www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

পোড়ো বাড়ির রহস্য - পর্ব - ৫

পর্ব - ৫

........কীভাবে সেটা সম্ভব !!

শেষমেশ ওদের'কে বোঝাতে পারলাম ঠিকই কিন্তু নিজেকে নিজের কাছে বড্ড দোষী বলে মনে হচ্ছিল।

আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, " খুনটা কি গতকাল রাতেই হয়েছে? "
তখন পটল যেন নিশ্চিতভাবেই বললো, " হ্যাঁ। গতকাল রাতের হয়েছে। কারণ রক্তের রং এখনও কালো হয়নি। সবেমাত্র রক্ত জমতে শুরু করেছে। "

পেঁচা অনেকক্ষন চুপ ছিল। এবার ও বললো, " খুনটা যদি হয়েই থাকে তাহলে কার খুন হয়েছে? মৃত দেহ টা খুনি কোথায় লুকিয়ে রেখেছে?"
পটল সম্মতি দিয়ে বলল, " আমিও এটাই ভাবছি। "

আমি যেন নিজেকে কোনোভাবেই বোঝাতে পারছি না । বারবার মনে হচ্ছে, আমি এখানে থাকতেও একটা জ্যান্ত মানুষের খুন হয়ে গেল? আগে কখনও কাউকে খুন হতে দেখিনি। তবে কয়েকদিন আগে শুনেছিলাম, আমাদের পাশর গ্রামেই বোধ হয় একজন ব্যক্তি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। আচ্ছা, তাকে খুন করা হয়নি তো ? ভাবতেই যেন সারা শরীর শিউরে উঠলো। বুঝলাম, মানুষেরই আর একটা রূপ বোধ হয় পিশাচ।

মনের মধ্যে এমন খারাপ ভাবনা আসছে কেন? এমনও তো হতে পারে, কোনো খেঁকশিয়াল বা অন্য কোনো প্রানী হয়ত ...,...!! ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কবরস্থানের দিকে নজর যেতেই মনে হল এটা হতে পারে না। এখানে খুন হয়েছে, মানুষ খুন। কারণ দুটো। প্রথমত, "গতকাল রাতে যখন আমি কবরস্থানে এসেছিলাম তখন সেই কবরস্থানের পাশেই আর একটা গর্ত খোঁড়া ছিল। সেটা এখন মাটি দেওয়া। তাহলে মাটিটা কে দিল? দ্বিতীয়ত, সিঁড়িতে শুধুমাত্র মানুষেরই পায়ের ছাপ। কোনো জন্তুর পায়ের ছাপ ছিল না। যদি ঐ ঘরে কোনো জন্তু যেত তাহলে তারও পায়ের ছাপ অবশ্যই বোঝা যেত।

হঠাৎ পটল আমাকে ঝাঁকানি দিয়ে বললো, " তখন থেকে কি ভেবে যাচ্ছিস? " আমি হাতে স্পিকারটা নিয়ে বললাম " ওখানে খুন হয়েছে। এখন বাড়ির দিকে চল। আমার সারা শরীর জুড়ে ক্লান্তি আর অবসন্নতা। একটু বিশ্রামের প্রয়োজন। " পেঁচা পুতুলটাকে নিল আর পটল ক্যামেরাটা নিয়ে বাড়ির দিকে আসতে আসতে আমি বললাম, " পুতুলটা তোরা ওখানে রেখে কি ভেবেছিলি আমি ভয় পাব? " আমি কথাটা বলার সাথে সাথেই দেখলাম ওরা আকাশ থেকে পড়লো। ওরা একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে পেঁচা বললো " আমরা এসব রাখিনি। " আমার প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরে বিশ্বাস করতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিলাম।

মিনিট দশেক পরে বাড়িতে আসলাম। মা খুব বকলেন। সারা রাত কোথায় ছিলাম জানতে চাইলে নিজেকে বাঁচার জন্য মিথ্যা কথা বললাম। বললাম, " বন্ধু'র বাড়িতে গিয়েছিলাম। দেরি হয়েছিল বলে বাড়িতে আসতে পারিনি। ফোন করব ভেবেছিলাম কিন্তু আর করা হয়নি।

দেখলাম মা আর প্রশ্ন করলো না।

তবে মনে মনে মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। মায়ের কাছে মিথ্যা বলি না তবে আজ বলতে হল। কারণ সত্য বললে, মা, বাবা খুব বকবেন।

স্পিকারটা ঘরে রেখে এসে, স্নান করতে গেলাম নদী'তে। ক্লান্তি দূর করতে চাইলে নদীর জলই সবচেয়ে ভালো। জলের মধ্যে এলিয়ে দিলে অনেকখানি শান্তি পাওয়া পাওয়া যায়। আর আমার মনে হয়, প্রয়োজনীয় শান্তিই একমাত্র ক্লান্তি দূর করতে পারে।
না আমার শান্তি আসেনি। কারণ মাথায় তখনও পোড়ো বাড়ি'র রহস্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। যখন স্নান করে উপরে উঠলাম তখন হঠাৎ মনে হল, বাড়িটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আর এখন চলছে ২০২১ সাল। রহস্য ভেদ করতে হলে বাড়িটা সম্পর্কে আগে ভালো করে জানতে হবে। আর সেটা সম্ভব কোনো গল্প প্রিয় বয়স্ক ব্যাক্তির কাছে।

তাড়াতাড়ি করে বাড়ি ফিরলাম।

চলছে ..........
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৭৭ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৫/০১/২০২২

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • একনিষ্ঠ অনুগত ০৬/০১/২০২২
    বর্ণনা বেশি হয়ে যাচ্ছে। আরও বেশি সংলাপ থাকা চাই।
  • এখনও ভয় পাইনি।
  • চমৎকার লিখেছেন
 
Quantcast