ধানমন্ডি ৯/এ। লেকের পাশের একটি অ্যাপার্টমেন্ট।
রাত ৩টা ১৭ মিনিট।
এই সময়টায় বিল্ডিংটা এমন চুপচাপ হয়ে যায়, যেন এখানে কেউ থাকে না। শুধু গার্ডরুমের সিলিং ফ্যানটা খটখট শব্দ করে ঘুরে যায়। আর সিসিটিভি মনিটরগুলোর নীলচে আলো ঘরের ভেতর নিঃশব্দে ছড়িয়ে থাকে।
রাশেদ সেই আলোর সামনেই বসে ছিল।
প্রায় তিন মাস হলো সে এই অ্যাপার্টমেন্টে নাইট সিকিউরিটির চাকরি করছে। রাতের ডিউটিতে নতুন কিছু ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। তবু নিয়মমতো মাঝেমধ্যে মনিটরের দিকে তাকায়। আবার খবরের কাগজে চোখ নামিয়ে আনে।
আসলে তাকানোটা দায়িত্বের জন্য, আগ্রহের জন্য নয়।
এই তিন মাসে সিসিটিভির ক্যামেরাগুলো তাকে কখনো অবাক করেনি।
খবরের কাগজের বিনোদন পাতায় চোখ আটকে গেল তার। বড় করে ছাপা শিরোনাম—
"আবারও সংসার বাঁধলেন নায়িকা কুলসুম"
রাশেদ খবরটা পড়তে শুরু করল।
দুই-এক লাইন পড়তেই লেখা শেষ।
নিচে ছোট করে ছাপা—
পৃষ্ঠা ১১, কলাম ৬।
বিরক্ত মুখে সে পৃষ্ঠা উল্টাতে গেল। পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে অভ্যাসবশত রাশেদের চোখ চলে গেল সিসিটিভি মনিটরের দিকে। এটাও তার প্রতিদিনের কাজেরই একটা অংশ। সে জানে, সেখানে নতুন কিছু দেখার কথা নয়। তিন মাস ধরে একই দৃশ্য দেখে আসছে। একই করিডোর, একই লিফট, একই নীরবতা।
কিন্তু আজ যেন কিছু একটা আলাদা।
তৃতীয় তলার ক্যামেরায় লিফটের দরজা খুলল।
এই ভবনে দুটি লিফট। রাতের বেলায় একটি বন্ধ থাকে। অন্যটিই চলাচল করে।
দরজা খুলতেই একজন মানুষ বেরিয়ে এল।
লোকটির মাথা নিচু।
ধীরে ধীরে করিডোর ধরে হাঁটছে।
রাশেদ একটু সামনে ঝুঁকে বসল।
এত রাতে তৃতীয় তলায় কেউ হাঁটছে?
ব্যাপারটা ঠিক স্বাভাবিক মনে হলো না। এই তিন মাসে ভবনের প্রায় সব বাসিন্দাকেই সে চিনে ফেলেছে। রাতের এই নীরবতাও তার খুব পরিচিত। অথচ আজ প্রথমবারের মতো সেই পরিচিত নীরবতার ভেতর একজন অচেনা মানুষ হাঁটছে।
লোকটা হাঁটছে।
ধীরে।
একদম ধীরে।
হঠাৎ রাশেদের কপাল কুঁচকে গেল।
লোকটার হাঁটার ভঙ্গিটা...
খুব চেনা লাগছে।
সে আর দেরি করল না। মাউস হাতে নিয়ে ক্যামেরাটা জুম করল।
ধীরে ধীরে মুখটা স্পষ্ট হতে লাগল।
পরের মুহূর্তেই তার হাত থেকে খবরের কাগজটা মেঝেতে পড়ে গেল।
লোকটা সে নিজেই।
একই মুখ।
একই চোখ।
একই গোঁফ।
শুধু একটা পার্থক্য।
লোকটার গায়ে নীল সিকিউরিটি ইউনিফর্ম নেই।
পরনে কালো শার্ট।
রাশেদ কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে গেল।
মনিটরের ভেতর মানুষটা তখনও করিডোর ধরে হেঁটে যাচ্ছে।
আর সে বসে আছে গার্ডরুমে।
এটা কীভাবে সম্ভব?
আর এক মুহূর্তও বসে থাকতে পারল না রাশেদ।
গার্ডরুমের দরজা খুলে লিফটের দিকে না গিয়ে সোজা সিঁড়ির দিকে ছুটল।
এক নিঃশ্বাসে তৃতীয় তলায় উঠে করিডোরে এসে দাঁড়াল।
করিডোর ফাঁকা।
কেউ নেই।
সে একবার ডান দিকে তাকাল।
তারপর বাঁ দিকে।
না।
কোথাও কেউ নেই।
মনে হলো, কিছুক্ষণ আগে এখানে কেউ ছিলই না।
রাশেদ ধীরে ধীরে লিফটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
ডিজিটাল ডিসপ্লেতে জ্বলছে—
৫
তার স্পষ্ট মনে আছে, সর্বশেষ লিফটে উঠেছিলেন ৫-এ ফ্ল্যাটের কবির স্যার। সেই হিসেবে লিফটের পাঁচ তলাতেই থাকার কথা।
তাহলে একটু আগে সে কী দেখল?
কে তৃতীয় তলায় নেমে করিডোর ধরে হাঁটছিল?
আর লোকটা দেখতে ঠিক তার মতো কেন?
কোনো উত্তর খুঁজে পেল না রাশেদ।
নিচে যাওয়ার জন্য সে লিফটের বাটনে চাপ দিল।
লিফট নামতে শুরু করল।
৫...
৪...
৩...
টিং।
দরজা খুলে গেল।
ভেতরে সবকিছু স্বাভাবিক।
রাশেদ লিফটে ঢুকে G বাটনে চাপ দিল।
কয়েক সেকেন্ড পর দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
লিফট নিচে নামতে শুরু করল।
৩...
২...
১...
G
দরজা খুলতেই রাশেদ প্রায় দৌড়ে গার্ডরুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
গার্ডরুমে ঢুকে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল রাশেদ।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ল।
মনে হলো, সে হয়তো ভুল দেখেছে। খবরের কাগজ পড়তে পড়তে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল, টেরই পায়নি।
নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল—এর বেশি কিছু নয়।
প্রথমেই চোখ গেল সিসিটিভি মনিটরগুলোর দিকে।
সবকিছু স্বাভাবিক।
করিডোর ফাঁকা।
লিফট বন্ধ।
কোথাও কেউ নেই।
রাশেদ চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর রাখা পানির বোতলটা হাতে নিল।
ঢকঢক করে কয়েক ঢোক পানি খেল।
নিঃশব্দ ঘরে গলা বেয়ে পানি নামার শব্দটাও কেমন স্পষ্ট শোনা গেল।
সে বোতলটা নামিয়ে রাখল।
আবার মনিটরের দিকে তাকাল।
সব স্বাভাবিক।
রাশেদ ডিভিআরের সঙ্গে লাগানো মাউসটা হাতে তুলে নিল।
টিক।
টিক।
টিক।
ফুটেজ পেছাতে লাগল।
কয়েক সেকেন্ড পরই মনিটরে সেই দৃশ্যটা ফিরে এল।
লিফটের দরজা খুলছে।
একজন মানুষ বেরিয়ে আসছে।
মাথা নিচু।
করিডোর ধরে হাঁটছে।
তারপর...
আবার লিফটের ভেতরে ঢুকে গেল।
রাশেদ স্থির চোখে তাকিয়ে রইল।
লোকটার হাঁটা...
শরীরের গড়ন...
মুখ...
সবকিছুই তার নিজের।
এর কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, রাশেদ নিজেই সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় উঠে যাচ্ছে।
সে ফুটেজ থামিয়ে দিল।
সে যখন লিফটের সামনে দাঁড়িয়েছিল, তখন তো লিফট পাঁচ তলায় ছিল। তাহলে...
সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ তলার ক্যামেরা চালু করল।
কিছুই নেই।
লিফটের দরজা কখনো খোলেনি।
করিডোরেও কেউ বের হয়নি।
রাশেদের বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল।
তাহলে লোকটা গেল কোথায়?
লিফটের ভেতরে ঢোকার পর মানুষটা মিলিয়ে গেল কীভাবে?
সে আবার ফুটেজ চালাতে লাগল।
হঠাৎ তার মাথায় একটা কথা এল।
লোকটা কি নিচে নেমে গিয়েছিল?
রাশেদ তাড়াতাড়ি গ্রাউন্ড ফ্লোরের ফুটেজ খুলল।
দৃশ্যটা দেখেই তার হাত মাউসের ওপর থেমে গেল।
লোকটা নিচে নেমেছিল।
অবিকল রাশেদের মতো দেখতে।
সে গার্ডরুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
তারপর দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করল।
টক।
টক।
টক।
মুখ নড়ছে।
কিন্তু কোনো শব্দ নেই।
রাশেদ তাড়াতাড়ি ক্যামেরার স্পিকারের শব্দ বাড়িয়ে দিল।
হালকা একটা শোঁ শোঁ শব্দ ভেসে এল।
তারপর...
একটা কণ্ঠস্বর।
খুব শান্ত।
খুব ক্লান্ত।
"আমাকে বের করো..."
কয়েক সেকেন্ড চুপ।
তারপর আবার—
"তিন বছর তো হয়ে গেল।"
রাশেদ আবার শুনল।
"আমাকে বের করো..."
"তিন বছর তো হয়ে গেল।"
একই কথা।
একই স্বর।
বারবার।
লোকটা কেন এমন বলছে?
আর কেনই-বা দেখতে ঠিক তার মতো?
রাশেদের হাত কাঁপছিল।
মাউসটা প্রায় হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ তার মনে হলো, এই ঘরের ভেতর বসে থাকলে সে পাগল হয়ে যাবে।
আর এক মুহূর্তও নয়।
সে উঠে দাঁড়াল।
ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল।
হাত বাড়িয়ে ছিটকিনিটা খুলল।
তারপর দরজাটা আস্তে করে খুলে বাইরে বেরিয়ে এল।
দরজা খুলতেই রাশেদ থেমে গেল।
মেঝেতে একটা খবরের কাগজ পড়ে আছে।
এইমাত্র তো এখানে কিছু ছিল না।
সে নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল।
কাগজটা পুরোনো। কোণাগুলো ভাঁজ হয়ে গেছে। কালি অনেকটা ফ্যাকাসে।
প্রথম পাতায় বড় বড় অক্ষরে লেখা—
"অ্যাপার্টমেন্টে অগ্নিকাণ্ডে নাইট সিকিউরিটি নিহত"
রাশেদ প্রথমে শিরোনামটা পড়ল।
তারপর চোখ গেল ছবির দিকে।
ছবিটা দেখে তার হাত কেঁপে উঠল।
এটা...
তার নিজের ছবি।
সে আবার পড়ল।
একবার।
দুইবার।
নিচে লেখা—
"নিহত সিকিউরিটি গার্ড রাশেদ মিয়া।"
খবরটা তিন বছর আগের।
রাশেদ মাথা নাড়ল।
ফিসফিস করে বলল,
— "না... এটা হতে পারে না।"
পরের মুহূর্তেই সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
বিল্ডিং ম্যানেজারের দরজায় গিয়ে একের পর এক ধাক্কা দিতে লাগল।
দরজা খুলতে একটু সময় লাগল।
বৃদ্ধ ম্যানেজার চোখ কচলাতে কচলাতে বেরিয়ে এলেন।
রাশেদ এক নিঃশ্বাসে সব বলে ফেলল।
লোকটা...
সিসিটিভি...
খবরের কাগজ...
ছবিটা...
সব।
বৃদ্ধ ম্যানেজার চুপচাপ শুনলেন।
তারপর একটা হাই তুলে শান্ত গলায় বললেন,
"ও কিছু না। তুমি যাও। চুপচাপ গার্ডরুমে গিয়ে বসে থাকো।"
কথাটা এমনভাবে বললেন, যেন রাশেদ বলেছে বাইরে বাতাস বইছে । এরপর ধীরে ধীরে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন।
রাশেদ কিছুক্ষণ বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, বৃদ্ধ মানুষটা ভয় পাননি।
একটুও না।
যেন তিনি আগেই সব জানতেন।
ধীরে ধীরে লিফটের সামনে এসে দাঁড়াল রাশেদ।
বাটনে চাপ দিল।
টিং।
শব্দটা শুনেই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
না।
লিফটে উঠবে না।
সে সিঁড়ি দিয়েই নিচে নামবে।
ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল।
যতই নিচে নামছে, ততই গার্ডরুমটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
তারপর...
সে থেমে গেল।
গার্ডরুমের ভেতরে কেউ বসে আছে।
দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।
লোকটা চুপচাপ সিসিটিভি মনিটরের দিকে তাকিয়ে।
রাশেদ নিঃশব্দে জানালার কাছে এগিয়ে গেল।
ছোট্ট কাচের ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকাল।
তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ যেন ফাঁকা হয়ে গেল।
ভেতরে যে বসে আছে...
সে আর কেউ নয়।
সে নিজেই।
নীল সিকিউরিটি ইউনিফর্ম পরে ঠিক যেমন করে সে প্রতিদিন বসে থাকে...
ঠিক তেমন করে।
রাশেদ ধীরে ধীরে নিজের দিকে তাকাল।
তার পরনে কালো শার্ট।
এক মুহূর্তে সবকিছু যেন মিলতে শুরু করল।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা মানুষটা...
এই কালো শার্টটাই পরেছিল।
রাশেদ কিছুই বুঝতে পারল না।
মনে হলো, পৃথিবীর সব শব্দ হঠাৎ থেমে গেছে।
সে আবার জানালার ভেতর তাকাল।
এবার ভেতরে বসে থাকা লোকটা ধীরে ধীরে মুখ তুলল।
সরাসরি রাশেদের দিকে তাকাল।
চোখ দুটো অদ্ভুত শান্ত।
ক্লান্ত।
তারপর খুব আস্তে বলল—
"আমাকে বের করো..."
একটু থামল।
তারপর আবার বলল—
"তিন বছর তো হয়ে গেল।"
রাশেদ নড়ল না।
মনে হলো, তার দুই পা মেঝের সঙ্গে আটকে গেছে।
লোকটা তখনও তাকিয়ে আছে।
শুধু তাকিয়েই আছে।
কতক্ষণ এভাবে কেটে গেল, রাশেদ বলতে পারবে না।
হঠাৎ—
আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার...
ফজরের আজানের ধ্বনি কানে যেতেই রাশেদ যেন হঠাৎ ঘুম ভাঙার মতো চমকে উঠল।
সে দেখল, গার্ডরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
কবে এখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তার মনে নেই।
ধীরে ধীরে ভেতরে তাকাল।
সবকিছু স্বাভাবিক।
খটখট শব্দ করে ফ্যান ঘুরছে।
সিসিটিভির মনিটরগুলোতে একের পর এক করিডোর, লিফট, গেট—সব আগের মতোই।
টেবিলের ওপর রাখা খবরের কাগজের পাতাগুলো ফ্যানের বাতাসে আস্তে আস্তে উল্টে যাচ্ছে।
মনে হলো, একটু আগে যা ঘটেছে...
হয়তো কিছুই ঘটেনি।
পরদিনই চাকরিটা ছেড়ে দেয় রাশেদ।
কেন ছেড়েছে, কাউকে কিছু বলে না।
শুধু বলে, আর রাতের ডিউটি করবে না।
কয়েক দিন পর নতুন একজন নাইট সিকিউরিটি গার্ড যোগ দিল।
রাত ১০টা।
বিল্ডিংয়ের বৃদ্ধ ম্যানেজার তাকে গার্ডরুম দেখিয়ে দিচ্ছেন।
সিসিটিভির মনিটর, ডিভিআর, লাইটের সুইচ—সব বুঝিয়ে দিলেন।
নতুন গার্ডের গায়ে নীল ইউনিফর্ম।
ডান পাশে লাগানো নামের প্লেটটা একটু বেঁকে ছিল।
বৃদ্ধ ম্যানেজার বললেন,
"নামের প্লেটটা ঠিক করে নাও।"
ছেলেটা বৃদ্ধাঙ্গুলি আর মধ্যমা আঙুল দিয়ে নামের প্লেটটা সোজা করল।
তাতে লেখা—
রাশেদ
বৃদ্ধ ম্যানেজার কয়েক পা হেঁটে আবার থেমে গেলেন। পেছন ফিরে বললেন,
"আর একটা কথা।"
নতুন গার্ড তাকাল।
"রাতে যদি ক্যামেরায় দেখো, কেউ করিডোর দিয়ে হাঁটছে... ওটা নিয়ে মাথা ঘামাবে না।"
ছেলেটা হেসে ফেলল।
"এত রাতে করিডোরে আবার কে হাঁটবে, স্যার?"
বৃদ্ধ ম্যানেজারও হালকা হাসলেন।
"সেটা জানার দরকার নেই। শুধু মনে রেখো... গার্ডরুম থেকে বের হবে না।"
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করল,
"আচ্ছা স্যার... উনি রাতে হাঁটেন কেন?"
বৃদ্ধ ম্যানেজার এবার উত্তর দিতে একটু সময় নিলেন।
করিডোরের দিকে একবার তাকালেন।
তারপর খুব শান্ত গলায় বললেন,
"হাঁটে। দেখে... সবাই ঠিক আছে কি না।"
"উনি কি এই বিল্ডিংয়ের কোনো স্যার?"
বৃদ্ধ ম্যানেজার ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন।
— "না।"
কথাটা বলেই তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন।
কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে আবার থামলেন। পেছন ফিরে না তাকিয়েই আস্তে করে বললেন—
"সে অন্য কেউ।"
তারপর ধীরে ধীরে বিল্ডিংয়ের অন্ধকার করিডোরে হেঁটে চলে গেলেন।
নতুন গার্ড কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর গার্ডরুমে ঢুকে চেয়ার টেনে বসল।
সামনের সিসিটিভি মনিটরগুলো একে একে জ্বলে উঠল।
তৃতীয় তলার ক্যামেরায় করিডোরটা ফাঁকা।
ছেলেটা নিঃশব্দে খবরের কাগজ খুলল।
ঠিক তখনই...
তৃতীয় তলার লিফটের দরজাটা ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করল।

মন্তব্য (0)
শুধু নিবন্ধিত সদস্যরা মন্তব্য করতে পারবেন। লগ ইন করুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।