www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

যে জলে দাগ কাটেনা

নদী ও মানুষ, দুটিই চিরকাল একই পথে বহমান নয়। বারবার এদের গতি পথের পরিবর্তন হয়েছে। নদীর চলার পথে যা পায় ভাসিয়ে নিয়ে চলে। মানুষই শুধু ব্যাতিক্রম। ঘি এর মধ্যেও কাঁটা খুঁজে বেড়ায়। জাত-বেজাতের দ্বন্দে জড়িয়ে মানুষ নামের মহিমা হারায়। অথচ নদী কোন বিভেদ জানেনা। বাড়িঘর, জ্যান্ত-মড়া- সবই নেয়। পৃথিবীর সব উচ্ছিষ্টের ফেরিওয়ালা হলো নদী। মানুষ তাই নিজেকে সমর্পণ করতে, জীবন খুঁজতে, দান-ধ্যান করতে, জঞ্জাল ফেলতে- বারবার নদীর কাছেই ফিরে গেছে। মানব সভ্যতা নদীর গতিপথ অনুসরণ করে অগ্রগামী হয়েছে।

মানুষ কি তবে নদীকে কিছুই দেয়নি? দিয়েছে। দুহাত ভরে দিয়েছে। নদী যেখানে জল, উর্বর পলিমাটি, রুপালি শস্য দিয়ে সভ্যতা গড়ে দিতে কার্পণ্য করেনি। মানুষ সেখানে নদীর বুকে বাঁধ দিয়েছে। মোহনায় পোঁছনোর পূর্বেই শুকিয়ে বিরানভূমিতে পরিণত হতে হয়েছে। মানুষের সৃষ্ট বর্জ্য নালা দিয়ে বয়ে এনে নদীতে উগরে দিচ্ছে। ঘাট-পাড় দখল করে জীবন-যাত্রার বিকাশ করেছে। নদী আমাদের সভ্যতা এনে দিয়েছে। আর মানুষ কেবলই তাকে বিবসনা করে ছেড়েছে। এখানে এভাবেই নদী কেন্দ্রিক মানবজাতির চূড়ান্ত অর্জন অথবা চূড়ান্ত ব্যর্থতার গল্প রচিত হয়ে গেছে। লক্ষ বছরের মানব সভ্যতার ইতিহাস মাটিতে মিশে যায়। কিন্তু নদীর রেখা মুছে যায়না। নদী নিঃশেষে বিলীন হয়ে গেলেও তার তলায়, আনাচে-কানাচে হারানো সভ্যতার চিহ্ন সঞ্চিত রেখে দেয়।

আমরা মানুষ না হলেও যেন নদী হই। নদীর মতো মানুষ হই। তাহলেই প্রকৃতি শুদ্ধ থাকবে। প্রকৃতির শুদ্ধতায় মানব সভ্যতাও নিরাপদে, দীর্ঘস্থায়ী ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

©সুব্রত ব্রহ্ম
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
ময়মনসিংহ।
বিষয়শ্রেণী: অভিজ্ঞতা
ব্লগটি ৫৩ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৩/০৫/২০২০

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast