www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

পুরুষ ও নারী না মানুষ এবং অবশেষ মানুষ

মনুষ্য শব্দটি একটি অতি পরিচিত শব্দ ৷ কিন্তু এর বিভিন্ন ব্যবহার কেন জানি সঠিক মনে হয় না ৷ এখানে আমি বলতে নিরূপায় মানুষ যে অর্থে মনুষ্য শব্দটি ব্যবহার করতে চেয়েছে তা বিকৃত হয়ে গেছে ৷ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এক পক্ষে চলে গেছে নারী শব্দটি, আরেক পক্ষে পুরুষ শব্দটি ৷ এখানে অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে শারিরীক ভিন্নতার কারণেই নারী-পুরুষ শব্দটি এসেছে ৷ সেখানেও একমত হতে পারবো না ৷ কারণ মনুষ্য বিবেচনায় সকলেই রক্তে মাংসের মানুষ ৷ বিবেচনায় ও ধর্মিয় বিবেচনায় সকলেই মাটির মানুষ ৷ মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে তারা সকলেই বোধ সুসম্পন্ন প্রাণি ৷ তবুও মতভেদ, ভিন্নতা, বৈষম্যতা, হটকারিতা, স্বার্থবাজী, হিংসা ইত্যাদি আলাদা করেছে দুটি পক্ষকে ৷ এ কারণে গড়ে উঠতে দেখা যায় নারীবাদী নামক একটি শব্দকে ৷ আবার পুরুষবাদী কোন শ্রেণিকে ৷ যার যার অবস্থান থেকে সকলেই খুব সোচ্চার ৷ কিন্তু এগুলোরতো কোন প্রয়োজন ছিল না ৷ মানুষ যদি শব্দ দ্বারা বিভক্তিতে চলে যায় তাহলে কাঠামোগত সুশৃক্ষল সমাজ পরিলক্ষিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই ৷ জানি যুগে যুগে অনেক কবি সাহিত্যিক এসব ব্যাপারগুলো অবতারনা করেছেন ৷ এখন পর্যন্ত চলমান ৷ প্রত্যেক বুদ্ধিমান মানুষ, না বুদ্ধিমান বলবো না, প্রত্যেক জ্ঞানী মানুষের এসব ব্যাপারগুলো নিয়ে অনেক বইও রচিত হয়েছে ৷ এতে কিছুটা হলেও সামাজিক পরিবর্তন হতে আমরা দেখতে পেয়েছি ৷ কিন্তু সমাজের সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন হয় নি ৷ যুগে যুগে বিভক্তির যে নিয়ম তা এক নিমিষে রোধ করা যাবে না ৷ ভাগাভাগির নিয়মকে বা শব্দগুলোকে পরিবর্তন করার প্রথম ধাপ হতে পারে পরিবার ৷ যেখানে শব্দকে ভেঙ্গে দ্বৈত শব্দ না এনে এক দৃষ্টি উপস্থাপন করাটাই জ্ঞানীর পরিচায়ক হবে ৷ যেমন- বাবা-মা দুটি শব্দ ৷ এখানে বাবা বড় না মা বড় এ বিভক্তি না করে সকলেই সমান এ বোধ মনে আনা, মায়ের অধিকার ও বাবার অধিকার এক মনে করা, বংশ-গোষ্ঠি সকলের সমান প্রাপ্য অধিকার মনে করা, নারী সন্তান ও পুরুষ সন্তান সকলে সমান এবং তাদের মানুষ মনে করা, নারী ও পুরুষ নিয়ে বিভক্তি না করা, ছেলের ঘরের নাতি ও নাতনি এবং মেয়ের ঘরের নাতি ও নাতনির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া ৷ সকল কথার সার কথা দৃষ্টিভঙ্গি এক করা বা পরিবর্তন করা ৷ তবে আধুনিক সমাজে এর ছায়া অনেকটা এসে গেছে ৷ কারণ- মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে ৷ তারপর শিক্ষাঙ্গনে মা-বাবার সমান পরিচায়ক বিষয়গুলো নিয়ে আসা ৷ তারপর সমাজের মানুষের আগেকার লালিত পিতৃত্বের সঙ্গাকে মুছে দিয়ে সেখানে পিতৃ ও মাতৃত্বের উভয় অধিকারকে নতুন মনে লালিত করা ৷ যা কবি-সাহিত্যকরা বুঝাতে চায় পরিচির অধিকার ৷
তবে এই বিষয়গুলো সমাজের অনেক মানুষের মনে লালিত হওয়া শুরু হয়ে গেছে ৷ এটি আশার বানী ও সুন্দর সমাজ দেখার দ্বারপ্রান্তে প্রায় ৷ তবে আগেকার কিছু সাম্যহীন বদভ্যাসী মানুষ একে প্রতিহিত করার প্রচেষ্টায় সব সময় ওত পেতে থাকে ৷ তবে তাদের দোষ নেই ৷ তাদের ভিতরগত নষ্ট ক্রিয়াগুলোকে সামনে এনে চিহ্নিত করার দায়িত্ব আমাদের ৷ উদাহরণসরূপ- নারীর পরিচয় কিন্তু শুধু নারী নয়, সে একজন মানুষ বুঝিয়ে দেওয়া ৷ বুঝানোর প্রক্রিয়া কি হওয়া উচিত ? নিজেকেই প্রশ্ন করলাম ৷ ধরুন- বাবা-মায়ের মিলিত হওয়ার সফলতায় যে সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে তাতে দুজনের অধিকার ৷ এ সঙ্গার ভিতরে কম নয় বাবা, কম নয় মা ৷ এখন সকলে বলতে পারে- এটা সবাই জানে, সবাই মানে ৷ কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে মেনে নিতে দেখা যায় কিন্তু পরোক্ষভাবে নয় ৷ ব্যাপারটিকে আরেকটু খোলাসা করি ৷ পরিচিতি অধ্যায়ে আমরা অনেক অংশে বাবাকে নিয়ে আসি, কিন্তু মাকে আনি না (সকলের ক্ষেত্রে নয়) ৷ কিন্তু সেটা করার ফলে মায়ের সম্মান আর থাকে না ৷ হ্যা কিছু ক্ষেত্রে অধিকার আসে বা দেখি ৷ যেমন- মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত ৷ রাসূল (স.) মায়ের অধিকারের কথা বলেছেন তিনবার, আর বাবার অধিকারের কথা বলেছেন একবার ৷ কিন্তু বাস্তব অর্থে কি এর পরিপূর্ণতা কী আমরা দেখতে পাই ? মনে হয় পাই না ৷ আত্ম মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমান এই আত্ম মর্যাদাটা আসলে যে কী সেটাই আমরা বুঝি না ৷ আমরা মাঝে মাঝে কেমন যেন আচরণ করি ৷ যেমন- আমার, তোমার, তোমাদের ইত্যাদির ভিন্নতা আনয়ন ৷ বংশ পরিক্রমা নারী ও পুরুষ থেকেই বিস্তার লাভ করে এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনিভাবে তার বংশের অধিকারটা অনুস্বীকার্য হিসেবে দাঁড়ায় ৷ যদি কেউ একে অস্বীকার করে তাহলে স্বার্থবাদী হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা অপরাধ হবে না ৷ বরঞ্চ ঠিকই হবে ৷

তাই নারী-পুরুষের মনুষ্য অধিকারগুলোর বিষয়গুলোকে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না বা আমি ভুলে যেতে পারি না সমাজ সুন্দর করতে হলে ছোট ছোট ভুলগুলো আমাদেরই পরিবর্তন করতে হবে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য ৷ তাহলে এক সময় পুরুষবাদীও শব্দ মুছে যাবে হৃদয় থেকে নারীবাদী কথাগুলো মুছে যাবে হৃদয় থেকে ৷
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৫০০ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৯/০১/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • পরশ ২২/০১/২০১৭
    ধন্যবাদ
  • আব্দুল হক ১৯/০১/২০১৭
    ভালো লিখার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ!
  • দ্বীপ সরকার ১৯/০১/২০১৭
    নাইস
 
Quantcast