www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ঠাকুরহাট কবিরাজ বাড়ি

হোনা দুবাই গিয়ে ভালোই রোজগার শুরু করে মাসে মাসে কিছু বাপকেও খরচ করতে টাকা দেয়। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নয় চৌধুরী,হাটে - বাজারে কিংবা মাতু ভুঁইয়ার পুরাতন বাড়ির লোকজনকে বলে পোলাটা একদম টাকা পয়সা দেয় না আমাকে।
ধার-দেনা কিংবা সুদে টাকা নিয়ে একরকম বহুকষ্টে বিমান ভাড়া যোগাড় করে যেতে হয় হোনাকে। কিন্তু চৌধুরী ভাবে ভিসা দিয়েছে হোনার শুশুর তাই জামাই বাবাকে অন্যান্য খরচের টাকাও তারা দিয়েছে। এক কথা দুই কথার অমিল হতে শুরু করে চৌধরী ও হোনার ভিতর। যার কারণে শুশুর গৃহ ত্যাগ করে বাপের বাড়ি উঠে হোনার বউ। আস্তে আস্তে কমতে থাকে বাপ বেটার যোগাযোগ ।অল্প রোজগার হলেও এক সময় ধার - দেনা ও সুদের কিস্তি পরিশোধ হয় হোনার।

হোনার বউ আম্বিয়া উঠে বাপের বাড়ি। আস্তে আস্তে চৌধুরীরও গালিগালাজ বাড়াতে থাকে ছেলে ও ছেলের বউকে। এইদিকে চৌধুরী ঠাকুরহাট চায়ের দোকানের গ্রাম্য রাজনীতিজ্ঞ হয়ে উঠে বনে যায় মাননীয় স্পিকার। ঠাকুর হাটের এক একটা চা দোকান এক একটা সংসদ। চৌধূরী নিজের ছেলের বউর সমালোচনা করার পাশাপাশি পাড়াপ্রতিবেশীর মেয়েবউদের সমালোচনা করে। কার বউ তরকারিতে লবন কম বেশী দিলো, কার মেয়ে কী পরলো ও কার মেয়ে চুপিচুপি প্রেম কিংবা বিয়ে করো এই হলো চৌধুরীর অলিখিত কাজ।

চৌধুরীর এইসব কাণ্ডহীন কর্ম হোনা সবই জেনে যায়। কারণ ঠাকুরহাট সংসদের চৌধুরীর সহকর্মীরাই নিজের পয়সা খরচ করে হোনাকে জানায়। আস্তে আস্তে হোনা মানসিক চাপে পড়ে। প্রবাসের নানা ঘাতপ্রতিঘাত এবং সংসারের বউ ও বাপের সত্যমিথ্যা কথার প্যাচে হোনা হয় দিশাহারা, চৌধুরীর হয় মাতু ভুঁইয়ার মত। হোনার হয় সন্তান ও সংসার গড়ে উঠে দালান ঘর। চৌধুরী হয়ে পড়ে নিঃস্ব শয্যাশায়ী।

কিছু বছর পর হোনার বড় ছেলে প্রবাসী হয় সংসারী হয় আর হোনা হয় পর। এইটা যেনো জীবনচক্র বিধাতার তৈরী,কর্মের ফল।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৫৪২৮৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৬/০৪/২০২৬

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast