানুষ জন। এই আপশোষবিহীন মনুষ্যত্ব।
তাই এদের নিয়ন্ত্রণ চাই সবার আগে। সংখ্যায় কমাতে হবে। কিংবা যা আছে তার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই দেশের গরীবী কমবে, তবেই মানুষ একে অপরের প্রতি ভরসার জীবন যাপন করতে পারবে। তবেই আমরা সহজে বলতে পারব সবার জন্য কাজের ব্যবস্থা হোক, সবার জন্য খাবার জুটুক, সবার পরনে কাপড় জুটুক, সবাই নিরাপদে বসবাস করুক। না হলে সভ্য নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে যার নিজস্ব সেল্ফ ডিফেন্স কোন কাজেই আসবে না। আসছে না।
বাঘ ছাড়া থাকবে আর হরিণকে বাঁচার জন্য নানান রকম ট্রেনিং দেবেন তাতে কি কোন লাভ হয়? তাতে দু এক সময় হরিণ বাঘের কবল থেকে বেঁচে যেতেও পারে। কিন্তু প্রায়ই বিপদে পড়বেই পড়বে। খুন জখম রাহাজানি হতেই থাকবে। কিন্তু যদি বাঘের আচরণের পরিবর্তন করা যায়, যদি বাঘের অবস্থানের উপর নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যদি বাঘকে তার জীবনযাত্রা চেনানো যায় তাহলে হরিণও নিরাপদ বাঘও তার অবস্থানে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারবে।
তাই দেশকে ভাবতে হলে দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে সবার প্রথমে ভাবতে হবে।
কিন্তু বেশিরভাগ দেশের নেতৃত্ব শুধু দেশের উচ্চবিত্ত কোটিপতি ব্যবসায়ী ও সম্পদ অধিকারীকে নিয়ে ভাবতে থাকে। তাদের কথা ভেবেই অর্থনীতি সিক্যুরিটি ইত্যাদি নিয়ে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করে। আর গরীবদের জন্য শুধু নানা রকমের অনুদান আর সাবসিডি দিতে থাকে। যে দেশে যত বেশি অনুদান ও সাবসিডি বাড়তে থাকে ততবেশি গরীবী বাড়তে থাকে। বিনা পয়সায় বা ফোকটে (যদিও কোন কিছুই বিনে পয়সায় হয় না) পাওয়া নিয়ে বা দিয়ে গরীবের কোন উন্নতি তো হয় না। উল্টে আরো গরীবী বাড়তে থাকে। তবে হ্যাঁ, তাৎক্ষণিক ফোকটে পেলে এইসব আপশোষবিহীন মনুষ্যত্ব সেই দলকে ভোট দেয় সবার আগে। ফলে ভোট হয়। রাজা আসে রাজা যায়। আর তেমনই থেকে যায় গরীবী।
যে দেশে প্রতিটি মানুষ দিনের শেষে তার জন্য নির্দিষ্ট থাকার বন্দোবস্ত ঘরে ফিরে যেতে পারবে তবেই সেই দেশের সব মানুষ নিশ্চিন্তে রাত কাটাতে পারবে। উদ্বাস্তু, শরণার্থী, ভবঘুরে, বেকারত্ব, ফোড়ে যত বাড়বে তত দেশের মানুষের মধ্যে একটা অস্থিরভাব ও বিশৃঙ্খল অবস্থা লেগেই থাকবে।
তাই সবার আগে জন নিয়ন্ত্রণ করে দেশকে সুস্থির করতে হবে।
দেখবেন যারা শিক্ষিত, যারা ভবিষ্যতে মোটামুটি খাওয়ার সংস্থান করতে পেরেছে, যারা দিনের শেষে নির্দিষ্ট বাসস্থান গড়ে তুলতে পেরেছে তাদের পারিবারিক সদস্য সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে এবং নির্দিষ্ট হচ্ছে। তার কারণ দেশের কথা দশের কথা বাদ দিন, এই শ্রেণির মানুষজন নিজেরা বুঝতে শিখেছে তাদের নিজেদের দায়ব্দ্ধতা। এদের মধ্যে ভাবনা তৈরি হয়েছে, কালকে কি খাব? আমার মেয়েটা কোথায় থাকবে? আমার ছেলেটা খাবে কি? তাই এদের সংখ্যাও নির্দিষ্ট হচ্ছে। এদের এই ভাবনা দেশের পক্ষেও মঙ্গল।
