www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

সাফল্য গাঁথা কৃষ্ণবর্ণ

কালো কি শুধুই কুৎসিত? বর্ণবাদী বৈষম্য ম্লেচ্ছ, দৃষ্টিকটু, নাকি এর পিছনেও রয়েছে বীরত্ব গাঁথা, অপার সম্ভাবণার সুতিকাগার? নাকি তারাই উর্ধ্বে স্থান পেয়েছে ভালবাসায় স্নিগ্ধতায় যোগ্যতার বিচারে? প্রশ্নটা খুব বিদঘুটে। বিভ্রান্তিকর। আসলে প্রথমে যে কারো দেখলেই মনে হবে। আজগুবি ছাড়া কিছুই নয়। তারই একটুকরো প্রয়াস এর মেলে ধরতে চেষ্টা করেছি।

তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি,

"কালো যদি মন্দ হয় চুল
পাকিলে কান্দো কেনে।"

তার এই বচনে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে মনের গহীনে। জায়গা করে নিয়েছে অসংখ্য কবি মনে,তরুন সম্প্রদায়ে, প্রেম পিপাসু যুবক যুবতীর প্রেম বাসনায়। কেন তিনি এমন বললেন সমালোকেরা হয়তো সমালোচনাও করেছেন। বহু সাহিত্য গবেষক গবেষোনা ও করেছেন। ভাবিয়ে তুলেছেন সাহিত্যাঙ্গনে। অভিনব চিন্তার সূত্রপাত ভাবনার প্রসারতায় উদ্বেল জাগিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয় তিনি কালোর মাঝে অভিনব কিছু দেখেছেন। হয়তো তিনি তার প্রেয়সীকে অগ্নীকন্যা পদ্মপলাশলোচনা দীপ্তিময়ী কৃষ্ণবর্ণের কৃষ্ণাকেই কল্পনায় এঁকেছিলেন।আমরা আগে সম্পর্ক কি বুঝে নেই। সম্পর্ক মিত্রেরও হতে পারে। আবার বৈপরিত্যেরও হতে পারে। তবে দুটোই সম্পর্ক। তিনি সাদা কালোর মাঝে শুধু সম্পর্কটাকেই নিগড়ে নিয়েছেন। বৈষম্যতার যে আবহ তাকে মূল্যায়নই করেন নি।এখন আসি সৃষ্টির সূচনালগ্নে। আদি গ্রন্থ হলো ঋগ্বেদ। এখানেই আর্যদের সূচনা লগ্ন ধরা হয়। দেব-দৈত্য,সুর-অসুর সৃষ্টির উৎস কোথায়? তাদের কি আলাদা কোথাও জন্ম হয়েছে নাকি একই সাথে! দক্ষ প্রজাপতির তেরো কন্যা ও ব্রহ্মার মানস পুত্র কশ্যপের থেকেই দেব-দৈত্য,সুর-অসুর, বৃক্ষাদি, মৎস্য,জন্তুর সব কিছুরই সৃষ্টি। কশ্যপের ঔরস্যেই সৃষ্ট এই জগতের সব কিছুই। দিতি থেকে দেবতা,অদিতি থেকে দৈত,দনু হতে দানব,কাষ্ঠা হতে অশ্ব,অরিষ্ঠ হতে গন্ধর্ব,সুরভি হতে গাভী,মুনি হতে অপ্সরা, সুরসা হতে রাক্ষস। আবার দিতির গর্ভেই অসুরের জন্ম।শুধু দিতি প্রদোষ কালে পুত্র কামনা করায় তারা অত্যাচারী হয়ে ওঠে। এখন আসি দেবতারা কেন সম্মান পেলো অন্যরা কেন পেল না?দেবতারা কেন উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হলো অন্যরা কেন হলো না? তবে কি তারা কোন অপরাধ করে নাই নাকি তারা অত্যাচারী ছিল না? হুম ইন্দ্র অত্যাচারী ছিলেন। নারী লোভী ছিলেন। তবে মাত্রাভেদ রয়েছে। এখানেই ঈষৎ পার্থক্য ছিল। এই বৈষম্য ইন্দ্রও সৃষ্টি করে ছিলেন। বেদে আছে ইন্দ্র কালো বর্ণের কোন এক কৃষ্ণকে হত্যা করেছিলেন। বর্ণভেদ ইন্দ্র নিজেও করে ছিলেন। আসলে কৃষ্ণকায় মানুষের আর্যপরিমন্ডলকে সমৃদ্ধ করে তুলছিল বহুভাবে। রূপ লাবন্যে ঐশ্বর্যে পূর্ন দেবতাগণ মেনে নিতে পারছিল না। নিচু জাতের অজুহাতে মেরে দিয়েছে। এমণ ঘটনা এখানেই নয় মহাভারতেও লক্ষ করা যায়। কৃষ্ণকায় নিচু গোষ্ঠীর একলব্য যখন ধনুর বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করে। সৌষ্ঠব সুদর্শন পঞ্চ পান্ডব অজুন গোপনে এ কথা যখন জানতে পারে তার চেয়ে সামর্থ্যবান আর কেউ হওয়ার কথা নয়। অর্জুনের এই বীরত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য একলব্যকে তার অঙ্গুলি বিসর্জন দিতে হয়। অর্জুন মহাবীর শ্রেষ্ঠ ধনুরবিদ হলেন।অগোচরেই রয়ে গেল কৃষ্ণকায় বালক একলব্য।এমনি এক কৃষ্ণ বর্ণের যুবকের সন্ধান পাওয়া যায় অগ্নি পুরাণে। যেখানে রাজা বেনের ঊরু মথিত হয়ে এক খর্বাকৃতির কৃষ্ণবর্ণের পুরুষ পৃথুর জন্ম হয়। অঙ্গ নামের এক প্রজাপতির পুত্র রাজা বেনে প্রচন্ড অত্যাচারী ছিলেন। ঋষিরা তাকে হত্যা করেন। এই পৃথুই চাষাবাদের কৌশল উদ্ভাবন করেন। পৃথু আসার আগে প্রজাসাধারণ দুর্ভিক্ষে ভুগছিলেন। তার চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের ফলেই প্রজাদের দুর্ভিক্ষের উত্তরণ হলো। কথিত আছে সেই পূণ্য ফলেই রাজা বেণে স্বর্গবাসী হন। কৃষ্ণবর্ণের শ্রী কৃষ্ণ।পূজ্য দেবতা। তার অপার লীলায় কলিযুগে বিমোহিত। পার্থক্য করার জন্য ঈষৎ নীলাভ করতে হয়েছে। মূলত তিনি কৃষ্ণ বর্ণেরই। মহাভারতে আজন্ম যুবতী, পদ্মলোচনা, শ্যামবর্ণা অন্যতম চরিত্র তিনিও কৃষ্ণ বর্ণেরই। পঞ্চপান্ডবের ধর্মপত্নী।তিনিই পতিব্রতা আদর্শ ধর্মপালনীয়া। তার গায়ের রং কৃষ্ণবর্ণ তাই তার আরেক নাম কৃষ্ণা। আবার পরাশর রাজার ঔরস্যে মৎস্যগন্ধার গর্ভে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণবর্ণ, দীপ্তচক্ষু, পিঙ্গল জটাধারী ও শ্মুশ্রুধারী কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসের ঔরস্যেই কুরু ও পান্ডব বংশের সূচনা ঘটে। ধীবরকন্যা সত্যবতীর পুত্র বেদব্যাস আপন প্রতিভায় রচনা করেন মহাভারতের নববিন্যাস। রচিত হয় আদর্শ জীবনধারার লিপি।
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ১৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৯/০৬/২০২১

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • মাহতাব বাঙ্গালী ১০/০৬/২০২১
    নিপাত যাক
    সকল বর্ণ কিংবা জাতবাদের;
    দীর্ঘজীবী হোক মানবতার
 
Quantcast