www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

কালো মেয়ে

( সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র।
আমাদের পাশের বাসার কালো মেয়েটিকে দেখে আমি সত্যি ভীষণ অবাক হয়ে যাই। কালো রঙের মেয়ে দেখতে এত সুন্দর হতে পারে! শুধু যে দেখতে সুন্দর তাই নয়, পড়াশুনায় ভালো, তেমন কাজকামেও পারদর্শী। মেয়েটির নাম মমতা। সত্যি সে মমতায় ভরা । ওর মাম কে রেখেছিলো জানিনা। নাম তার যেই রাখুক নামের অর্থ সার্থক হয়েছে । ও আমাদের পাড়াতেই থাকে। ওদের আর আমাদের বাসা পাশাপাশি। ও আমারি সাথে পড়ে। আমরা একই ভার্সিটিতে আছি। যদিও বাসা পাশাপাশি এবং একই ইয়ারে পড়ি তবুও মেয়েটির সাথে আজও আমার তেমন পরিচয় হয়নি। শুধু চিনি তাকে। কখনো কোনোদি কথা বলিনি।।
মমতা ছেলেদের সাথে একদম কথা বলে না। আমার আম্মু মাঝে মাঝে ওদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। আম্মুর মুখে শুনেছি মেয়েটি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, কোরআন তেলোয়াত করে, বাড়ির সব কাজ ওই করে।
আমাদের বাসা মমতাদের বাসার সামনাসামনি থাকায় একটু জোরে কথা বললে আমাদের বাসা ওদের বাসার সব কথা বার্তা শুনা যায়। বেলকোনিতে দাঁড়ালে দেখাও যায়।
সেদিন মমতার আব্বু শামসুল আরেফিন খুব রাগারাগি করছিলেন। চিৎকার করে বলছিলেন-
শামসুল আরেফিনঃ এই কালো মেয়েটি কেন আমার সংসারে জন্মালো? এত বড় ঢিঙি হও আজও বিয়ে দিতে পারছে না ওর জন্য সংসারের অমঙ্গল হচ্ছে ।
আরো অনেক কথা। আমি তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে। ওদের সব কথা শুনে যেমন পাচ্ছি তেমনি দেখতেও পাচ্ছি। মমতার ভাই শুভ এবং ওর মা সবাই মিলে একটা জট পাকিয়েছে। ওর ভাই বলছে-
শুভঃ ওর জন্য রাস্তাঘাটে নানা কথা শুনতে হয় ভীষণ লজ্জা করে আমার।
শামসুল আরেফিনঃ সব কিছুর দাম উর্ধ-গতিতে সংসারের খরচ বেড়েই চলেছে। সেই সাথে আজকাল ব্যবসাটা বেশ বন্দা যাচ্ছে। ভাবলাম ওকে বিয়েদিয়ে মাথা থেকে কিছুটা বুঝা নামাই। কিন্তু এই কালিকে তো কেউ বিয়ে করতে চায় না।
শুভঃ সেদিন এক বন্ধু কি বলল জানো আব্বু? বন্ধু বিদ্রুপ হাসিতে বলল-' কিরে শুভ কেমন আছিস, তোদের বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল মাসে কত আসেরে? আমি জানতে চাইলাম কেন। সে বলল তোদের বাড়িতে কিছু দেখতে গেলে তো দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালাতে হয়। রাতে দেখতে পাস কি? জানো আব্বু তখন আমার না ভীষণ খারাপ লাগছিলো।
শামসুল আরেফিনঃ তোর বন্ধু ভুল তো কিছু বলে নাই।!
শুভঃ আম্মু তোমার পেটে এমন একটা মেয়ে কি ভাবে জন্মালো? আমি শুভা আমরা তো কত সুন্দর।
শুভা মমতার ছোট আর শুভ বড়। শুভা হয় তো ঘরে নেই। সে সুন্দর বলে যখন সেখানে খুশি সেখানে চলা যায়। যখন যত টাকা চায় মমতার বাবা কোন প্রশ্ন না করে বেরিয়ে বের করে দেন। কিন্তু মমতাকে দেওয়ার বেলা হিসাব করেন। ওর বাপ ভাই বলেই চলেছে। মা দিলারা বেগম কারো কোনো কথার প্রতিবাদ ও করছে না। নিজেও কিছু বলছে না। মমতা সহ্য করতে না পেরে বারান্দায় এসে গ্রীল ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। ইচ্ছা করছিলো ওর মাথায় হাত বুলিয়ে ওকে শান্তনা দিতে। ঘরে ফিরার জন্য ঘুরলাম এমন সময় ওর মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো-
দিলারা বেগমঃ মুখপুড়ি তুই মরতে পারিস না? তোর জন্য আমাকে আর কত কথা শুনতে হবে বলতো?
