শুনে রাখো...
জীবন আমাকে ভাঙেনি—
জীবন আমাকে চিনতে শিখিয়েছে।

চিনতে শিখিয়েছে
মানুষের মুখ,
মুখোশ,
আর মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা
নীরব বিশ্বাসঘাতকতাকে।

যাদের জন্য
নিজের রাতগুলো উৎসর্গ করেছি,
নিজের স্বপ্নগুলো বন্ধক রেখেছি,
নিজের হাসিটুকুও বিলিয়ে দিয়েছি—
তারাই একদিন
আমার দিকে তাকিয়ে বলেছে—
তুমি... বেশি করো।

কী অদ্ভুত, তাই না?

যতক্ষণ প্রয়োজন ছিল,
আমি ছিলাম আপন।
প্রয়োজন শেষ...
আমিও শেষ।

আমি ভেবেছিলাম,
ভালোবাসা মানুষকে ফিরিয়ে আনে।

না...
ভালোবাসা কাউকে ফিরিয়ে আনে না।
ভালোবাসা শুধু প্রমাণ করে—
কে থাকবে...
আর কে চলে যাবে।

যে মানুষটি সত্যিই তোমার,
সে ঝড়ের ভেতরেও
তোমার হাত আরও শক্ত করে ধরবে।

আর যে মানুষটি কখনোই তোমার ছিল না,
সে একফোঁটা বাতাসকেও
বিদায়ের কারণ বানিয়ে নেবে।

তাই আজ...
আমি আর কাউকে থামাই না।
কারও পায়ে শিকল পরাই না।
কারও কাছে থেকে যাওয়ার ভিক্ষা চাই না।

কারণ আমি জেনে গেছি—
মানুষ বদলায় না।
সময় শুধু
মুখোশ খুলে দেয়।

তারপর...

একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
আমি নিজেকেই জিজ্ঞেস করলাম—
সবাইকে বাঁচাতে গিয়ে
তুমি নিজেকে কেন হারিয়ে ফেললে?

সেদিন...
কোনো উত্তর পাইনি।
শুধু নীরবতা...

আর সেই নীরবতার ভেতরেই
আমি খুঁজে পেলাম
এক নতুন মানুষকে।
সে মানুষটি আমি।

আজ আমি
নিজের শান্তিকে ভালোবাসি।
নিজের একাকীত্বকে সম্মান করি।

নিজের আত্মসম্মানকে
কোনো সম্পর্কের বিনিময়ে বিক্রি করি না।

কারণ দিনশেষে...
ভিড় চলে যায়।
হাত ছুটে যায়।
প্রতিশ্রুতি ভেঙে যায়।
ভালোবাসার শব্দও
একদিন নিঃশব্দ হয়ে যায়।

কিন্তু...

যে মানুষটি
সব হারিয়েও
শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে—
সে আর কেউ নয়...সে আমি।
আর এবার...

আমি নিজেকে
কখনোই
হারাতে দেব না।