এই দায়বদ্ধতা মনুষ্যত্ববিহীন মানুষজনেরর মধ্যে নেই। এই দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হলে সবার আগে যে করেই হোক এদের সংখ্যা কমাতে হবে। তার জন্য সরকারী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সবার আগে। দরকার হলে আইন করে ব্যবস্থা করতে হবে। হাম দো হামারো দো শ্লোগানে কিছু হয় না। চেতনা বৃদ্ধি এইসব আপশোষবিহীন মানুষের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলে না।
সংখ্যা কমানোর পর এদের জন্য দিনের শেষে খাওয়ার ব্যবস্থা এবং তা কেবল কাজ দেওয়ার মাধ্যমে। ছোটখাটো যে কোন কাজের ব্যবস্থার মাধ্যমে করতে হবে। সেই সাথে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
না হলে শুধু শিক্ষা দিলেও কতজনকে চাকরি দেবেন? কতজনকে অনুদান দেবেন? কতজনের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন? লক্ষ্মীর ভান্ডারও শেষ হয়ে যাবে। যদি না তাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট হয়।
আজ দেশে বেকার শিক্ষিতের সংখ্যা লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একটা সুইপারের কাজের জন্য পাঁচ লক্ষ দশ লক্ষ দরখাস্ত জমা পড়ছে। জনসংখ্যা না কমালে কাকে চাকরি দেবেন? কতজনকে চাকরি দেবেন? তার মানে শিক্ষিত করার আগে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।
প্রতিটি দেশে এবং তার অধীনস্থ প্রতিটি রাজ্য জেলা পঞ্চায়েত গ্রাম পাড়া ইত্যাদির মধ্যে জমিও নির্দিষ্ট। যে জমিতে চাষবাস হয় তাও নির্দিষ্ট। বরং অনেক চাষ যোগ্য জমি কমছে। সেখানে যদি ক্রমাগত লোকসংখ্যা বাড়ে, একের পর এক মানুষ ছেয়ে যায় তাহলে তারা তো খাবে? সেই খাবার কোথা থেকে পাবে? আমার ভাগের খাবার খাবে। তাই এই খাবার এই জায়গা এই মানুষ যদি বাড়ে তাহলে খাওয়ারের জন্য পোশাকের জন্য থাকার জায়গার জন্য কাড়াকাড়ি মারামারি ঠেলাঠেলি লেগেই থাকবে। আর এই কাড়াকাড়ি মারামারি অনেকটা থরে থরে সাজানো হাঁড়ি থেকে নীচের হাঁড়িটি টেনে নেওয়ার মত।
ভাঙাভাঙি খুন জখম কাড়াকাড়ি থামবে না লেগেই থাকবে। আজ কাল পরশু কোন না কোন দিন আমি তুমি সে সবাই অল্প বিস্তর আঘাত পাবই পাব। তাই সবার আগে চাই নিয়ন্ত্রণ। মানুষ সংখ্যার নির্দিষ্টকরণ। তা যদি না চাও তাহলে চাকরি চেয়ো না। কাজ চেয়ো না। খাবার চেয়ো না। বাসস্থান চেয়ো না। করো হাহাকার।
সরকার না চাইলে এই ব্যবস্থা বা বদল বা মানুষ সংখ্যা নির্দিষ্টকরণ কোনভাবেই সম্ভব নয়। একক উদ্যোগে বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দ্বারা কিছু বিচ্ছিন্ন কাজ হলেও তা ফলপ্রসূ হয় না। যেমন পলিথিন থার্মোকল বিড়ি সিগারেট মদ ড্রাগ ইত্যাদি কোন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে পলিথিন ব্যবহার করে না। অনেকেই মদ বিড়ি সিগারেট খায় না। অনেকেই সত থাকে। অনেকেই আইন মেনে চলে। কিন্তু তাতে সমাজের কিছু সুফল আসছে কি? প্রকৃতি গ্লোবেল ওয়ার্মিং থেকে রক্ষা পাচ্ছে কি? আমাদের দেশ ক্রমাগত বায়ো ও ইলেক্ট্রিক্যাল হ্যাজার্ডে পরিণত হয়ে যাচ্ছে তার কোন সুরাহা হচ্ছে কি?
কিন্তু যদি সরকার উদ্যোগ নেয় তাহলে তা সহজেই সম্ভব। যেমন গ্যাংটকে প্রকাশ্য ধূমপান করা গুটখা খাওয়া নিষেধ। তাই সেখানে এসব পাওয়া না। কিংবা পাওয়া গেলেও তার ব্যবহার বিধিও মানসম্মত। আমাদের দেশের মত যেখানে সেখানে পলিথিন থার্মোকল গুটখা বিড়ি সিগারেটের প্যাকেট পড়ে আছে। লাখো লাখো কোটি কোটি। কোন বিজ্ঞাপন কোন উপদেশ কোন আদব কায়দা দিয়ে তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এবং সেইসব পলিথিন ও পলিথিনজাত বর্জ্র থেকে কিভাবে রোগ ছড়াচ্ছে তা বলার নয়। ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু অস্বাস্থ্য আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।
তাই সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। ভাল থাকার দায়, ভাল রাখার দায়, ভাল হওয়ার দায় সরকারের। শুধু একক উদ্যোগে তা হয়তো খুবই যৎসামান্য হয় যা ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না।
তাই যে কোন উন্নতির প্রধান সোপান মানুষের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। এবং তার প্রথম ধাপ সরকারী উদ্যোগ।
যে কোন দাঙ্গার সূত্রপাত যাই হোক শেষ কিন্তু কোথা থেকে কোথায় গিয়ে গড়িয়ে যায় তার কোন নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না। কারণ প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে পশুর সমান। সুযোগ পেলে নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম অবস্থানে যেতে মানুষের হাত কাঁপে না। এইসব আপশোষবিহীন মানুষ তাই সেই দাঙ্গা ধ্বংস লুঠপাট খুন জখম রাহাজানি সবেতেই খুব সহজেই হাত লাগায়। কোন বিচার বিবেচনা ভাবনাচিন্তা কোনকিছুই এদের মনে রেখাপাত করে না। ফলে দাঙ্গার মূল কারণ একটা থাকলেও তাতে ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি শুধুমাত্র সেই কারণের দিকে দিকনির্দেশ করে না। আর এই জনসংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে এই দাঙ্গা ধ্বংস ইত্যাদি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
যেমন ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া ফ্লু ও অন্যান্য ভাইরাসবাহিত রোগও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সরকারী বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী ইত্যাদি যতভাবে যতজনই কাজ করুক না কেন আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এত বিপুল আপশোষবিহীন জন সমুদ্র যারা নিজেরাও সচেতন নয় আর সচেতনতার বার্তা অনেকের কাছে পৌঁছয় না কিংবা পৌঁছলেও এসব নিয়ে ভাবে না। ফলে আপনি যতই নিয়ন্ত্রণ করুন কোথাও না না কোথাও ফাঁক গলে এরা বেরিয়ে যাবেই যাবে।
আপশোষবিহীন এই বিপুল জনরাশির জন্য এই দেশে কিছুতেই পোলিও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। যেখানে বাংলাদেশ নেপাল ভূটান সিকিমসহ পৃথিবীর বহুদেশে আর কোন পোলিও প্রোগ্রাম হয় না। কিন্তু ভারতে এখনো পোলিও প্রোগ্রাম হতেই আছে হতেই আছে। কেন না এখানে আপশোষবিহীন রোজ বাড়ছে।
এই বাড়তি ব্যাপারটা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এবং তা সরকারী উদ্যোগে। না হলে এরকম অনেক কিছুই মনুষ্যত্ববিহীন অবস্থান আমাদের সামনে ঘটতে থাকবে। একক উদ্যোগে কিংবা সাংগঠনিকভাবে অনেকেই এই নিয়ন্ত্রণের উপর কাজ করছে কিন্তু তাতে কোন লাভ হবে না।
আমি ব্যক্তিগতভাবে যারা আমাদের ফ্ল্যাটের চারদিকে পরিস্কার করে আমি তাদের মাঝে মাঝে চা খেতে দিই, মাঝে মাঝে দু একজনকে পুজোতে জামাকাপড় দিই, যারা জিনিসপত্র বেচতে আসে তাদের কাছে জিনিসপত্র কিনি, যারা মেয়ের বিয়ে, রোগ ইত্যদির জন্য সাহায্য দিই, পুরোন জামা কাপড় দিই কিন্তু তাতে কোন সুরাহা হয় না। এতে কিছুতেই গরীবী কমে না।
ঘরে বাইরে যারা আমার কাজ করে তাদের মজুরী ছাড়াও খুশি হয়ে আমি আরো কিছু টাকা দিই। তাতে লাভ কিছু হয় না। কারণ যারা কাজ করে তারা সরাসরি কাজ পায় না। কন্ট্রাক্টারের আন্ডারে কাজ করে ফলে মজুরী যা পায় তা খুবই কম। এই মজুরীর বেশ কিছু টাকা কন্ট্রাক্টর ও তার আরও সাঙ্গপাঙ্গ ফোড়ে শুধু বসে বসে মোটা টাকা আয় করছে। এটা সব ক্ষেত্রে। রাস্তাঘাট ব্লিডিং ব্রীজ যা কিছু তৈরি হোক না কেন এ চলতেই আছে।
ফলে যে মজদূর যে পরিশ্রমী যে নির্মাণকারী যে সাহায্যকারী এসব চোখের সামনে দেখছে তার মনে একটা না একটা ক্ষোভ জমা হয়। সে জানে এই কাজের জায়গায় তার হাত পা বাঁধা। ফোঁস করে উঠলে তার কাজ চলে যাবে। কিন্তু দাঙ্গা মারামারি ধ্বংস ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও অবস্থানে যে জোট সেখানে ফোঁস করে ওঠা যায়। যত আক্রোশ প্রবল বিক্রমে দেখানো যায়। ফলে সেখনে আপশোসবিহীন মানুষ জড় হতে সময় লাগে না।
বাস ট্রেন ঘর বাড়ি সরকারী বেসরকারী ইত্যাদি যা কিছু হাতের কাছে পায় সবকিছু বিন্দাস ভেঙে পুড়িয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
বিষয়শ্রেণী: অভিজ্ঞতা
ব্লগটি ১২৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১১/১২/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • ইবনে মিজান ১৬/০১/২০২০
    নাগরিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। তারপর সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা যায়।
    • দীপঙ্কর বেরা ১৭/০১/২০২০
      অনেকেই নাগরিক দায়িত্ব পালন করে। প্রচুর লোক সৎ। কিন্তু তাদের প্রভাব সমাজের বুক যতটা না পড়ে তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে খারাপ লোকের প্রভাব। মদ বিড়ি সিগারেট খেতে চাই না কিন্তু রাস্তার দুদিকে এত দোকান যে খাব না খাব না করেও একটা দুটো টান দিয়ে দিই। যদি না পাওয়া যেত যদি কম দোকান থাকত তাহলে নেশাড়ুরা ঠিক খুঁজে বের করে খেত। কিন্তু সাধারণ তাতে প্রলুব্ধ হত না। তাই সরকারকে আগে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে। ধন্যবাদ।
  • জসিম বিন ইদ্রিস ২২/১২/২০১৯
    সত্যিই আমরা নিরাপদ নই...
  • মানুষের কল্যাণ হোক।
 
Quantcast