www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

প্রাপ্তি

ছোটবেলা থেকে একটা ইচ্ছে হয়তো সবার থাকে, কিন্তু কেও প্রকাশ করে না বলাই বাহুল্য। ইচ্ছেটা আর কিছুই নয় বিয়ে করা আর কি! সেসময় অনেক কিছু চিন্তা মাথায় ঘোরে, তার প্রতিটাই যে অলীক তা আজ বুঝতে ভুল হয়না। আশা করা যায় এটুকু বললেই পাঠকগণ নিজের নিজের চিন্তাগুলিকে একটু আওড়ে নিতে পারবেন।
বাকি ইচ্ছেগুলির মধ্যে একটু উল্লেখযোগ্য ছিলো শান্তিতে দিন কাটানোর কথা। কোনো পরতে বসার চাপ নেই খালি সকালে অফিস যাও, বিকেলে ঘরে ফিরে খাও দাও আর ঘুমাও। জীবনটাকে কতো সহজ ভাবতেন না সবাই। আর এই ভেবেই সত্যিকারের জীবনটাতে হতাশা গ্রাস করতো মাঝে মধ্যেই। হায় রে পোড়া কপাল কিসে শোক করতেন আর কিসেই বা দুঃখ করতেন। আজ তো বোঝেন সত্যিটা আসলে যে কি?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইচ্ছে ছিলো জীবনের একাকিত্ত। তার জন্নে মনটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে যেতো। যদি একজন কেও থাকতো তবে কি ভালোই না হতো! এই বালখিল্য চিন্তা ভাবনাগুলো সে সময়ের একা থাকার আনন্দগুলোকে হেলায় হারাতে বাধ্য করতো।
আর এরপর জীবনে একদিন সেই অসাধ্য সাধন হলো, মানে প্রেম হলো তারপর চাকরিও হলো আর বিয়ে হলো আর কি। মানে এক এক করে সব চাওয়াগুলো পাওয়া হলো। এখন চাকরি জীবনের বাস্তব রোজ একটু একটু করে আপনাদের বাধক্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখানে দিন কাটানো মানে নিজেকে পুরো ভাঙ্গিয়ে নিংরিয়ে উজাড় করে দেওয়া, আর তারপরেও আপনার প্রকৃত প্রাপ্য আপনার না জোটা, আপনার কাজের সাফল্য অন্নের কাঁধে যাওয়া আর অন্নের কাজের অসাফল্যতা আপনার কাঁধে জোটা তো লেগেই থাকবে আজীবন। এরপর কর্মক্ষেত্রের রাজনীতি কপালে জুটলে তো আর কথাই নেই। সেক্ষেত্রে আত্মহত্যা আপনাকে মোক্ষ দিতে পারে যেটা আপনি করতে পারবেন না কারন জীবনের অন্য পাওয়াগুলি আপনাকে সেটা করতে বাঁধা দেবে, আপনাকে বাঁচানোর জন্যে নয় বরং আরো সুদৃঢ় পক্রিয়ায় আপনাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারার জন্যে।
চলুন এবার যায় আপনার দ্বিতীয় প্রাপ্তি মানে প্রেম নিয়ে। এটা কখনো কখনো আপনাকে আপনার তৃতীয় প্রাপ্তি পর্যন্ত নিয়ে যায়। প্রেমে পরে প্রথম যেটা আপনি হারিয়েছেন তা হলো আপনার স্বাধীনতা, যেটা শুরুতে আপনার মূল্যবান না লাগলেও ক্রমেই সেটার মূল্যবোধ আপনি বুঝতে পেরেছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তখন আর আপনার কিছু করার ছিলো না।
এবার আসা যাক আপনার জীবনের তৃতীয় আরেকটি প্রাপ্তি নিয়ে, সেটা হলো বিবাহ। বিবাহিত জীবনকে যদি এক কথায় প্রকাশ করা হয় সেটা হলো সম্ভবত এরকম “যে জীবন শুরু হয় অনেক আশা আর ভরসার বহিতপ্রকাশ দিয়ে কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনার জীবনের বাঁচার প্রত্যেকটা আশাগুলো এক এক করে প্রান হারাবে আপনার চোখের সামনে কিন্তু মজার ব্যাপারটা হোলো তাতেও কিন্তু আপনি মরতে পারবেন না কারন আপনার কাঁধে থাকবে অনেক দায়িত্ব(আপনার নিজের লোকজনদের যেমন বাবা,মা,স্ত্রী,পুত্র,কন্যা প্রভিতি) সুতরাং আপনি মরে গেলে তাদের জীবনটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে যেটা আপনি চাইবেন না। মানে সবার চোখে আপনি নায়ক হবেন কিনা বলা শক্ত কিন্তু নিজের চোখে আপনার খলনায়ক হওয়াটা পাকা। কেনো সেটা বোঝার ক্ষমতা ততদিনে আর আপনার থাকবে না।“ সে যাইহোক আপনিই এ জীবন নিজেই বেঁচে নিয়েছেন তাই অন্যকে দোষ দেবার কোনো অবকাশ নেই। আবার যদি এটা আপনার দ্বিতীয় প্রাপ্তির সাথে কোনোভাবে যুক্ত থাকে তবে তো কোনো কথায় নেয়। যদি বিয়েকে আমরা মৃত্যু বলতে পারি তবে প্রেম করে বিয়েকে আমরা ইচ্ছেমৃত্যু বলতেই পারি, কারন এক্ষেত্রে আপনার মৃত্যুর সরঞ্জামটি আপনি নিজেই বেঁছে নিয়েছেন।

আপনার জীবনের এই তিন প্রাপ্তি আপনাকে আলাদা আলাদা করে বিভিন্ন উপায়ে একটু একটু করে মানুষিক বিকলাঙ্গ করে দেবে কিন্তু যেদিন আপনি এই তিন প্রাপ্তিই একসাথে ধারন করবেন সেদিন সয়ম ব্রম্ভাও আপনাকে আর রক্ষা করতে পারবেন না। আপনার জীবনের বীমা করিয়ে রাখবেন, যদিও সেটা আপনার কাজে লাগবে না। এবার ভেবে বলুন তো এই প্রাপ্তিই কি আপনি চেয়েছিলেন? নিশ্চয় না। তাহলে না বুঝে আপনি জীবনে কতো বড় বাঁশ স্বেছায় নিয়েছেন! আপনি যখন ছোটবেলায় এই সকল প্রাপ্তির জন্যে হতাশ হতেন, আজ ভেবে বলুন তো ওই সোনার দিনগুলো কি অবহেলায় নষ্ট করেছেন। তখন না ছিলো কোনো দায়, না ছিলো কোনো চাপ তবুও আপনি বোকার মতো দুঃখ পেতেন। আগে বোঝেননি তায় তো, সেতো বটেই, কে আর নিজের ভালোটা নিজে বোঝে বলুন তো! আসলে সে সময় আপনিও অন্য কারো জীবনের দায় ছিলেন। আপনি না বুঝেও পাপের অংশীদার ছিলেন। ওই কথায় আছে না পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না। আপনার জীবনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো, এখানে পাপ বেটাকেও ছাড়লো না।।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ২৪৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৩/১০/২০১৮

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast