📌 পর্ব ১ এবং ২ -এর লিংক কমেন্টে দেওয়া থাকবে। **
===========================
মেঝেতে পড়ে থাকা ছেলেটার অবস্থা দেখে আমি আরশাদ ভাইকে বললাম Garda-কে ফোন দিতে। কারণ তখন আর অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি ছিল না।
তবে একটা বিষয় সত্যি—তখনও আমরা কেউ জানতাম না আসল ঘটনা কী।
আমি Sinead-কে একটু শান্ত করার চেষ্টা করলাম। তারপর কিচেনের পাশের একটা চেয়ারে গিয়ে বসালাম।
কিছুক্ষণ পর Garda এলো। সঙ্গে এলো দুটো অ্যাম্বুল্যান্স।
মেঝেতে পড়ে থাকা ছেলেটাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। যার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলো। Sinead-ও সামান্য আহত হয়েছিল, তাকেও চিকিৎসা দেওয়া হলো।
সবাই ব্যস্ত, কিন্তু আমার মাথার ভেতর তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল—
আসলে কী হয়েছিল?
Garda প্রথমে আরশাদ ভাইকে জিজ্ঞেস করল।
কী হয়েছে?
আরশাদ ভাই যতটুকু জানেন, সব বললেন। এরপর Garda আমার দিকে ফিরে জানতে চাইল—আমরা কোন নাইটক্লাবে গিয়েছিলাম, Sinead কতটা ড্রিঙ্ক করেছিল, আরও কিছু বিষয়।
আমি Sinead-এর ড্রিঙ্ক করার পরিমাণ নিয়ে কিছুটা কম বললাম। হয়তো সেটা ঠিক ছিল না। কিন্তু তখন আমার মাথায় শুধু একটা চিন্তাই ছিল—Sinead যেন বড় কোনো সমস্যায় না পড়ে।
এর মধ্যে Sinead অনেকটাই শান্ত হয়ে গেছে।
একজন মহিলা Garda তার পাশে দাঁড়িয়ে বারবার বলছিল,
— Cool down, cool down. ( শান্ত হও, একটু শান্ত হও।)
অন্যদিকে Garda আহত ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করছিল কী হয়েছিল।
কিন্তু ছেলেটা তখন ঠিকভাবে কথাই বলতে পারছিল না। তার কথাগুলো এলোমেলো। বোঝা যাচ্ছিল, সে অতিরিক্ত মাতাল। তারপর তাকে ব্রেথালাইজার মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা হলো। এই মেশিন দিয়ে শরীরে অ্যালকোহলের পরিমাণ বোঝা যায়।
রিপোর্ট দেখে Garda বুঝতে পারল, ছেলেটার এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলার অবস্থাই নেই।
তার ফলাফল ছিল ০.১৯%।
এরপর Sinead-এর পরীক্ষা করা হলো। তার ফলাফল ০.১২%।
আর আমার ছিল ০.০৫%।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্বিতীয় অ্যাম্বুল্যান্স চলে গেল।
এরপর Garda সিদ্ধান্ত নিল—Sinead এবং ওই ছেলেকে নিয়ে যেতে হবে। সাথে আমাকেও নিয়ে যাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য
ঠিক তখন আরশাদ ভাই বাধা দিলেন।
তিনি বললেন,
— ভাই, যদি সম্ভব হয় বিষয়টা এখানেই মিটিয়ে ফেলেন। Sinead-কে আমি চিনি, ও এমন মেয়ে না—ও আমার বোনের মতো। আমি সত্যিই চাই না ওকে Garda Station পর্যন্ত যেতে হোক।
Garda শান্তভাবে বলল,
— দেখো, এখন তোমার ব্যবসার ব্যস্ত সময়। এখানে দাঁড়িয়ে যদি বিষয়টার সমাধান করতে চাও, তাহলে তোমার কাজের সময় নষ্ট হবে। আর এর ক্ষতি শেষ পর্যন্ত তোমাকেই বহন করতে হবে।
আরশাদ ভাই উত্তর দিলেন,
— লস হলে হোক , আমি দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি , তোমরা ব্যাপারটা টা , এই খানে মিটিয়ে ফেলো , তোমরা ক্যামেরার ফুটেজটা তা দেখো , যদি Sinead-এর দোষ থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে যান, আমার কোনো আপত্তি নেই।
Garda কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—ঠিক আছে। তুমি যেটা ভালো মনে কর
এরপর Garda প্রথমে Sinead-এর কাছে গেল।
— এখন কেমন লাগছে?
Sinead বলল,
— আমি ঠিক আছি।
— আমাদের সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় আছো?
— Yeah
Garda জিজ্ঞেস করল,
— তাহলে বলো, কী হয়েছিল? তুমি ওই দুই ছেলেকে আঘাত করলে কেন?
Sinead কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— ওরা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে অপমান করেছে। আমাকে আর আমার বন্ধুকে আলাদা করে দেখেছে। শুধু গায়ের রঙের কারণে ওকে ছোট করেছে।
তারপর Sinead বলল,
— আমি ওদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম।
Sinead বলেছিল,
— আইরিশ আইনে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। কারও গায়ের রঙ নিয়ে অপমান করা বা তাকে আলাদা করে দেখা আইনবিরোধী।
কিন্তু ছেলেগুলো তখন বলেছিল,
— ওই কালো লোকটার কথা বাদ দাও। আমাদের সঙ্গে এসো, আজ রাতে আরও মজা হবে।
এই কথাটাই Sinead নিতে পারেনি।
রাগের মাথায় সে আঘাত করে বসে।
এটাই ছিল Sinead-এর সরল উত্তর।
পরে CCTV ফুটেজ দেখা হলো।
ফুটেজে দেখা গেল, ছেলেগুলো প্রথমে Sinead-কে উত্তেজিত করছিল। Sinead কিছুক্ষণ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল—প্রথম আঘাতটা Sinead-ই করেছিল।
একজন ছেলে তখনও হাসপাতালে।
তাই নিয়ম অনুযায়ী Sinead-কে আটক করা ছাড়া Garda-এর আর কোনো উপায় ছিল না। আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো, আমাকে তাদের সঙ্গে যেতে হবে না। তবে পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য Garda Station-এ উপস্থিত থাকতে হবে। আমার Social Security Card-টাও তারা রেখে দিল। বলল, পরদিন Garda Station-এ গেলে সেটা ফেরত দেওয়া হবে।
আমার আর আরশাদ ভাইয়ের মন খারাপ হয়ে গেল।
তবে Garda আমাদের আশ্বস্ত করল।
সে বলল, যদি ওই ছেলেরা কোনো অভিযোগ না করে এবং Sinead-ও অভিযোগ না করে, তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে বিষয়টি এখানেই শেষ করা সম্ভব।
যাই হোক, শেষ পর্যন্ত Sinead আর ওই ছেলেটিকে Garda নিয়ে গেল।
আমি অনুরোধ করলাম, আমাকেও যেন Garda Station-এ যেতে দেওয়া হয়। যদি কোনো প্রয়োজন হয়, আমি কথা বলব।
Garda আমাকে যেতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু তারপরও আমি গেলাম।
কেন গেলাম, সেটা হয়তো তখন নিজেও ঠিক জানতাম না। শুধু মনে হচ্ছিল, এই অবস্থায় Sinead-কে একা ছেড়ে যাওয়া ঠিক হবে না।
Garda Station-এ পৌঁছে Sinead-এর সঙ্গে দেখা হলো।
আমি বললাম,
— Sinead, I am here. You just go to the cell and have a little sleep. You will be fine. ( Sinead, আমি এখানে আছি। তুমি চিন্তা করো না। এখন সেলে গিয়ে একটু ঘুমাও। সব ঠিক হয়ে যাবে। )
এখন Sinead পুরোপুরি শান্ত।
কিছুক্ষণ আগের সেই রাগী মানুষটার সঙ্গে এই Sinead-কে মিলানো কঠিন ছিল।
সে হাসিমুখে বলল,
— You head on home, sure nothin’ will happen. If they don’t make a complaint, I won’t either. But if they do, I’ll be makin’ one meself. (তুমি বাসায় চলে যাও। চিন্তা করো না, কিছু হবে না। ওরা যদি অভিযোগ না করে, আমিও কোনো অভিযোগ করব না। কিন্তু ওরা যদি করে, তাহলে আমিও নিজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করব। )
একটা কথা বলে রাখা ভালো, আমার সঙ্গে পরিচয়ের আগেও Sinead কয়েকবার মারামারির কারণে Garda-এর ঝামেলায় পড়েছিল। তখন সে ছিল কিশোরী, বয়স কম ছিল, কিছুটা উচ্ছৃঙ্খলও ছিল। তাই অভিযোগ, আইনগত প্রক্রিয়া—এসব বিষয়ে তার ধারণা আমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
সে জানত, কেউ অভিযোগ না করলে অনেক কিছুই সহজভাবে মিটে যেতে পারে। বিষয়টা আমি তখন জানতাম না।
তবে আমার সঙ্গে পরিচয়ের পর আমি Sinead-কে অন্যরকম একজন মানুষ হিসেবেই দেখেছি।
আমি আর কিছু বললাম না।
শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখলাম, Sinead ধীরে ধীরে সেলের দিকে চলে যাচ্ছে। কিছু কিছু মুহূর্তে মানুষের বলার মতো অনেক কথা থাকে, কিন্তু বলা হয় না।
সেদিন আমার অবস্থাও ছিল তেমন।
আমি সারা রাত Garda Station-এর রিসেপশনে বসে রইলাম।
আরশাদ ভাই বারবার ফোন দিচ্ছিলেন। ওখানকার পরিস্থিতি জানতে চাইছিলেন।
কিন্তু আমার চিন্তা ছিল অন্য জায়গায়। যে ছেলেটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার কী অবস্থা?
বারবার রিসেপশনে গিয়ে জানতে চাইছিলাম, হাসপাতাল থেকে কোনো খবর এসেছে কি না।
এর মধ্যে Sinead-এর মা সুজানাকে ফোন করেছিলাম। তিনি ফোন ধরেননি। সম্ভবত ঘুমিয়ে ছিলেন, কিংবা …………..।
Sinead-এর সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। Sinead-এর জীবনের অনেক কিছু দেখার পর মাঝে মাঝে মনে হতো, এই মেয়েটার অস্থির জীবনের পেছনে এই মহিলা যে দায়ী, তা যে কেউ দেখলে এককথায় বলে দিতে পারবে।
একজন মা কীভাবে নিজের সন্তানের কাছ থেকে এতটা দূরে থাকতে পারেন—সেটা সুজানাকে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।
ফোনে করার জন্য ফোন করছি , যেহেতু ফোন ধরে নাই আমি আর ফোন করি নাই , আর ফোন ধরলে যে অনেক কিছু হয়ে যাবে সেটাও না।
কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে খবর এলো।
ছেলেটা ভালো আছে।
নাকে সামান্য আঘাত পেয়েছে। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সে অনেকটা অচেতন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আঘাতটা গুরুতর নয়।
খবরটা শুনে বুকের ভেতর জমে থাকা একটা চাপ যেন একটু কমে গেল।
আমি সঙ্গে সঙ্গে আরশাদ ভাইকে ফোন করলাম।
সব শুনে তিনিও আমার মতো একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন।
তারপর শুধু বললেন,
— আলহামদুলিল্লাহ।
সারা রাত Garda Station-এ বসে থাকার পর সকাল হলো। সকাল দশটার দিকে হাসপাতাল থেকে ওই ছেলেটিকে Garda Station-এ নিয়ে আসা হলো।
Sinead আর ওই ছেলেটিকে সেল থেকে বের করে একটা রুমে নেওয়া হলো। সাথে আমাকেও
তিনি আরও বললেন, যদি দুই পক্ষ এখনই বিষয়টা মিটিয়ে নেয়, তাহলে ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে যাবে। না হলে বিষয়টি কোর্ট পর্যন্ত যেতে পারে।
আমাকে দেখে Sinead অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— Yer still here, is it? Did ya go home at all or spend the whole night here? ( তুমি এখনো এখানে? তুমি কি বাসায় যাওনি, নাকি পুরো রাতটাই এখানে বসে কাটিয়ে দিলে? )
আমি শুধু বললাম,
— How can I go home while you are here? ( তোমাকে এই অবস্থায় রেখে আমি কীভাবে বাসায় ফিরে যাই? )
(চলবে .... )

মন্তব্য (1)
শুধু নিবন্ধিত সদস্যরা মন্তব্য করতে পারবেন। লগ ইন করুন