ওর মা দেখতেও ভীষণ সুন্দরী। তবে মমতার সৌন্দর্যের কাছে সে সুন্দর কিছুই না। সবাই ওর গায়ের রংটাই দেখে ওর সৌন্দর্যটা কেউ খোঁজে না। ওর দু’নয়ন অশ্রুতে ভেজা।
মমতাঃ আমি কালো বলে তুমি, আব্বু, ভাইয়া, শুভা সবাই বকো। যখন যার মুখে যা আসে সে তাই বলো। বলি আমার গায়ের রং কি আমি নিজে হাতে এমন বানিয়েছি? এতই যখন সমস্যা তখন আমাকে বাচিয়ে না রেখে আতুর ঘরে কেন মেরে ফেললে না মা? আত্মাহত্যা মহাপাপ তানা হলে বহু আগে এই জীবনটা শেষ করে দিতাম।
পড়ন্ত বিকেলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেলকনিতে এসেছিলাম। কিন্তু এটা কি উপভোগ করছি আমি! মেয়েটির কান্না আমাকে বিচলিত করে তোকে। ঘরে ঢুকে ড্রয়িং রুমে যেয়ে সোফায় বসে টিভি দেখা শুরু করলাম। আর কিছুক্ষণ পর শুরু হবে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্থানের ক্রিকেট ম্যাচ। ক্রিকেট আমার অনেক প্রিয়। বিশেষ করে যখন আমার বাংলাদেশের কোন ম্যাচ থাকে সেটা দেখতে আমি ভুলেও মিস করি না। সময় পেলে ক্রিকেট নিয়ে নিজেও মাঠে ছুটি খেলতে । কিন্তু আজ কেন জানি খেলা দেখতে মন চাইছে না। মগজে ঢুকে আছে মমতার ভাবনা। মা নাস্তা হাতে ড্রাইং রুমে ঢুকলেন। হাতে একটা চায়ের কাপ ধরিয়ে দিয়ে বললেন খেলা শুরু হয়ে গেছে।
কাপটা টেবিলে রেখে জানালার ধরে চলে গেলাম। থাই সরিয়ে দিয়ে দূরের আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকালাম। আবিরে চেয়ে আছে পরিবেশ। আবিরের উজ্জ্বল রং চোখ ধদিয়ে দিচ্ছে। বিকেলের আবির রাঙা আকাশ আমার খুব পছন্দের কিন্তু আজো অসহ্য লাগছে। আমি আবার বেলকোনিতে গেলাম। তখন মমতা সেখানে দাঁড়ানো। আমি অপলক চোখে ওকে দেখছি। হঠাৎ ও মুখ তুলে তাকায়। আমাকে দেখতে পেয়ে চোখ মুছে ঘরে চলে। আমি ড্রাইং রুমে এসে সোফায় বসি। ভীষণ চায়ের তেষ্টা পেয়েছে যেন। মাকে বললাম মা এক কাপ চা খাওয়াবে? মা আমার মুখের দিকে বিস্মিত নয়নে তাকালেন। মায়ের চাহনি দেখে নিজেকে অপরাধি মনে হচ্ছে।
আমিঃ কি হলো আম্মু অমন ভাবে তাকিয়ে আছ কেন? চা চেয়ে কি অপরাধ করে ফেললাম?
ছোট বোন তিশা হাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিয়ে বলল-
তিশাঃ না ভাইয়া অপরাদ করিসনি, তবে কৌতুহলী করেছিস।
আমিঃ কৌতুহলী করেছি!
তিশাঃ হ্যাঁ, আজ বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের জমজমাট খেলা চলছে। তুই তা না দেখে একবার জানালা একবার বেলকনি করছিস। ওই দেখ তোর চা নাস্তা ঠান্ড ভূত হয়ে গেছে। আম্মু যে তোকে চা দিয়েছিলো তুই তা ভুলেই গেছিস।
আমিঃ ও একদম ভুলে গেছি।
তিশাঃ ভাইয়া আজ কিন্তু বাংলাদেশ দারুণ খেলছে।
আমিঃ তাই নাকি!
আমার আম্মুর নাম নাজিয়া উনি এতক্ষণ চুপচাপ আমাদের ভাই বোনের কথা শুনছিলেন। এবার আম্মু কথা বললেন
নাজিয়াঃ কি রে রাফি কি হয়েছে তোর?
আমিঃ কই আম্মু কিছু হয়নি তো।
নাজিয়াঃ তোকে কেমন অন্য মনোস্ক লাগছে, কিছু তো হয়েছে।
আমিঃ না আম্মু কিচ্ছু হয়নি আমার।
নাজিয়াঃ কিছু হয়নি তবে এত অস্থির কেন তুই? শরীর খারাপ করেনি তো?
আমিঃ না আম্মু, তিশা আমাকে আর এক কাপ চা দিবি বোন?
তিশাঃ হুম দিচ্ছি ধর। ( পাঁচ মিনিট পর)
বোনকে ধন্যবাদ দিয়ে চায়ের কাপ হাতে আবার বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম।
চায় চুমুক লাগাতেই ও বাড়ি থেকে ভেসে এলো মমতার ছোট বোন শুভার কণ্ঠ।
শুভাঃ আব্বু আমার কিছু টাকা লাগবে।
শামসুল আরেফিনঃ কত টাকা?
শুভাঃ বেশি না,মাত্র দশ হাজার।
দিলারা বেগমঃ অত টাকা দিয়ে কি করবি? কাল না পাঁচ হাজার নিলি?
শামসুল আরেফিনঃ কাল যা নিয়েছে তা হয়তো খরচ হয়ে গেছে, চাইছে দাও ।
দিলারা বেগমঃ চাইছে দাও বললেই তো আমি দিতে পারি না। আমাকে জানতে হবে, রোজ রোজ এত টাকা দিয়ে করেটা কি।
শামসুল আরেফিনঃ অত জেনে তুমি কি করবা, চাইছে দাও।
দিলারা বেগমঃ জেনে কি করবো মানে! এই মাত্র তুমি না বললে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে?
শামসুল আরেফিনঃ হ্যাঁ বলেছি, সেটা শুভা বেলায় প্রযোজ্য নয়।
দিলারা বেগমঃ মানে! শুভার বেলা প্রযোজ্য নয় তো কাল বেলা প্রযোজ্য?
শামসুল আরেফিনঃ ওই কালিটার জন্য।
মমতাঃ আব্বু আমি কি আজ পর্যন্ত তোমার কাছে কোন দিন টাকা চেয়েছি?
দিলারা বেগমঃ সেটা শুভার জন্য প্রযোজ্য নয় কেন? ওরা দুজনি তো তোমার সন্তান।
শামসুল আরেফিনঃ তুমি জানোনা?
দিলারা বেগমঃ না জানিনা, বলো আমাকে। তুমি ওদের দুজনকে দুই চোখে দেখতে পারোনা। ও কি তোমার মেয়ে নয়।
শামসুল আরেফিনঃ শোনো শুভর মা, তুমি ওর হয়ে ভুলেও কখনো আমার কাছে উকালতি করতে আসবে না বুঝেছ।
মমতাঃ আমার অপরাধ কি আব্বু? আমি তো কখনো টাকা চাইনা তোমার কাছে। পেটে চারটা ভাত আর পরনে কাপড় ছাড়া তুমি তো আমার পিছনে কোনো টাকা-পয়সা খরচ করো কখনো?
শামসুল আরেফিনঃ চুপ করো, তোমার সাথে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করে না তুমি জানো না?
মমতাঃ জানি তো।
শামসুল আরেফিনঃ তললে বারবার প্যানপ্যান কেন করছ?
মমতাঃ ভুল করেও তোমার সামনে আসিনা কখনো। কিন্তু আজ কথা না বলে পারলাম না।
প্রাইমারি স্কুলে থাকতে আমার জন্য কি করেছ আমি জানিনা তবে সিক্সে উঠার পর তুমি আমার পিছে একটি টাকাও খরচ করেছ বলে তোমার মনে পড়ে কি আব্বু?আমার তো মনে পড়ে না। ঈদ পার্বণেও ভুল করে দুই একশ টাকা দাও না। অথচ শুভা না চাইতেই তুমি ওকে হাজার হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছ। আর বলছ আমার জন্য তোমার ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে, আমি অপয়া।
শামসুল আরেফিনঃ এত বড় সাহস তোমার, তুমি আমার মুখে মুখে তর্ক করছ!
দিলারা বেগমঃ ধমকাচ্ছ কেন ওকে? ও তো ভুল কিছু বলেনি। শুভ, শুভার কিছু না চাইতেই দিয়ে দিচ্ছ ও কালো বলে ওকে তো টাকা পয়সা দাওই না বরং যখন যা মন চায় তাই বলে অবজ্ঞা অবহেলা কতো। কেন ওর বেলা এমন করো তুমি?
শুভাঃ আম্মু তুমি কার সাথে কার তুলোনা করছ?
দিলারা বেগমঃ কার সাথে কার তুলনা করছি মানে! মমতার সাথে তোর তুলনা করছি।
শুভাঃ ওই কালিটার সাথে তুমি আমার তুলন করছ আম্মু?
দিলারা বেগমঃ (ঠাস করে মুখে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে দিলারা বেগম বলে) হ্যাঁ করছি, করছি একারণে তোরা দুজনি আমার গর্ব থেকে এসেছিস। ভুলে যাস না ও তোর বড় বোন। কালো আর ফর্সা আমার কাছে আলাদা কিছু নয়,তোরা দুজনেই আমার কাছে সমান।
শুভাঃ আব্বু তুমি দাওনা। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
শামসুল আরেফিনঃ শুভর মা, কথা না বাড়িয়ে টাকাটা দিয়ে দাওনা।
দিলারা বেগমঃ না দিব না। লাই দিয়ে দিয়ে মেয়েটাকে তুমি মাথায় উঠাচ্ছো। দিনদিন বড্ড উশৃংখল হয়ে যাচ্ছে। ওকে কি বিয়ে-শাদী দিতে হবে না, নাকি?
শামসুল আরেফিনঃ ও সুন্দরী তাই ওর বিয়ে নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
দিলারা বেগমঃ সুন্দরী বলেই ভাবনাটা বড় বেশি। একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।
মমতাদের ঘরের ঝগড়া শুনতে শুনতে কখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে বুঝতে পারিনি। তিশা এসে বললঃ
তিশাঃ কিরে ভাইয়া এখানে দাঁড়িয়ে মশার কালড় খাচ্ছিস কেন, খেলা দেখবি না? খেলা তো শেষের পথে।
আমিঃ হুম চল, বাংলাদেশ আজ কেমন খেলছে রে?
তিশাঃ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। দশ বলে পনের রান নিতে হবে বাংলাদেশকে।
আমিঃ তবে তো ভীষণ উত্তেজনা পূর্ণ মুহুর্ত। ব্যাটে কে আছে রে?
তিশাঃ মাশরাফি।
আমিঃ চলচল তাড়াতাড়ি চল, কি তিন বলে ছয় রান নিতে হবে!, হায় আল্লাহ এই বলে যেন একটা ছক্কা হয়ে যায়। মার মাশরাফি মার, ছ ছ ছ অ অ অয় ছয় ছক্কা। হুররে জিতে গেছি জিতে গেছি, আমরা জিতে গেছি।
আমি রাফি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্স করছি। মমতাও আমাদের সাথেই পড়াশুনা করে। আমার জানা মতে ওর কোন ছেলে বন্ধু নেই। আজ ওর সাথে ওর পরিবার যে ব্যাবহার করলো তা দেখে আমার ভীষণ কষ্ট লাগছে। গায়ের রং কালো হয়েছে বলে কি এটা ওর দোষ? সবাই ওকে কেন দোষী বলে? আমি শুধু শুধু ভাবছি। যত ভাবছি ভাববো না ততই যেন যেকে বসছে ভাবনারা। নাহ আর ভাববো না। যাই বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি যদি কিনা ওকে নিয়ে ভাবনার ভূতটা নামে। বাইরে বেরিয়ে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে অনেক পথ চলে এসেছি। তাই ভাবলম রূপসা ব্রিজ থেকে ঘুরে যাই। কিন্তু একলা একা কি আর ঘুরতে ভালো লাগে। দশ টাকার বাদাম কিনে ব্রিজের রেলিং এ হেলান দিয়ে বাদাম চিবোচ্ছি। হঠাৎ বীপরিত পাশে একটা কালো মেয়ে চোখে পড়ে। মেয়েটির মতিমলব ভালো না। মনে হচ্ছে ও নদীতে ঝাপ দিয়ে সুইসাইড করতে চাইছে। পুরো ব্রিজ ঘুরে আসতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যাবে তাই সোজাসুজি রেলিং টপকিয়ে চলে গেলেম মেয়েটির কাছে। মেয়েটি রেলিং এর উপরে উঠে দাঁড়িয়েছে। আমি ওকে জাপটা ধরে নামিয়ে আমার দিকে ঘুরিয়ে মুখের দিকে তাকালাম। মুখের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠলাম একি মমতা সুইসাইড করতে এসেছিলো এখানে! উত্তেজিত হয়ে বললামঃ
আমিঃ একি করছ তুমি?
