www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

অবশেষে প্লুটোর জয়

অবশেষে প্লুটোর জয়

১.
ছুটি কাটাতে বন্ধুর কাছে এসেছে জোসেফ। ছেলেবেলার বন্ধু নাহিদ কাজ কওে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায়। এখানে রাঙামাটির টংকাবতিতে রয়েছে বিশাল একটি রেডিও টেলিস্কোপ। এর মাধ্যমে মহাশূন্যের কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্রহনক্ষত্রের পাঠানো রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যাল গ্রহণ করা হয়। তারপর বিশ্লেষণ করে দেখা হয় প্রাকৃতিক রেডিও সিগন্যাল ছাড়াও অন্য কোন রেডিও সিগন্যাল এসে পৌঁছে কিনা। রাঙামাটির এই রেডিও টেলিস্কোপটি মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণীর অনুসন্ধান করে চলেছে। মূল অবজারভেটরি ছোট পাহাড়ের উপর অবস্থিত। ছোট একটি শহর এখানে গড়ে উঠেছে। রয়েছে সুপার রেলস্টেশন। ইন্টারওয়ার্ল্ড পোস্টঅফিস। ছোট বাড়িঘরগুলো দেখতে ভারি সুন্দর।

সেদিন জোসেফ আর নাহিদ বসেছে অবজারভেটরি সংলগ্ন লনে। চা পান করতে করতে জোসেফ বলে, ‘তোর কাজটি কি মূলত রাতের বেলাতেই?’
‘হ্যাঁ, মানে সন্ধ্যা রাত থেকে রাত নয়টা। তারপর খেয়েদেয়ে জম্পেস ঘুম। তবে দিনে অফিস করি মূলত লেখালেখির কাজে। বিভিন্ন রেডিও সিগন্যাল ডিকোডিং করি, রিপোর্ট লিখি।’
‘ আজ ভাবছি তোর সঙ্গে যাব। দুটো সন্ধ্যা তো একা একাই কাটালাম।
জোসেফ বলে, ‘বেশতো। তুই গেলে ভাল জমবে। একা একা আমিও ভীষণ হাঁপিয়ে উঠি।’ সন্ধ্যাবেলা জোসেফ আর নাহিদ কফি খেতে খেতে সেদিনকার কাগজের একটি খবর নিয়ে আলোচনা করছিল।
খবরটির শিরোনাম ছিল ‘গ্রহের মর্যাদা হারাল প্লুটো’।
নাহিদ বলছিল, ‘দেখেছিস কাÐ! ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্টোনমিক্যাল ইউনিয়ন তাদের এক প্রস্তাবে প্লুটো ৭৫ বছর পর আর গ্রহ বলতে নারাজ। প্লুটোকে গ্রহের কাতার থেকে সরিয়ে এখন ‘বামন গ্রহ’ নামে আখ্যায়িত করা হবে।
প্লুটোকে’. . .
নাহিদ তার কথা শেষ করতে পারে না, হঠাৎ ভয়ানক দ্রæতগতিতে চলতে শুরু করে রেডিও সিগন্যাল রেকর্ডকারী কম্পিউটার স্পুলগুলো। অবাক হয়ে নাহিদ সেদিকে থাকে। তারপর বলে ওঠে, ‘আশ্চর্য ব্যাপার এমনটি তো কখনও ঘটতে দেখি নি।’
‘কী হয়েছে রে?’ জোসেফ কোন কিছু বুঝতে না পেওে জিজ্ঞেস করে।
‘অদ্ভুত দ্রæতগতির একটা রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যাল আসছে অ্যান্ড্রেমিডা ছায়াপথের কাছাকাছি কোথাও থেকে।
ঠিক সেসময় রেকর্ডিং স্পুলগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। এবার নাহিদ আরও অবাক হলো। কারণ রেকর্ডিং স্পুলগুলো শেষ হয়েছে মাত্র পনের মিনিটে। অথচ এগুলো প্রায় ছয়মাস ধওে রেডিও সিগন্যাল রেকর্ড করতে সক্ষম।
২.
আলট্রারাম ক্রোম-৭০৭। হাইমাল্টি সুপার কম্পিউটার। প্লুটোর যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আলট্রারাম ক্রোমের অনেক অবদান। প্লুটোর বাইরের চরম আবহাওয়ার কারণে পাতালে তৈরি করা হয়েছে প্লুটোরবাসীর জন্য বিশেষ আবাসস্থল আর একাজে হাইমাল্টি সুপারকম্পিউটার হিসেবে আলট্রা ক্রোম ৭০৭ বিশেষ অবদান রেখেছে। হাজার হাজার আলোকবর্ষ আগে প্লুটোতে ছিল প্রাণের উপযোগী আবহাওয়া। কিন্তু একদিন প্রকৃতি বিরূপ হলো। প্লুটোবাসী তখন প্রযুক্তিগতভাবে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। এমনি সময় একদিন প্লুটোর দিকে ধেয়ে এল বিশাল একটি এস্টোরয়েড। পুরো এস্টোরয়েডটি ধ্বংস কওে দেবার মতো প্রযুক্তি ও দক্ষতা ছিল প্লুটোর বিজ্ঞানীদেও আয়ত্তে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের! মাত্র কয়েক সেকেন্ডের হিসেবের ভুলে এস্টোরয়েডটি প্লুটোকে আঘাত হানে। প্রচÐ সংঘর্ষে প্লুটো কক্ষচ্যূত হয়ে সূর্য থেকে অনেক দূওে চলে যায়। সূর্য থেকে তার দূরত্ব দাঁড়ায় ৫.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার। পৃথিবীর হিসেবে ২৪৭.৭ দিনে প্লূটো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে।
সংঘর্ষকালে নিরুপায় হয় প্লুটোবাসী অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথের কাছাকাছি আগে থেকেই গড়ে তোলা তাদের অস্থায়ী স্পেস স্টেশনে আশ্রয় নেয়। তারপর . . . .
সময় গড়াতে থাকে। প্লুটোর বিজ্ঞানী, আলট্রাহাই এবং হাইমাল্টি সুপার কম্পিউটারগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় প্লুটোর পাতালে নতুন বসতি গড়ে ওঠে। উন্নত প্রযুক্তিগত কলাকৌশল প্রয়োগ কওে প্লুটোবাসী তাদের জীবনপ্রণালী সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলে। মহাকাশের স্পেস স্টেশনে সোলার পাওয়ার সেল বসিয়ে সূর্যেও রশ্নি সঞ্চয় করে সেসব সেল প্লুটোর পাতালরাজ্যে পাঠানো হয়। সোলার সেলের রশ্নিকে বিশেষভাবে রূপান্থরিত করে সূর্যের আলোর মতো ব্যবহার করবার কৌশল আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। খেতে ফসল ফলানো শুরু হয়। পাতালে বড় বড় জলাধাওে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করতে থাকেন বিজ্ঞানীরা। ফলে নানাজাতের শস্যম শাকসবজি এবং মাছ প্লুটোবাসীর দেহের পুষ্টি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবী সম্পর্কে আগ্রহ থাকলেও পৃথিবীর মানুষ সম্পর্কে প্লুটো অধিবাসীরা নির্লিপ্ত ছিল বহুকাল। মাঝেমধ্যে চুপিসারে পৃথিবীতে এসে তারা বিভিন্ন প্রজাতির শস্যবীজ, মাছের পোনা ইত্যাদি নিয়ে গেছে। তবে ভুলেও পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নি। এভাবেই হয়তবা দিন চলে যেত কিন্তু একদিন. . . . . .
আলট্রারাম ক্রোম-৭০৭ প্লুটোবাসীকে দুঃখের সঙ্গে জানাল পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্লুটোকে গ্রহের মর্যাদা থেকে স্থানচ্যুত করে সৌরজগতের বিন্যাস বদলে দিয়েছে।
প্লুটোর সর্বোচ্চ পরিষদেও বৈঠকে পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদেও এ কাজকে প্লুটোবাসীদেও জন্য চরম অবমাননাকর বলে আখ্যায়িত করে নিন্দা প্রস্তাব পাস হল। প্রস্তাবে আরও বলা হল, প্লুটোর গ্রহমর্যাদা হরণ করে পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা নিজেদেও অজ্ঞতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। শুধু নিন্দা প্রস্তাব পাস করেই তাঁরা থেমে থাকলেন না। পৃথিবীর মানুষগুলোকে খানিকটা শিক্ষা দেবার সিদ্ধান্তও নেওয়া হল। প্লুটোর সর্বোচ্চ পরিষদেও প্রধান এক জ্বালাময়ী ভাষণে বললেন, ‘ পৃথিবীর মানুষ সব বিষয়েই একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তাদেও বোঝা উচিত এ ধরনের একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত নয়। পৃথিবীর এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাতে যথাযথ প্লূটীয় কৌশল অবলম্বন করবো।
বিশেষ একটি নির্দেশনা পেীঁছে গেল অ্যান্ড্রেমিডা ছায়াপথের কাছে অবস্থিত প্লুটোর স্পেস স্টেশনে। ্ও্ই নির্দেশনা মোতাবেক সূর্যেও বুকে কৃত্রিমভাবে একটি শক্তিশালী সৌরঝড় সৃষ্টির জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হল। গ্যালাক্সিতে মানুষ ছাড়াও যে বুদ্ধিমান প্রাণী রয়েছে তার জানান দিতে রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যালের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষার কাজটি চলতে থাকলো। ফলে পৃথিবীর সব রেডিও টেলিস্কোপে অদ্ভুত জোরালো রেডিও সিগন্যাল এসে আঘাত হানল। পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একমত হলেন যে, রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যালগুলো প্রাকৃতিক কোন অস্থিরতা নয়। তবে কি গ্যালাক্সিও কোন বুদ্ধিমান প্রাণী এতদিন পওে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে? ওয়াশিংটন, লন্ডন, প্যারিস, মস্কো সর্বত্র উৎকণ্ঠার ঝড় বয়ে চললো। পার্বত্য চট্টগ্রামের টংকাবতীতে রেডিও টেলিস্কোপ অবজারভেটরিতে ধরা পড়ল রেডিও সিগন্যাল। এ সিগন্যাল ডিকোড করার জন্য ঢাকা থেকে অ্যাস্ট্রো-ফিজিক্সেও অধ্যাপক রাব্বানীসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা এসেছেন। অধ্যাপক রাব্বানী মহাজাগতিক রেডিও সিগন্যাল বিশ্লেষণে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ।
বেচারা নাহিদের অবস্থা দেখে খারাপ লাগছে জোসেফের। গতকাল সারারাত কম্পিউটারে বিভিন্ন প্রোগ্রামের সাহায্যে বিশ্লেষণ করেও রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যালের কোন ব্যাখ্যা সে খুঁজে পায় নি।
‘নাশতা খাবি না?’
জোসেফ জিজ্ঞেস করে। নাহিদ কোন উত্তর দেয় না। বিড়বিড় করে বলে চলে, ‘এ ফর অ্যান্ড্রোমিডা পি ফর প্লুটো।’
ঢাকা থেকে অধ্যাপক রাব্বানী এইমাত্র এসে পৌঁছেছেন। নাহিদ তাঁকে কম্পিউটারের বিভিন্ন বিশ্লেষণ এবং ডিকোড করা ডাটা দেখায়। এভাবে প্রায় একঘন্টা পার হয়ে যায়। একসময় গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে অধ্যাপক রাব্বানী বলেন, রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যালটা প্রাকৃতিক তো নয়ই বরং খ্বুই বুদ্ধিমান প্রাণীরা এটা ব্যবহার করছে। আর আমার ধারণা যদি সত্যি হয়, তা’হলে আর মাত্র বার ঘন্টার মধ্যেই এর আলামত পৃথিবীর আবহাওয়ামÐলে আঘাত হানবে।
‘মানে?’
নাহিদের চোখে বিস্ময়!
‘আমার সন্দেহ হচ্ছে অ্যান্ড্রেমিডা ছায়াপথের কাছাকাছি অবস্থান থেকে কোন ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা যে কোন কারণেই হোক সূর্যেও বুকে অথবা অন্যত্র কোথাও একটা পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটাতে যাচ্ছে। এর ফলে ঘন্টায় হাজার মাইল বেগে পৃথিবীরসহ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের দিকে ধেয়ে আসবে সৌরঝড়। তবে এই ঝড়ে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৃথিবী। সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে উপগ্রহনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা, মোবাইল ও টেলিযোগাযোগ কাঠামো। ঝড় যদি চব্বিশ ঘন্টার বেশি স্থানীয় হয় তাহলে পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।’ঠিক এসময় রেডিও সিগন্যাল আসা শুরু হল। দ্রæতগতিতে রেডিও স্পুলগুলো ঘুরতে থাকে। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অধ্যাপক রাব্বানী হঠাৎ বলে উঠেন, ‘ আচ্ছা নাহিদ, এইমাত্র আসা সিগন্যালগুলো ডিকোড কওে আমাকে দাও তো’।
সময় গড়িয়ে চলে এভাবে। প্রায় সন্ধ্যা তখন। অধ্যাপক রাব্বানী কম্পিউটার থেকে প্রাপ্ত বিশ্লেষণগুলো পড়া শেষ কওে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। আকাশের বুকে একটি -দুটি করে তারা দেখা দিতে শুরু করেছে। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে সৌরঝড়। কিন্তু কারা এমন করছে? হঠাৎ অধ্যাপক রাব্বানী চমকে ওঠেন। অ্যান্ডোমিডা ছায়াপথের যে স্থানটি থেকে রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যাল আদান-প্রদান চলছে, তা বিশ্লেষণ করলে সৌরজগতের যে স্থানটির নির্দেশ পাওয়া যায় সেখানে তো. . . . প্লুটোর চাঁদ চ্যারন-এর কাছাকাছি কোথাও থেকে অ্যান্ডোমিডা নেবুলার কোন স্থানে রেডিও টেলিস্কোপিক সিগন্যাল পাঠানো হচ্ছে। তবে কি প্লুটোতে বুদ্ধিমান প্রাণীরা বসবাস করে? কিন্তু কীভাবে? প্লুটোকে তো বিজ্ঞানীরা আর গ্রহ নয়, বরং বরফের একটি বড় গোলক বলে মনে করছেন।
নানা চিন্তায় অস্থির অধ্যাপক রাব্বানী যখন রাতের খাবর খেতে বসলেন, তখন জোসেফ তাঁকে জানাল, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং উপগ্রহনির্ভর টেলিফোন ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কাজ করছে না। সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ ভি-স্যাটভিত্তিক ইন্টারনেটযোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এমনটি যে হবে তা অধ্যাপক রাব্বানী জানতেন। তাই তিনি চুপ করে রইলেন। পৃথিবীর তিনটি স্থানে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রচÐ গতি সম্পন্ন সামুদ্রিক ঝড় আঘাত হানার জন্য এগিয়ে আসছে। ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে সুনামির মতো সমুদ্রের জল প্রবল প্লাবনের সৃষ্টি করতে পারে যেকোন মুহুর্তে এমনটাই আশংকা করছেন পৃথিবীর আবহাওয়াবিদরা।
নাহিদ তখনও তার কম্পিউটারে বিশ্লেষণ কাজ করে চলেছে। অধ্যাপক রাব্বানী ডিকোড করা রেডিও সিগন্যালগুলো আবারও পরীক্ষা করে দেখছেন। এফএম তরঙ্গের রেডিওতে জোসেফ বিশ্বেও বিভিন্ন স্থানের পরিস্থিতি জানতে খবর শোনার চেষ্টা করছে। হঠাৎ নাহিদের চিৎকারে অধ্যাপক রাব্বানী ও জোসেফ জমকে ওঠেন। নাহিদ বলে ওঠে, ‘ স্যার, তাড়িতাড়ি আসুন, দেখে যান এখানে কী হচ্ছে।
অধ্যাপক রাব্বানী ও জোসেফ যখন নাহিদেও পাশে কম্পিউটারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন তখন অদ্ভুত এক নীলাভ আভা মনিটওে আস্তে আস্তে ফুটে উঠতে শুরু করেছে। নাহিদেও মনে হল, মহাশূন্যের কোন ছায়াপথের জীবন্ত ছবি যেন একটু একটু করে ফুটে উঠছে মনিটরে। ছোট ছোট ফুটকির মতো অসংখ্য তারকামÐলি। মনে হয়, কম্পিউটার মনিটরটি যেন মহাশূন্যে ভেসে চলেছে। বিষ্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই পর্দায় ভেসে উঠে এক আশ্চর্য দৃশ্য। ক্রমেই অনেক নক্ষত্রের মধ্যে একটিমাত্র গ্রহ বিশিষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। গ্রহটির নামসহ পরিচিতি মনিটওে ভেসে উঠে। সৌরজগতের নবম গ্রহ প্লুটো। কম্পিউটার মনিটরে হালকা নীল রঙের একটা অবয়ব ভেসে ওঠে। মুখটা পৃথিবীর মানুষের চাইতে কিছুটা ভিন্ন। কানগুলো বড়, ছোট নাক, কিন্তু নীলরঙের চোখের গভীর দৃষ্টি যেন অনেকটাই মনের গভীওে চলে যায়। মনিটরে ভেসে ওঠা লেখার সঙ্গে তাল মিলিয়ে লোকটা কথা বলতে শুরু কওে . . . .
‘প্লুটোবাসীর শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমরা আপনাদের পৃথিবীর কোন ক্ষতি করতে চাই না। কিন্তু আপনারা অবিবেচকের মতো আমাদের সম্পর্কে ভালভাবে না জেনেই গ্রহের মর্যাদা থেকে আমাদের বঞ্চিত করে অন্যায় করেছেন। তাই আমাদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা সম্পর্কে আপনাদেও একটু অবগত করতেই সূর্যেও বুকে কৃত্রিমভাবে সৌরঝড় তোলা হয়েছে। তবে ভয়ের কোন কারণ নেই। কোন আবহাওয়া বিপর্যয় যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থার সাময়িক যে বিপর্যয় ঘটেছে , তা আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কেটে যাবে।
‘প্রিয় পৃথিবী মানুষ, আমাদের অপমান করার জন্য আপনাদেও বিরুদ্ধে আরও নিষ্ঠুর প্রতিশোধ নিতে পারতাম। কিন্তু সে ইচ্ছা আমাদের নেই। কারণ আমরা একই সৌরজগতের বাসিন্দা। আসুন, হিংসাবিদ্বেষ ভুলে আমরা সত্যিকার জ্ঞান অর্জনে অগ্রসর হই। কোন কিছু সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে আরও জানার চেষ্পা করুন। কিন্তু হঠাৎ কওে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। তবে আপনাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় এখনও আসেনি। সেদিনটির জন্য আপনারা অপেক্ষা করুন যেদিন অন্যান্য গ্রহের সভ্যতার সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ হবে। তবে সেজন্য পৃথিবীর মানুষকে নিজেদের স্বভাবের অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। আপনাদেও সাময়িক উৎকণ্ঠায় রাখার জন্য আমরা দুঃখিত। প্লুটোবাসীর পক্ষ থেকে আবারও শুভেচ্ছা রইল। বিদায়। ‘সিন তা সিনা প্লুটো নারিযা’ –প্লুটোর জয় হোক।’
শুধূ অধ্যাপক রাব্বানী, নাহিদ এবং জোসেফই নয়, প্লুটোবাসীর এ বার্তা সমগ্র পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন কম্পিউটার ও ওয়েবসাইটে প্লুটোর প্রযুক্তিগত দক্ষতার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হল।
রাত প্রায় দুটো বাজে। অধ্যাপক রাব্বানী খোলা বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। মহাশূন্যের অসংখ্য তারকারাজি তাঁর মনে বিস্ময় জাগায়। তাইতো!! এহাবিশ্বের কতটুকুইবা পৃথিবীর মানুষ জানে! প্লুটো গ্রহের বাসিন্দারা আজ পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীর চোখ খুলে দিল। আরও কত জানতে হবে তাদের, বুঝতে হবে, শিখতে হবে. . . . ।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ১১৩ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২০/০৬/২০১৮

 
Quantcast