www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

একটি প্রশ্ন তাড়া করে ফেরে

শেষমেশ একটা টিকেট জোগাড় হয়েই গেল। যদিও কয়েকঘন্টা আগেও ঢাকার বাইরে যাওয়ার কোন পরিকল্পানা আমার ছিলনা । শেষতক যাওয়ারই সিদ্ধান্তই নিলাম। স্কুল লাইফের সবচেয়ে প্রিয়বন্ধু রিয়াদের বোনের বিয়ে । সে এখন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে । প্রায় একমাস আগে সে আমাকে বলে রেখেছে যেন কোনক্রমেই বিয়েতে অনুপস্থিত না থাকি । তাই এবার গন্তব্য দিনাজপুর । সেখানে আমার দুইটি বসন্ত কেটেছে । আমি আর রিয়াদ একই স্কুলে পড়েছি । পরে এসএসসির পর আমি চলে আসি ঢাকায় । তবে আমার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে হওয়াই বছরান্তে এক দুদিনের বেশি আমাদের দেখা হয়না ।
গাড়ি রাত ১০ টায় ।
ঢাকা থেকে দিনাজপুর, ৮-১০ ঘন্টার যাত্রা।
যাত্রাপথে আমার ঘুম হয়না ।
কানে হ্যাডফোন গুঁজে চোখ বন্ধ করে রিয়াদের সাথে আমার খুনসুটিময় স্মৃতিগুলো মনে করার চেষ্টা করছি । একটু তোতলানো স্বভাব ছিল তার । বয়ঃসন্ধিকালে উড়নচণ্ডী ভাব মিচকে ফাজলামো আর দূরান্তপনার ঝুরি ঝুরি অতীত আমাদের ।
রিয়াদের ছোট বোনের নাম সায়মা ।
তারা এক ভাই এক বোন।
সায়মার ছোট বেলাকার মুখটা মস্তিষ্কের স্মৃতিসেলে যে ভাসাভাসা মনে আছে ।
হ্যাঁ,
প্রথম যেদিন আমি রিয়াদের বাসায় যাই।
স্কুল ইউনিফর্ম পড়েই গিয়েছিলাম ঠিক মনে আছে । ঠাকুরগাঁওয়ের মফস্বল থেকে তখন আমি সবে দিনাজপুর জেলা স্কুলে ভর্তি হয়েছি ।
প্রথম কয়েকদিন ক্লাস করার পরেই রিয়াদের সাথে আমার গাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল । সেদিন রিয়াদের বার্থডে উপলক্ষে তাদের বাসায় ছোট্ট করে খাওয়া- দাওয়ার আয়োজন ছিল। আমি রিয়াদ আর কয়েকজ মিলে স্কুল ছুটির পরে তাদের বাসায় যায় ।
সায়মা তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে ।
সেদিনই প্রথম দেখা ।
লাল একটা থ্রিপিজ পড়েছিল সায়মা ।
কি যে অপরূপ লাগছিল তাকে ।
তাকে দেখার পরেই আমার বুকে দুরুদুরু কম্পন শুরু হয়ে গেল।
সামনে মজার মজার খাবার দেওয়া হয়েছিল আমাদের । সবাই সানন্দে খেলেও আমার একেবারে খেতে ইচ্ছে করছিলনা ।
কত নির্ঘুম রাত কেটেছে তাকে ভেবে তার কোন ইয়াত্তা আছে !
তারপর নানা অজুহাতে রিয়াদের বাসায় যাওয়া, আন্টির হাতের মজার খাবারের স্মৃতি ।
আর সায়মা ।
যাকে একপলক দেখার জন্য মন আনচান করত ।
উফ , কি সেই অনুভূতি ।
কৈশোরের পাগলানোপনা !
এভাবে বেশ কয়েকমাস কেটে গেল।
ম্যাসে বসে আমি সমাজ বইটা নাড়াচাড়া করছিলাম । পাতার ভাজে একটা ছোট্ট চিরকুট অবিষ্কার করলাম। তাতে লেখা --

প্রিয়তম,
হুসাইন ভাইয়া
আমি তোমাকে খুবই ভালোবাসি ।
ইতি
Saiমা

চিরকুটটা পাওয়ার পর আমি যেন বাস্তবে ফিরে এলাম । তখন মনে হতে লাগল -- না, আমি এটা করতে পারিনা । তাহলে রিয়াদ আমাকে খারাপ ভাববে । তাছাড়া রিয়াদের আম্মাই বা কি মনে করবে !
তারপর থেকে আমি সায়মার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছি ।
রিয়াদের বাসায় যাওয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। পরে যখন সায়মার মুখোমুখি হয়েছি তার চোখে আমি তাকাতে পারিনি ।
তাকাইনি ইচ্ছে করেই ।
না জানি কি দেখতাম সে চোখে ।
হয়তো -- রাগ, ঘৃণা অভিমা কিংবা শুধুই ভালোবাসা আর ভালোবাসা ।
কিন্তু আমি তখন এতটাই বন্ধুবৎসল ভীরু প্রেমিক যে শুধু পালিয়ে বেড়িয়েছি তার থেকে । এভাবে কেটে গিয়েছে ছয়টি বসন্ত ছয়টি বর্ষা । সায়মা এখন অনার্স প্রথম বর্ষে ।
আর দু'দিন বাদে সায়মার বিয়ে !
তার কাছে কি আমি ক্ষমা চাইবো না চাইবো না ? হিসাব মিলাতে পারছিনা । আমার কি সত্যিই তার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত....?
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৩৫৭ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২০/০৩/২০১৮

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • নাইস
  • রাবিয়া সুলতানা ২২/০৩/২০১৮
    খুব সুন্দর
  • মাহামুদুল হাসান ২১/০৩/২০১৮
    মনে হচ্ছে স্বজীবনের গল্প।ভাল লেগেছে
  • Tanju H ২০/০৩/২০১৮
    চমৎকার
  • সুন্দর। শুভেচ্ছা।
 
Quantcast