মমতাঃ আমি মরতে চাই আপনি আমাকে বাঁচালেন কেন?
আমিঃ কেন মরতে চাও তুমি? জীবন কি এতই তুচ্ছ?
মমতাঃ আমার জীবন তুচ্ছই। তানা হলে কেন সারাক্ষণ সবাই আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আর অবজ্ঞা করে কথা বলবে।
আমিঃ না মমতা মোটেও জীবন তুচ্ছ না। কে কি বলল তাতে তুমি কান দাও কেন? তুমি ভালো স্টুডেন্ট লেখাপড়ায় অনেক ভালো তুমি। তোমার রুপ নয়, তোমার গুণ মানুষকে তোমার পায়ে এনে ফেলবে।শুধু সময়ের অপেক্ষা, ধর্য্য তো ধরেছ আর একটু ধর্য্য ধরো প্লিজ।
(মমতা আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। এমন করে ওর সাথে হয়তো আজো কেউ কথা বলেনি। আমিও ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। দূর থেকে ওকে যা দেখেছি কাছ থেকে ও আরো সুন্দর। ওকে রেলিং থেকে নামাতে গিয়ে আমার হাতের নাড়ায় ওর খোঁপা খুলে যায়। ওর দীঘল কালো চুলগুলো পাছা ছালিয়ে হাঁটুর নিচে এসে পড়েছে। চুল থেকে ভেসে আসছে বাজাব আনমল তেলের ঘ্রাণ। ও চোখ নামিয়ে নিয়ে বললঃ )
মমতাঃ জানেন এমন করে আমার সাথে আজো কেউ কথা বলেনি। আপনি আমাকে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা যোগালেন।
আমিঃ চলো কিছু খাওয়া যাক।
মমতা কোনো কথা না বলে বাধ্য মেয়ের মত আমার সাথে চলে এলো ব্রিজের নিচে এসে বললাম কি খাবে ফুচকা না চটপটি?
মমতাঃ ফুচকা।
চেয়ার টেনে বসে ফুচকার অর্ডার দিলাম। মমতা আনমনে কি যেনো ভাবছে। আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ ও বলে উঠলো-
মমতাঃ কি দেখছেন অমন করে?
আমিঃ তোমাকে।
মমতাঃ আমাকে অমন করে দেখার কি আছে?
আমিঃ তুমি এত সুন্দর কেন?
মমতাঃ আমি সুন্দর ( খিলখিল করে এসে বলে) হাসালেন আমায়। আমি নাকি সুন্দর। আমি যদি সুন্দরই হবো তবে কেন রাতদিন আমাকে সবাই কালি বলে তিরস্কার করবে।
আমিঃ যারা তোমাকে কালো বা কালি বলে তিরস্কার করে তারা শুধু তোমার গায়ের রংটাই দেখে, তোমার সৌন্দর্য তারা চোখে দেখে না।
মমতাঃ আমাকে কেউ সুন্দরী বলে প্রসংশা করুক বা না করুক তাতে আমার কিছু এসে যায় না। আমি শুধু একটু সম্মান চাই।
আমিঃ তুমি সম্মান পাবে। তোমার যোগ্যতা তোমাকে তোমার স্বপ্নের স্বর্ণচূড়ায় নিয়ে যাবে।
মমতাঃ দোয়া করবেন, আপনার মত একজন বন্ধু আমার পাশে থাকলে আর কোনো দুঃখ আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।
আমিঃ বন্ধুই যখন বলছ তখন আপনি বলে দূরে কেনো রাখছ? আমরা তো একই বিষয়ে, একই বর্ষে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তাইনা।
মমতাঃ হুম।
আমিঃ তাহলে আর আপনি তুমি নয়, এখন থেকে শুধুই তুমি কেমন?
মমতাঃ আচ্ছা।
আমিঃ আর কিছু খাবে?
মমতাঃ না।
আমিঃ তাহলে চলো ব্রিজের উপরে যাওয়া যাক।
মমতাঃ কটা বাজে?
আমিঃ বেশি না মাত্র রাত আটটা।
মমতাঃ যদি কিছু মনে না করেন তো একটা কথা বলি?
আমিঃ কি কথা?
মমতাঃ যখন রাত আটটা বেজে গেছে, তাহলে আজ আর দেরি না করি। আজ বাসায় ফিরি অন্য একদিন...
আমিঃ ওকে যা তোমার মর্জি। এক সাথে গেলে তোমার কোনো আপত্তি নাই তো?
মমতাঃ আপনি আমার জীবনদাতা তাই আপত্তির প্রশ্নই আসছে না।
আমিঃ
বাসায় ফিরে মাকে সব খুলে বললাম। মেয়েটিকে যদি বিয়ে করি তাতে মায়ের কোনো আপত্তি আছে কিনা জানতে চাইলাম। মা এক কথা মত দিয়ে দিলেন। আমি যে মমতকে ভালোবাসি, আমার পরিবার ওকে বউ করতে রাজি আছে তা আর ওকে জানানো হয়নি। কিছুদিন পরের কথা। মমতাকে হঠাৎ একদিন একটা ছেলের সাথে দেখতে পেলাম। ও কোনো ছেলের সাথে থাকতে পারে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাই বেশ অবাক হলাম। মমতা ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। ছেলেটি অনেক হ্যান্ডসাম অনেক স্মার্ট। আমি দূর থেকে দেখছি। যাই হোক ভালোই লাগছে অন্তত একটা ছেলে বন্ধু হলো মমতার। আমি তো ওকে কখনো সময় দেইনি, এখন কিছুটা হলেও একাকিত্ত কমবে।
সেদিন ক্লাসে সবাই মমতাকে নিয়ে ট্রল করেছিল। আমি কিছু বলার আগেই হ্যান্ডসাম ছেলেটি এসে জবাব দিল। আমার ভীষণ ভালোই লাগছে, মমতাকে বান্ধুবী হিসাবে পেয়ে। ওকে আর কেউ হীনমন্য চোখে দেখতে পারবেনা। ওর পাশে দাড়ানোর মতো, কথা বলার মত কেউ একজন আছে এখন।।
ক্যাম্পাসের ছেলেরা যখন সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে ব্যাস্ত ছিল তখন ছেলেটি ব্যাস্ত মমতাকে নিয়ে। আমার মমতাকে নিয়ে। দু’জনের একসাথে চলাফেরা দেখে সবাই অবাক । তার থেকে বেশি অবাক হলাম আমি। সেদিন আমি ওকে বাঁচালাম। কত কিছু বুঝালাম। ইশারা ইঙ্গিতে এটাও বুঝালাম আমি ওকে অনেক পছন্দ করি অনেক ভালোবাসি। মাত্র কয়েকটা দিন আমি ভার্সিটিতে আসিনি। আর মধ্যে এত কিছু ঘটে গেলো! ছেলেটির সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহ হলো। ওকি সত্যিই মমতাকে ভালোবাসবে নাকি মমতার কাছ থেকে কোনো সুযোগ নিচ্ছে? যতদূর জানতে পারলাম ছেলেটির নাম নাহিন। অনেক বড় লোকের ছেলে। তবে লেখাপড়ায় মোটেও ভালো না। মমতা পড়ালেখায় অনেক ভালো। লক্ষ করছি ছেলেটা মমতার সাথে মিশছে দেখে অনেক মেয়ের হিংসা হচ্ছে। অনেকে এটা নিয়ে ট্রল করে যা আমার নিজের চোখে দেখা। মমতা হয়তো ছেলেটিকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু ছেলেটি নিচ্ছে সুযোগ। মমতার কাছ থেকে নোটপত্রের। মমতা সারারাত জেগে নোট করে নিজে না পড়ে ওই ছেলেটিকে দিয়ে দেয়। দেখতে দেখতে ওদের দুজনের মধ্যে কঠিন সম্পর্ক গড়ে উঠে। মমতা একটি মূহর্ত ছেলেটিকে না দেখে থাকতে পারে না। ছেলেটিও ঠিক যেনো তেমনি, কিন্তু না তা নয় ধুর্ত ছেলেটি ছলনা করছে। ছেলেটি মমতাকে শুধুই বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছে।
তবে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে কখনো বন্ধু হতে পারে কি! মমতা তো নাহিনকে অন্য চোখে দেখছে।
সেদিন ছিলো নাহিনের জন্মদিন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছে যে যার মত করে। মমতা ভেবেছে আজ ও জানাবে ওর ভালোবাসার কথা। আর ছেলেটি ভেবেছে পরিক্ষা শেষ মমতাকে আর প্রয়োজন নেই, আজ সবার সামনে মমতকে বলবে তুমি একটু বাড়াবাড়ি বেশি করছো। তোমার মত মেয়েকে বন্ধু হিসাবেও গ্রহণ করা যায় না তবু আমি করেছি কারণ তোমার নোটপত্রে সহায়তা আমার খুব প্রয়োজন ছিলো। ক্যাম্পাসে বেশ বড় করেই নাহিম ওর জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করেছে।
মমতা আজ বেশ সেজেছে। ওকে অপুর্ব লাগছে। সবাই অবাক দৃষ্টিতে দেখছিল মমতাকে। মমতা ও নাহিন আলাদা ভাবে কথা বলছে। মমতা অনেক খুশি আজ। তবে সে খুশি বেশিক্ষণ টেকসই হলো না। একটা থাপ্পরের শব্দ সবার কানে এসে লাগলো। শব্দর দিকে সবাই ঘুরে দাঁড়ালো। থাপ্পড়টা দিয়েছে নাহিন মমতাকে চোখ পাকিয়ে বলছে-
নাহিনঃ এতবড় সাহস হলো কি করে তোর? তুই আমাকে প্রপোজ করি? কি ভাবিস নিজেকে, ভালো স্টুডেন্ট বলে তোর থেকে একটু সাহায্য নিয়েছি। দুদিন হেসে হেসে কথা বলেছি, এতেই তুই ভেবে নিয়েছিস আমি তোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি! তোর সাথে বন্ধুত্ব করেছি বলে তোর আশাটা অনেক বেড়ে গেছে দেখছি। এই নিজের চেহারা কখনো আয়নায় দেখেছিস কি?। বড় লোকের ছেলে দেখলে হুস থাকেনা তাই না। তোর সাহস হলো কি করে আমাকে প্রপোজ করার। আমাকে প্রপোজ করার আগে একটিবার হলেও তর নিজের চেহারা আয়নায় দেখা উচিৎ ছিল। নেক্সট টাইম আমার সামনে যেনো তোকে না দেখি। এত সুন্দর আয়োজনটাই মাটি হলো তোর জন্য।
কথাগুলো বলে ক্যাম্পাস থেকে চলে গেলো নাহিন। মমতা যেনো মাটিতে পুতে গেছে। যেসব মেয়েরা ওদের মেলামেশা দেখে হিংসা করত তারা বোলছে ঠিক কাজটাই হয়েছে। বামন হয়ে চাঁদে হাত দিতে গেলে যা হয়। কেউ বলছে আগুনে হাত দিতে গেলে হাত তো পুড়বেই। কেউ বা অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ছে।
সবাই মমতাকে নিয়ে ট্রল করছে। ওকে শান্তনা দেওয়ার মতো কেউ নেই। মমতার পা দুটা অসাড় হয়ে গেছে ও নড়তেই পাচ্ছে না। দুচোখ বেয়ে ঝর্ণা ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছে। ওর কান্না আমার বুকে তীর হয়ে বিধছে। আমি এগিয়ে গেলাম ওর কাছে। টিসু বের করে দিয়ে বললাম চোখ মোছ মমতা। তোমার চোখে জল মানায় না। এই জল দেখার জন্য সেদিন আমি তোমাকে বাঁচাইনি। এই অপমানের প্রতিশোধ তোমাকে নিতে হবে।
মমতাঃ কি ভাবে?
আমিঃ পালটা থাপ্পড় দিয়ে।
মমতাঃ পালটা থাপ্পড়!
আমিঃ হ্যাঁ পালটা থাপ্পড়। তার আগে তুমি আমাকে বলো তোমরা যখন এক সাথে চলাফের করেছ তখন ও তোমার সাথে খারপ কিছু করেনি তো?
আমিঃ এই যেমন ধর তোমাকে টেনে নিয়ে বুকে রাখা বা আরো অন্য কিছু।
মমতাঃ না তেমন কিছু করেনি, তবে হাতে হাত রেখে হেঁটেছে বহুদিন।
আমিঃ ওকে, ওই তো নিহান আসছে, যাও প্রতিশোধ নাও।
মমতা চোখ মুছে নিজেকে শক্ত করে, দৃঢ় পায়ে হেঁটে যায় সামনের দিকে। ওকে দেখে নাহিন আবার ক্ষিপ্ত হয়।
নাহিনঃ তুই এতটা নির্লজ্জ কেনো রে? তোকে না বলেছি তুই ভুলেও আর আমার চোখের সামনে আসবিনা। কিরে কথাগুলো কি তখন তোর কানে ঢোকেনি? আবার ঢুকিয়ে দিবো নাকি?
নাহিনের কথা শেষ না হতেই ওর মুখে চটাস করে পড়ে যায় একটি চড়। ভ্যাগাচ্যাগা খেয়ে যায় নাহিন।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই পড়ে আরো একটি চড়। নাহিন মুখে হাত বুলাতে বুলাতে বলল-
নাহিনঃ এটা কি হলো? তুই আমাকে মারলি কেন?
মমতাঃ তোকে কেন মারলাম বুঝতে পারিনি নাই না? আচ্ছা আমি তোকে বুঝিয়ে দিচ্ছি। (কথাটা বলেই আরো একটি চড় বসিয়ে দেয় তারপর বলে) প্রথমটি আমি তোকে প্রপোজ করেছিলাম সেটি তোর ইগোতে লেগেছিলো। তাই শত মানুষের মাঝে আমার প্রপোজের জবাব দিয়েছিলি। এতক্ষণ ধরে ভেবে দেখলাম আসলে আমার মত একটা সাদা মনের মেয়ে একটা কালো মনের মানুষকে ভালোবাসলাম। তাই প্রথম থাপ্পড় দিয়ে আমি আমার ভালোবাসা ফিরিয়ে নিলাম। দ্বিতীয় থাপ্পড়টা হলো এই যে নিজের স্বার্থের জন্য তুই আমার মত একটা কালো মেয়ের পিছে ঘুরঘুর করে সময় নষ্ট করেছিস সেই সময়ের মূল্য দিলাম। আর শেষ থাপ্পড়টা তুই আমাকে তোর জন্মদিনে দাওয়াত দিয়েছিস, সবাই কিছুনা কিছু উপহার তোকে দিয়েছে। আমি যদি কোনো উপহার না দেই তো তাকি ভালো দেখায় বল? তাই শেষ থাপ্পড়টা তোর জন্মদিনের উপহার হিসাবে দিলাম। পরিক্ষা শেষ হয়েছে। লেখাপড়া শেষ হয়নি। সামনে আবারো আমাকে তোর লাগবে। তখন আসিস কেমন, আজ চলি।
এক দমে কথাগুলো বলে চলল মমতা। ঢোক গিলে আবার বলতে শুরু করলো কইরে তোরা এই ছোট লোকটা যখন আমাকে থাপ্পড় মেরেছিলো তখন তো খুব মজা নিচ্ছিলি। এখন চুপ হয়ে গেলি কেন? হাস তোরা হাস উল্লাস কর, উল্লাস কর। শোন আজকের পর থেকে তোরা কেউ যদি আমাকে নিয়ে ট্রল করিস সেদিন বুঝিয়ে দিবো ট্রল কাকে বলে কত প্রকাশ ও কি কি।
যে মেয়েকে শুধু কাঁদতেই দেখেছি সে মেয়ে আজ অগ্নি মূর্তিতে পরিণত হয়েছে। পিছে হাঁটতে হাঁটতে আবারো ক্ষিপ্র কণ্ঠে বলে আজকের পর থেকে কেউ যদি আমার এই কালো রং নিয়ে তিরস্কার করেছিস সেদিন বুঝিয়ে দেবো কালো রং কি।
এবার এগিয়ে গিয়ে ওর হাত ধরে টেনে সরিয়ে নিয়ে বললাম-
আমিঃ না মমতা আজকের পর থেকে তোমাকে কেউ আর কালো মেয়ে বলে তিরস্কার করবে না। এখন তুমি বাড়িতে চলো।
মমতা চলে এলো আমার সাথে। ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে একটি রিক্সা ডাক দিলাম। মমতা বলল
মমতাঃ রিক্সা কেন?
আমিঃ আজ সারাদিন তোমার সাথে রিক্সা হরে ঘুরবো।
মমতাঃ মানে!
আমিঃ কালো মেয়েকে বউ করতে আমার মায়ের কোনো আপত্তি নেই।তাই আজ সারাদিন তোমাকে নিয়ে রিক্সা করে ঘুরবো। সুন্দর কোনো ফুলের বাগান বা উদ্যান বা নদীর পাড় ধরে হেঁটে যেতে যেতে তোমাকে প্রপোজ করবো। সন্ধ্যা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করবো। রাতে হবে আমাদের ফুলসহ্যা। আমার প্রেমের পাণি গ্রহণ করবে তো কালো মেয়ে?
সমাপ্ত
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৫২ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৮/১০/২০২১

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast